Hello Testing Bangla Kobita

3rd Year | 6th Issue

রবিবার, ২৬শে কার্তিক, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ | Sunday, 13th Nov 2022

প্রতি মাসে দ্বিতীয় রবিবার

প্রচ্ছদ কাহিনী, ধারাবাহিক গদ্য, ছোটোগল্প, গুচ্ছ কবিতা, কবিতা, প্রবন্ধ, উপন্যাস, স্বাস্থ্য, ফ্যাশান ও আরও অনেক কিছু...

আ মা র  পু জো

বাঙালির তেরো পার্বণের সেরা পার্বণ দুর্গা পুজো। তো এই পুজো নিয়ে কী ভাবছেন তাঁরা? পুজো তাঁদের কাছে কীভাবে ধরা দেয় অথবা পুজোর ভেতর তাঁরা ধরা পড়েন কীভাবে... কলম ধরলেন

অ ভি ম ন্যু   মা হা ত

দুর্গা দেবী নন, তিনি হত্যাকারী

নাহ, আমাদের পুজো নেই। 

বলা ভালো, শারদ উৎসবের আবাহন বর্জিত এই দেশভূমি। মায়ের আগমন বা বিদায়ে আবেগহীন জনপদ। আমার যে গ্রাম, এখানে আদিকালে কোনো পুজো ছিল না। বৈদিক সংস্কৃতির আগ্রাসনের পরেও প্রান্তজনভূমিতে চরণ পড়ে না ‘দেবী’ দুর্গার। এই তল্লাট কার্যত উৎসবের আবহ থেকে শত যোজন বাইরে। পুজোয় আপামর বাঙালির মধ্যে ধুম পড়ে নতুন জামা, নতুন শাড়ি কেনার! আমাদের নতুন পরিধান বস্তু কেনার রীতিও নেই। সামর্থ্যও থাকে না।  ভাদ্র-আশ্বিন জুড়ে ঘরে ঘরে অনটন। কারণ মাঠ থেকে ফসল ওঠেনি যে! মনে পড়ে শৈশবের দিনগুলি। পুজোর সময় আমরা কদ-গুন্দলু খেয়ে থাকতাম। কোনও দিন জনহার সিঝা (ভুট্টা সেদ্ধ)। রেডিওতে ‘আশ্বিনের শারদ প্রাতে’… শুনে আলাদা কোনো অনুভূতি জাগত না। এখনো জাগে না!

নতুন জামা, নতুন শাড়ি কেনার রীতি আমাদের একমাত্র টুসু পরবে। তখন ঘরে ঘরে খামার ভর্তি ধান! ফসল বিক্রি করেই নতুন রঙিন জামা আসে ছানাপোনাদের গায়ে।

উপরে উল্লিখিত দুর্গা ‘দেবী’। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, আদিজাতিদের কাছে ‘দেবী’ নন তিনি। তিনি হত্যাকারী। অনার্য বীরকে তিনি ছলনা করে হত্যা করেছেন। তাই পুজোর দিনগুলিতে আমরা মেতে উঠি দাসাই পরবে।  মুখে মুখে প্রচলিত উপজাতিদের গানে বারবার ফিরে আসে জনগোষ্ঠীর পুরনো ইতিহাস৷ চাঁইচম্পা বা চম্পা ছিল তাদের বাসভূমি৷ সেই আদিম জীবনে মেঘ ঘনায় আর্যদের দখলদারি শুরু হলে৷ প্রচলিত বিশ্বাস, হুদুড় দুর্গার (অনার্য বীর) সঙ্গে বলে এঁটে উঠতে না পেরে কৌশল নেয় দখলদাররা৷ মহিলার সঙ্গে লড়াইয়ে নীতিগত আপত্তি ছিল হুদুড় দুর্গার৷ তাই ছলনা করে এক আর্য নারীর সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয় তাঁর৷ সেই নারীর হাতেই মৃত্যু হয় উপজাতি নেতার৷ হুদুড় দুর্গা বধ হওয়ার পর খেরোয়ালদের (উপজাতি) নেতৃত্ব দেওয়ার আর কেউ ছিল না৷ ধর্মগুরুদের পরামর্শে তারা সরস্বতী নদীতে স্নান করে মহিলাদের পোশাক পরে নাচতে নাচতে পূর্ব দিকে পালাতে থাকে৷ এই নাচই দাসাই নামে প্রচলিত৷ আশ্বিন মাসও এক অর্থে উপজাতিদের কাছে দাসাই৷ দাসাইয়ের অর্থ অসহায়৷ নেতাহীন খেরোয়ালরা সেই সময় যথার্থই অসহায় হয়েছিল৷  দাসাই নাচের গানেও সেই হা-হুতাশ আছে৷ তাতে বলা হয়, ‘দুর্গা অন্যায় সমরে মহিষাসুরকে বধ করেছেন৷ হে বীর, তোমার পরিণামে আমরা দুঃখিত৷ তুমি আমাদের পূর্বপুরুষ৷ প্রণাম নাও …৷’ নবমীর দিন রঙিন পোশাক পরে মাথায় ময়ূরের পালক গুঁজে বাজনার তালে তালে নাচ-গান করেন উপজাতিকুল। সেদিন স্মৃতিতর্পণের পর হুদুড় দুর্গা তথা মহিষাসুরের উদ্দেশে ছাতা উত্তোলনের অনুষ্ঠান চলে৷ যা পরিচিত ‘ছাতা ধরা’ উৎসব নামে৷ বীর বন্দনার এই পালা ক্রমে জনপ্রিয় হচ্ছে আদিবাসী সমাজে৷ এই পুজোর ক্রমশ প্রসার ঘটছে৷ হুদুড় দুর্গা পুজোকে নিজেদের সমগ্র জাতিচেতনার অহংকার হিসেবে দেখেন জনজাতির অনেকেই।

আরও পড়ুন...

প্রতি মাসে দ্বিতীয় রবিবার