Hello Testing

3rd Year | 8th Issue

১লা মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ | 15th January, 2023

প্রচ্ছদ কাহিনী, ধারাবাহিক গদ্য, ছোটোগল্প, গুচ্ছ কবিতা, কবিতা, প্রবন্ধ, উপন্যাস, স্বাস্থ্য, ফ্যাশান ও আরও অনেক কিছু...

অ নু বা দ

অ মি তা ভ   মৈ ত্র

জেরোম রথেনবার্গের কবিতা

বানটু রাজাদের প্রশস্তি

১।

 

সঙ্গে যাই মৃতদের

আমি নিজের সঙ্গী হই না।

আমি বোকা এমন কেউ যে বুদ্ধিমান।

আমি সিংহ যে থাবা টানটান করেনি কখনও।

আমার বাবা নেই মা নেই।

আমি ছিলাম।

 

২।

 

বৃষ্টির সন্তান আমি যে বৃষ্টি পূর্ব থেকে আসে মৃদু জল দেয়।

আমি বৃষ্টি যে মৃদু জল দেয়।

টাকমাথা ক’জন বুড়োকে ভিজিয়েছি।

আমি বিছানা যেখানে শুয়ে পড়ে মৃতরা।

মাঝে মাঝে কাজ করি, একবার জায়গা খুঁজেছিলাম

                                     বেরিয়ে যাবার জন্য।

রেগে গেছিলাম।

পরে সিংহদের জঙ্গলে ঘুরে বেড়াই।

তোমাদের রাজা আমি।

 

৩।

 

আমি ছিলাম গাছ যার পাতা হারিয়ে গেছে।

শক্ত হয়ে গেছে চামড়া।

সরু কিছু ডালপালা পড়ে আছে জ্বালানির জন্য।

 

৪।

 

যা আমার নয় তাই আমি।

আমাকে কবর দিতে দেব না ওদের।

কাল দেখা করব আরেকজনের সাথে।

আমি মেরে ফেলেছি রাজাকে আর তার সন্তানদের।

এই দ্বীপ যার আমি মেরে ফেলেছি তাকে।

একসময় তার ভাইকেও মেরেছিলাম আমি।

 

৫।

 

আমি ভালবাসি।

আমি তন্নতন্ন করে বেড়িয়েছি এই দেশ।

আমাকে সম্মানিত করা হয়েছে জমি আর মানুষ দিয়ে।

যাদের ভেড়া আর ছাগল ঘৃণা করতাম আমি।

 

৬।

 

জঙ্গলের সিংহ আমি।

ভয় পাইনা ডাইনি বিদ্যায়।

শিকারকে মেরে আমি তার যৌনাঙ্গ খেয়ে ফেলি।

 

 ৭।

 

মাটিতে চোখ রেখে আমি খুঁজেছি

             চালুনি থেকে পড়ে যাওয়া শস্যদানা।

আমি ছিলাম ক্ষুধা এই পরাজয়ের দেশে।

 

৮।

 

আমি সুন্দর আর পাতলা আমার চামড়া।

মৃত বাচ্চাদের নিয়ে যাওয়ার স্ট্রেচার আমি।

কবরখানার ভেতরে যাবার পথে আমাকে কেউ এড়াতে পারেনা।

মোষ আর আগন্তুকদের যুদ্ধে হারিয়েছি আমি।

 

৯।

 

দাগ দেওয়ার জন্য দক্ষতা আছে আমার।

আমার স্ত্রীর স্বামী। জামা গুঁজে পরিনা।

ছাগল-দাড়ির একজনের সঙ্গে ইয়ার্কি করেছি।

 

১০।

 

ঝুঁকে পড়া মানুষদের সাথে থাকতাম।

আমাকে শেখানো হয়েছিল।

খাড়া হয়ে দাঁড়িয়ে আছি।

১৯৬০ সালে বেরিয়েছিল জেরোম রথেনবার্গের ( জন্ম-১৯৩১) প্রথম কবিতার বই ‘White Sun Black Sun’. সেই বইয়ের শুরুতেই টেলিগ্রামের মতো মিতকথনে তাঁর কবিতাভাবনা জোরালোভাবে জানিয়েছেন তিনি। সেখান থেকেই তাঁর একা রাস্তার শুরু। আগের এবং সমসময়ের সমস্ত চিহ্ন ও লক্ষণ আত্মস্থ করেছেন তাঁর এই যাত্রাপথে। বিভিন্ন জনজাতির verbal এবং non-verbal poetics এর বিপুল বৈচিত্র্য, তার সঙ্গে উত্তর-মার্কিনি ভারতীয় সংস্কৃতি, জাপানি সাহিত্য, দাদাইজম, ভাষাতত্ত্ব, নৃতত্ত্ব, বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর প্রত্নপরিচ­­­­­­­­­য়- সব মিলিয়ে ‘Ethnopoetics’ নামে একটি অখণ্ড ভাবনা তিনিই প্রথম এনেছিলেন, যার সাহায্যে সারা বিশ্বের হারিয়ে যাওয়া লিখিত ও অলিখিত সাহিত্যিক ঐতিহ্যকে তুলে এনে তাকে বর্তমানের সঙ্গে যুক্ত করতে চেয়েছিলেন। ১৯৬৮ সালে বেরিয়েছিল ‘Technicians of the Sacred’ নামের একটি সংকলন যেখানে আফ্রিকান, আমেরিকান, এশিয়ান ও ওশিয়ানিক কাব্যতত্ত্ব ছাড়াও সেইসব দেশের ধর্মীয় আচার ও প্রথার মূল পাঠ, চিত্রনাট্য, দৃশ্য ও শ্রাব্য সাহিত্য তুলে এনেছিলেন তিনি। ‘Alcheringa’ নামের প্রথম Ethnopoetics পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক ছিলেন তিনি। তাঁর আদর্শে উজ্জ্বীবিত হয়ে পরবর্তী সময়ে আরো পত্রিকা বেরোতে থাকে এবং Ethnopoetics নিয়ে চিন্তায় এক নতুন দিগন্ত খুলে যায়।

১৯৫৩ থেকে ১৯৫৫ পর্যন্ত তিনি ছিলেন জার্মানিতে, একজন মার্কিন সৈনিক হিসেবে। নিউইয়র্কে ফিরে তিনি অনুবাদ করতে শুরু করলেন দু’হাতে। পাউল সেলান এবং গুণ্টার গ্রাসের প্রথম ইংরেজি অনুবাদক তিনিই।

লেখালেখির প্রথম দিকে তিনি এবং রবার্ট কেলি স্প্যানিশ শব্দ ‘Cante Todo’- এর ছায়ায় লোরকাকে অনুপ্রেরণা হিসেবে সামনে রেখে শুরু করেছিলেন ‘Deep Image’ আন্দোলন। পরবর্তী সময়ে ‘Sound Poetry’ বা ধ্বনি কবিতা তাঁর অন্বেষণের কেন্দ্র হয়ে ওঠে। অর্থহীন শব্দাংশ (syllable), ধ্বনি, সুর, বিকৃত উচ্চারণ সবকিছু নিয়ে এমন কবিতা তিনি ভেবেছিলেন যেখানে কবিতা, গান, অর্থহীন জড়ানো শব্দ সবকিছুই একসঙ্গে চলেছে। এই কবিতা কোনো নির্দিষ্ট ভাষার নয়। একে লিখে বোঝানো যায় না, লেখাও যায় না সেই অর্থে। অর্থ খুঁজে পাওয়ার কোনো দায়িত্ব নেই। অর্থের বেড়া ডিঙিয়েই এখানে পৌঁছানো যায়।

অমিতাভ মৈত্র

অনুবাদক

আরও পড়ুন...