Hello Testing Bangla Kobita

3rd Year | 6th Issue

রবিবার, ২৬শে কার্তিক, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ | Sunday, 13th Nov 2022

প্রতি মাসে দ্বিতীয় রবিবার

প্রচ্ছদ কাহিনী, ধারাবাহিক গদ্য, ছোটোগল্প, গুচ্ছ কবিতা, কবিতা, প্রবন্ধ, উপন্যাস, স্বাস্থ্য, ফ্যাশান ও আরও অনেক কিছু...

গু চ্ছ ক বি তা

সু ম ন   সা ধু

অন্ত্যেষ্টি

 

এসবই গাছেদের রহস্য। মর্মর শব্দটি থেকে দুটো পাতা খসে পড়ে। শুষ্ক ত্বক৷ আর সকালের রোদ লাজে রাঙা। এক্ষুনি দূরের কোনও মাদলের শব্দে আমরা যে যার মতো চুম্বনে মিলিত হব। আর সমস্ত দাগ রেখে ধুলো উড়ে যাবে গাছ থেকে গাছেদের দলে।

pujo_16_sketch2

 

এইভাবে আমার বছর শেষের কাব্যে খানিক বিষাদ আসে। প্রিয়েরা একে একে বাসা ছাড়েন। বনেদি বাসা। তেতলার ছাদে দুপুর দুপুর আসর বসেছে। আমার প্রিয়েরা ধীরে ধীরে জড়ো হচ্ছেন। আয়োজন সামান্য। এই সামান্যের ভিতর কত ঢেউ। কুল-কিনারা নেই। কেউ কাব্যি করে বলেন, এ সময় বড্ড নরম, স্বভাবে ঘি ঢালো।

pujo_16_sketch2

 

ঘি ঢালা শেষ হলেই ষাটের দশকের ওপার হতে আমার প্রতিমা ব্যানার্জী গেয়ে উঠবেন, একটা গান লিখো আমার জন্য। কণ্ঠে আদর। আর গতরে সোহাগ। গান শেষে প্রিয়তম পরিচালক পাত্তরে খানিক সুরা ঢেলে বলবেন, আহা গো! অতঃপর এক ঝাঁক পাখি উড়ে যাবে পুব আকাশ দিয়ে। অবশিষ্ট খসে যাওয়া পালক ফেলে যাবে আমাদের কোলে, শরীরে।

pujo_16_sketch2

 

এমনই কিছু দৃশ্যের জন্ম হয়ে যায় বছর শেষে। একদিকে গান, আরেকদিকে স্লোগান। যুগলবন্দিতে ফেটে যায় আমাদের বহু যুগের রোদ। রান্নাঘরে মা ছুটে যায়। ভাতের ফ্যানার টগবগ শব্দে আর ঘুম আসে না মায়ের। কৃষকদের সমস্ত স্লোগান তখন মায়ের চোখে, মুখে, নিঃশ্বাসে৷ মা মনোযোগ-সহ মাড় গালা শেষ করে। ওদিকে রেডিওতে আহ্লাদি একটা সুর বেজেই চলেছে একঘেয়ে৷

pic333

 

এ অসম্ভবের ওম থেকে বেরিয়ে আসছে সরু চালের ভাত। বাড়ন্ত দুপুরে পাতে তখন ধোঁয়ার নিশান৷ কতজন মরলেন, বাঁচলেনই বা কতজন! ভাতে গণ্ডি কাটতে কাটতে আমি হুব্বার মতো গতরখাকি হয়ে গেলাম৷ বহু দূর থেকে ভেসে আসা বিরহী সানাই কত কত ভাত নষ্ট করল। কিছু বেড়ালে খেল। কিছু নেড়ি কুকুরে৷ আমার সংসার বেড়াল-কুকুর নিয়ে৷ আমি খাই, ওরা মাথা নাড়ে। ওরা খায়, আমি লাথি মারি। বছর শেষে হিসাব মিলিয়ে নিই। দেখি কী ভীষণ প্রগতিশীল এই সভ্যযুগ। এই আমি।

pujo_16_sketch2

 

তারপর… তারপর… নগর জুড়ে শীত পড়ে৷ হিম পড়ে৷ আর বিনীতা কাকিমাদের ঘর পুড়ে যায়৷ উড়ে যায়। দু-চারখানি মিডিয়া খবর করে। বিনীতা কাকিমা কল থেকে জল তোলার ভঙ্গিতে পায়রা ওড়ায়৷ মিডিয়ার ক্যামেরায় আসে রক্ত আর উল্লাস। বিনীতার চোখে শুধু জ্বর। আর ভোর পাঁচটার ট্যাপ কল। আর বরের পেটানো। আর আগুন। আগুন। আর পায়রা। পায়রার রং। আর একঘরে পোড়া কমিউনিস্ট জেদি বিনীতা। পাঁচদিন ভাত খাননি।

pujo_16_sketch2

 

প্রিয়েরা চলে যাচ্ছেন, না বলে। বনেদি বাড়ির শূন্য চাতালে বসে বসে ভাবি চলে যাওয়ার কথা। পিছুডাকের টুংটাং। বংশীদা, পল্টুকাকা, হরিপদর জামাই, আব্দুলের চাচি, সান ফ্রান্সিস্কোর আলেকজান্ড্রু, ল্যাটিন আমেরিকার সাইমন। হিসাবের ফর্দ বাড়তে থাকে। আমার ঘুম আসে। জ্বর আসে৷ এত কিছুর মধ্যে কেটে যায় দীর্ঘমেয়াদি বছর৷

pujo_16_sketch2

 

ওঁ গঙ্গা

দূর থেকে দেখি লাল মরচে পড়া অতিকায় দেওয়াল, দেখি চাঁদসারি আর সারিবদ্ধ গাছ

 

ওঁ গঙ্গা

মানুষের অহংকার ঝরে পড়ছে যে নদীকূলে, দেখি চাঁদ থেকে তার দূরত্ব কতটা

 

ওঁ গঙ্গা

কতটা ডানা মেললে যোগফল শূন্য হয়

 

ওঁ গঙ্গা

এইসব ভেবে ভেবে তোমায় পেরোচ্ছি

 

ওঁ গঙ্গা

মাথা, কাঁধ, কোমর পেরোতে পেরোতে আমার অবেলার ভাত ফুটে যায়

 

ওঁ গঙ্গা

দিনেদুপুরে তোমার গন্ধ ঝরে পড়ে

.

.

.

এইখানে তাহাদের বিরতি। আর । আর । আর । অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সুসম্পন্ন হয় একদল গাছের মেজাজে।

আরও পড়ুন...

প্রতি মাসে দ্বিতীয় রবিবার