Hello Testing Bangla Kobita

প্রতি মাসে দ্বিতীয় রবিবার

Advertisement

2nd Year | 2nd Issue

রবিবার, ২৭শে আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | Sunday, 11th July 2021

ব ই ক থা  

রা জী ব   চ ক্র ব র্তী

rajib2

কাব্যগ্রন্থ : ভ্রমণ

ভ্রমণ

সঞ্জয় ভট্টাচার্য্য

প্রকাশক । তবুও প্রয়াস

প্রচ্ছদ । সন্তু দাস

১০০ টাকা

কবিতা লেখা এক অনিয়ন্ত্রিত প্রবাহ সৃষ্টি।  এর চলমানতার মধ্যে ছন্দ থাকলেও কোনো নিয়মের অধীনে থাকে না কবিতা, কারণ কবির ভাবনা তো আদিগন্ত বিস্তৃত… সেখানে কোথাও হারিয়ে যাওয়ার মানা নেই। বিখ্যাত ইউরোপীয় কবি ও গণিতবিদ ভ্যালোরি যেমন বলেছিলেন, ‘প্রথম লাইনটা (কবিতার ) আসে স্বর্গ থেকে, বাকিটা তুমি তৈরি করে নাও।’ আর তৈরি মানে কী? শুধুই কবিতার জন্যই কবিতা, লেখার জন্যই লেখা, রঙের জন্যই রঙ, সুরের স্বার্থেই সুর! অনেকেই এভাবে ভাবনার সার্থকতা পান।  কিন্তু, কোনো মতই তো শাশ্বত নয়, তাই অনেকেই তাকে বাঁধেন বাণী ও বার্তায়। কবি সঞ্জয় ভট্টাচার্য্যর ‘ভ্ৰমণ’ কবিতাগ্রন্থের কবিতাগুলি পাঠ করে তেমনই সিদ্ধান্তে আসতে পারেন লেখক।

প্রথম কবিতাটিতে এক প্রখর আশাবাদের ইঙ্গিত রয়েছে, যেখানে মরুভুমিকে অতিক্রম করেছে সমুদ্র। তেরো সংখ্যক কবিতায় এসেছে এক সহজাত দ্বান্দ্বিক মননের দ্রাঘিমা।  ‘এতদিন পরে মনে হল কিছুই ফেলবার নয়।’ কিন্তু সবই কি রেখে দেওয়া যায়, নাকি সমস্তটা সঞ্চয় করা উচিত কখনো? যা কিছুই মূল্যবান বা হীনমূল্য, তাও তো আপেক্ষিক, এই বোধকে জাগিয়ে রেখেও এই কবিতায় কবি জিতিয়ে দিয়েছেন সেই আদি ভাবনাকে ‘যা রাখো, তাই রাখে।‘  সব কিছুই ফেলনা নয়– তাই কবি কতো সহজেই লেখেন ‘ফেলবে না, একদম ফেলবে না, মনে নেই? একদিন বঁটি  ছিলোনা আমাদের?’ এ তো আমাদের থামার নির্দেশ ।

পনেরো সংখ্যক কবিতাটি নিখাদ বন্ধুত্ব ও তার নির্যাসে পূর্ণ। অতিমারি, মৃত্যু, দূরত্ব, একাকিত্বের মাঝখানে এই কবিতাটি বারবার পড়তে ইচ্ছে হয়। কাছে ডাকে মানুষ নামে এক নদীকে যা ‘আজো এক অপার মোহানাসম্ভব।‘

কবিতায় কিছু আখর অমলিন হয়ে এক নিজস্ব সরণি সৃষ্টি করে, যা কবিতার জাত চিনিয়ে দেয় সহজেই।  তারই মূর্ত নজির হলো একুশ সংখ্যক কবিতাটি।  ‘এখন পতনের আশঙ্কা থেকে জন্ম নেয় / উত্থানের আশ্চর্য রীতি।’  চির উত্থান-পতনশীল এই ব্রহ্মাণ্ড, সেভাবেই তো নিয়ত বদলাতে থাকে। এখানেই দাগ দিতে চেয়েছেন কবি। বত্রিশ সংখ্যক কবিতাটি আমাদের এক ছবি উপহার দিচ্ছে — যাকে সঙ্গে নিয়েই আমরা বেঁচে আছি পরম ত্রাসে, বেঁচে আছে ভয়ার্ত এই সভ্যতা। এতে রয়েছে এক দুর্মর যন্ত্রণা ও উপহাসের তীক্ষ্ণতা। এই মারির প্রেক্ষিতে ঘটে চলা অনন্ত ঘটনার ক্ষতে ‘শব্দৌষধ হয়ে যা ধরা দেবে পাঠকের চেতনায়।’

নিতান্তই নিরীহ শব্দের তির্যক ব্যবহারে পাঠককে একের পর এক প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দেওয়ার ক্ষমতায় বলীয়ান বর্তমান গ্রন্থের কবি পাঠকের মন জয় করবেনই, এই প্রত্যয়ের সাক্ষর রয়েছে এখানে।

আরও পড়ুন...