Hello Testing Bangla Kobita

3rd Year | 6th Issue

রবিবার, ২৬শে কার্তিক, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ | Sunday, 13th Nov 2022

প্রতি মাসে দ্বিতীয় রবিবার

প্রচ্ছদ কাহিনী, ধারাবাহিক গদ্য, ছোটোগল্প, গুচ্ছ কবিতা, কবিতা, প্রবন্ধ, উপন্যাস, স্বাস্থ্য, ফ্যাশান ও আরও অনেক কিছু...

অ নু বা দ

কু ব ল য়   ব সু

আফ্রিকার কবিতা

বেলা সনি দীপোকো
(Mbella Sonne Dipoko)

ক্যামেরুনের কবি, ঔপন্যাসিক ও চিত্রকর বেলা সনি দীপোকো ১৯৩৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬০ সালে তিনি প্যারিস চলে যান। সেখানে তিনি বেশ কিছু বছর নাইজেরিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনের ফ্রান্সের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। পরবর্তীতে ফ্রান্সে পড়াশোনা শুরু করেও তা অসমাপ্ত রেখেই সাহিত্য চর্চায় জড়িয়ে পড়েন। তাঁর যাবতীয় লেখালেখি ইংরাজিতেই। তাঁর মৃত্যু ২০০৯ সালে। অনুবাদ করা কবিতা দু’টি যথাক্রমে ‘Transition’ (Vol. 4) এবং ‘Black and White in Love’ থেকে নেওয়া।

আমাদের জীবন

যন্ত্রণাকাতর পাখিটি মরুভূমিতে আরো কাতর হয়ে পড়ছিল

বাতাসে উড়িয়ে দেওয়া একটি গান তার

মরূদ্যান যেমন

পানিবাহকেরা বলাবলি করছিল

পাখিটি ক্রমশ নিচে নেমে আসছে উড়তে উড়তে

আহা কী হৃদয়বিদারক তার এই গান

 

তার ডানায় ভর করা আশা শেষ অবধি স্বপ্নই

(আমাদের নিয়তি যেন কালো মুখোশে ঢাকা)

 

আগামীকাল বা পরবর্তী সময়ে যে সব দেশগুলি গড়ে উঠবে

সেই সমস্ত শহরে আমরা একই প্রার্থনা করেছিলাম

গ্রামে গ্রামে আমাদের পূর্বপুরুষের মিথগুলোকে উপস্থাপন করেছি

আমাদের হতাশা আমাদের জীবন আমাদের মৃত্যু প্রেরণ করেছি

কোনো এক রক্তদাতার ভালোবাসার দাক্ষিণ্যে আমরা আত্মতৃপ্ত হয়েছি

 

আমার প্যারিসের ডায়েরি থেকে

আমার কাছে শুধুমাত্র তিরিশ সেন্ট পড়ে আছে

কেন জানি না দুনিয়ার সব কিছুতেই আমার হাসি পায় বা

পঁয়তিরিশ বছরের শিশু আমি নিজেকে নিয়েও হাসি কিন্তু আমি আশাবাদী।

জীবন তখন থেকেই কঠিন হয়ে উঠেছে যখন আমি সব নিন্দার থেকে পালিয়ে এসেছি

পৃথিবীর যে কোনো সংবাদপত্রের থেকেই কমিশন পাবার মতো বিক্রিবাটা বন্ধ করে দিয়েছি

বামপন্থী পুস্তিকাগুলির বিষয়ে বিশেষভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে

আমি কিস্তিতে কিস্তিতে মৃত্যু গুণছি

অনাহারের খাদ্যতালিকা জেনে

এবং দীর্ঘদিনের ভাড়া বাকি রেখেছি।

নিশ্চিতভাবেই এটা জীবনধারণের কোনো উপায় নয়

নির্দয় দিনগুলিকে সামলানোর জন্য প্রস্তুত সেনাবাহিনির কাছে

আরো উন্নত যাপনের জন্য স্লোগান ফেরি করি

কিন্তু সংগ্রাম চলবেই

এবং আমরা স্বপ্নেও অজস্র নতুন রণাঙ্গন উন্মুক্ত করব

 

কোফি ওয়ানর (Kofi Awoonor)

ঘানার কবি-অধ্যাপক কোফি ওয়ানর ১৯৩৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন। ঘানা ছাড়াও তিনি তাঁর উচ্চশিক্ষা সমাপ্ত করেন লন্ডন ও আমেরিকাতে। লন্ডনে থাকাকালীন বিবিসি-র জন্য নাটক লেখার সময় তাঁর দীর্ঘ নামটিকে তিনি ছোট করে ব্যবহার করা শুরু করেন, এই নামেই তিনি খ্যাত। ঘানায় ফিরে এসে কেপ কোস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি ইংরাজি ভাষার অধ্যাপক হিসেবেও পড়িয়েছেন অনেকদিন। ঘানার রাজনৈতিক টানাপোড়েন চলার সময় তাঁকে বছরখানেক জেলে কাটাতে হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি ঘানার রাষ্ট্রদূত হিসেবে ব্রাজিল এবং কিউবাতেও বেশ কিছুদিন নিযুক্ত ছিলেন। ২০১৩ সালে নাইরোবিতে একটি শপিং মলে সাহিত্য উৎসবে যোগদান করতে গিয়ে এক হামলায় তাঁর মৃত্যু হয়। অনুবাদ করা কবিতাগুলি তাঁর ‘The House by the Sea’ বইটি থেকে নেওয়া।

প্রথম বৃত্ত

১।

 

দুঃখ এখানে এসে শেষ হয়েছে

নতুন বছরের পার্টি শেষে পড়ে থাকা উচ্ছিষ্ট নিয়ে লড়ে যাচ্ছে দুটো কাক

আমার কুঠুরি থেকে আমি দেখতে পাচ্ছি

এক শীতল কঠিন পৃথিবীকে।

 

২।

 

এই তবে সেই স্ফোটক যা গোটা জাতির যন্ত্রণা-

বন্দিশালা, অত্যাচার, রক্ত আর ক্ষুধা।

একদিন বিস্ফোরণ হবেই;

হতেই হবে।

 

৩।

 

যখন আমি শুনলাম তোমাকে ওরা নিয়ে গেছে

আমরা অনেকেই অনুমান করতে চাইছিলাম

তুমি কোথায় থাকতে পারো

কোন দুঃস্বপ্নের মধ্যে থাকতে পারো?

সেই রাতে আমি চাপা গোঙানি শুনেছি

নিপীড়নের ঘেরাটোপে তুমি হারিয়ে গেছ

ভেবে অবাক হচ্ছিলাম

তারপর তুমি এলে, অসামান্য, রক্তাভ চোখে

 

সেই প্রথমবার আমি কেঁদেছিলাম

ক্রিস্টোফার ওকিবো
(Christopher Okigbo)

নাইজেরিয়ার কবি ক্রিস্টোফার ওকিবো জন্মগ্রহণ করেন ১৯২২ সালে। কর্মজীবনে তিনি অসংখ্য পেশার সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন। প্রশাসনিক কাজ, শিক্ষকতা, প্রকাশনা, নাইজেরিয়া ইউনিভার্সিটিতে লাইব্রেরিয়ান ইত্যাদি বিভিন্ন ভূমিকায় নিযুক্ত ছিলেন। তিনি চিনুয়া আচেবের সঙ্গে ‘সিটাডেল প্রেস’ নামে একটি প্রকাশনা সংস্থা শুরু করেছিলেন। ১৯৬৭ সালে বিয়াফ্রার যুদ্ধে যোগদান করে তিনি নিহত হন। অনুবাদ করা কবিতাগুলি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত তাঁর কাব্যগ্রন্থ ‘Heavensgate’ থেকে নেওয়া।

জলকন্যা

উজ্জ্বল

সিংহীর বাহুর মতো ঝলমলে,

সে সাড়া দিচ্ছিল,

সাদা আলোর পোশাকে

এবং ঢেউ তাকে আগলে রাখছিল

চন্দ্রালোকের মুকুটে জড়ানো আমার মৃগেন্দ্রাণী।

 

নিমেষের মতো তার উপস্থিতি-

বাতাসের শ্বাসে আগুন ঝলকানি-

যেন আয়নার মতো চারিদিকে তাকে দেখি।

 

আরো নিচে…

ঢেউগুলি তাকে পরিশুদ্ধ করে তুলছে:

যেন সোনার ফসল

নিমজ্জিত হয়ে যাচ্ছে অনাহরিত

 

লবণের শূন্যতা-মাখা জলকন্যা,

গোপন শ্রবণে বেড়ে ওঠে।

 

সেতু

তোমাকে এবং জোয়ার ছাপিয়ে আমি দাঁড়িয়ে আছি

দ্বিপ্রাহরিক জোয়ারেরও ঊর্ধে

জলস্রোতের হাস্যরোল শুনছি

কেন যে জানি না:

 

সেই উদ্দামতাকে শুনছি…

 

আমি দুপুরের জোয়ার ছাপিয়ে দাঁড়িয়ে আছি

মাথা উঁচু করে,

আমার পায়ের নিচে তরঙ্গ বয়ে যাচ্ছে:

জোয়ার এসে ধাক্কা দিচ্ছে তারও তলদেশে।

আরও পড়ুন...

প্রতি মাসে দ্বিতীয় রবিবার