Hello Testing Bangla Kobita

প্রতি মাসে দ্বিতীয় রবিবার

Advertisement

2nd Year | 3rd Issue

রবিবার, ২২শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | Sunday, 8th August 2021

আ মা র  পু জো

বাঙালির তেরো পার্বণের সেরা পার্বণ দুর্গা পুজো। তো এই পুজো নিয়ে কী ভাবছেন তাঁরা? পুজো তাঁদের কাছে কীভাবে ধরা দেয় অথবা পুজোর ভেতর তাঁরা ধরা পড়েন কীভাবে... কলম ধরলেন

দে ব ব্র ত   ক র   বি শ্বা স

অনুগ্রহ করে শুনবেন

হ্যালো! হ্যালো! হ্যালো টেস্টিং হ্যালো হ্যালো… ওয়ান টু থ্রি ফোর… একটি বিশেষ ঘোষণা, অনুগ্রহ করে শুনবেন। ভোরবেলা ঢাকের আওয়াজ শুনে একটি ‘সাত বছর’কে ছুটতে ছুটতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা গেছে। শোনা যাচ্ছে, সে পাড়ার আবছা হয়ে ফুটে ওঠা গলি দিয়ে হেঁটে গেছে প্যান্ডেলের দিকে। একটু ঘন হয়ে দেখে বোঝা গেছে মাটিতে তার পা পড়ছিল না। পুজো এলে এমন হয় তার। ঘুমন্ত বাবা মায়ের আগল ছেড়ে চুপচাপ উঠে দৌড়তে দৌড়তে সে এসেছে। রাতে ঠাকুর আনতে গিয়েছিল দাদারা। ভোরবেলা এসেছে। ম্যাটাডোর চেপে। স্বর্গের দেবীকে মাটিতে নামানো হচ্ছে। মায়ের মুখ ঢাকা আকুল রঙের কাপড়ে। দেখেই তার হুহু করে কান্না পেয়েছে। সেই কান্নার নাম- ‘ছেলেমানুষ’। একটি ‘বারো বছর’ সন্ধেবেলা ঠাকুর দেখতে বেরিয়েছে। পকেটে এগরোল আর কোল্ড ড্রিংক কেনার সামর্থ্য। এই প্রথম সে বন্ধুদের সঙ্গে একা বেরনোর সুযোগ পায়। আজ্ঞে! বন্ধুদের সঙ্গে। একা! ভয়ে ভয়ে সে সুন্দরী মেয়েদের দিকে তাকাতে শিখেছে। সে ঘুড়ির মতো উড়ে বেড়াচ্ছে রাস্তায় রাস্তায়। আচ্ছা, ঘুড়ির কি ডানা থাকে? এই ঘুড়ির নাম- ‘প্রথমবার’। তারই সমবয়সী একজন এগরোলের দোকানে বাবার সঙ্গে কাজ করছে। বাবা রোল বেলছেন। কালো চাটুতে পরোটার সঙ্গে নিপুণভাবে মিশিয়ে দিচ্ছেন ডিমভাজা। ছেলেটিকে দিচ্ছেন। ছেলেটি পেঁয়াজের সঙ্গে লঙ্কা, লঙ্কার সঙ্গে শসা, শসার সঙ্গে সস মিশিয়ে গোল করে মুড়ে দিচ্ছে কাপড়ে। তার পরনের মলিন জামায় কিছুটা রোজগারের পুজো এসেছে। কাজের ফাঁকে সে হাঁ করে তাকিয়ে থাকে ঝকঝকে জামাকাপড়ের দিকে। সেই তাকিয়ে থাকার নাম- ‘ফ্যালফ্যাল’। রাস্তায় তখন মাছি না-গলা ভিড়। হরেক রকম ভিড়। কলেজপড়ুয়া ‘হাহাহিহি’ ভিড়। সংসারী ‘বছরে এই কটাদিন’ ভিড়। প্রেমে পাগল ‘ঠেলাঠেলিতে আগলে রাখি’ ভিড়। রাত বাড়ে, ভিড় বাড়ে। ঘাম বাড়ে, লাইন বাড়ে। লাইনে দাঁড়িয়ে এক-দু’পা এগোতে থাকা এই সমস্ত ভিড়ই আসলে উৎসব। এই উৎসবের নাম- ‘উন্মাদনা’। এই পাগলামির রাস্তার পাশে অন্ধকার বাড়ির দোতলার ব্যালকনিতে রেলিঙে পা রেখে বসে আছে একজন ‘পঞ্চাশ বছর’। পরনে টি—শার্ট, বারমুডা। এক কালে সারারাত ঠাকুর দেখে বেড়ালেও এখন আর ভিড় ভালো লাগে না তার। সারা দুপুর ধরে সে মণ্ডপে আড্ডা মারে। রাত বাড়লেই গ্লাসের পর গ্লাস উড়ে যায় স্মৃতিচারণে- “এখন আর পোষায় না”। বাড়ির লোকে বিরক্ত হয়। তবু সে ভিড়ে যেতে নারাজ। এখন দূর থেকে দেখেই আনন্দ। এই কর্পোরেট বাবুর কাছে পুজো মানেই ছুটি। আর এই যে মেজাজ, এর নাম- ‘অবসর’। অন্যদিকে ছুটি পেয়ে পিঠে রুকস্যাক নিয়ে হাওড়া স্টেশনে দাঁড়িয়ে আছে এক ‘সপরিবার’। তাদের পুজো মানেই পাহাড়। পুজো মানেই সমুদ্র। লম্বা ছুটিতে শহর ছেড়ে এই পালিয়ে যাওয়ার নাম- ‘মুক্তি’। ওদিকে একজন ‘সত্তর বছর’, তিনিও মুক্তি চান। চান, অথচ চান না। এ যে কী দোলাচল! “এবার চলে গেলেই হয়” ভাবতে ভাবতেই চোখ জলে ভরে আসে তাঁর- “এই কি আমার দেখা শেষ পুজো?” এই মানতে না পারা মনের নাম- ‘অপেক্ষা’। 

হ্যালো হ্যালো… অনুগ্রহ করে শুনবেন, ছেলেমানুষ, প্রথমবার, ফ্যালফ্যাল, উন্মাদনা, অবসর, মুক্তি, অপেক্ষা সবাইকে জানানো হচ্ছে তোমরা/ আপনারা যেখানেই থাকুন না কেন, অতি শীঘ্রই আমাদের এই মনখারাপিয়া সর্বজনীন পুজো মণ্ডপে যোগাযোগ করুন। তোমাদের/ আপনাদের ছাড়া এই আমার/ আমাদের পুজো অসম্পূর্ণ। কোনও অসুখ যেন এই সুখকে কেড়ে নিতে না পারে।   

আরও পড়ুন...