Categories
2021-july

ফুয়াদ হাসান

গু চ্ছ  ক বি তা

ফু য়া দ   হা সা ন

ঘুলঘুলি 

এক

 

এ যেন গোপন ক্যামেরা

সবকিছু মুখস্থ করে রাখছে

কলহ এবং খুনসুটি 

আলসেমি ও আড়মোড়া 

লজ্জা বা সাজসজ্জা 

এমন কী

তোষকের নিচের বাতিল ফর্দ

চাদরের দাগ

অথবা অন্ধকারে জ্বলজ্বল করা

একজোড়া রক্তচোখ

 

নিজেও জানে সে 

কিছুই ফাঁস করতে পারবে না

pujo_16_sketch2

দুই

 

মাথার ওপর কংক্রিটের আকাশ

জ্যোৎস্নাবৃষ্টিতে কল্পনার ডাকু এসে 

গাইতো চিচিং ফাঁক – মাঝ বরাবর

নীরবে দু’ভাগ হয়ে খুলে পড়ে ছাদ, 

ভূতের বাতির মত ম্লান তারাদল 

জ্বলেপুড়ে বাতাসে মিলিয়ে যায় 

পরিচিত প্যাঁচাটি ঘাপটি মেরে বসে 

থাকে নিশ্চয়ই কোনো পাতার আড়ালে

কাঁঠাল গাছের অন্ধকারে, ও-পাড়ার 

শেয়ালের হট্টগোলে ঘোর কেটে যায়,

গোরস্থানের জোনাকি মিছিলের সাথে 

চুপচাপ আমারও যেতে ইচ্ছে করে

গন্ধরাজের সুবাস নিতে, কাছে গেলে 

গন্ধটি আগের মতো মাতাল করে না

pujo_16_sketch2

তিন

 

চাঁদটাকে ঘুলঘুলি মনে হয় – আকাশের, 

দেয়ালের মতো আমার একটা যদি থাকতো 

স্পেস খুব জরুরি আজকাল, মাথার গভীরে কোনো

ফাঁকা জায়গা নেই, সবটা নদী ও পাহাড়ের মত বেদখল হয়ে গেছে। 

pujo_16_sketch2

চার

 

হয়তো কোথাও বৃষ্টি হচ্ছে খুব, কাকভেজা হয়ে দৌড়ে আশ্রয় খুঁজে নিচ্ছে ছাতা ছাড়া পথিক, দুপুরে দোকানে বসে চা-খাচ্ছে, অপরিচিত কারও সাথে, গল্প চলছে অফুরান, টিনের চালের আওয়াজ চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে শব্দদের, টংঘরের এক পাশে তাসের আড্ডা, একজন একফাঁকে লুঙ্গি হাঁটু অবধি উঁচিয়ে শি করে এসে মজে গেল খেলায়। ফাটা দেয়ালের শেষমাথায় টিকটিকিটিকে আরেকজন বিরক্ত করে যাচ্ছে সমানে। দোকানদার বিড়ি দিতে গিয়ে ভিজিয়ে গালি খেলো একটা, দেশলাইয়ের প্যাকেটে একটিমাত্র কাঠি, কয়লার চুলায় কেতলিতে চা-পাতা ঢেলে কোনভাবে আগুন ধরাতে পারছে না, বারবার তাগাদা দিয়ে যাচ্ছে ওরা, বৃষ্টির ঝাপটা আসছে বলে ভাঙা জানলার পাশে ছাতা ধরে রেখেছে একজন, দমকা হাওয়ায় ঘুলঘুলির ভেতর তবুও ভিজে যাচ্ছে সকলে

pic333

পাঁচ 

 

বিছানায় শুয়ে থাকে, রাত-দিন শুধু ঘুম আর ঘুম, মুখে নেয় না কিছু, নাকে পাইপ গুঁজে নিয়ম করে দুই বেলা তরল ঢেলে দিয়ে যায়, দুই দিন পরপর ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে দেয় গা, কখনও এপাশ থেকে ওপাশে ফিরিয়ে দেয় শরীর। মাঝেমধ্যে আঙুল নাড়ে, নাকি মনে হয়! অন্য হাত দিতে বাকি হাত চুলকে নিতে দেখেছে কালেভদ্রে দাবি করে কেউ, ইচ্ছে হলে জগতের বিরক্তি নিয়ে চোখের পাতা খোলে অনেকদিন পর আবার বন্ধ করে নেয় – বুঝি ঘুম পাচ্ছে খুব অথবা বহুকাল ঘুম হয়নি, কী ভেবে আবার চোখ মেলে, সামনে সকলে যদিও দৃষ্টি তার পাশের দেয়ালে, স্যাঁতস্যাতে নোনাধরা, জানলা নেই ঘুলঘুলিতে একটি চড়ুই আসা-যাওয়া করছে।

pujo_16_sketch2

আরও পড়ুন...

Categories
2021-july

রিনি গঙ্গোপাধ্যায়

ক বি তা

রি নি ‌   গ ঙ্গো পা ধ্যা য়

দু’টি কবিতা

 

মনে পড়ে না আমার কবে থেকে তুমি হয়ে উঠেছিলে প্রেমিক

ঠিক কবে থেকে তোমার চোখের সম্মোহনে নিজেকে খুঁজেছি আমি

প্রথম কবে তোমায় উপহার দিয়েছি আশিরনখ

প্রথম কবে ঝরা পাতা কুড়িয়ে বানিয়েছি ঘর

 

শুধু মনে থাকে গ্রহণ করতে না চাওয়া আমার উপহারমালা

মনে থাকে আমাকে নিঃস্ব করে সঞ্চয়ে রাখা তোমার আনন্দ

মনে থাকে অতল অভিমান

মনে থাকে এক তীব্র না পাওয়া

 

দুখবিলাসী হতে চেয়ে যে কপট অনুরাগে ডুবেছিলাম আমি

তার সংরাগ জল আমাকে করে তুলেছে মৃত্যুবিলাসী।

 

 

ব্যস্ততারা সারাদিন কড়া নাড়ে

সাড়া দিতে গিয়ে ভুলে যাই শুভ্র বরফ

কয়লার আঁচে ঢিমে ঢিমে ভাজা হয় রুটি

বিন-বিন করে গান গেয়ে ফেরে অন্ধ ভিখিরি

উষ্ণতা মুড়ে গল্প করে ঘুম

সে পুরুষ না নারী জানার চেষ্টা করে না কেউ

শুধু অনেক রাতে ঘোর আলগা হলে

স্মৃতিরা কেড়ে নেয় সব ভালো থাকার ঋণ।

আরও পড়ুন...

Categories
2021-july

নীপবীথি ‌ভৌমিক

ক বি তা

নী প বী থি ‌   ভৌ মি ক

সম্পর্ক

প্রতিটি প্রাচীন গাছ এক একটা সম্পর্কের মতো। 

 

পাতা ঝরে যায়, সবুজ শিশুর ঘুম ‌ভাঙে, আলো ছুঁয়ে আবার

 

জন্ম বৃদ্ধি হয় এভাবে। ঝুঁকে পড়ে 

নতুন জন্মকাল বয়স্ক রোদের আভায়

 

সম্পর্ক ও ঠিক তেমন।‌ 

থিতু হতে হতে কবে যে নিভে যায় দেউলটি

ছায়াকে মাঝখানে রেখে দর্পণের হাতে।

 

অভিনয়

আকাশ কি কখনো মিথ্যা হয়!

মিথ্যে কি স্তর থেকে স্তরে ছড়িয়ে থাকা আলো আর আলোর গান?

 

কবিতা লিখতে লিখতে জীবনকে প্রশ্ন করি বারবার

খুঁটে খাই অক্ষরের অভিযান,

অথচ, উত্তর বলে সেভাবে কিছুই নেই আজ

 

কথা নেই, গানহীন অন্ধ প্রজাপতির ভাঙা ডানার‌ উত্তাল…

 

আজ সন্ধ্যা নামার আগে

নিভিয়ে রেখেছি অন্ধকার আর আমার নিজস্ব অভিনয়।

আরও পড়ুন...

Categories
2021-july

ঋষা ভট্টাচার্য

ক বি তা

ঋ ষা   ভ ট্টা চা র্য

একটি স্বাধীনতার কবিতা

আচ্ছা পাখির কোনো প্রেমিক  আছে?

ছিল কখনও?

ছিল কোনো ভালবাসার  শিক্ষা?

 

তবে দুটো সরু ডালের সেলাই কে শেখালো?

কে শেখালো ঘর বানানোর গ্রামার?

কে শেখালো ধৈর্য ধরে বসে থাকার অদ্ভুত কৌশল?

কে শেখালো সেলাই করা পাতার ভাঁজেই সুরক্ষিত 

বংশ বিস্তার?

 

মানুষের এত অল্পে হয় না।

দুটো মানুষ পারেই না 

একটি গাছের নীচে ঘুমোতে।

 

পরজন্ম

দুটো হারিয়ে যাওয়া আত্মা দেখছে,

তখনও চুল্লির বাইরে ছাইগুলো উড়ছে। 

শরীর নেই যন্ত্রণা নেই, ওদের মৃত্যুর পর 

আর কোনো কান্না নেই। 

 

এক পরম শান্তির বিচরণস্থান। 

 

দূরে যারা ঘিরে ছিল এতকাল

তারা শরীর আঁকড়েই ছিল।

এরপর স্মৃতি আঁকড়ে থাকবে

একফালি ছবির ওপর।

ওরা হাসে না। 

 

অথচ কত জন্মের এই শরীর 

শুধু রক্ত মাংস মজ্জা নয়, 

মাটি নয়, বায়ু নয়,

এক তরী পারাপার কাহিনি মাত্র। 

মুহূর্তে শেষ হয়ে যায় জ্যামিতিক বৃত্ত। 

 

আর তারপর

 

দুটো ভিন্ন আত্মা হয়ত,

জলপিঁপড়ের দলে অথবা 

শাপলা ফুলের সবুজে ঘুমোয়। 

আরও পড়ুন...

Categories
2021-july

শুভ্রাশ্রী মাইতি

ক বি তা

শু ভ্রা শ্রী   মা ই তি

নতুন রবির চিঠি

আমাদের ঘুমজড়ানো ঘুঁটেকুড়ুনি সকালগুলোয়

রবিঠাকুর এসে হাত ধরতেন ঠিক সহজপাঠের ছড়ায়।

ক্ষিদের ঘন মেঘে ঢেকে যাওয়া বিশ্রী দিনটাকে

চকখড়ি দাগের মতো সযত্নে ধুয়ে মুছে

সাবলীল সহজতায় ডাক পাড়তেন ও পাড়ার বড় বৌকে

শিউলিফুলী ভাতের থালায় একমুঠো রোদ বেড়ে আনার জন্য…

 

সে ডাক শুনে শ্যামলী নদীর ধার ঘেঁষে

বাঁক কাঁধে হেঁটে আসত এক আশ্চর্য দইওয়ালা,

পাঁচমুড়া পাহাড়ের জমাট বাঁধা মায়াদই তার সাথে…

ছোট ছোট ঢেউজল উছলে উঠত গয়লাবউ-এর স্নেহকলসের কানা ভিজিয়ে

আমরা অমলের মতো অভাবের জানালা খুলে

অমলিন চেয়ে থাকতাম শুধু

ভোর-আলপথের নরম আলোর দিকে…

 

রাজার ডাকঘর থেকে নতুন রবির চিঠি আসবে বলে…

 

গোপন কথা

সব কথা কি সবাইকে বলা যায় কখনো…

 

এই যে খটখটে নীল আকাশ, সোনালী রোদের আশ্চর্য দাপটে

অস্হির হাতে বাজিয়ে চলেছে বিশুদ্ধ বৃন্দাবনী সারং—

ক্লান্ত ঋষভের ধূসর গম্ভীরতা গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে

গলানো পিচের নরম নাভিস্হলের শেষ গভীরতাটুকু পর্যন্ত…

সে সব কি কাউকে দেখানো যায় কখনো !

 

নারকেল গাছের মাথা ডিঙিয়ে ঘন কালো ঝুপসি মেঘটা

প্রায়ই টুপ করে নেমে আসে ছাদের আলসের ধারে বিদ্যুতের সিঁড়ি বেয়ে

ঠিক যেভাবে কোন এক হলুদ বিকেলে সটান নেমে আসতেন রশিদ খান

দাদুর গ্রামোফোন রেকর্ডের নিমগ্ন নিষাদ ছুঁয়ে

ষড়জ’র সহজ কোলে রাগের আশ্চর্য হিন্দোলে…

 

আমার ছোট্ট ছাদবাগান, দু-চারটে দেশী-বিদেশী ফুলের টব

আর লেবু-লংকার আটপৌরে সংসারটা উথালপাথাল ভিজিয়ে

তখন সুর গলে গলে পড়ে আকাশ থেকে বৃষ্টি হয়ে…

 

এসব কথা কি কাউকে বলা যায় কখনো?

না, বললেই কেউ বিশ্বাস করবে কোনো দিনও !

আরও পড়ুন...

Categories
2021-july

নীলিমা দেব

ক বি তা

নী লি মা   দে ব

ঘর মানেই কৌশল

আপাতত আপেলের ভেতর চুমুক রাখছে ব্রোঞ্জের দুধ

ছায়া খতম

 

বাড়ন্ত পায়রা ট্রায়িং টু পজ্ ফায়ার

এক স্কোয়ার অরণ্য যখন ভাতের নকল

 

ঘরে সূর্যের রং

               তীব্র

               অথবা তীব্র নয়

                               

ঘর ঘুরিয়ে জমানো সাইকেল

হরিণের পর হরিণ জয়েন্ করে করে প্রিয় হয়ে ওঠা জার্নি

 

কেউ কেউ ভাবছে ছুঁড়ে দেওয়া ষ্টেশনে শব্দের ভিউ

                                              বেড়াল ছুঁইছুঁই    

 

স্নান

ফ্লোরে পড়ে আছে জলের স্কেচ

যেই সাঁতার আঁকবো

                    আমাকেই এঁকে ফেলছে

                                           মালিনী- মালিনী পালামৌ

শ্রাবণ তুলে রেখে দিলাম বাথরুমে 

স্নান করছি না

স্নান নিজেই কিছু করছে

 

সাবানের ভাপে কামিজের ভেতর পাখি গলে ফুল মুন

 

এরপর আর জল হয়নি…

আরও পড়ুন...

Categories
2021-july

চিরশ্রী দেবনাথ

ক বি তা

চি র শ্রী   দে ব না থ

স্বাদহীন

দুঃসময়ে সুখের সময়ের কথা ভাবতে হয়

শীতল হাত ঢুকিয়ে টেনে আনতে হয় বিগত ইশারা

ঢেউয়ের শরীর ছুঁয়ে যে ক্ষণিকের সুখ চলে গেছে

জলজ বালকের সঙ্গীন প্রহর, কোমল আঘাত

এখন কেন যেন মনে হয় সবকিছু  বড়ো দীর্ঘ

পড়ন্ত বিকেল চেনা আমার, বৃষ্টির শ্বাসাঘাত    

পাখি দূরে চলে যাবে বলে এখনই দেখি খাঁচার শূন্যতা

এ বিষাদচিন্তা, ভয়, আত্মমুখরতা কাটিয়ে জীবন মুখ তোলো, 

অমৃতের শ্রমিকেরা কোথায় থাকে?  হে সবুজ হরতালের দেশ…

 

দোয়া

সমস্ত মৃত আত্মাকে নিয়ে উৎসবের আহ্বান   

ফুলের হৃদয় থেকে, আসমানের চোখ থেকে

বহতা পানি, ধুয়ে দিচ্ছে কবর আর চিতা

ফরমান জারি করেছে দুনিয়া, রক্তাভ চোখ খোলা

রমজান মানে শুষ্কতা, তাপ,  রোজা আর জিয়ারত

তেলাওয়াত জুড়ে সুরার মূর্চ্ছনায় শুদ্ধতার কামনা

গুনাহ করেছি যত পশু, পাখি, নদী আর বৃক্ষের কাছে

প্রার্থনা করি আমার হায়াত নিয়ে জীবন জ্বালো অন্যের

আরও পড়ুন...

Categories
Uncategorized

Editorial-June

সম্পাদকীয়

রবিবার, ৩০শে জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | Sunday, 13th June 2021

‘হ্যালো টেস্টিং বাংলা কবিতা’ এক বছর অতিক্রান্ত করে ফেলল। এই এক বছরে আমরা কোনো মাসেই অনলাইনে পত্রিকার প্রকাশ বন্ধ রাখিনি। কিন্তু গত মে মাসে ভয়াবহ মৃত্যুমিছিল দেখতে দেখতে শিউরে উঠেছিলাম আমরা। পত্রিকা, কবিতা এসব কোথায় যেন ভেসে গিয়েছিল পরিচিতদের একের পর এক মৃত্যু সংবাদে। যাঁদের আমরা এই কঠিন সময়ে হারিয়েছি, জুন সংখ্যাটি তাঁদের উৎসর্গ করলাম।

আস্তে আস্তে ফের স্বাভাবিক হচ্ছে পরিস্থিতি। বেঁচে থাকার রসদ খুঁজে পাচ্ছে মানুষ। এই জোর নিয়ে আমরাও অনেক নতুন বিভাগ, আরো নানা রকম চিন্তাভাবনার জায়গা নিয়ে প্রকাশ করলাম জুন সংখ্যা। ১৩১৪ সালে প্রকাশিত ‘উদ্বোধন’ পত্রিকায় স্বামী বিবেকানন্দ লিখেছিলেন, ‘যেখানে struggle, যেখানে rebellion, সেখানেই জীবনের চিহ্ন, সেখানেই চৈতন্যের বিকাশ…’। আমরা এই মানসিক জোর নিয়েই সমস্ত প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে আবার সামনের দিকে তাকিয়ে এগোতে চাই।

এই সংখ্যা থেকে আপনারা সরাসরি হোয়াটসঅ্যাপে আপনাদের মতামত জানাতে পারবেন। ওয়েবসাইটে সেই লিঙ্ক দেওয়া রয়েছে। সুস্থ সমালোচনা, পরামর্শ আমাদের কাছে অত্যন্ত জরুরি। দ্বিতীয় বছর থেকে আমাদের নতুন আঙ্গিকের এই প্রকাশ কেমন লাগছে, অবশ্যই জানান। সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। ‘হ্যালো টেস্টিং বাংলা কবিতা’ আপনাদের মনোজগতে অবিরাম ভালো লাগা ছড়িয়ে দিক, এই অপেক্ষাতেই রইলাম।

Categories
2021-june

কাঁচা মাংসের বাড়ি

ব ই ক থা  

মৃ ণা লি নী

mrinalini2

কাব্যগ্রন্থ : কাঁচা মাংসের বাড়ি

কাঁচা মাংসের বাড়ি

সেলিম মন্ডল

প্রকাশক । ইতিকথা পাবলিকেশন

প্রচ্ছদ । রাজীব দত্ত

১৫০ টাকা

সেলিমের “কাঁচা মাংসের বাড়ি” বইটি নিয়ে অনেকেই বিভিন্ন ভাবে, ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিতে আলোচনা করেছেন। আসলে কবিতা তো একটি ভাব, ভাবের একটি আশ্চর্য মুহূর্ত, যা বিভিন্ন বাতাবরণে ছুঁয়ে যায় পাঠকমন। একটি অসামান্য বই নিয়ে আলোচনা নয়, নিজের পাঠ অভিজ্ঞতা লিখতে বসেছি।

“মায়াজন্ম” বইয়ে যে সম্ভবনা তারই পরিপূর্ণ ইঙ্গিত “কাঁচা মাংসের বাড়ি”। সেলিমের পাঠক মাত্রেই জানেন, চিরাচরিত রাস্তায় তাঁর কবিতা কোনদিন বিচরণ করেনি। চিত্রকল্প বা ছন্দময় অনুভূতির চেয়েও কবিতা অনেকবেশি ভাবের, আশ্চর্য বোধের যা তাড়িয়ে বেড়ায় কাঁচা মাংসের বাড়ির ভেতর, প্রত্যেকটি জানালা দরজার ফাঁক ফোঁকর দিয়ে ঢুকে পড়ে আশ্চর্য অথচ মর্মাহত জীবনাবেগ যা বিষন্নতা রঙের নয়, বরং বোধের হাতছানির রামধনু, কবিতার ঘরে বসে পাঠক মনও রাঙিয়ে নেন চেতনার রঙ। সেলিমের কবিতার স্ট্রাকচার শর্তসাপেক্ষ নয় বরং স্বতঃস্ফূর্ত ভাবোচ্ছ্বাসের বিন্দু বিন্যাসে গড়ে ওঠা কবিতার শরীর, কাঁচা মাংসের শরীর।

বইয়ের উৎসর্গে লিখেছেন, মুনাইয়ের কথা
“বিষণ্ণ গঙ্গাপার ও গঙ্গাপারের সেই আশ্চর্যময়ী নারী মুনাইকে…”

“দু-কামরার বাড়ি
এক কামরায় মা-বাবা,আরেক কামরায় থাকে মুনাই
আমি থাকি বারান্দায়
আমি এক অভিজ্ঞ কসাই
একবার এঘর থেকে কাঁচা মাংস কেটে আনি, আরেকবার ওঘর থেকে
মাংস ফুরোয় না, খরিদ্দারের ভিড় বাড়ে
আমি কাঁচা মাংসের বাড়িতে হয়ে উঠি সফল ব্যবসাদার”

তাই কাঁচা মাংসের বাড়িতে একটি আয়না, ” আমরা সকলেই মুখ দেখি
কী আশ্চর্য, একটিই; একটিই মুখ সেখানে ধরা পড়ে।”

অদ্ভুত ভাবের ব্যঞ্জনা, সহজ অথচ কী মারাত্মক গভীর অনুভূতি। বইয়ের প্রত্যেক কবিতায় লুকিয়ে আছে চেনাজানা কাঠামো ভেঙে চেতনার স্বাধীনস্বাদ যা মোড় ফিরিয়ে নিয়ে যায় কাঁচা মাংসের বাড়ির উঠোনে যেখানে “স্বপ্নের ভিতর তুমি সেই ফড়িং
যাকে ধরব বলে রোজ ছুটি
আমার বধির স্কুল, ঘন্টা বাজে না”

এভাবেই তো মধ্যবিত্ত মস্তিষ্কে জং ধরে, জীবনের চাকচিক্যে নিরুদ্দেশ এর জঙ্গলে হারিয়ে যায়, “খুচরো আদর চেয়ে বিধবা হয়ে গেল মেয়েটি
এখন তার নখে সাপ
সিঁথিতে কালো গোখরো”

প্রত্যেকটি লাইনে যেন ধরা আছে অজস্র কথা অথচ স্বল্প পরিসরে বর্ণনা যেন অসাধ্য বিষয়। বিষয়বস্তু খুঁজতে গিয়ে ভাবের রাস্তায় নিরুদ্দেশ হওয়া ছাড়া অন্য কোন উপায় থাকে না, অনুভব একমাত্র যার স্মৃতিফলক।

কবি হৃদয়ের কল্পিত মুনাই নামে মেয়েটিকে পেলেও পাগলির জন্য অনুভূত যন্ত্রণাবোধ পুরুষ হৃদয়ে শাশ্বত, ধিমি আঁচের মতো এ যন্ত্রণা স্বীকার করে ব্যক্ত হয়েছে, “আমার একটা পাগলি আছে। না, সে আমার প্রেমিকা না। তার কষ্টে আমি কাঁদতে পারি না। তার আনন্দে আমি হাসতে পারি না।” তাই হয়তো “ছেলেটি প্রেমিক হতে পারেনি। শেষজীবন পর্যন্ত সারাক্ষণ নিজেকে চাবুক মারত আর পিঠ- ভরতি বোঝা নিয়ে ছুটে যেত শুকনো পাতার হৃৎপিণ্ডে। পাতা তাকে এক অবুঝ সবুজ দিয়েছিল। দিয়েছিল তার লিকলিকে শিরা- উপশিরা।”

শিয়ালদা স্টেশনের ভিড়ের মধ্যে লুকিয়ে থাকা সত্যের অমোঘ উচ্চারণ যা অনায়াসে ছুঁয়ে যায় শিরায়, অস্থি ভেদে মজ্জায়,”শিয়ালদা কবিতায় লিখেছেন আমিই একমাত্র মান্থলি কাটা প্যাসেঞ্জার, যার ডেস্টিনেশন শুধুই শিয়ালদা”

জুয়া পর্ব, উচ্ছে খেতের কবিতা প্রভৃতি কবিতা গুচ্ছে আছে ভাবের আশ্চর্য ঘোর, যা বারেবারে পাঠককে ঘুরিয়ে বেড়ায় কাঁচা মাংসের বাড়ির অভ্যন্তরে। তবে, সেলিমের কবিতায় শব্দের অভিজাত-সুলভ উন্নাসিকতা নেই, রক্তে বহমান গভীর ও গম্ভীর ব্যঞ্জনা, বিষণ্ণ অথচ ইতিবাচক জীবনদৃষ্টি সংহত স্বল্পভাষ এবং ব্যঞ্জনাময় প্রকাশশৈলি, শব্দের প্রচলত অর্থকে ভেঙে নতুন অর্থের দিকে ইঙ্গিত কবিতাগুলোর বৈশিষ্ট্য বলা যায়।
স্বল্প শব্দে ব্যাপক অর্থের বোধ ও ব্যঞ্জনা আগাগোড়া সেলিমের কবিতাকে অন্যান্যদের তুলনায় আলাদা হিসেবে চিহ্নিত করে এসেছে। ছন্দের দোলনায় নয়, বোধ, বুদ্ধি ও অনুভূতির ঘোর তাঁর কবিতার প্রধান উপজীব্য। বোধের দরজায় অনুভূতির চিত্রকল্পে ভিন্ন ধারার কবি বললেও হয়তো ভুল হবে না। আগামীতে বইটির কবিতাগুলো অন্য স্থান পাবে বলে আশা করা যায়।

আরও পড়ুন...

Categories
2021-june

ঘুণ ধরা শরীর

ব ই ক থা  

অ নি ন্দ্য সু ন্দ র   পা ল

anindya

কাব্যগ্রন্থ : ঘুণ ধরা শরীর

ঘুণ ধরা শরীর

রাজীব মৌলিক

প্রকাশক । প্ল্যাটফর্ম

প্রচ্ছদ । রাজদীপ পুরী

১৫০ টাকা

বাংলা কবিতার এখন এক দুর্বিষহ সময়, যেখানে সামাজিক ও অর্থনৈতিক এক দৈন্য অনিবার্যভাবে এসে পড়েছে সাহিত্য-শিল্পকলার স্বরান্তরের প্রসারে। বিহ্বল ভঙ্গিতে সন্ধিবিচ্ছেদের মতো ভেঙে যাচ্ছে শব্দ ও বাক্যের অন্তর্নিহিত সূক্ষ্মকোণ, অন্তঃস্থলের নিবিড় অনুভূতিপুঞ্জ, আকর্ষণ ও বিকর্ষণের উন্মুক্ত জঙ্ঘা। বারবার এই তিন মেরুতে আহত হতে হতে যতবার এই ‘ঘুণে ধরা শরীর’-এর মুখোমুখি হয়েছি, ততবারই যেন নীল স্তব্ধতা ভেদ করে প্রস্ফুটিত হয়েছে ছন্দবদ্ধ শাসন। যেখানে প্রতীকে-ব্যঞ্জনায়-রূপকে আন্দোলিত হয়েছে রহস্যতিমির। কবি স্বতন্ত্র সাহসে আধুনিক কবিতার দুর্বোধ্য, নাগালহীন প্রভৃতি বহুলপ্রচলিত ধারণাকে পিছনে ঠেলে সূক্ষ্মতা, আশ্লেষব্যঞ্জনা, সংরক্ত-প্রেমের মতো উপজীব্য বিষয়গুলো নিঃশব্দে এক অমোঘ দর্শনমূলক টেক্সটে প্রতিষ্ঠা করেছেন।

কাব্যগ্রন্থের একেবারে সাক্ষাৎপর্বে : ‘এভাবে আতর মেখে শরীর ছুঁয়ো না/ জানো তো, প্রেমের চেয়ে সংসার ঢের গুণ ত্যাগী।’ এই শব্দবহুল গভীরতায় অনন্ত জীবন যেন উদ্যত ভঙ্গিতে লিখে চলে ঐশ্বর্যহীন বাস্তবতার। ভিতরে ভিতরে প্রাথমিক ভাবেই ঝড় ওঠে, প্রশ্ন আসে, পুনরায় কিছুটা শান্ত হলে বুঝতে পারি অন্তরঙ্গতা একটা সাক্ষাৎকার, যেখানে পারস্পরিক নিয়মে চেয়ে থাকে মানুষ ও তার প্রেম এবং ব্যক্তিগত নগ্নতা। আবার কিছুটা যেতেই চোখে পড়ে- ‘ভেঙে পড়লেও/উঠে দাঁড়ানোর কথা কিংবা/চে গুয়েভারের কথা বলতাম’, যা একজন কবির গঠনমূলক অভিব্যক্তি। আবার একটু এগোলে শেষ হয় এমন বাক্য দিয়ে- ‘আমি তাকে তাই স্বৈরতন্ত্রের কথা বললাম/হিটলারের কথা বললাম।’ বোঝাই যায় ভিন্ন ভিন্ন মেরুতে সোশিয়ালিসম্, হিউম্যানিজম্ ও নাৎসিজম্ মতো বিষয়কেও কবি রিলেট করতে পেরেছেন বাস্তবিক প্রেমের নিরিখে। মোহন মাধুরীর মতো ঘোমটা সরিয়ে দেখাতে চেয়েছেন জীবনের কিনারাগুলো প্রসারিত বিস্তৃত অনুধাবিত হলেও সেই পরাবাস্তবের চোরাস্রোতে কেবল যেন সান্ত্বনা। যাঁর রাগ-বিপর্যয়-ক্ষিতি শেষপর্যন্ত নিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে সমাজের গূঢ় নাশকতায়। যেখান থেকে মুক্তির পথ হয়ত সেই একনায়ক কিংবা মুষ্টিগত মননশীলতা, তা নিপুণ হলেও, সমপরিমাণে ক্রোধান্ধ। এই স্বরমিশ্র বাহুল্য রাজীব মৌলিকের কবিতার একটি স্মিত বৈশিষ্ট্য। এমন ধীর স্থির তীক্ষ্ণ শক্তিশালী ধারা অনুরিত আছে এই কাব্যগ্রন্থের প্রতিটি কাব্যের অন্দরে অন্দরে কিংবা লাইনে লাইনে। ভণিতাহীন সংযোজিত এক উৎকীর্ণ কোয়ার্টেট ভঙ্গি এই কবিতার বইয়ের সমস্ত কবিতায় ছড়ানো: ‘গল্প হবে, কবিতা হবে, গান হবে/ দিনশেষে ফুলগুলো আয়ুষ্মান হবে।’ ‘স্মরণসভা’ এই বইয়ের অন্যতম ফলবান কবিতা।

একদিকে নিরুত্তর সংঘর্ষ, অন্যদিকে সীমানা লুপ্ত মেঘমল্লার ধ্বনি- এই দুইয়ের মধ্যে দেশ কাল সমুদ্র শরীর ডুবে যাচ্ছে কবির ভাবনায়। তিনি লেখেন- ‘বৃদ্ধ বয়সে লোকটি প্রেসিডেন্ট হলো/অথচ যুবক ছেলেটির চাকরি হলো না’ কিংবা ‘কবিতা লিখি বলে/ মা আমাকে মরে যেতে বলে।’ অথবা ‘শুধু চেতনা নেই। অনুভূতি নেই।/বেঁচে থাকার ইচ্ছে নেই/মরে যাওয়ার আকুতি নেই।’ পড়তে পড়তে মনে হয় কালো মেঘে ঢাকা পড়ে যাচ্ছি আড়ালের তারকাপুঞ্জের মতো। প্রচন্ড ক্ষোভ, আক্ষেপ, শ্লেষ, বেয়ারুর মতো রতিচেতনা সমস্ত কনসেপ্ট ফর্ম ছন্দ ছেড়ে কবি এখন জর্জরিত ক্ষীণ অভিব্যক্তির সংস্কারে। কবি বুঝতে পারছেন জীবন মৃত্যু পর্যায় একটা আবহমান, তবুও তিনি নিরুপায়, সন্ধিহীন, এলোমেলো, কিন্তু উপেক্ষাবর্জিত।

কবিতা কতটা অসাংগঠনিক সেইটা এই বই হাতে না নিলে বোঝা দায়। যেসব ব্যাপারে আমরা ভীষণ উদাসীন, সেইসব ব্যাপার কবি ভাবনার রুজিরুটি, আবার যা আমাদের মদ্যবহুল, চাতুর্যের প্রকাশশৈলী, তা কবির অনারুঢ় অসাংকেতিক অনুৎসাহী কিন্তু তা কখনই স্বপ্নবিমিশ্রিত নয়। তাই কি ধরে নেওয়া যায় কবির কাছে খোলস কিংবা বোরখা আলাদা? নাকি বিসর্জন কিংবা খিদে একটা মেটাফা, যেখানে কবি সেক্স ফুড ডিমান্ড একটা রিপুর নেগেটিভিটি বলে ধরে নিচ্ছেন? তা না হলে তিনি লিখবেনই বা কেন ‘দুটি আপেল ছাড়া ওর কাছে তখন/কামড়ে খাওয়ার মতো কিছুই পড়ে থাকে না’ কিংবা ‘এক মৃত মানুষের সঙ্গে আমার ভালোবাসা হয়েছে/শুনেছি তার মন নাই।’ সমস্ত মৃদুলস্বতঃস্ফূর্ততা ছেড়ে কলম গর্জে উঠেছে ঘোরতর ঘূর্ণিঝড়ে, যেখানে সবকিছু মহাকর্ষময়, অস্থির, স্থিতিস্থাপক। প্রাচীন রিপুকে তাঁর চুম্বক মনে হচ্ছে, যার সমধর্মিতা বলতে শুধুই বিকর্ষণ, আকর্ষণ কেবল বিপরীতমর্মিতা।

রাজীবের কবিতাগুচ্ছ পড়তে পড়তে পাঠকের মনে পড়তেই হবে শঙ্খ ঘোষের কথা, পিটার হান্টের কথা কিংবা জন হোরগ্যানের কথা। কিন্তু কবি এখানে এক সূক্ষ্ম জাগতিক ইন্দ্রিয়জ চেতনার জন্ম দিয়েছেন। গড়পড়তা জীবন ত্যাগ না করেই আলোকপাত করেছেন কবিতার ব্ল্যাক-হোল থিওরি। অবাক লাগবে কিছুটা দৃশ্যমান হবে, ব্যতিক্রমী হবে, যত মুখোমুখি হবে নিগূঢ় অন্তরচেতনায় ততই নিজেকে একজন পাঠক, নিজেই নিজেকে আবিষ্কার করবে কোনো এক নিভৃত নগ্ন প্রান্তিকে। যেখানে গলা ভর্তি আর্তি, দৈন্য, অপচয়, অসম্পূর্ণতা, তবু তার শরীর তার এক একটি অঙ্গ একটি দর্শন, হেগেল-এর এক একটা বাণী, আশ্চর্য চিত্রকল্পের ধর্ম-বিগ্রহ।

আলোচনার একবারে অমিতলগ্নে এসে বলতেই হয় আধুনিক কবিতার নির্দিষ্ট একটি প্যাটার্ন আছে, কিছু প্রচলিত ধারণা আছে, কিছু প্রচলিত মেটাফোর আছে, এক একজন সহৃদয় পাঠক এক একভাবে সেটি ব্যাখ্যা বা আলোচনা করতেই পারেন কিংবা ভিন্ন ভিন্ন ভাবনায় উপনীত হতেই পারেন, এতে কোনো অন্যায় নেই বরং স্বাধীনতা অনেক বেশি। তবুও মেনে নিতে হবে কবির নিয়মে তা একটি টেক্সট মাত্র, যা আমি আগেই বলেছি। কারণ কাঠে ঘুণ ধরা আর শরীরে ঘুণ ধরার মধ্যে আপেক্ষিক বা শব্দযুক্ত ব্যতিক্রম থাকলেও বস্তুত কোনো পার্থক্য নেই। জীবনের স্থাপন ও পচন দুটোই ইকোসিস্টেমের একটি পার্ট, কাঠ কিংবা শরীর দুটোই দাহ্য বস্তু। কিন্তু তাঁর কবিতার আড়ালে যে থেকে যাচ্ছে সমাজতত্ত্ব, ক্যাপিটালিসম, বিষাদ, বাস্তবতা, তা-ই রাজীব মৌলিকের কবিতাকে করে তুলেছে আরও ঔপপত্তিক , ক্রিয়াত্মক ও অ্যানালিটিক- ‘এই তো জীবন! পিঠ ঠেকলেও দেওয়ালে/ কিছু পাথর, পাথরই; ভাঙে না কোনো কালে।’ অথবা ‘আদতে আমি ফুল বিশেষজ্ঞ/বৃন্ত দেখলেই বুঝে যাই/তার রূপের রহস্য/অহংকারের পরিণতি।’

আরও পড়ুন...