Hello Testing Bangla Kobita

Advertisement

1st Year | 10th Issue

রবিবার, ২৮শে চৈত্র ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | Sunday, 11th April 2021

আ মা র  পু জো

বাঙালির তেরো পার্বণের সেরা পার্বণ দুর্গা পুজো। তো এই পুজো নিয়ে কী ভাবছেন তাঁরা? পুজো তাঁদের কাছে কীভাবে ধরা দেয় অথবা পুজোর ভেতর তাঁরা ধরা পড়েন কীভাবে... কলম ধরলেন

অ নি মি খ   পা ত্র

যা যা থাকে যাতায়াতের পাশে

অগাস্টের একদম শেষদিক থেকে, এই সময়, এই বহুব্যবহৃত হাওয়া-বাতাসের ভেতর থেকেই একটা অন্যমন বেরিয়ে আসতে থাকে। খুব ভালো একটা মনখারাপ হয় আমার! যেন, কতদিন পরে ‘কই গো’ বলে মনের দাওয়ায় একটু বসতে এসেছি। বাইরে, রোদ শরতের চিঠি নিয়ে আসছে তখন। স্বদেশ সেনের কথামতো ‘নীল রবারের থাবা পড়ে গেছে আকাশের গায়’। হাওয়া ক্রমশ মা হয়ে যাবে এবার। আর সেই হাওয়ায় গর্ত করে ঢুকে পড়বে দূরদেশ ভ্রমণের কথা। যাতায়াতের পাশে ফুটে উঠবে কাশফুল। এই ক্রমশ ভারী হয়ে আসতে থাকা, ক্রমশ নভেম্বরের  দিকে ঢলে পড়তে থাকা ঋতুই এখন আমার পুজো। চাপা পড়ে গুমরে থাকা মনের ওজনের পাশে হাত রাখার বেলা। 

আমার পুজো একটা বাইশ সেকেন্ডের রেলপথ। সাতসকালের ট্রেনে রূপনারায়ণ পেরনো, তার বুকে তখন ইলিশ শিকারী মাঝিনৌকো ভেসেছে। কোলাঘাট স্টেশনের পর কাশফুলের সমারোহ। রোজ দেখেও না দেখে উপায় কী? ট্রেনের দরজায় দাঁড়াই, হাওয়া কতটা নিবিড়  হলো আন্দাজ করি। বুঝি, জীবন আসলে খুব ছোটো ছোটো জিনিসে সাজানো। আর ভাবি, যাত্রাপথের সৌন্দর্যটি না থাকলে গন্তব্যের মানেটাই বা কী! লিখি – যা যা থাকে যাতায়াতের পাশে, তাদের লেখা বলা হয়। 

মাটির প্রতিমায় ভক্তিহীন এই আমার আসলে তো অনেক দেবতা। আমার তো প্রকৃতিই দেবী আর জীবনই দেবতা। এই শরৎ হেমন্ত যেন এক দ্যে জা ভু, যেন কোনো পূর্বস্মৃতির মধ্যে আস্তে ঢুকে পড়া। সারা বছরের কেন্দ্রীয় স্ক্রু এই অক্টোবর মাস। বছর স্পষ্টতই দুটো অক্ষে ভাঙা। গ্রামে, দূর থেকে ভেসে আসে ঢাকের আওয়াজ, সকালের পায়ে শিশির। শহরে, মানুষের হাসি দিয়ে বাঁধানো রোশনাই। কখনও এসব টের পাই, কখনও বা দূর প্রদেশের রোমাঞ্চে মনে আর জায়গা থাকে না। তবু, যেকোনো আনন্দের মধ্যে আমি কেন যে বেদনাই পাই! এমনকি বিয়েবাড়িতেও যেন কিছু একটা ভেঙে যাচ্ছে, কী একটা চলে যাচ্ছে, সানাইয়ের সুরে তো আসলে তারই সঙ্গত! 

এদিকে, ক্লাসে, ছাত্রছাত্রীদের তখন উইলিয়াম ব্লেক পড়াবার সময়। Innocence আর Experience। Lamb আর Tiger। আলো আর অন্ধকার। কারো কোনো স্থানাঙ্ক থাকে না। এ ওর মধ্যে নিয়ত ঢুকে পড়ে হিসেব গুলিয়ে দিচ্ছে । কে যে কোন্‌টা ভালোভাবে ঠাহর করার উপায় নেই। মনখারাপ আর মনভালো – এদের কারবারও অনেকটা সেইরকম।  

আরও পড়ুন...