Hello Testing Bangla Kobita

প্রতি মাসে দ্বিতীয় রবিবার

Advertisement

2nd Year | 4th Issue

বুধবার, ১৯শে আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | Wednesday, 6th October, 2021

শারদ অর্ঘ্য ১৪২৮ ।  কবিতা

উ মা প দ   ক র

নাম রাখতেই হবে এমন কোনও কথা নেই

২৭

 

আলতো হাসি আর হা-হা হাসির ভেতর জীবনের বারো লক্ষ গলি কিলবিল। কয়েটিকে রাস্তা হিসেবে চিহ্নিত করা যায় অংক কষে। পথ আদৌ পাওয়া যাবে কিনা, তা নিয়ে গবেষণা হতে পারে। গবেষকের কাজ, মনে হয়, হেঁজিপেঁজি কারোর নয়। আর মাঝবরাবর হাসিটা শাঁকালু টেস্টের। পানসে বলতে গিয়ে কেমন জিভ-জড়তা। ঘুমের আগে শাঁখ, ঘুমে কম্বু, ঘুমের পরেও শঙ্খ। বারো লক্ষের যে-কোনো অনেকগুলো কল্পিত রান্নাঘরের দিকে হাঁটে।

 

ফুঁপিয়ে কান্না আর হা-হুতাশি কান্নার মধ্যে আঠারো দিনের সংসার বা যুদ্ধ বা রান্নার সমস্ত মশলাপাতি। সং কাঁদতে জানে, সার জানে অসারের দিকে হাঁটতে। যুদ্ধের দামা এবং মা দুজনেই হাওয়ানাচন বিউগলে, শঙ্খের নাক-ডাকায়, বা বোমার মা মা মা মা করে ফেটে যাওয়ায়। আর হলুদ বেশি হলে স্বাদে কটু, শুকনো লঙ্কায় নাকে জল, পাঁচফোড়ন দিতে ভুলে গেলে জমে না স্বাদু নাচাসর। মাঝামাঝি কান্নারা কুমিরের চাষবাসে আলতো হাসিটা চিবুক থেকে কপালে ছড়িয়ে দিতে জানে। আঠারোর যে-কোনো একটা লেচিদিন, বা কয়েকটা দিনের সা-রে-গা তখন ফানুস ওড়ায়। এমনও হতে পারত, মোটেও মা রাঁধে না তপ্ত কি পান্তা।

 

হাসি কান্নারও একটা নরমসরম ভেতর আছে, একটা দূরত্ব আছে, মানে ফাঁক। সেখানে একটাই রেখা, কখনো সরল, কখনো বাঁকা, কখনো বৃত্ত যেন। কখনো বা বারো লক্ষের কানাগলিগুলোতে হারায়, রাস্তা খুঁজে না পেয়ে পথ খুঁজতে লাগে। আবার কখনো আঠারোর যুদ্ধে নেপোদই হতে চেয়ে পারে না। রান্নার সম্ভারে নাকাল। ঘুম-অঘুমের মাঝে রান্নাঘরের হাসি ও কান্না!

 

২৮

 

শরীরে হাজার প্রজাপতির লালা। সুখ, বড়ো সুখ। আনন্দ। নিরানন্দ নয়। শরীরে হাজার কাটা-ছেঁড়া-আঘাত-থ্যাঁতলানো। কষ্ট, বড়ো কষ্ট। আনন্দ উৎফুল্লতা হারানো। নিরানন্দও নয়। যেন মিচকি আনন্দ নিরানন্দের ঠোঁটে এসে ঝুলে আছে। হয়তো হয়। আমারও কি?

 

মনে উড়ু-উড়ু ঘুড়িসকল হাওয়া খায়, গান গায়। আনন্দ, বড়ো আনন্দ। হাস্যে-লাস্যে কুলুকুলু জল চৌবাচ্চা উপছানো। বিকারহীন। মনে লক্ষ বিছের শুঁয়ো; হাজার কীটের কুটুস, কালো রক্ত; শতেক সাপের ছোবল, অপমানিত বিষ। কষ্টের শীতল লাভা, ফুটো বেলুনের বিষাদ। হা আনন্দ, হা আনন্দ! মাথা নিচু, কিন্তু নিরানন্দী নয়। হয়তো এমনটা হয়। আমার কি হতে পারে?

 

হৃদয়ে পেঁজাতুলো কাপাস কাপাস, কাশফুল চাতাল জুড়ে। আনন্দ, মহানন্দ। ছোঁয়, স্পর্শ বোঝে না। হৃদয়ে বালি, ক্যাকটাস, জলবিভ্রম, তৃষ্ণার পথ হারানো, ঝোপঝাপ ঝুপ অন্ধকার, জমাট আলকাতরা। মহানন্দ দূর নীহারিকা, আনন্দ পাহাড়চূড়ায়। নিরানন্দের সেতারেও তার কেটেছে, সঙ্গতে তবলার মহাশান্ততা। ছুঁয়েই আছে, কীভাবে? বোঝা যায় না। বুরবকের স্মিত হাসি। হয়তো হয়, হতে পারে। আমার কি হয়, হতে পারে?

 

শরীর মন চেনে-জানে, বোঝে। মন হৃদয়ের দুয়ারে দাঁড়াতে পারে, কিছুটা চেনাজানা মনে হয়। হৃদয় মন চেনে না, শরীর তো নয়ই। এই হৃদয় নিয়ে আমি কী করব, কী কী করতে পারি? একটা ঝলকে নায়াগ্রা যদি আলো হয়ে না-ওঠে আমারই হৃদয়ে!

আরও পড়ুন...