Hello Testing Bangla Kobita

প্রতি মাসে দ্বিতীয় রবিবার

Advertisement

2nd Year | 3rd Issue

রবিবার, ২২শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | Sunday, 8th August 2021

আ মা র  পু জো

বাঙালির তেরো পার্বণের সেরা পার্বণ দুর্গা পুজো। তো এই পুজো নিয়ে কী ভাবছেন তাঁরা? পুজো তাঁদের কাছে কীভাবে ধরা দেয় অথবা পুজোর ভেতর তাঁরা ধরা পড়েন কীভাবে... কলম ধরলেন

অ দি তি   ব সু রা য়

চিলেকোঠা ভরা পুজোর বই– শুকতারা, আনন্দমেলা, চাঁদমামা...

তারপর বছরের সমস্ত তুচ্ছতাকে ফেয়ারওয়েল জানিয়ে আগস্ট মাসের মাঝামাঝি, এক সকালে বারান্দায় ফুটে উঠল পুজো রঙের রোদ্দুর– তারপর ফুরিয়ে যাওয়া নদীর জলে স্নান– তারপর আমাদের রেলস্টেশনের পাড়ায় কাশফুল–তারপর বাড়ি। পুরোনো গানের মতো চেনা চাঁদ উঠল রাতে– এখন আমার ফেরার সময় ! কলকাতা শহরের গণ্ডি পার হয়ে চলে যাই, এক লাজুক মফস্‌সলে। সেখানে এক সবুজ মতো গলির প্রান্তে, আমাদের বাড়ি। বাড়ি মানে পুজো। পুজো মানে বাড়ি ফেরা। শহরের বিস্তারিত অতিথিশালা থেকে মুক্তি! কলকাতার পুজোর নেশায় আমার মহব্বত নেই ! সেখানে শরতের মায়াটুকু নিরুদ্দেশ!

বাড়িতে মেহগনি গাছ– গাছে রোজ টিয়াপাখি আসে দল বেঁধে। পাড়ার প্যান্ডেলে ঢাক বেজে উঠলেও উড়ে যায় না ওরা! পাড়ায় বাজে আগের গান। এখানে পুরোনো জিনিসের বিসর্জন দিতে জানে না লোকে। অক্টোবরের বিকেলে বিষণ্ণতার আবছায়া সরিয়ে দেখা হয় ইস্কুলের বন্ধুদের সঙ্গে– কেউ পাটভাঙা তাঁত, কেউ সালোয়ার কামিজ, কেউ নিতান্ত ছাপা শাড়ি। ছাপা শাড়ির কপালে আধভাঙা চাঁদের মতো টিপ! ক্লাস ফোরের পর থেকে তার বাড়ি বাড়ি ঘুরে কাজ! আমাকে ‘তুই’ বলতে পারে না আর– আমাদের বারান্দার পাশ দিয়ে, মাথা নিচু করে চলে যায়! সপ্তমীর সন্ধেয় স্বামীর সঙ্গে সে হাসতে হাসতে আইসক্রিম খায়– আমি দূর থেকে দেখে নিশ্চিন্ত হয়ে বসি।  পরদিন সকালে পূর্বপুরুষের প্রসন্ন হাসির মতো রোদ ওঠে। ছাদে যাই– পুজোবার্ষিকী আনন্দমেলা ধুলো ঝাড়ার অপেক্ষা থেকে উঠে পড়ে। চিলেকোঠা ভরা পুজোর বই– শুকতারা, আনন্দমেলা, চাঁদমামা! বাঁধানো খণ্ডে খণ্ডে। আমি গেলে, তারা জেগে উঠে মেলে ধরে পাতা!  তাদের রাজপাটে রাজকন্যা ফিরে আসে তবু– রাজপুত্র আসতে পারে না। সাত সমুদ্রের পারে, সে তার ঘর বানিয়েছে। সপ্তডিঙ্গা মধুকর হারিয়ে ফেলেছে সে ছেলে। ছেলেরা আদতে বিস্মৃতিপ্রবণ– কষ্ট পার হতে পারে সহজে। আমাদের চিলেকোঠার মনে আছে সেই ছেলেমেয়ে দুটোর হুটোপুটি– বারবার রাতে উঠে নতুন জামাজুতো দেখে দেখে যাওয়া– বাবা-মায়ের মতোই সে, সেসব দিনের কথা ভাবে!– তারপর বিজয়া এসে যায়। ইছামতী তীর থেকে দূরে চলে যাওয়ার গাড়ির হর্ন বাজে– সিঁদুরখেলা থেকে যাদের রোলনাম্বার কাটা গেছে , তারা রাংতা জড়ো করে। যারা নতুন রং পেয়েছে– তাদের বাসন্তী রঙ-ছবি তোলে সঙ্গীরা– তাড়াহুড়ো লেগে থাকে, নদীর পারে যেতে হবে বলে–! মায়ের চোখে জল– দর্পণ থেকে মুখ ঘুরিয়ে দেখি, এখনও কাগজে চিঠি লিখে দিয়ে চলে গেছে বালক-বালিকারা!

আমারও ফেরার সময় এসে যায়! রোদের ঘুমের সময় আসে– লক্ষ্মী পূর্ণিমার রাত ডাকে– পুজোর শাড়িতে ধান রঙের জমির পাশে, ঈষৎ চোখের জল লেগে ভিজে থাকে সারাবছর!

আরও পড়ুন...