Categories
2021_pujo

সৈকত ঘোষ

শারদ অর্ঘ্য ১৪২৮ ।  কবিতা

সৈ ক ত   ঘো ষ

সূর্য জন্মের প্রতিশ্রুতি

 

স্বপ্নের ঝুল বারান্দা থেকে উঁকি মারে যে হলুদ চোখ

তারও একটা সুবর্ণরেখা আছে,

সন্দেহের বাটারস্কচ কোনও উপসর্গ ছাড়াই

আঙুল আর অক্ষরের মাঝে কিছুটা সারল্য বুনে রাখে

 

আমি জ্বরের ঘোরে বিরহ খুঁজি

মধ্যপদলোপী পালক উড়ান খোঁজে ট্রাপিজের

এভাবেই তেহেজিব অভিসার

তোমার গা থেকে খুলে আনে বিষুবকাম

 

আমি জানি যা কিছু প্রত্যাশিত, শূন্যের ধাতুরূপ

কিংবদন্তি রাতের পাশে নির্লিপ্ত ঠোঁট-যুগল,

তোমাকে আবিষ্কার করে তোমার বিষদাঁত

 

 

প্রতিটা উচ্চারণে রুহ কেঁপে ওঠে। হে বৌদ্ধিক এস্রাজ

শব্দের ভিতর এ যেন নক্ষত্রজন্ম, আনন্দ মূর্ছনা

কোনও স্বপ্নদোষ নেই। ইজাযত জন্ম-জন্মান্তর

 

সাঁতরে চলেছি নিজের মধ্যে। আগুন ও উপশম

এ এক পরম্পরা, অবিরাম খুঁড়ে চলা নিজেকেই

অপেক্ষা ধুলো মাটি জল। অপেক্ষা ধ্রুপদ অন্ধকার

 

শুধু অগ্নি সাক্ষী। শব্দ জন্ম নেয়, একা ও উদাসীন

দেখাগুলো দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর, নির্ঘুম ছায়াপথ

শিয়রে জেগে থাকে জোৎস্না। পাহেলু ব্রহ্মচারী

 

এখান থেকেই আমার আলো, আমার আকাশ দেখার শুরু

আরও পড়ুন...

Categories
2021_pujo

সুবীর সরকার

শারদ অর্ঘ্য ১৪২৮ ।  কবিতা

সু বী র   স র কা র

রেডিওবার্তা

ডানা ঝাড়তে ঝাড়তে হাসপাতালের দিকে উড়ে

                                            যাচ্ছে হাঁস

আমি রেডিওবার্তা রেখে আসছি

গমখেতের মধ্যে বাজনা রেখে 

                            আসছি

পুষ্করিণীতে মিশে যাচ্ছে আমার সমস্ত ঘাম

বহু বছর পরে রাজার হাতির মাহুত আমাকে

                                      গান শোনাচ্ছেন

পালকে মোড়া শহর জন্মদিন মনে রাখে না

হর্ষ ও বিষাদ মনে রাখে না

আমি বরফকলের ভিতর ডটপেন ঢুকিয়ে 

                                     দিই

হাসপাতালের ছায়ায় দাঁড়ালে কেমন নুতন

                           হয়ে ওঠে আমাদের জীবন

 

ছায়া

নদীর ছায়া থেকে সরে আসছি বিকেলের দিকে

মানুষের চোখে মুখে যে চারণভূমি থাকে

তার ভূগোল আটকে যায় বনবাদাড়ের কাছে

                                         এসে

সারারাত দেখি গোল চাকার গাড়ি।

গ্লাস উলটে যায়। ছায়াতেই শিবির পাতি

                                     আমরা

আরও পড়ুন...

Categories
2021_pujo

সুদীপ্ত মাজি

শারদ অর্ঘ্য ১৪২৮ ।  কবিতা

সু দী প্ত   মা জি

বালা

চতুর্দিকে রূপের খাজানা

 

নিজের বহতা নিয়ে নদী কতদূরে বয়ে গেছে

 

কবে মরে হেজে যাওয়া অশ্বের সহিস

জেগে ওঠে, ঘোড়া ফিরে পায়

 

ছোটবড় নুড়ি জড়ো করে

 

ছিপড়া ফরেস্টে রাত্রি

কনসার্ট জেগেছে আঁধারে।

 

রাত্রির রোমাঞ্চ ধরে হাঁটি।

 

এত গান হাওয়ায় হাওয়ায়…

 

সুরের বারান্দা থেকে খুব যত্নে উঁকি মেরে দেখি :

 

কত যে বিভঙ্গ জাগে আলাপের, অরণ্যের

নির্বাচিত ঘরে ও দাওয়ায়…

 

বিমূঢ় শ্রোতার মতো স্ট্যাচু হয়ে বসে থাকি

                      সারারাত অডিটোরিয়ামে—

 

জঙ্গলের শুঁড়িপথে জেগেছে ডোভার লেন

                              মধ্যরাত্রিযামে…

আরও পড়ুন...

Categories
2021_pujo

প্রবীর চক্রবর্তী

শারদ অর্ঘ্য ১৪২৮ ।  কবিতা

প্র বী র   চ ক্র ব র্তী

রমানাথ মজুমদার স্ট্রিট

ব্যক্তিগত রূপকথার মতো প্রতিটি ওষুধে এক-একটি উপশম থাকে, এখানে প্রবেশ নিষেধ।

দুপুরের অসংলগ্ন কথাবার্তায় চোরা শিকারিরা ওত পেতে থাকে প্রতিদিন।

শুনেছি কোনো কোনো দুপুরে ওপাশের দোতলায় জানলার দিকে মুখ করে বসে থাকতেন জীবনানন্দ।

সে স্মৃতির নাব্যতা বেয়ে জল পড়ে, ক্ষীণ ধারা।

সন্ধ্যায় তিমির আসে, দুটো সিগারেট।

ঘামের গন্ধে মশগুল হয়ে আমরা দেখি

রমানাথ মজুমদার স্ট্রিটের বইবাহকেরা

হেঁটে যাচ্ছে মহাপ্রস্থানের দিকে।

 

অফিস

প্রস্তরীভূত হয়ে ওঠার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে পা,

ঈশান কোণের কথোপকথনে এবার যে বৃষ্টি হল

চারপাশে ঝাপসা হয়ে যাওয়ায় সূর্যাস্তের মতো

গোপন দৃশ্য দেখতে পারেনি অনেকেই!

 

অথচ তুমি সমুদ্র-স্নানের গল্প ফোনে

বলে গেছ মাঝরাত থেকে,

সেইসব অভিসার তন্তুর মতো পেঁচিয়ে

ধরেছে রক্তকোশ।

 

জীবন আর জীবিকার মাঝখানে শুয়ে আছে

এক বৃদ্ধ উট;

তার জোড়া ভ্রূ-র নীচে বেড়ে উঠছে মরুভূমি

একদা যেখানে সবুজ ছিল বলে শোনা যায়।

আরও পড়ুন...

Categories
2021_pujo

শ্রীময়ী আলো

শারদ অর্ঘ্য ১৪২৮ ।  কবিতা

শ্রী ম য়ী   আ লো

 

সমুদ্র কারো কথা শোনে না।

 

এক চৈ চৈ মেঘবালিকা ছুটে বেড়ায়

পড়ন্ত বিকেলে তার ওড়নায় আশমানি জুঁই—

 

সংকোচহীন ইচ্ছেরও বিশ্রাম প্রয়োজন

ময়ূরাক্ষীকে সাক্ষী রেখে

ঢেউ ফিরে যায় নিজস্ব কারাবাসে—

 

চোখে চোখ রেখে মিথ্যেয় গলে পড়া শতাব্দী জুড়ে

অনাসক্ত শরীরের জারজ বিজ্ঞাপন

কান্নার মত শিহরণ যন্ত্র এবং তন্ত্রে

স্পর্ধায় বেমানান স্পর্শবাজ  শব্দমন

 

এপারে ভেঙে পড়া হাটে ওপার সংক্রমণ

অজুহাত নিয়ে হাতাহাতি চলে অনিবার—

তীরে বসে ঈশ্বর বিক্ষত ব্যাকুল

 

চুরি গেছে মুক্তো দ্বীপ, প্রবাল প্রাচীর

নাবিকের কোলাহল, মায়ার সোহাগী জলোচ্ছ্বাস—

 

সমুদ্র কারো কথা শোনে না।

 

 

কিছু সমান্তরাল রেখা জড়িয়ে যায় একটা মৃত্যুদিনের সাথে

 

নকসি কাঁথায় প্রিয় সর্বনাম বিন্দু বিন্দু জমে

তির তির ধারায় প্রতিবাতে নামে বৃষ্টি            

ময়ূরকণ্ঠী আলোয় ফিরে ফিরে আসে

আত্মীয় মুখ চির অমলিন—

 

তারপর ফুল চন্দন মালা—

সংসারের আঁচলে মায়া রেখে

কোলাহল থেমে যায় লড়াই শেষের

প্রতিরোধের সমস্ত আলোড়ন ভেঙে

রূপকথার এস্রাজে নামে অন্ধকার—

 

জীবনের যত তুচ্ছ গ্লানি, তুচ্ছ যন্ত্রণাভার

ছবির মত স্থির ও স্মৃতি মেদুর, ভয়হীন

মন্দ ভালোর কাঁটাতার পেরিয়ে

এক নির্ভার সমর্পণের ছায়া—  বিশ্রাম

 

অনন্ত  ব্রহ্মের অন্তিম সঙ্গীতে বাজে সুর

অদ্বৈত ঐশ্বর্যের দুর্গম উপত্যকায়

তাবৎ স্পন্দনের ব্যাকুল সমাপতন—

 

প্রতিটা মৃতুদিনের সাথে জড়ায়

কিছু অরৈখিক অন্তরাল

 

 

এক যুদ্ধ শেষ করে অন্য যুদ্ধের তৈয়ারির

মধ্যবর্তিনী— এক টুকরো সময়—

এই যে তুমি আছো— এখানে কোনো খেদ নেই ।

হয়ত চলে যাবে;

চলে যাওয়া বলে আদতে কি কিছু হয়?

 

কিছু সূর্য ডুবছে বুকের আশে পাশে

অন্য কোনো ভোরের চৌকাঠে

ফিরে আসার আলপনা আঁকছে

একান্ত পরিবার

কল্যাণী কণ্ঠে ফিরিয়ে নেবার মন্ত্রে

সুর সাজাচ্ছে নিবিড়তম আত্মজা

 

বিশ্রাম তো এক শব্দ মাত্র

কিছুটা গোধূলির মত— দিনের শেষ শঙ্খে

বেজে ওঠা সাঁঝের আগমনী

অ-সুখ আতুড় মেঘরঞ্জনী সীমা ছেড়ে

পথ আর পথিকের একান্ত আলাপন।

অলিন্দ নিলয়ে আসা আর যাওয়া

গার্হস্থ্য সংকেত যত

প্রচ্ছন্ন ইন্দ্রিতে না লেখা সব গল্পের পরিশিষ্ট—

 

সব চলে যাওয়াই আসলে ফিরে আসার পূর্ব পাঠ।

আরও পড়ুন...

Categories
2021_pujo

মধুসূদন রায়

শারদ অর্ঘ্য ১৪২৮ ।  কবিতা

ম ধু সূ দ ন   রা য়

বেঁচে থাকা

আর একটু বিরতি চাই

ঘুমের ভিতর মগ্ন ঘুম

 

কথারোদের মতো নিয়তি

এসো, নিবিড় চোখ ফেরাও

 

হে পাখিজন্ম উপেক্ষা করো

নিটোল চাঁদের মতো ঈর্ষা

 

অ্যাশট্রের ভিতর পিষে দাও

মৃত মাতৃভাষায় লেখো এলিজি

 

অভিযোজনের ফ্যাসিবাদ

জড়িয়ে নাও নগ্ন সভ্যতা

 

দৃশ্য

নগরজীবনের পাশে পা ফেলছে সে

যেন আকাশের সিঁড়ি

 

দূরত্বের বিনিময়কে মধুমন্তী সন্ধের কুয়াশা

জড়িয়ে নিচ্ছে শামিয়ানায়

 

স্ত্রীলোকের সিঁথিতে সিঁদুর আর খোঁপায়

জুঁই গুঁজতে উদ্যত মায়াবী হাত

 

দেখা হয়ে যাবে ভেবেই

ফিরতি পথে; শ্লেট ইজেল সঙ্গে নিচ্ছে

 

মুখোমুখি অন্ধকারে এসব স্থির দৃশ্যেরা

প্রতিরোধ ভাঙার অপেক্ষায়

 

সব প্রতিরোধ উপেক্ষা নয়

আরও পড়ুন...

Categories
2021_pujo

নির্মল হালদার

শারদ অর্ঘ্য ১৪২৮ ।  কবিতা

নি র্ম ল   হা ল দা র

পানকৌড়ির ডুব

 

ধার বাকি করতে নেই

 

যা আছে যেটুকু আছে খাও পরো

চাল থেকে বেছে নাও কাঁকর

কচু শাক রান্না করো

ওল খুঁড়ে নিয়ে এসো

 

ধার বাকি করতে যেও না

 

ধার বাকি শোধ করতে না পারলে

এক জন্মের পাপ

ঋণের বোঝা সব সময়

মাথা থেকে নামিয়ে রাখো

 

ঘটি বাটি যা আছে বন্ধক দিতেও যেও না।

 

 

আম খেয়ে আমের আঁঠি পুঁতি মাটিতে

 

বীজ ফেলতে নেইরে ভাই

মাটি থেকে এসেছে তাকে মাটিতেই রাখি

ফলে ফলে শোভা পাবে ঘর

 

ফলের রঙ ফলের আলো সন্তানের মুখে পড়বে

 

সন্তান আমাদের শ্রী।

 

৪ ভাদ্র ১৪২৮

আরও পড়ুন...

Categories
2021_pujo

শুভ চক্রবর্তী

শারদ অর্ঘ্য ১৪২৮ ।  কবিতা

শু ভ   চ ক্র ব র্তী

সমাধি

ঘুম থেকে উঠে বেশ কয়েকবার আমি মৃত্যুর মতো 

নির্জন কুয়াশা ব্যাথায় পাশে পাশে হেঁটে গিয়েছি 

বেড়ালের মৃতদেহ নিয়ে 

 

অবশ তেলপোড়া আলোয় ঘাম মুছেছি 

উপকূলীয় অঞ্চলের মৃত মানুষের

বসন্তের দিনগুলো কাঁপছে তখন

অথচ তখনও কেউ কেউ অপেক্ষা করছে

দুর্গম পাহাড়ে শুধু মৃত ঘোড়াদের আত্মা 

এগিয়ে দিচ্ছে খাবারের টুকরো…

 

একটা ঝড়ের কবলে পড়েছিল সে

একা আমি ছাড়া 

আমার শৈশব থেকে এসেছিল কল্পকাহিনীর 

অতৃপ্ত বালকের স্বপ্নের মতো মৃত্যু

 

শুধু, ভোরের আলো এসে পড়েছিল 

সেইসব মুহূর্ত সমাধির গায়ে 

 

একটা বৃষ্টির ফোঁটা যখন তার স্বপ্নের মধ্যে 

ঢুকে পড়েছিল।

 

একা

একা, একা হয়ে যাওয়া প্রত্যেকের মধ্যে 

আমি খুঁজে পাই একটা ঝড়

ঝড়ের ভেতরে একটা নিঃসঙ্গ মানুষ

সূর্যাস্তের দিকে চেয়ে আছে 

 

নক্ষত্রের আলো এসে পড়ে তার স্বপ্নের পাত্রে

কয়েক হাজার বছর আগে 

যে পাত্রে আমি নিজে একদিন 

তোমার জন্য জল রেখেছিলাম

তুমি একটানা সেই জলে অশ্রু ফেলে 

নিঃস্ব করেছ আমাকে 

 

এখন আমি সর্বস্বান্ত পথের ব্যথা 

আমার শরীরে আঁকা গভীর ষড়যন্ত্র।

আরও পড়ুন...

Categories
2021_pujo

মন্দিরা ঘোষ

শারদ অর্ঘ্য ১৪২৮ ।  কবিতা

ম ন্দি রা   ঘো ষ

অন্ধকার

ভুলের গুঞ্জনে থাকো

কখনো বা শোকের আলিঙ্গনে

 

এক রাত লোভ নিয়ে

তাকিয়ে থাকো যতিস্বরে

 

তোমাকে নেভাতে জানে

ভোরের আদিম

 

ছায়া

আলোর ওপরে হাঁটো

রোদের ভিতর সাজিয়ে দাও

মেঘের সংজ্ঞা

 

মনের আতুর তুমি

তোমাকে পড়বো বলে দিন খুলে বসি

আলোর বীজ পুঁতি মাংসে ও বাকলে

 

একা

কোণে কোণে গোপন বসাও

ফ্যাকাসে আর নৈঃশব্দ্য নামাও

অভিমানসাজে

 

ফুলে ওঠা কান্নার ঢেউ

সহ্যের দাপাদাপি নিয়ে

আদিম রাত কুঁকড়ে থাকে মাটিদেহে

 

চোখের বিতর্কে খালি খালি

জলের মুখরা সাজো

আরও পড়ুন...

Categories
2021_pujo

মৃণালিনী

শারদ অর্ঘ্য ১৪২৮ ।  কবিতা

মৃ ণা লি নী

একটি কবিতা

একটি কবিতার জন্যে মেসেজ করতে পারি সারাদিন

একটি কবিতার জন্যে জেগে থাকি টানা তিন রাত

একটি কবিতার জন্যে ভাবতে পারি কয়েকশ’ বছর

একটি কবিতার জন্যে মাথা পেতে নিতে পারি বিরক্তি অপবাদ অপমান।

অথচ আমি কবিতাকে ভালোবাসি না

সে বলে, আমি তার শরীর নিয়ে আলোচনা করি রাস্তাঘাটে

চার লাইনের অণু বা বাইশ লাইনের হনু

তার সন্তানদের নামিয়ে এনেছি রকের মোড়ে

ভাব বিষয় শব্দ ছন্দ অতি ভদ্র ছিল অভিধানে

তাদের টেনে এনেছি কল্পনার বাড়ি থেকে বাস্তবের পোড়া রোদে

খেলাচ্ছি অশ্লীলতার মাঠে

যেখানে রাতে খেলে অন্তর্জগৎ, দিনে মুখোশের আড়ালে।

একটি কবিতার জন্যে সব অভিযোগ শুনে যাই দিনের পর দিন

অথচ আমি কবিতাকে ভালোবাসি না

আজ জিজ্ঞেস করলে বলব, চিনি না জানি না বুঝিও না

রাস্তায় পরিচয় সে কথা অনেকদিনের হলদে ইতিহাস।

 

আমি

আমার ভেতর আছে অসংখ্য আমি

আমার মতো শত শত মানুষেরা

জানি না তারা কারা, কী ভাবছে, কী অনুভব করছে?

অনুভবে আমি তাদের আধার

যেখানে তাদের অনুভব, ভাবনা, অবাস্তব চিন্তার দোল যেন আমার মনের দোলনায়।

আমার মধ্যেই অনুভব করি অনেক মন, শরীর ও আত্মা

মাঝে মধ্যে তারা মাথাচাড়া দিলেই সবার প্রতি আসক্তিহীন

ঘুমিয়ে থাকি দিনের পর দিন

এভাবেই বেঁচে আছি আবহমান আর জেগে থাকলে তারাও নির্বাক

নিজের ঘোরে কথা বলে যাই, ওরা তখন চুপ করে ঘুমোয় ।

নিস্তব্ধতায় ওরা কথা বললে মানচিত্র আঁকি

তার কিছুটা বুঝি কিছুটা বোধের ওপারে ভাসে

বোঝা আর না-বোঝায় তারা প্রশ্ন করে, তর্ক করে জুড়ে বসে

শিরায় ছাইচাপা আগুনের ধাক্কায় প্রতিবাদের ভূমিকম্প

আন্দোলন সজাগ হতে চায় আমার ভেতর কোন এক সচেতন মন ।

রাতদুপুরে আমায় ছিড়েখুঁড়ে বেরিয়ে পড়ে রাজপথে

তাকিয়ে দেখি মানচিত্রের দিকে,

বিধ্বস্ত ভারতবর্ষ রক্ত আগুন চোখে।

আরও পড়ুন...