Categories
2020_sep

সুদীপ ঘোষাল

ক বি তা

সু দী প   ঘো ষা ল

বিজয়ী

রাস্তা জুড়ে বস্তিপাড়ার ভাটিখানা পাশে সুউচ্চ অট্টালিকার সারি দেখে মনে হয় নরম বালিশ ভেতরে অসার শুকনো ঘাস তবু তো স্বপ্ন জাগে

ওঠানামা করে জোয়ার ভাটা রঙমাখা বোবা আকাশের দৃষ্টিতে মন জাগে বারবার ফুটপাথ সুরে

অসমান দেহ- মনের গোপন দুয়ার ধনীর মখমলে চাদর বৃথা হাসে ঘাসের চাদরজোড়া আদরের আবদার দেখে গরিবের চন্দন ফোঁটা

মাটির মায়া ঝুরো গল্পের মত ঝরে ফুলের শেষ শয়নে। হিসেব করে পিছোয় সে মখমলি মতলবি

ভাইরাস হাওয়ায় যখন শব ভেসেছিল পৃথিবীর দরজায় সাথী ছিল মানুষের বেহিসেবি মন

 

বিলাপ

বিরহী পুরুষ ও বিশ্বাসী সীমানার বেইমানি রঙ ঘেসো আলপথের মত ভেঙে তৈরি হয় অতৃপ্ত বিছানা

ভালোবাসার রাস্তা ও মৃত ময়ালের অতৃপ্ত খিদে

আলাদা করে গিঁট দেওয়া প্রেম ও প্যাঁচালো কাম

পথে পড়ে ভুখা যিশু কতশত সাদা চাদর ঢাকা একমুঠো মাংস

কুকুর সেঁধিয়ে যায় খুবলে নেয় উপোসি রক্তশিরা

মর্গের মাতাল ছেলেটার মতো সুন্দরীর মৃত যোনির লোভে পিশাচ ঘুণপোকার সমাজ

ভীষণ লোভ শরীরী ভাষায় এলোমেলো ভাঙাচোরা প্রেম শুধু বোঝে খিদে, নরম বিছানার নাম জানে জীবনের শুরু আর প্রান্তিক শেষ সীমানায় ভেজে রক্তমাংস লাশ আর লোভের মিশ্রণ…

আরও পড়ুন...

Categories
2020_sep

আলিউজ্জামান

ক বি তা

আ লি উ জ্জা মা ন

অক্ষরজ্ঞান

প্রতিটি সফল অক্ষরজ্ঞানই একেকটি  

আত্মহত্যার প্রেরণাস্বরূপ ভেবে,

ঘাট থেকে ফিরে আসে বাবার সাইকেল।

তখন দড়ি টানাটানি খেলায়

আমার পৃথিবীর কথা মনে পড়ে যায়

যার কেন্দ্রে জল সেঁচতে সেঁচতে বেরিয়ে আসে 

ঝুলবারান্দা।

সেখানে কয়েকঘর পিছোপিছি করলেই

তোমার সাথে সম্পর্ক শেষ জেনেও

আমার হাসরের মাঠকে মনে হয় 

পোষ্য বিড়ালের মেলা। যেখানে কেউই বলেনা

ছায়া যার আঙিনা তার।

 

না পেরোনো ঘাট

এই যে হাত গুটিয়ে গুটিয়ে ম্যাপ আঁকছি। তা তোমার আগেই বোঝা উচিত ছিলো যে ধামাচাপা দেওয়া শারীরবৃত্তীয় ক্রিয়াকলাপে লকলক করে জিভচেরা নদী। গলানাঙ্কের সূত্র মেনে দেওয়াল জুড়ে যে কাফন আঁকতে শুরু করেছিলে, তা এখন ব্যাঙেদের স্বমেহনে ছিঁচকাদুনে বর্ষাকাল জানালা পেরিয়ে চলে গেছে দূরে, দূরের কোনো দম্পতির রাইজোম্যাটিক স্তরে। অথচ বাঁশি কেমন দেখো। রাই চিনে চিনে আর ঘাট পেরোতে পারেনা!

আরও পড়ুন...

Categories
2020_sep

সুমন চট্টোপাধ্যায়

ক বি তা

সু ম ন   চ ট্টো পা ধ্যা য়

নিরুদ্দিষ্ট সম্পর্কে ঘোষণা 

মিথ্যার ইশারা তাকে পাঠাতে পারেনি কোনো ছদ্ম প্রশান্তির দেশে

প্রতিশ্রুত গোলাপের ঘ্রাণ তাকে করেনি স্বপ্নাবিষ্ট

সে শুধু বাস্তবের এক অশেষ মিছিলে হেঁটে হেঁটে

প্রতিদানে ফিরিয়ে দিচ্ছে কৈশোরের প্রথম নিষ্পাপ চুম্বনের স্বাদ

 

আজ যদি তাকে তুমি খোঁজো , যদি ফিরে পেতে চাও অতীতের

সহজ মায়ায় তবে তুমি জেনে রাখো বহুদিন

নিজস্ব স্বপ্নের ঘরবাড়ি আর নিয়তির কয়েদখানা

তাকে লুকিয়ে রেখেছে কোনো স্তব্ধ দুপুরের ভাঁজে অবিকল

 

আজ যদি তাকে তুমি ডাকো , যদি ফিরে পেতে চাও সমুদ্রের

ঢেউয়ের ফেনায় তবে তুমি জানো , তুমি শিখে রাখো

দৃশ্যের ওপর দৃশ্য গাঢ় হয়ে এলে কীভাবে

 

মেঘের শরীর বেয়ে হেঁটে যায় সন্ধের বেড়াল …

 

চলচ্চিত্রম্ 

নাইন্থ সিম্ফনির কার্নিশ থেকে

ধূসর বিষাদের মতো নেমে এলো সন্ধের বেড়াল ,

নিজের ভেতরে ভিজতে ভিজতে মানুষটা এখন

একটা জলজ্যান্ত বর্ষাকাল ; খাপছাড়া শব্দের মতো

পাশাপাশি কয়েকটা জীবন যেন পঙক্তির প্রত্যাশায়

আশ্চর্য ফানুসের মতো একটি পরিত্যক্ত ব্রিজের

আগল ছেড়ে উড়ে যাচ্ছে মহাশূন্যের দিকে

 

আর এইসব দৃশ্যক্রমের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে

আমার জীবন ক্রমশ একটি জগদ্দল পাথরের নিয়তি

 

পাত্রের পানীয়তে মিশে যায় তোমার ঘৃণা ও ভালোবাসা

 

আমি নিজেই নিজের রক্ত পান করতে থাকি তারপর

 

আরও পড়ুন...

Categories
2020_sep

রবীন বসু

ক বি তা

র বী ন   ব সু

সভ্যতার ঘাড় ভাঙে

পায়ের মাত্রা ছিঁড়ে উড়ন্ত ভ্রমণ তুমি

অক্ষরের শব্দকোষ ছিঁড়ে জন্ম দাও

আকুলিবিকুলি হাওয়া

যে দৃশ্যে স্থির নেই জলের প্রপাত

তুমি তাতে পদরেখা এঁকে দাও

প্রদাহের কারণ জানতে সংক্রমণ শেখো

সাঁতার গভীরে যায় আনুভূমিক উত্তাপ

কোদালের কোপে কাটে কালোক্ষত

নির্বাচন শেষ হলে বাতিল বিমর্ষতা

শূন্যতা বরাবর হেঁটে যায়

এপারেই মেঘজন্ম পোড়াঘাস অ্যাসিড জ্বলন

 

ওপারে কি জলস্তর স্পর্শ রাখে মৃত্তিকা গভীর…. 

 

আবহে অস্থিরতা দেখা দিলে

কে যেন স্নিগ্ধতা এনে দেয় পুকুর পাড়ে

জলের ঘাই থেকে যেমন মাছের আকৃতি

মেপে নেয় জাল 

বিচ্ছেদ বিরহ থেকে দূরত্ব বরাবর অভিমান

নির্জন বিকেলে যদি ঘরে ঢুকে আসে

তুমি তাকে সোফাতে বসিও

চা দিও এক কাপ

উড়ন্ত বাষ্প থেকে নবতর কোন ঘ্রাণ

অন্বেষণে অস্থির হয়

সত্তার গভীরে মনকেমন তখন হাবুডুবু খায়

 

যাপিত জীবন-ঘিরে আলোছায়া দ্বন্দ্বময় সুখ… 

 

আরও পড়ুন...

Categories
2020_sep

সুকান্ত দেবনাথ

ক বি তা

সু কা ন্ত  দে ব না থ

আত্মার ঘর

সব কিছুই ছিল অথচ কিছুই ছিল না আমাদের

দু’টো খুঁটি বা থাম, দু’পাও হতে পারে যার মাঝে

সে এক বিস্তীর্ণ সময়

নিজেকে বলেছিল স্রোত, যা এক হিমশৈলকে ঠেলে নিয়ে গেছে

আর লিখেছে দাস্তান

যেখানে হিরোর দীর্ঘশ্বাস আর ভিলেনের অবাঞ্ছিত কান্না

একাকী দর্শকের আত্মহত্যার কারণ

যদিও সে প্রচেষ্টা কাজে লাগেনি কেননা একটি বিড়াল তার দুধ ফেলে দিয়েছিল

আর সে বিড়াল তাড়াতে গিয়ে অন্তিম কার্তুজ ফায়ার করে ফেলে

তারপর সে সামান্য রক্ত হয়েছিল আরও প্রগাঢ় মৃত্যুর বর্ণ

যদিও ফাঁকা বন্দুক

তুমি বলেছিলে এও এক ধাঁধা

আমি নিজেকে সামলে যখন কারখানা থেকে বাড়ি আসছি দেখি

টুসু ছেলের হাত ধরে রাস্তা পেরোচ্ছে

কিন্তু আমার কাছে কোনো বন্দুক নেই

শুধু এক বিবর্ণ জলাশয় আছে স্থবির এবং অসংখ্য আত্মার ঘর

 

পুরোনো ছবি

তোমার একটি পুরোনো ছবি পেলাম সেদিন আলোর নিচে

মেয়ে কোলে করে কোনো প্যাসেঞ্জার গাড়ির জানালায় বসে আছো

ছবির ভিতরে ছবি অথচ বিপরীতমুখী

জানালায় স্মৃতি

কিছুটা কামুক কিছুটা হয়তো কেউ বলেছিল অশ্বক্ষুরাকৃতি

যেখানে দু’টি পোল মুখোমুখি প্রায়

 

আমি সে প্রসঙ্গে তাকে প্রশ্ন করতে ভয় পাই

ঠাকুরের আসন থেকে খেলনাগুলি লাফিয়ে নামে রাত হলে

স্বপ্নের ভিতর তাদের সঞ্চরণ

হাত ধরে বাঁশি তুলে নেয় ঠোঁটে

মর্ম থেকে যে চিরস্থায়ী পাতাল অব্দি সুর

আমাকে দেখায়, সেখানেও এক ছবি দাফন আছে

কোনো বেলাই আর বিগত মনে হয়না

ফুলগুলি মনে হয়না যথেচ্ছ পুরোনো হয়েছে

 

আরও পড়ুন...

Categories
2020_sep

অরূপরতন হালদার

ক বি তা

অ রূ প র ত ন   হা ল দা র

দু’টি কবিতা

 

বৃত্তের ভেতরে ফাঁদ দেখে

শিকারের অবসাদ নিঝুম বেলুন ওড়ায়

আকাশে শিরস্ত্রাণ খুলে রাখে মেঘ

কিছু পরে সৌধ থেকে রক্তপাত হবে

সেসব দৃশ্য হাওয়ার স্বাদ নিতে নিতে

শ্বাসরোধী জননের ক্ষত এঁকে চলে যায়

ক্ষিপ্ত মোরগের আশ্রয়ে

অগভীর শেকড়ে পালিত স্মৃতি

উঠে এসে চা-দোকানে দেখে

নিঃশব্দ কেটলির বিষাদ তোমার আয়ত মুখে

জমে যেন কবেকার কালশিটে

ভোরের নিষাদ শ্রান্ত, চলে যায় শিলাস্তরে

সেইখানে ঘুম তার মাধবী

হে ঈশ্বরী, তোমার বাকল খুলে রাখো এই অবসরে

 

 

ঘুমিয়ে পড়া স্তনদু’টির কাছে ফিরে এসে অবসন্ন সন্ধে খুঁজে বেড়াচ্ছিল যে উদ্ভিন্ন লাল নৌকোটিকে তার কোনো স্মৃতি আর অবশিষ্ট ছিল না, সে মরে গিয়েছিল অনেক আগেই। ভেতরে ঢুকে আসছিল গোপন খাঁড়ি, যেন সেই আর্তনাদ ; খেলা শেষ হয়ে গিয়েছিল, শুশুকেরা ফিরে গিয়েছিল অন্ধকূপে। তূর্যের মতো জোরালো কিছু একটা বাজছিল আমাদের এ তাবৎ সব সময়ের আগে, আর বৃষ্টির তোড়ে ঝাপসা, প্রায় শুনতে না-পাওয়া একটা ফোঁপানোর আওয়াজ ভেসে আসছিল বাগানের কোণে করবীর গুচ্ছ থেকে। রাস্তায় তখন দাঁড়ের ছপছপ শব্দ। জল বইছিল আমাদের সিঁড়িঘর থেকে খাট-পালং, তেপায়া, ঠাকুরের আসন, বাসনপত্তর পেরিয়ে অনেক দূরে আটকে পড়া বছরগুলোয়। তুমি জনান্তিকে বলেছিলে ত্রিবিধ সেই গুপ্ত বিদ্যার কথা যার মধ্যে ছিল বায়ু কুপিত হলেও কিভাবে টিঁকে থাকা যায় একটা যুগ আর ক’রাত ক’দিন পাড়ি দিলে তবে মৎস্যকন্যার দেখা মিলে যেতে পারে ; কন্যার দু’হাত শ্যাওলাপড়া ঈশ্বরীর দু’বাহু যেন, আর চোখে পাপবিদ্ধ ছায়া।

আরও পড়ুন...

Categories
2020_sep

অরিজিৎ পাঠক

ক বি তা

অ রি জি ৎ   পা ঠ ক

জ্যামিতির অঙ্ক

রম্বসের চারটি বাহুকে একসাথে পেঁচিয়ে নিলেই

একটি বৃত্তাকার ক্ষেত্র তৈরি হয়ে ওঠে

সেই আবর্তে নিজেকে নিক্ষেপ করার আগেই

এক লাফে ডিঙিয়ে যাই বৃত্তের ক্ষেত্রফল 

 

আমাকে কোনো গণিতজ্ঞ অঙ্ক শেখায়নি কখনো

চতুর্ভুজের দেওয়ালে হাত রেখে

উল্লম্ব সঞ্চালনে নিজেই মাপতে শিখেছি

আয়তকার আকাশের সূক্ষ্ম চতুষ্কোণ

 

শীর্ষ থেকে ভূমির দিকে নেমে যেতে যেতে বুঝেছি

সমানুপাতকে অবজ্ঞা করতে যে ধ্রুবকের প্রয়োজন

তাকে ঘিরে থাকা প্রতিটি সমান্তরাল সরলরেখাই 

খণ্ড খণ্ড অনস্তিত্ব ছাড়া আসলে আর কিছু নয়

বিপন্নতা কাটাতে পারলে প্রতিটি বিন্দুও তখন

একেকটা মহাবৃত্তের সংক্ষিপ্তসার

 

এবারে একটু বসি

প্যান্ডোরার বাক্স খুলে বসলে একে একে বেরিয়ে আসতে চায়

কালো সুতো, সেফটিপিন, হ্যারিকেন চিমনি, দুলালের তালমিছরি 

 

এত যে সমারোহে আকাশ যাপন 

সে ব্যাপারে হাতযশ কোনোদিনই ছিল না আমার

কতবার এক চিলতে মেঘকে গোটা আকাশ ভেবে ফেলে

দুড়দাড় করে নেমে এসেছি ছাদের কার্নিশ বেয়ে

 

জন্মাবধি কেউ বলে দেয়নি‌ আমায়

ক্ষয়ে যাওয়া বিকেলগুলো যেখানে জমাট বেঁধে থাকে

তার ওপরে দোলনা লাগানো নীলচে বাগানটাকে আকাশ বলে

 

কতদিন দেরি করে ঘাটে পৌঁছেছি বলে

আমাকে ফেলে রেখে চলে গিয়েছে দিনের শেষ খেয়াটি

কতদিন লাফ দিয়ে নৌকোয় উঠেছি বাঁধন খুলে দেবার পরেও

এপারে সব কিছু জড়ো হয়ে মিলিয়ে যেতে যেতে

ওপারে জেগে উঠতে দেখেছি সাদা কালো রঙের ঘরবাড়ি, দোকান

 

এখনও অনেক রাত ভেজা পালক জড়িয়ে কাটানো হলো না

অনেকটা অপূর্ণ সময় চলে গেল শুধু ছল ছুতো করে, আর নয়

এবারে আমি স্থির হয়ে নদীর ধারে বসে 

অলস জলে চোখের মণির ছায়া ভাসতে দেখবো

 

ও টিকিটঘর, নোঙর তুলে দিতে বলো

আমি আর ওপারে যাবো না

আরও পড়ুন...

Categories
2020_sep

কৌশিক সেন

ক বি তা

কৌ শি ক   সে ন

মহাভারতিক

হাজার হাজার নদী মেশে এই মোহনায়, আঁকাবাঁকা জালিকা বিস্তার হয় রন্ধ্রে রন্ধ্রে –

তবু এই অববাহিকা ভেজেনি এখনও… এখনও হস্তিনাপুরের মাঠে ছড়ানো ছেটানো

শকুনির পাশা, গান্ধার থেকে ধেয়ে আসছে ঘৃণার মেঘ। এই মোহনায় হৃৎস্পন্দন

থেমে গেছে অমরাবতীরও!

ডিঙি নৌকোয় ভেসে গিয়েছিল যোজনগন্ধী অনন্তযৌবনা নারীদেহ…

ধূসর অববাহিকায় মৃত মাছের জীবাশ্ম, ভারতবর্ষের নদীতে কোনোদিন

মাছ বাঁচবে না আর! আর কোন বাণিজ্যতরী ভেসে আসবে না এই নিভৃত মোহনায়!

এই মোহনায় মোহগন্ধ সুধা বয়ে এনেছিল যেইসব উচ্ছল তরঙ্গিণীরা,

তারা সবাই পথ হারায় বারণাবতের গভীর অন্ধকারে। নদীর তীরে তীরে

ধিকি ধিকি জ্বলে প্রতিশোধের আগুন – শ্রীখণ্ডীর মতোই!

উল্কাবৃষ্টি হয় প্রতিটি নদী উপত্যকায়। ইন্দ্রপ্রস্থের বাতাসে ভেসে আসে

দ্বৈপায়ন ব্যাসের পোড়া গন্ধ!

এইসব মাসির মতো নদীরা নিমিত্তমাত্র। পানের বাটা পেতে আসর জমিয়েছিল

এই সুপ্রাচীন ভূখণ্ডে। আকাশের তাবৎ গ্রহ নক্ষত্রের দেয়ালে লিখে গেছে

কলকল শব্দমালা। এখন সবটাই বড় ক্যাকোফনিক শোনায়।

আজ মোহনায় বুক পেতে জল ভিক্ষা করছে আর্যপুত্ররাও!

 

আদিবর্ণ

চিৎ হয়ে শুয়ে থাকতে থাকতে ভাবি, একদিন এই পথ দিয়ে ছুটে যাবে উন্মাদ টোটোরা,

মেরুন রেখায় এঁকে যাবে আমূল বদলানো অক্ষরের যতিচিহ্ন।  আমাকে ঘুম থেকে তোলার

নাম করে নগ্ন হবে ব্যঞ্জনবর্ণের দল। আমি চোখ মুছে স্বর এঁকে দেবো ওদের স্তনে।

গভীর নাভিতে এঁকে দেবো ব্রহ্মনাদ!

 

চূর্ণী নদীর তীরে বাসা বাঁধবে ডাহুক ডাহুকী। মিথুনদৃশ্য ভেসে যাবে জলে। চোখের পাতায়

ডানা ঝাপটাবে অন্ত্যমিল পাখিরা। শরীরের চাদর সরাতেই উলঙ্গ হয়ে যাবো, ছাতিতে লিখে

রাখা কবিতা সমেত। তখনও শক্ত হয়ে থাকা স্তনবৃন্তে লেগে থাকবে আবছা হয়ে আসা

ভূর্জপত্র। সুপুরুষ গ্রীবাকে শিলালিপি ভেবে ভুল করবে তুমি!

 

জানালা দিয়ে দেখলাম। স্বচ্ছ আকাশ। স্বচ্ছতার ওপারে স্পষ্ট দেখা যায় বাইসন।

আলতামিরার প্রথম আলো। আমি চিৎ হয়ে দেখি। আদিম বৃংহণ ধ্বনির সমস্ত কারক

বিভক্তি। আমি চিৎ হয়ে শুনি। মিথুনাবদ্ধ ক্রৌঞ্চের তিরবিদ্ধ আর্তনাদ কীভাবে

সমাসবদ্ধ পদ হয়ে যায়…… বাল্মীকি, জেগে ওঠো!

আরও পড়ুন...

Categories
2020_sep

প্রনব রুদ্র

ক বি তা

প্র ন ব   রু দ্র

দৃশ্যান্তর অথবা শেষ দৃশ্য

তাকানো যেত নদীর জলের স্নানদৃশ্যে

একটা গোপন তিল দেখার আনন্দে

নিতম্বে দোদুলি খেত পাখির বাসা

সাপের চেরাজিভের ফাঁকে

ডুবে যেত মৌতাতি পৌরুষ শ্বাস।

 

একটা শুদ্ধদৃশ্যের লোভে

গমক্ষেতের পাশে বসে থাকা যায়

হাওয়ার দোল খাওয়া গাম্ভীর্য দেখে

শিশির সকাল শরৎকাল বুনে খায়।

 

কে জানে ময়ূর পেখম মেলে

সৌন্দর্য দেখাতে না রাগের বহিঃপ্রকাশে

সুনামির ফুলে ওঠা জলে

সাগর নিজেকে ধরে রাখবে কোন সাহসে?

 

অনুভূতি ব্যাঙাচিছানা রং তুলির নানা ক্যানভাস

একটা লম্বা ব্যথার উপর দাঁড়িয়ে পাংচার হৃৎপিণ্ড

 

অ্যাশট্রেতে সিগারেট টুকরো

পরিযায়ী অতিথি নিয়ত খুঁড়ছে মৃত্যু…

 

ড্যাশ

কফির ধোঁয়ায় মিশে থাকছে ভাবনা

চুমুক রগড়ের ক্লোরোফিলে

স্রেফ আপোষে পাপোস উচ্চারণ…

শুকনো পাতা পায়ের নিচে মড়মড়িয়ে বাজে

জঙ্গলে রোদ্দুর মাখে কত জন্তু।

আগুন লাগা ডালপালায় সহ্য হয় না উত্তাপ

প্রাণভয়ে দিগবিদিক ছোটে কত প্রাণ।

 

হাজার লক্ষ বছরে কাঠকয়লা কার্বনে জন্ম হবে হীরা

ফলের লোভে রাষ্ট্র নেতা রাজনীতি মৌনব্রত খেলে

 

দাবানলের নামে পুড়ে মাইলের পর মাইল

নির্বিকার খুনে

সরীসৃপ অনুভূতি শীতঘুমে গভীর সুখ পায়…

 

নাভিমূলে রাষ্ট্র রহস্য প্র্যাকটিস করতে থাকে

ও দিদি ও দাদা এভাবেই বড়ো হও 

কারখানা চিমনির মুখাগ্নি তানপুরায়

বাজ্ বাজিয়ে মেঘ চলেছে মহাকালে… 

আরও পড়ুন...

Categories
2020_sep

সুমন ঘোষ

ক বি তা

সু ম ন  ঘো ষ

গন্ধ

বাড়ির ফটকে বড় একটা গণেশ মূর্তি,

হতেই পারে

ভিতরে বাস করছে এক ধর্ষকামী মানুষ।

দেওয়ালে সাজানো যত্নে কোনো মসজিদ,

হতেই পারে

প্রতিদিন মাথা ঠোকে কোনো খুনি প্রতারক।

 

দেওয়াল লকলক করছে নগ্নমূর্তির সভায়,

তুমি আসলে

দেখতে পাচ্ছ না।

জানালা দিয়ে ভেসে ভেসে আসে যোনি গন্ধ

তুমি

ঘ্রাণ হারিয়েছ।

 

উত্থিত কামাতুর দণ্ডটি ঢেকে রাখতে 

আমি

কখনো ধূপ জ্বেলেছি, কখনো ছড়িয়ে দিয়েছি আতর।

 

ধার-বাকি

একইসঙ্গে বইতে থাকা দু’টি নদী আলাদা করে নিয়েছে নিজেদের

দিক পরিবর্তন করে নিচ্ছে ঝোড়ো হাওয়া

ধার-বাকি শোধ

একটু আগে লেপ্টে থাকা দু’টো শরীর 

এখন দুই পিঠে ; সম্পর্কহীন।

 

সিগারেট-কাউন্টার কাড়াকাড়ির দিন গত

বন্ধু-বিচ্ছেদের গল্পে বন্ধু লুকিয়ে চোখ রাখে 

ছোপ ছোপ দাগ ভর্তি আয়নায় –

হাসিমুখ হায়নার মতো দেখে।

 

চেনা পথ; আবাল-বৃদ্ধ-জনতা

পেট ছিঁড়ে বেরিয়ে আসে ছেলে

মাথা আর মন – মিললে মিশ্র পদার্থ – সহজেই আলাদা হয়ে যায় 

সময়ের কাছে ধার করা জীবনে জমে যায় ঘৃণা, দ্বেষ।

 

আরও পড়ুন...