Categories
2020_pujo

যশোধরা রায়চৌধুরী

ক বি তা

য শো ধ রা   রা য় চৌ ধু রী

লেখা

লেখা এক অন্তহীন বিশল্যকরণী

লেখা এক নেশামুক্তি, পুনরায় নেশায় পতন

লেখা এক দুর্নিবার ছলাকলাময়

ছেনালির পরিসর, কিছুটা বাঙ্ময়

 

 

লেখা এক বিরূপাক্ষ তির্যক বাচন

লেখা এক চলে যাওয়া যথাসাধ্য দূরত্ব অবধি

লেখা এক অপর্যাপ্ত অপচয়, আর

লেখা এক কৃপণের আগলে রাখা চূড়ান্ত আধুলি

 

লেখা এক মাচাভরা সবুজ অক্ষরে

পাতার আড়ালে থাকা একমাত্র বেগুনি পুষ্পটি

লেখা এক খুলে দেওয়া বিশ্বচরাচর

কেউ জানবে না বলে কেউ ত বুঝবে না মহিমাটি

 

লেখা এক বিলাস ব্যসন। 

যার জন্য বেচে দেওয়া যায় ঘটিবাটি।

তারপরে লেখা এক কৃচ্ছ্রসাধন

লেখা সে বিফল তর্জমাটি

অনন্তের ব্যর্থ অনুবাদে…

 

বিষাদ, ও শ্লেষ, আর অবুঝ কঠিন বিসম্বাদ

 

একটি অকবিতা

এখন মিথ্যা সব সত্য হয়ে যাবে

এখন ঘুমকেও জাগরণ মনে হবে

এখন সপাটে একটা চড় নামবে

তারপর সবকিছু গঙ্গাজল গঙ্গাজল হবে

 

এখন বিহার করে আহার করার দিন

এখন সংহারকেও ভালবাসার দিন

এখন নিজস্বী আর ক্লান্তহাসি শুদ্ধু

একটা ছোট্ট বাক্স আমাজনে নিয়ে আসার দিন

 

হৃদয়ে শুধু তালা পড়েছে , জানবে

সে তালাকে আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধবে

ভাঙবে না ত আগল । 

আহা, আগল কবে ভাঙবে!

আরও পড়ুন...

Categories
2020_pujo

বিকাশ সরকার

ক বি তা

বি কা শ   স র কা র

ফিসফিস উপত্যকা

হিসহিস করে কেউ ডাকে মধ্যরাতে

‘বিকাশদা বিকাশদা বিকাশদা’ করে ডেকে যেতে থাকে নিশি

দরজা না খুলেই বেরিয়ে আসি আমি

ছায়া ছায়া তার পিছু চলে আসি মাঠে

পেরিয়ে যাই শালবন, গোলাপবারান্দা, চুপ মসজিদ

ফিসফিস নিয়ে যায় শ্মশানচত্বরে 

নিভুনিভু ছাই আর গাঁজার কলকে ডাকতে থাকে ‘বিকাশদা বিকাশদা’ 

 

আমি খুঁজি; খুঁজি সাপের মতো ওই ঠান্ডা শরীর

কেন সে ডেকেছে আজও এমন নিচুস্বরে ভূতগ্রস্তের মতো

পড়ে আছে তার খোঁপার চাঁপাফুল, দূর্বায় পদছাপ

মাঝরাতের ঝিঁঝি যেন অচেনা রবীন্দ্রসংগীতের আবহ

 

সারারাত তার পিছুপিছু ঘুরি, সারাদিন তার ফিসফিস অনুসরণ করে ইতিউতি হাঁটি

 

নিশি সে, আর আমি তার প্রেমিক অশরীরী

 

বেগুনিবিকেল

অদ্ভুত এক শাদাবালিকা এসে আজ আমার ভিতর বসে থাকে

সমগ্র বিকেল

তার পরিচ্ছন্ন নখগুলো দেখি এই বিকেলে দীর্ঘ হতে থাকে

জেগে উঠতে থাকে সব নিদ্রিত নখ

এই যে অপরিচিত এক হাওয়া, আমি দেখি

সশব্দে উড়ছে কেমন তার কালো ওড়না সন্ধেপাখির মতো

ওড়ে আঙুলের আংটি থেকে খুলে নষ্ট গোমেদ

আর আজকের এই যে বিকেল, ক্রমশ অলৌকিক বেগুনি হতে থাকে

বেগুনি হতে থাকে আমার শরীরে তার নখের আঁচড়

 

তারপর বালিকার কামিজ উপচে পড়ে ঝড়ের পূর্ণিমা

কুৎসামাখানো রিং দুটো কানে ঝোলে ফাঁসি ফাঁসি হয়ে

সব যেন নিঝুম হয়ে আসে

প্রেম নেই, যৌনতাও নেই, বালিকার শাদাবুক অফুরান পোড়ে

 

বালিকার অভিশাপে আমি তাই হয়ে আছি বেগুনিবিকেল

আরও পড়ুন...

Categories
2020_pujo

নাহিদা আশরাফী

বাং লা দে শে র  ক বি তা

না হি দা   আ শ রা ফী

যে ঠোঁটে ঝুলে আছে প্রণয়ের মহাদেশ


শহরের সব ক’টি পথ ঠোঁটে নিয়ে
বসন্ত চলে গেছে প্রাক্তন ভিটায়।
ও মনমালি,
তোমার বকুলবউ এখন কোথায় দাঁড়াবে?
সব ক’টি ফুলের দোকান
বুকপকেটে  নিয়েছো মুড়িয়ে।
জেনে রেখো,
খোঁপাকে বিধবা করার অপরাধে
একদা এ শহর তোমায়
প্রেমিক নামেই তিরস্কার করবে।


পিয়াসী পেখম পালক হারিয়ে
বুনে চলে শোকসংহিতা।
প্রিয় মনমালি,
রক্তমন্দিরের দেয়ালে দেয়ালে
লিখে রাখো
সমুদ্রপাতার হাহাকার।
আর এক অনামিকার অপেক্ষার গল্প।

 

তোর শহরে বৃষ্টি অথৈ নাচে
এ তল্লাটে বুকের জমিন ফাটে
একবারও কি জানতে ইচ্ছে করে
রাতগুলো তার কেমন করে কাটে?
কথার আগুন স্বপ্ন পোড়ায় রোজ
দিনগুলো তো বড্ড এলেবেলে
এঁদো গলির সরু আকাশ পথে
সহসা কি চাঁদের দেখা মেলে !

আরও পড়ুন...

Categories
2020_pujo

মাহমুদ নোমান

বাং লা দে শে র  ক বি তা

মা হ মু দ   নো মা ন

ফুঁ

চোখে পোড়াবাড়ির পুকুরের নাভি
লিপস্টিকে ভ্রমে রক্তাক্ত ‘হরি,
চুঁইয়ে চুঁইয়ে জলের অলংকারে
উঠোনজুড়ে ছায়ের মেঘেদের ঘাম;
গন্ধ চোর বাতাসে নড়ছে দেউটি –
নাইটি, এভাবে খোলে না জানি
কীভাবে খোলে বলো রাম রাম!
চারদিকে শুধু একজনাই দেবী
গোলাপজলে দৌড়াচ্ছি অভিরাম;

 

নৌকা হারালেই

ক্রমেই সরে যাচ্ছি –
আঙুলের ফাঁক গলে বৃক্ষরাজির ছায়া
তুমুল জোছনা ছড়ানো আঙিনায়
উবু হয়ে ডাকছে নিমচড়ুই,
হামাগুড়ি দিয়ে আসছে শিরশিরানি বাতাস
আগুনের অঁলার মতো সিনার কাছে
বৃষ্টিবিঘ্নিত তুমিময় স্পর্শ,
দোল খাচ্ছে পাতাবিহীন ডালে
জলের দানা টুপ করে ঝরলেই
নদী বড়ো একা,
নদীর এপার-ওপার জানে
খেয়াঘাটে কেউ দাঁড়ালে
হাসে ঢেউয়ের শরীর…

আরও পড়ুন...

Categories
2020_pujo

সিপাহী রেজা

বাং লা দে শে র  ক বি তা

সি পা হী   রে জা

সন্ধ্যা অনিবার্য

সন্ধ্যা অনিবার্য
আমার মুখে তোমার কান
ফিসফাস
হাত খুলে রেখে দেওয়া রেখা
হাতড়ে খুঁজে নিবে
হাতের নয় দিগন্ত ভরা দাগ
কোনোটা মনে, কোনোটা কোথাও নয়

তোমাকে বলবো আরও শোনো
চোখে রেখেছি তোমার উত্তর
মিথস্ক্রিয়ায় গলে যাচ্ছে বরফ
সমুদ্র ধীরে উঠে আসছে গলায়
ঢেউয়ে ভাঙছে মুখ
এমন শত শত মুখ অগণিত নোয়ানো মাথা
কী বলব!
সারি সারি পিঁপড়াও যদি হতো!
এ মুখ এ মাথা আমাদেরও নয়

শব্দ করে তোমার হাসি
অনেকবার ঘষেও জ্বলল না
ঝাপটা বাতাস অনবরত
সন্ধ্যা নামল

 

পাথর

কারো ঢিল হয়ে তলদেশে দম চেপে বসে আছি ডোবা পাথর।

এখানে ক্ষয়ে খুব ক্ষীণ সময় যায়

বেশিটুকু যাচ্ছে ভাবনায়,

কবে হালকা হয়ে উঠে যাবো বুদবুদ।

আরও পড়ুন...

Categories
2020_pujo

পলিয়ার ওয়াহিদ

বাং লা দে শে র  ক বি তা

প লি য়া র   ও য়া হি দ

আপনি আমাকে কোরবানি করুন

আমার মা
মা আমার
পড়শী বেড়াতে ভালোবাসেন
লোকের তেল-নুনের আবদার মেটান
কারও বউ পোয়াতি হলে
রাত জেগে বসে থাকেন

আমার মা
মা আমার
অভাবি হলেও স্বভাব এমন
বাবা খুব বকেন
আমাদের বউরা
আমাদের বোনরা
সবাই তাঁকে ধমকান
তিনি সবুজ পান মুখে দিতে দিতে
শাহাদাৎ আঙুলে চুন মেখে
গুঁজে দেন জামের বিচির মতো দাঁতে
তারপর
আমার মা
মা আমার
মুচকি হেসে বলেন-
‘মানুষি ডাকলি আমি কী করব?’

আমার মা
মা আমার
এখন অসুস্থ
আমার মা
মা আমার
আমি বাড়ি গেলে সুস্থ হয়ে যান
মাকে ভালোবাসি কিনা জানি না
কিন্তু মা আমাকে খুব বকা দেন
বলেন, ‘তুই নির্দয়
তোর মা মরে গেছে!’

আগে মাকে ‘তুই’ বলতাম
যে দিন পালিয়ে এলাম
তারপর থেকেই ‘আপনি’ বলি
মা মরে গেলে আর কখনো
বাড়ি যাবো বলে মনে হয় না

আমার মা
মা আমার
আমাকে এখনো মারেন
এখনো সবার সামনে বকেন
আমি মায়ের বকুনি খেতেই
তাঁর কাছে বার বার ফিরে যাই

আমার মা
মা আমার
আর আমার যেন
একই দিনে মৃত্যু হয়
মা আমার
আমার মা
তুমি ছাড়া আর কেউ নেই!
এই প্রথম মাকে ‍তুমি বললাম
কান ধরে বলছি মা
আর কখনো এমনটা হবে না

আমার মা
মা আমার
আমাকে বাড়ি যেতে বলছেন
কোরবানির ইদে তিনি আমাকে
কোরবানি করবেন নাকি?
মা, পশু কোরবানির আগে
বিবি হাজেরার মতো আপনিও
সন্তান কোরবানি করুন!
আমরা অতীতে ফিরে যাই
কারণ ভবিষ্যৎ তুমুল মন্দ
মানুষ এখন নিজেকে কোরবানি করে না
তারা নিজের পশুর প্রতিযোগিতায় মত্ত

মা আমার
আমার মা
আপনাকে আমি কোরবান করছি
আপনি আমাকে কোরবানি করুন
কারণ আমাদের ভেতরের পশুরা
খুব বড় হয়ে গেছে
তারা এখন ধরাছোঁয়ার বাইরে
সেখানে ছুরি পৌঁছবে না
রক্ত এখন মানুষের দখলে!

 

আমাদের মা আমাদের মেয়ে

ইদের চাঁদ আমাকে মায়ের কাছে পৌঁছে দেয়
এবারও আমি নাড়ির দিকে যাচ্ছিলাম
দাদির কবরের দিকে
বাবার ভিটের দিকে
কিন্তু আমি কোথাও পৌঁছাতে পারছিলাম না
যেন আমার আসল গন্তব্য অন্য কোথাও!

তিনমাস আগেও যে পাখির জন্ম ছিল না
তার গান তার ঘ্রাণ আমাকে উড়িয়ে নিল
আমি পুবের আকাশের দিকে ডানা মেলেছিলাম
আর যাচ্ছিলাম উল্টো পশ্চিমের দিকে
যেদিকে আমার মেয়ে
দু’পা মেলে চোখ বুজে আমাকে আব্বা আব্বা বলে
জিকির করছিল
যেন ওর হাসি ফুলের পাপড়ির মতো আমার মুখে মেখে যাচ্ছিল
আমাকে ওর নবজাতক আঙুলের ইশারায় বলছিল,
বাবা, আমি তোমার মাছের পোনা
আমি তোমার স্বপ্নের ডানা

তবু আমি মায়ের দিকেই এগোলাম
কিন্তু এ কি! আমার মন যেন
পিপীলিকার পাখার মতো
আছড়ে পিছড়ে মেয়ের কাদার দলার মতন
শরীরের দিকেই হামাগুড়ি দিচ্ছে।

এই প্রথম কেউ আমাকে সংসারী করে তুললো
যা কখনো আমার বউ ও প্রেমিকারা পারেনি
মায়ের মতো মেয়েও আমাকে কবে বলবে,
বাবা তোমার মনের বৈঠা বাও!

মেয়েকে আমি
গাছ মা
মাছ মা
ফুল মা
পাখি মা
এইসব নাম ধরে ডাকি
আর তখন ওর কিচিরমিচির স্বভাব বেড়ে যায়

মেয়েকে যত দেখি মায়ের কথা মনে পড়ে
আর মায়ের কাছে গেলে মেয়ের কাছে ঋণ বাড়ে

আমাদের মায়েরা
আমাদের মেয়েরা
ছেলেদের সংসারে বেঁধে ফেলার পাঁয়তাড়া করে
আর আমরা ততই ভালোবাসার দোহাই দিয়ে
লাগামহারার দলে ভিড়ে যেতে চাই

আদম আসলে কী চায়?
তা কী জানে হাওয়া?

আরও পড়ুন...

Categories
2020_pujo

পিয়াস মজিদ

বাং লা দে শে র  ক বি তা

পি য়া স   ম জি দ

বর্ষাবাহিত

এই বৃষ্টি

ঊষর পৃথিবী;

অশ্রুমালঞ্চের

মধুর মুকুট।

শ্রাবণে অগ্নিকাণ্ড

রুখাসুখা জীবনে

দাহদীপ্ত বর্ষা।

জলছাইয়ের ডৌলে

মেঘপোড়া মওসুমে

তুমি আর কোন

প্রজ্জ্বলিত অলীকের

অপেক্ষায় থাকো!

স্বপ্নের তনুতীর্থে

জরুরি চুনকাম

বাদলবেলায়

করে ফেলা ভাল।

নিঝুম আমাকে কেন

বিগত গ্রীষ্মের কোরাসে

নিয়ে যেতে চাইছ!

ভুলে গেছি

ঋতুর পূর্বাপর,

শুধু এই বর্ষার

ইতস্তত মল্লারে

উপদ্রুত আমাকে

লয়ে যাও পারে,

নীল বেদনার ভেলা

আকাশের শাদায়

ভাসতে ভাসতে

এসে পৌঁছে

বর্ষার দাউদাউ নদীতে;

আমার স্বপ্ন ও গন্তব্য

তবু তোমার

রিমঝিম-রহিত।

 

আরও পড়ুন...

Categories
2020_pujo

ওবায়েদ আকাশ

বাং লা দে শে র  ক বি তা

ও বা য়ে দ   আ কা শ

আমি ও হোমার

অবিশ্বাস্য হলেও তুমি বাঘের খাঁচার ভেতর

হাত ঢুকিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলে— এবং বিস্মিত হয়েছিলে যে

বাঘের ছানারাও মানবশিশুর চেয়ে 

এতটুকু কম আবেদনময়ী নয় 

 

তারা তোমার হাত নখ লোমে

কোমল নরম ত্বক ঘষে দিয়েছিল

কুট কুট করে কামড়ে দিয়ে খুনসুটি করে প্রমাণ করেছিল—

এ যদি শুধুই মানবকুলের দক্ষতা হতো

ততক্ষণে প্রতিটি হাত রক্তাক্ত হয়ে যেত

 

আজ দূর থেকে দাঁড়িয়ে এই দৃশ্য দেখে

যারপরনাই বিস্মিত হয়ে, মাথা ঝাঁকা দিয়ে

কিছু একটা ঝাপসা দেখছি বলে— চোখ দুটো মুছতে গিয়ে

মণি দুটো ঝুরঝুর করে মাটিতে পড়ে গেল

 

মুহূর্তে মনে পড়ে গেল— অন্ধ কবি হোমার

ঠিক এ-রকম করে দেখতে দেখতেই একদিন তাঁর রচনার জ্যোতি

পৃথিবীময় অন্ধকার মুছে আলোকিত করে গেছে

 

ভাবছি, আমার পরবর্তী রচনাবলি, যদি

তাঁর তাবত রচনার পাশে বসিয়ে দেয়া যেত

তাহলে কি তা জ্বলেপুড়ে ছারখার হয়ে যাবে?

নাকি নতুন কোনো আলোয় ভরিয়ে তুলবে পৃথিবী?

 

একদিন আমি ও হোমার 

মুখোমুখি বসে নিমগ্ন মনে পরস্পরকে ইনিয়েবিনিয়ে দেখি

 

আর ভাবি মনে মনে— বিগত কোনো জন্মে প্রিয় কবি হোমার

তুমিও কি বাঘের খাঁচায় হাত ঢুকিয়েছিলে? 

 

মাটির পুতুল

দীর্ঘদিন ধ্যানমগ্ন থেকে দূরদূরান্ত ঘুরে কতগুলো মাটির পুতুল

কিনে এনে উঠোনভর্তি ছড়িয়ে দিয়ে

চোখ বুজে তার উপযোগিতা সম্পর্কে ভাবছি—

 

হঠাৎ শুনি ঢোলের বাজনা, বাঁশির সুর, ডুগি-তবলায় 

মাতাল করা উৎসবের গলা— যেন মেলা থেকে কেনা

মাটির পুতুল নিয়ে বাড়ির শিশুরা খেলায় মেতেছে

 

চোখ খুলে দেখি এরই মধ্যে রক্তপাত শুরু হয়ে গেছে

মাটির পুতুলের শিরে সম্রাট আকবরের মুকুট এবং

হাতে বাবরের তরবারি। বাড়ির শিশুরা

আড়ঙ থেকে সদ্য কেনা চাকু বের করে তাদের সঙ্গে যুদ্ধে মেতেছে

 

এত রক্ত গড়িয়ে গড়িয়ে কোথায় যেতে পারে? আর সঙ্গে 

কী কী-ই বা ভাসিয়ে নিতে পারে? ভেবে উঠবার আগেই

ঘর থেকে সমস্ত মর্মরের পুতুল, স্টিল, ক্রিস্টাল, পিতল

চিনেমাটির পুতুল— যুদ্ধক্ষেত্রে নামিয়ে দিয়ে দেখি

তাদের শরীর থেকে ফিনকি দিয়ে বেরিয়ে আসা 

রক্ত দিয়ে লিখছে: মাননীয় এ্যাম্বাসেডর…

 

আমাদের ঘরভর্তি এখন মাটির পুতুল, মাটির খেলনা

যেন সব কিছুই মৃত্তিকাময়, সোঁদাগন্ধে ভরপুর

আরও পড়ুন...

Categories
2020_pujo

নিলয় গোস্বামী

বাং লা দে শে র  ক বি তা

নি ল য়   গো স্বা মী

আলোকপাত

প্রহর ভীষণ শান্ত,

জোয়ারও থেমে গ্যাছে প্রায়।

বহু সভ্যতার নাড়িচ্ছেদ করে তুমি খুঁজে আনো

অনাবিল মোহ।

জলের প্রবালপথ পেরিয়ে,

প্রবল নীরবতার রেশ খুঁটে নিয়ে আসো শতাব্দীর ফিরোজা আঁচলে।

আমি আজ স্তব্ধ পথে হেঁটে নিরাকার পথিক হবো যে…

দু-পায়ে ছুঁয়ে যাবো ঘাসের তীব্র মধুবেলা।

রোদের বেনামি চিঠি হেঁটে বেড়ায় তোমার পথে।

 

দু-হাতে সাগর ছোটে, দু-চোখে ঢেউয়ানো দিন।

 

ঠোঁটের কোণায় থাকে সাম,

ঝড়ের প্রতিবাদ লিখছে চিরকুমার হাওয়ার নাভি। 

একটি হলুদ পাখি উড়ো শিখবে বলে বসে আছে উদাসী জানলার পাশে।

একটি ভোর আলোর পাঠশালা

খুলে চেয়ে আছে,

পারলে পর্যাপ্ত কিছু আলোকপাত দিও ।

হৃদয় ডোবায় ভালবাসা কচুরিপানার মত গলাগলি করে বেঁচে থাক।

সূর্যরথে ভেসে আসুক জলপাই রঙের ভোর।

 

মোহ

প্রবর্তনের অজুহাত বাড়ে ঋণে

ঝুলে থাকা সুখ আজীবন খোঁজে আলো

ফাল্গুনী মনে মেঘ নেমে এলো দিনে

ওভারব্রিজের শরীর জমায় কালো। 

 

বৃষ্টি চেনায় অচেনা প্রহর কার

যতটুকু ভুলে বারমুডা দেয় পাড়ি

ভিখারি বিকেল গোধূলির আবদার

বাঁশ বাগানের অভিমান খোঁজে নাড়ি।

 

উল্কার প্রেমে মেঘের বসত বাড়ি

ছায়াপথ হলো যাত্রাপালার নারী

সমুদ্র চেনে চোখের বিভেদ যত

চশমার গায়ে জমে থাকে কত ক্ষত।

 

শব্দের কত রকমারি চাওয়াপাওয়া 

ট্রামের বুকের আর্তনাদের ধারা 

জন্মান্তরে মোহ থেকে যায় কাছে

গোলাপের বনে আস্তিন বেশে কারা?

 

আরও পড়ুন...

Categories
2020_pujo

মুম রহমান

বাং লা দে শে র  ক বি তা

মু ম   র হ মা ন

ইলেকট্রিক করাত কল

 

এবার একটা ইলেকট্রিক করাত কিনেছি আমি। নিখুঁত ধার আর মসৃণ দাঁত। অনায়াসেই নিজেকে খণ্ড খণ্ড করতে এখন আর অসুবিধা নেই। আর কোন টানা হেঁচড়া নয়; এখন সবার কাজে লাগবো আমি। আম্মুর আর মন খারাপ হবে না। আমার একটা টুকরাকে সারাদিন তার কাছে রেখে যাবো। আম্মু পায়েস রাঁধবে আর আমার একটা অংশ পায়েসে চিনির পরিমাপে সন্তোষ প্রকাশ করবে। ঠিক তক্ষুনি আরেকটা টুকরাকে পাঠিয়ে দেবো সুমার কাছে। সুমা সেই টুকরাকে কোলে নিয়ে খেলবে, গান শোনাবে আর নিজস্ব কায়দায় আদর করবে। আমার তৃতীয় টুকরাটা অফিসে তখন তুমুল ব্যস্ত থাকবে। অবারিত দ্রুততায় একটার পর একটা ফাইল খুলবে, ডেটা এন্ট্রি করবে, সেভ দিবে আর আসন্ন প্রমোশনের আশায় নিজের পিঠ নিজেই চাপড়াবে। ছোট্ট আরেকটা টুকরা কিন্তু এসব কিছুতেই থাকবে না। সেই অন্য টুকরাটা অচেনা ধানক্ষেতের আল ধরে হাঁটতেই থাকবে আর ক্লান্ত হয়ে গেলে রসবতী খেজুর গাছের নিচে জিভ পেতে দেবে। আমার অন্য আরেকটা টুকরা তখন ব্রিটিশ কাউন্সিলের লাইব্রেরিতে ইংরেজি শব্দগুলোকে সামলাতে থাকবে আর আমার অন্য আরেকটা টুকরা তখন বাসের হেন্ডেল আঁকড়ে মতিঝিল আসতে না-আসতেই অন্য আরেকটা টুকরা গুলিস্তানের মোড়ে কচি শশায় দাঁত বসাবে; আর ঠিক তক্ষনি আমার আরেকটা টুকরা অসুন্থ বন্ধুকে দেখতে মেডিকেলের দিকে এগুতে থাকবে…

আর এইভাবে আমি টুকরায় টুকরায় ছড়িয়ে দেবো নিজেকে সবখানে। কেননা এতোদিনে একটা ইলেকট্রিক করাত কল কিনতে পেরেছি আমি।

 

 

রাত্রি নেমে গেছে। এবার সবগুলো টুকরা আবার জোড়া দেয়া জরুরি। কিন্ত তিনজন টুকরাকে পাওয়া যাচ্ছে না কিছুতেই। প্রতিদিনের মতো আজ ভোরে তারা বেরিয়ে গিয়েছিলো; এখন আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। অফিসে নেই, রোজ যেখানে বিকালে আড্ডা মারে সেখানেও নেই, নেই পুরনো বকুলতলাতেও। হাসপাতাল, থানা আর বেশ্যালয়ে খোঁজ করা যেতে পারে ইমার্জেন্সি ভিত্তিতে। কিন্তু মুশকিল হলো, ফিনাইল, পুলিশ আর ব্যবহৃত ছায়ার গন্ধ আমার ভালো লাগে না।

কী আর করা, লজ্জা-শরমের মাথা খেয়ে আমার অন্য টুকরাগুলোকে জিজ্ঞাস করলাম তারা জানে কি না কিছু! না, আমার ফিরে আসা টুকরাগুলোও জানে না, বাকি তিনজন কোথায় আছে!

তক্ষুণি, মেঘেদের মাঝে একটা আঁচড় দেখা গেলো। তক্ষুণি পাঠালাম দূত, তিনি জানালেন, না ওইখানে লুকায়নি আমার কোনো টুকরা। দীর্ঘশ্বাস যতটুকু জমা ছিল খরচ হয়ে যাওয়ায় একটা বাঁকা হাসি দিয়ে বন্ধুবরেষু বৃক্ষ শামীম রাজাকে জিজ্ঞাস করলাম, কি রে শালা শেষ পর্যন্ত আমার একটা টুকরা তুই রেখে দিলি, এতটা আত্মীয়তা মানি না। শালার বেটা ঘাড়ে থাপ্পড় দিয়ে সরে গেলো। যাক।

এখন দুর্নাম আর দুর্মুখেরা থাকুক, কিছু ফিরে আসা থাকুক ঈদ বোনাসে। আমার আসলে অনেক কাজ। একদা বহু শখ করে কেনা ইলেকট্রিক করাত কলে নিজেকে যত টুকরা করেছিলাম, পাঠক, তোমাদের বলি, আমি মুম রহমান আমার তিনটা টুকরাকে আজ আর খুঁজে পাইনি। আর বলি, সেইসব টুকরার কোনো একটিতে কস্তরী গন্ধ ছিলো।

 

আরও পড়ুন...