Hello Testing Bangla Kobita

অ নু বা দ

রা জী ব   চ ক্র ব র্তী

টমাস ট্রান্সট্রোমার

[ কবি পরিচিতি: (1931- 2015) ব্যক্তি পরিচয়ে কবি ও অনুবাদক এবং অন্য আধারে মনস্তাত্ত্বিক এই সুইডিশ কবির দৌলতে আমরা যেমন পাই বিদগ্ধ অনুবাদ, তেমনই পেয়েছি প্রখর অনুভূতিময় কবিতার ডালি। তাঁর ঝর্নাকলমে প্রকৃতি ও ঋতুরঙ্গ যেন প্রাণ পেয়ে পাঠককে ছুঁয়ে গেছে, প্রকৃতির নির্ঝরের পাশে পাশেই এসেছে এক চিত্রল গূঢ়তা ও প্রাত্যহিক জীবনবোধের গুপ্ত বিস্ময়-- তাই অনেকেই তাঁকে খ্রিস্টান কবি বলে চিনতে চেয়েছেন; কিন্তু কবির কি আদপেও কবিতা ভিন্ন কোনো ধর্ম থাকে! দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালপর্ব থেকেই তিনি এক শক্তিশালী স্ক্যান্ডিনেভীয় কবিতাকার বলে খ্যাতিলাভ করেন। তাঁর কবিতা সহজগম্য হলেও আলো-আঁধারিতে মাখা, এমনকি তাঁর অনুবাদও। সারা পৃথিবীতে প্রায় ষাটটি ভাষায় তাঁর সৃষ্টি অনুদিত হয়েছে। বহুবিধ পুরস্কারের সঙ্গে সঙ্গেই ২০১১ সালে তিনি সম্মানিত হয়েছেন নোবেল পুরস্কারে, মৃত্যুর মাত্র চারবছর আগে। ]

এলিজি

প্রথম দরজাটা খুলতেই আমার সামনে

ডানা মেলে দিলো রোদ্দুরে ঢাকা একটি ঘর।

হঠাৎ বাইরে বিকট চিৎকারে একটা গাড়ি ছুটে গেলো,

আর আমি মুহূর্তেই কেঁপে উঠলাম।

                           

দ্বিতীয় দরজা খুলে দেখি

বন্ধুরা! অক্লেশে গলায় ঢালছে সামান্য আঁধার,

এবং ক্রমশই ওদের শরীরগুলো ফুটে উঠতে লাগলো ওই অন্ধকারে।

                         

এবার পালা তৃতীয়টির। দরজার পাল্লা সরাতেই বেরিয়ে এলো হোটেলের একটি ছোট্ট ঘর ও আজানুবিস্তৃত সুঁড়িপথ।

শুধু পিচের ওপরে ওই চকচকে ল্যাম্পপোস্টটি একা একাই জেল্লা দিচ্ছে আর ওর শরীরের গাদ থেকে নেমে আসছে এক অনন্ত সুন্দর।

কালো পোস্টকার্ড

ক.

 

ক্যালেন্ডারের পাতা জুড়ে আছে এক অজানা ভবিষ্যৎ,

অসীমে ধ্বনিত তারের গুচ্ছে গুঞ্জিত লোকগান।

সীসা-নির্মিত সাগরে চলেছে কেবলই তুষারপাত,

বন্দর জুড়ে ছায়ারা শুধুই মুখোমুখি যুযুধান।

 

খ.

 

মধ্যজীবনে মৃত্যু মাপবে তোমায়,

তবুও জীবন বহুদূর ভেসে যায়।

গাঢ় কোনো এক অভিজ্ঞানের ঘোরে

পোশাকখানি নীরবেই বোনা হয়।

সীমান্তের ওপারের বন্ধুদের জন্য লেখা

যথেষ্ট সতর্ক হয়ে আমি তোমাদের কথা লিখি।

কিন্তু যা কিছু আমি বলতে পারিনা

তা গরম-বাতাস ভরা বেলুনের মতোই

আমার ভিতরে ফুলে ওঠে,

আর অবশেষে

ভেসে যায়

 

                  রাত্রির নির্মল আকাশে।

ছায়া বাক্সের গুচ্ছকবিতা

ক.

 

আমরা প্রস্তুত হয়ে আমাদের ঘর- গেরস্থালি তাকে দেখিয়েছি।

আর তাতেই আগন্তুকের মনে হলো,

এ জীবনে আমরা বেশ সুখেই আছি।

তাহলে বোধহয় জগদ্দল বস্তিটা আমাদের ভেতরেই রয়ে গেছে।

 

খ.

 

চার্চের ভিতরের দাম্ভিক খিলান আর ধনুকপারা ছাদের পলেস্তারা, ঠিক যেন ডানাভাঙা প্রতিশ্রুতির গায়ে

লেগে থাকা

একটি ছাঁচ।

 

গ.

 

চার্চের মধ্যে একটি ভিক্ষাপাত্র

ক্রমশই ওজন হারিয়ে ঊর্দ্ধগতি পেয়ে সুদৃশ্য আসনের সঙ্গে শূন্যে ঝুলে আছে,

দেখো…

 

ঘ.

 

কিন্তু, গির্জার ঘন্টাগুলি পাতালে আশ্রিত,

নর্দমার নালিতে এখন  ঝুলে আছে তারা।

আর আমরা পা বাড়ালেই, শুনছি ওদের

নাচের ঝংকার।

 

ঙ.

 

স্বপ্নচর  নিকোডিমাস তার ঠিকানার সন্ধানে এখন রাস্তা হাতড়ায়।

কে তবে ঠিকানার খোঁজ পেয়েছে এ জগতে আর? জানা নেই।

 

আমরা সবাই কিন্তু সেই নিরুদ্দেশেরই  পথযাত্রী।

আরও পড়ুন...