Categories
2021_pujo

তানিয়া হাসান

শারদ অর্ঘ্য ১৪২৮ ।  বাংলাদেশের কবিতা

তা নি য়া   হা সা ন

একটা নিস্তব্ধ ভালো 

পুড়ে যাওয়ার মত যতটা ফাগুন প্রয়োজন
সে আমাদের চোখে ছিলোনা
তারপরও অবোধ চোখাচোখি
চিনাবাদামগুলো ঝলসে দেয়
পিঞ্জিরার ভাঁজে

সব ভালো বাসি হলে বাসাবাসি হয়না
কিছু ভালো পুষ্টিহীনতায় ভোগে
হীনস্বার্থের ভালোলাগায়
যে উঠোন ভেঙে গিয়েছিলো
তার সুরঙ্গে নাও চলে
কিন্তু মসগুল হয়না মাঝি

আমরা কলিংবেলে হাত রাখি
ড্রয়িংরুমে সবুজ বাতাস
তবুও কুশিলব বিচ্ছিন্ন করিডরে

যেহেতু বামনের কপালেও চাঁদের ছায়া
রাতকে ফিরে আসতেই হয় অমাবস্যায়
হলদে কইতরও তবে সাদা চুড়ি পরবে

এমন ভবিতব্যে মরীচাধরে শিকলের
খয়েরী শুভ, ম-ম সুগন্ধে ভিজে চিরতা
তুমিটা ঘুমিয়ে থাকো
উতরিয়ে যায় চায়ের বাগান

আমি না হয় স্নানটা করেই আসি

 

অনিবার্য সখ্যতা

ঘড়ির কাটাও বিকিয়ে যায় ঝিরিঝিরি মালিন্যের বিকিরণে
ভিজিয়ে রাখেনা সুখনুভূতি

আমরা সীমান্তসময়ের সীমা অতিক্রম করি
বহুগামী দৃষ্টির ভ্রমে

কাঁচা স্পর্শ মুছে দেওয়ার স্পর্ধা বর্তমানকে
ফেলে টগবগে কেটলির শেষ স্তরে

অভ্যাসের অভস্ত্যতায় নুয়ে পড়ে কমলা সকাল

শীর্ণ মায়া শুকিয়ে যায় শিউলির বৃন্তে

এমন অকারণের কোন স্বাধীন ভূমি নেই

খামখেয়ালি কিংবা খোঁড়া বসন্তে
এরা আসে
কোকিলের নখে
বেগানা শ্যাওলার শরীরে

সহনীয় অনিবার্যতায় ভাসিয়ে দেয় দিন-পঞ্জিকা

পূণরায় আমরা বৃত্ত আঁকি আত্মিক কেন্দ্রে
উড়ুক্কু ভরসায়

আমাদের ক্ষয়ে যেতেই হয়
অলৌকিক ঋণে
তাহার ভিতরে থেকেও
পাশবিক পর্যটনে

আরও পড়ুন...

Categories
2021_pujo

সুজন দেবনাথ

শারদ অর্ঘ্য ১৪২৮ ।  বাংলাদেশের কবিতা

সু জ ন   দে ব না থ

দুঃখের মত বেহায়া

হোমার-সাগর দেখতে যাবো। জাহাজে উঠেছি। ভাবছো, এই নাম কোথায় পেয়েছি?

সেই প্রথম যেদিন অডিসিয়াস পড়েছি, গ্রিসের সাগরগুলোর নাম কেটে, আমি

হোমার-সাগর রেখেছি। সাগরে চোখ মেলে মনে হচ্ছে, এই সাগর আমি দেখেছি,

কিন্তু এমন জল আগে দেখিনি। ভাবতে পারো, সে কেমন পানি! পানি দেখে

আমি হোমারকে পর্যন্ত ভুলে গেছি, গ্রিক মিথোলজি সবটুকু ভুলে গেছি।

হোমার–সাগরে অডিসিয়াসকে না খুঁজে, শুধু জল দেখছি, শুধু পানি দেখছি।   

 

 চেনা সাগর, অচেনা জল। জল, না পানি? নাকি নীলকণ্ঠ ফুল?

কাকে ভালোবেসেছে ও? কার ভালোবাসা নীল, অমন ভয়ংকর নীল!

ভাসছি, নীল জলে আমিত্ব ধুয়ে ভাসছি।

উড়ছি, স্বপ্ন ভিজিয়ে উড়ছি। সাথে উড়ছে সীগাল, সাদা সাগর-পাখি –

দেখলেই ধরতে ইচ্ছে করে, কিন্তু ধরা দেয় না – সুখের মত বদমাস।

তীরে দাঁড়িয়ে ছোট্ট দ্বীপ – হাসছে, পাহাড় ধরে হাসছে –  

দুঃখের মত বেহায়া  – একটুও নড়ছে না।

 

বেহায়া পাহাড়টা চোখে নিয়ে ফিরে আসছি, আমার কলমে হোমার-সাগরের

নীল জল ঢুকছে। সেই জলে ধুয়ে আমি, তুমি হয়ে যাচ্ছি। আমার কথা ভুলে যাচ্ছি,

শুধু তোমার কথা বলছি। তোমার কথা বলবো বলে, দুঃখের মত বেহায়া হয়ে,

তোমাকে ভীড়ের মধ্যে একলা হতে বলছি।

 

কাল রাতে তুমি – চাঁদকে যে কথা বলতে ভুলে গিয়েছিলে –

আমি তোমার হয়ে সেই কথাটি বলছি – তুমি শুনতে পাচ্ছ কি –  

 

প্লেটো এট্টা ফাটাফাটি কাজ করেছে

প্লেটো তার আদর্শ রাষ্ট্র থেকে কবিদের বের করে দিয়েছে।

ভাবছো, প্লেটো বেকুবের মত কাজ করেছে? ভেবে দেখো–

সেই থেকে কবির ঘর হারিয়ে গেছে, কবি পথে হাঁটছে,

তোমার নিজের যে কথাটি তুমি জানো না, সেই কথাটি বলতে কবি

তোমার কাছে এসেছে, এই মুহূর্তে তোমার চোখের তারায় বসেছে।

তোমার ভালোবাসার মানুষের জন্য নতুন একটি কথা লিখতে

তোমার মনে ঘর বেঁধেছে, কবি নিজের ঘর হারিয়ে ফেলেছে,

চির যাযাবর হয়ে গেছে।

কেননা–আড়াই হাজার বছর আগে প্লেটো কবিকে নির্বাসন দিয়েছে।

 

দেখেছ – 

প্লেটো না বুঝেই, কিরম এট্টা ফাটাফাটি কাজ করে ফেলেছে।

আরও পড়ুন...

Categories
2021_pujo

নাদিয়া জান্নাত

শারদ অর্ঘ্য ১৪২৮ ।  বাংলাদেশের কবিতা

না দি য়া   জা ন্না ত

বিবাহ প্রস্তাব

তোমার আম্মা সকালে কোরআন পড়লেন। ভাবী পিঠা বানালেন। তুমি পাশের ঘরে। আমি ঘাপটি মেরে শুয়ে আছি আম্মার ঘরে। তুমি একবার এই ঘরে আসলা। কিছু বোঝার আগেই কপালে চুমু খাইলা। সারা জীবন তোমার কাছে থেকে যেতে বললা আমারে। তোমার বাড়ির পাশে রাধাকৃষ্ণপুর বাজার। পাশে ইস্কুল। তারো পাশে বড় ময়দান। ঈদে মেলা হয় ময়দানে। তুমি বললা ঈদ এলে মেলায় নিয়ে যাবা। তোমার আম্মারে খালাআম্মার বদলে আম্মা ডাকার অনুমতি দিলা। আরো বললা, যদি মরণ আসে বকুল আর জাম গাছের তলে আরো সব কবরের পাশে আমারে তুমি কবর দিবা।

 

ইঙ্গিত দিয়ে তুমি কি আমারে বিবাহ প্রস্তাব দিলা?

 

দূরের শহর থাকলো দুধে-ভাতে

শহর ঘেঁষে ফুল ফুটলো মুষলধারে; আসলো মধুমাছি। মন কেমনের শাদা ডিম্ব শেকড় দিয়ে আঁকড়ে ধরলো, গলির কোনে দাঁড়িয়ে থাকলো ঘর-বাড়ি আর রুক্ষ পুরুষ; আমার তাতে কী!

 

আমার ইনসোমনিয়া থেকে উড়ে গেলো কাক, সে ঠুকরে খেলো তোমার দুধ মাখা ভাত, বিবিধ স্বর্ণচাপা

আরও পড়ুন...

Categories
2021_pujo

শামশাম তাজিল

শারদ অর্ঘ্য ১৪২৮ ।  বাংলাদেশের কবিতা

শা ম শা ম   তা জি ল

রিয়া

প্রেম তো বুকে আছে প্রেমিকা দূরে তবু

থাকছে ভুল বুঝে আমিও ভুল করে

যাই না কাছে আর; আগুন জ্বলে গেলে

পুড়িয়ে নিজেকেও পোড়াবে বাকি  সব

 

গানের স্বরলিপি সকলি গান নয়,

ডাকতে এসে রোজ না ডেকে ফিরে যাই

তবুও আশা থাকে কখনো দেবে সাড়া;

হঠাৎ একদিন আমিও দেবো ডাক।

 

বোবার ভাষা নিয়ে জীবনে বহুবার

ভেবেছি নিজ মনে; চোখের জ্যোতিহীন

লোকের দিকে চেয়ে ভেবেছি কতকিছু

কী করে জীবনের পথটা পাড়ি দেয়?

 

আমার স্বর আছে, তবুও ভাষাহীন__

মূকের ভূমিকায় কাটিয়ে দিনরাত

ভুলিনি লোভী চোখ; দেখেছি মুসিবত:

এগিয়ে আসে ধীরে ভুলের পথ ধরে।

 

হঠাৎ একদিন আমিও দেবো ডাক 

অন্ধকার থেকে তোমার নাম ধরে                                  

 

পাথরের জিকির

ডিমের ভেতর আদম ফোটে হাওয়ার বুকের তাপে

স্বর্গচ্যুতির কারণে নয়, কেঁদেছে সন্তাপে

আলোর নদী পাড়ি দিয়ে অন্ধ হলো দিন

বন্যতাকে তাড়িয়ে বেড়ায় উঁচিয়ে সঙ্গীন

তিনশো বছর কেঁদে আবার হাওয়ায় ওতপ্রোত

পাঁজর ছেঁড়া আদিম নারী বেদনাসম্ভূত

স্নানযাত্রার পর্ব শেষে এসেছে সন্তান

খুনের ভেতর খুন জেগেছে– রাখেনি সন্ধান

ভ্রাতার হাতে নিহত ভাই, চিত্তে অবসাদ

দ্বন্দ্বমুখর জীবন প্রদীপ, –রক্তে ভেজা হাত

হস্তরেখায় ভুল ছিল না,আত্মাপহারক

ভয়ের দিশায় ফেরার জীবন রেখেছে বন্ধক

পিতার তবু কাঁদে হৃদয় কাঁদে প্রাণের বায়ু

আদিম মাতার বক্ষে পাষাণ রুদ্ধ পরমায়ু

পাষাণ ভাঙে পাষাণ পোড়ে বক্ষে পাষাণভার

চিত্তদাহে পাপের হরণ, জেগেছে এত্ বার

রৌদ্রে জ্বলে লক্ষ বছর সাংখ্য-জাগতিক

কোরান মানে মুসলমানে হিন্দু পূজে ঋক

পিঠের ওপর বইছে বোঝা ধনুকভাঙা শর

পাথর থেকে জীবন খোঁজে মৃত্যু অতঃপর

আরও পড়ুন...

Categories
2021_pujo

পলাশ দে

শারদ অর্ঘ্য ১৪২৮। দীর্ঘ কবিতা

প লা শ   দে

গন্তব্য, অপরাধ

ফিরছি ভোলা মন

চুমুর অপেক্ষায় ঠোঁট গেঁথে গেছে মাটিতে

খরা হয় বন্যা হয়,

ওই হাঁ এর ভেতরে

ত্রাণ আসে মাঝে মধ্যে আর দূরের ট্রেন থেকে

আলো ঝলকায়, ছবি উঠতে থাকে

 

ভাঙন দেখতে এসে চকলেট খেতে নেই

ডানা ঝাপটানো জল তুমি সেন্ট দাও কেন

ওই সব কাতড়ানোর শব্দে অতিথি ঘুমিয়ে পড়ে 

প্লাস্টিকের ছাউনী উড়ে যায়

… বৃক্ষের কোলে ঝিমিয়ে আসে পাখি

 

‘ঘুরে দাঁড়াতেই হবে’ বলতে বলতে সবাই অস্থির

 

এর বাইরে কিছু একটা ঘটে চলেছে

ছাদ থেকে দেখা যায়

ঠিকানা সরু হতে হতে ন্যাড়া হয়ে গেছে

বৃষ্টি ফেরি করার দল ততক্ষণে অন্য চোখে অন্য সম্ভাবনায় 

 

ফিরতে পারি না মনভোলা 

কত বাহানায় সামলে রাখি ভ্রমণ

সমুদ্র, তুমি নুন আর পানীয়ো তফাৎ করতে পারো না

পাহাড়, প্রতিটা বাঁকে গুমখুন না কি শীৎকারধ্বনি

ঘ্রাণ আসে হেঁটে যাওয়ায় একা একায় আদর 

 

আগে ভাবতাম চার পাশে কেউ নেই অতএব, একা

যখন শব্দ শুনি পাতার, শ্বাস-প্রশ্বাস সুর ধরে মাটির সঙ্গে

সামান্য চোখ খোলায় ঝর্ণা বেরিয়ে আসে

কীভাবে পাল্টে যাওয়া আলো জোনাকি হয়ে যায়

 

শরীর ভর্তি অন্ধ মৃত্যু ভরা গুঞ্জন

ওই দুধের বোঁটায় জগৎ খুঁজি, খুঁজতে খুঁজতে নাভির গর্তে জন্মশিকড়

কানের ফুটোয় দৈববাণী আর

নাকের ভেতর দিয়ে ছুটে যাই মায়ের হাহাকার

 

যৌন ভাবো তুমি যৌন ভাবো তুমি যৌন ভাবো ভাবো

 

কিচ্ছু যায় আসে না 

গন্তব্য, অপরাধ

 

আরও পড়ুন...

Categories
2021_pujo

অগ্নি রায়

শারদ অর্ঘ্য ১৪২৮। দীর্ঘ কবিতা

অ গ্নি   রা য়

এইসব জন্ম আর সেই সব মৃত্যুকথাগুলি

ভোরের হাওয়া এলে ঘুম ভাঙাতে চেয়ে

চুম হেনে খুলে গেলো নয়নভোলানো,

জানলার ওপারের কার্ণিশে গজিয়ে উঠলো আরও একটি অশ্বত্থমূল

বাজারের পৌষালি মৌতাত এবার জাগো–

জাগো নন্দিত সজনে ফুল আর বাসনা বিলাসী পোকার দল,

আজকের ভোরে যেন লেখা থাকে মৎস্যপুরাণ, পুরনো ঢেউ আর প্রথম লোকাল–

বৃন্দগান বুকে নিয়ে এলপি রেকর্ড-সব, করে রব, রাতি পোহাইলো–

এসো উৎসব সার্কাস, তুমি যেন কোন গ্রহ থেকে মেয়েদের নিয়ে এলে?

তোমার তাঁবুতে ওড়ে ছুটির পতাকা,

শহরের প্রান্তে অকস্মাৎ বাঘের গর্জনশিলা চল্লিশে

বড় ছুটি ছুটি লাগে মন, তুমুল ক্রিকেট হোক,

দুপুরের আলো স্বর্গকুচি হয়ে ছড়িয়ে গেল উলের সম্রাট,

ঘোর লাগা তাপমান, অয়নপথ, পরিযায়ী হাওয়া

আমার শহর, আমাদের বনানীঘেরা চড়ুইভাতির সব পদ

একে একে পাঠাবো তোমায়!

দুপুরে জন্ম নেয় যে সব গভীর রাত.

তুমি তার গানটুকু ছেঁকে নিও

তুমি তার আসন্ন বিপদটুকু বুকে নিয়ে

ফেব্রিকে আঁকা বায়ুপরীদের সঙ্গে লুকোচুরি খেলো,

বাড়ি জেগে উঠলেই, যারা লুকোবে পর্দায়,

যেন সবকিছু একই আছে, প্রতিটি সেলাই আগেকার মতো

কানভাঙা কাঠের ঘোড়া, সোনারুপো রাংতার সেট,

স্প্রিং দেওয়া খরগোশের হঠাৎ লাফ দিয়ে উঠে আসা বুকে।

বাসের টিকিট ভরা বাতিল বাক্সটি দ্যাখো–

ঠাকুমার থানকাপড়ের মতো আকাশ যতদূর দৃষ্টি যায়,

চরাচর জুড়ে কথক শালিক, ঠোঁট দিয়ে খুঁটে তোলে

জন্মমুহুর্ত, কাঠের আসবাব, কাঁসার বনেদি

মায়া এসে পড়ে গ্রিলঘেরা বারান্দায়,

তোমার খেলার ঘরে নকশা কেঁপে ওঠে

জমে ওঠে বালি, প্রথম প্রোমোটার এসেছে শহরে,

কংক্রিটখোর, ইতস্তত পাথরকুচি আর সিমেন্ট প্রতিভায়

সে পাহাড় প্রমাণ, যার সুড়ঙ্গের অন্য মাথায় রয়েছে গুপ্তধন, ডলিদের বাড়ি।

সেই বালি চিকচিক করে বিষণ্ণ জোছনার রাতে

গব্বরের ডেরা ছুঁয়ে ফেরা, ইতিহাস বইয়ের অস্পষ্ট ব্লকে

তার উজ্জ্বলতা, হাতের মুঠো’র থেকে ঝরে যায়

বেপাড়ার হাওয়া দেয় খুব

ম্যাচ শেষ সন্ধ্যায়, মৃত খেলোয়াড়দের নিঃশ্বাস পড়ে

বুলাদিদির ফেরার সময় হয়ে আসে টিউশন বাড়ি থেকে,

ল্যাম্পপোস্টের নিচে জমে থাকা ষড়যন্ত্র, ফিসফাস, তাহাদের কথা।

শীত তো থাকে না চিরকাল, ঘুমও ভেঙে যায়,

ক্রমশ জটিল হয় লাইব্রেরির আটপৌরে ঘর, নুনধরা দেওয়াল

ছানি পরা চোখে ঈশ্বর বসে লাইব্রেরিয়ান সেজে–

অন্ধকার পিছিয়ে যায় আর দেওয়াল ভাঙে বাধার

সাতটি ভাই পাহারা দেয় প্রাচীন দেওয়াল লিখন।

শহরকে ডুবিয়ে দিয়ে গেল যে নদী

তার সর্বনাশা রূপ আমি দেখিয়াছি,

অন্য নাবিক তাই খুঁজিতে যাই না আর!

গঙ্গার ধারে প্রতিদিন ডুবে যায় মানস প্রতিমা,

সূর্যাস্তের মতো স্বাভাবিক এ সব মৃত্যুদৃশ্য, বালকের ঘাটকাজ।

একটি কমলালেবু ঋতু থেকে চলে আসে ন্যাসপাতি সময়

ডাস্টার পতনের শব্দ হয়, কানে বাজে বাঁশি

যেভাবে বেঞ্চ জানে আজন্ম পেনসিলের ঋণ, সাধ আহ্লাদ

কাঠের উপরে তার কারুবাসনা

আজও লজ্জিত হয়ে আছে,

কাটাকুটি ক্ষত নিয়ে পড়ে আছে হৃদয়চিহ্ন, বাসনাবাহিত বেলা,

পর্যটনহীন আকাশের মতো ফিরে আসে গ্রীষ্মের ছুটি

কলে জল আসে, ঘড়ির সময় মিলিয়ে নেয় ছায়াবীথিতল

সেই নবধারাজলে স্নান সেরে নিলে

কলোনীর সিল্ক-সম স্মিতাদের মাঝে বিম্বিত বিশ্বঅক্ষর, এই খেলাঘরে।

ভোরের হাওয়া এলে ঘুম ভাঙাতে চেয়ে বিষাদ সিন্ধু উতরোল

নিভে থাকা মলিন গানের স্কুলগুলো জানে, যেভাবে মরিচা জানে লোহা,

নয়ন সলিলে কীভাবে স্মৃতির কাজল মোছা হয় গানে,

হারমোনিয়াম ছেঁড়া তীব্র প্রলাপ জানে সেই কথা।  

টনসিল আক্রান্ত হলে, সেবার মাফলারও বোনা হল একান্নবর্তী শীতে

তবু কোণের দরোজায় রচনাবলী হাতে তুমি

হলুদ পাতায় পাতায় লবণের খেলা দেখো,

দুঃসংবাদে ভরে ওঠো প্রেতের মতন,

ভোরের হাওয়া এসে ঘুম ভাঙাতে চেয়ে

লিখে রাখছে তোমার এইসব জন্ম আর সেইসব মৃত্যু কথাগুলি…

আরও পড়ুন...

Categories
2021_pujo

অনিন্দ্য রায়

শারদ অর্ঘ্য ১৪২৮ ।  গুচ্ছ কবিতা 

অ নি ন্দ্য   রা য়

কৃষকবাড়ি

সে ছিল সব্জির খেতে পড়ে-থাকা অযৌন প্রতীক  

বালকেরা খেলাচ্ছলে তাকে নিয়ে মাঝামাঝি চিরে

করেছে খাদ্যের মতো লোভনীয়, আরও ক্ষুদ্রতর  

মাতৃকার কায়াকল্পে প্রান্তরের উজ্জ্বলতা জাগে  

 

কৃষকবাড়িতে যে যে বিড়ম্বনা ঘটে অধিকাংশ

জমিতে, চারার ফাঁকে পুঁতে দিলে মিটে যায় ঠিক

পতঙ্গ পোষেন তাঁরা, রীতিমতো প্রশিক্ষিত করে  

ছেড়ে দেন ক্রিয়াকর্মে, উড়ে যায় পরাগে পরাগে

 

আমিও নিয়েছি অংশ, লোকাচারে কনিষ্ঠ শরিক

আমিও স্ত্রী-গাছ খুঁজে ডিএপির বস্তা ফুটো করে  

ঢেলেছি গোড়ায় খুব, কাদাজলে নগ্ন আকরিক   

চকচক করেছে আর প্রাণে প্রাণে মিশে গেছে জড়

 

তুমিও ক্ষুধার দলে এলেবেলে, স্থানীয়, অস্ট্রিক

মাঠ থেকে ফিরে এসে নিজহাতে মুণ্ডচ্ছেদ করো   

 

ডুব

সতেরো বছর হলে পুষ্করিণী আত্মীয়ার নাম  

মনে হয়; সাঁতারের সুযোগে অনেক আলোড়ন

সহ্য করতে হয় বোবা পুতুলের মতো ব্যথাহীন

সাদা রবারের মতো উত্তেজনাপ্রবণ অথবা

 

প্রতিটি ডুবের আগে বড়ো করে শ্বাস নিতে হয়

চোখ বন্ধ হয়ে আসে এত ভালো জলের আরাম  

খিদে পায়, তেষ্টা পায়, ঠোঁট একটু হয়ে পড়ে ফাঁক

অপূর্ব নরম গোল মুখে ঢুকে করে দেয় বোবা

 

সে চুষতে শুরু করে, মনে পড়ে জননীর স্তন

যখন আড়াই মাস তাকে ফেলে চলে গেছে দূরে

অন্য মরদের সঙ্গে, সে মরদ আকাশের তারা

আজ পুকুরের মধ্যে স্পর্শ পাচ্ছে মায়ের যেন বা

 

দারুণ আয়েসে খায়, পেট ভরে, তারপর বিশ্রাম

নিতে আত্মীয়ার কোলে ঘুমিয়ে রয়েছে আজীবন    

 

চোর

প্রবল হল্লার মধ্যে ধরা পড়ে রোগাভোগা চোর

সবেমাত্র সন্ধে, জানলা দিয়ে হাত প্রবল সাহসে

ঢুকিয়ে টেনেছে হার মূক বধূটির গলা থেকে

তক্ষুনি কঁকিয়ে উঠে কী কাণ্ড বাঁধাল মেয়েটিও

 

জড়ো হয় লোকে, চেপে ধরে, শুরু হয় মার

ভিড়ের ভেতরে ক্ষুর বার করে বাবু গুলিখোর

না, কণ্ঠে না, এলোমেলো মাথায় চালায়, কাটে চুল

অন্যেরা কুলকুলি দেয়, ঢেলেছে পাঁচচুলা করে ঘোল 

 

পিটুনি চলতে থাকে, লাথি, ঘুষি, সহস্র থাপ্পড়

“আমি কুছু করি নাই” বলে আর পালানোর চেষ্টা

করে ছেঁড়া প্যান্ট, ছেঁড়া গেঞ্জি, ফাঁদে পড়া নটবর   

প্রচণ্ড মারের চোটে শিরদাঁড়া বাঁকিয়ে করে গোল 

 

হাঁটুতে নিজের মাথা গুঁজে যেন প্যাঁকাটি কিশোর

মাতৃগর্ভে ভাসে, সব প্রহার এখন সহনীয়        

 

বটের নীচে

কেবল অস্ত্রের কথা লিখে রাখি বটের পাতায়

নিজের আঙুল কাটি, সর্বত্র ছড়াই রক্তফোঁটা

আর যথাসাধ্য লাল হয়ে ওঠে ফলেরা, মাটিতে  

পড়ে ছেৎরে যায়, দেখি শ্বেতকণিকার মতো বীজ

 

কেবল অস্ত্রের নীচে কথাদের বুঝিয়েসুঝিয়ে 

শোয়াই, প্রত্যেক কোপে সরলতা তাদের ফাটায়

ভালোমন্দ ছিটকে পড়ে, শিরার ভেতরে ওঠে ঢেউ 

অণুচক্রিকার মতো অভিপ্রায় বেঁধেছে তাবিজ

 

এতসব বলছি কেন? কেন বলছি? এর চে নিশীথে

প্রেমের কবিতা পড়া স্বাস্থ্যকর, বালিশের পাশে

একফর্মার বই রেখে ঘুমনোর আগে দেখা ভালো

হরফের ফাঁকে ফাঁকে শূন্যস্থান নিবিড়, গিজগিজ 

 

নিসর্গে বটের নীচে ঝুপড়ি বেঁধে চাতুরি সহায়       

তোমাকে সঙ্গিনী ভেবে কেন মুখ ঘষেছি সংগীতে

 

বুলেভার্ড

বিস্মৃতির বুলেভার্ড, গাছেরা নিজের মতো গূঢ়

যে শকটে গেছিলাম আজ তার জ্বালানি না পেয়ে

ভেবেছি হেঁটেই যাব, সরলবর্গীয় মুখ, হাসি

আধো বুজে আসা চোখ— যদি কিছু মনেটনে পড়ে

 

অথবা স্পর্শের ঠিক আগের মুহূর্তে থেমে থাকা

এসব কি ঘটেছিল? ঘটেনি? হতে তো পারত, বলো   

কোনও আশ্বিনের ভোরে একই পথে দুজন মানুষ

উল্টোমুখে হেঁটে যাচ্ছে রোদ আর মেঘের শহরে    

 

অথবা বিকেল শেষে গান করছে পাগল বেসুরো

তাকে কিছু বলতে গিয়ে থমকে আছে সাঁঝের বলাকা  

এসবের মধ্যে আমি কখনও কি ছিলাম? ছিলামই না!

ভুলে গেছি, ভুগে ভুগে একান্ন বছর ধরে জ্বরে     

 

এবারে হেঁটেই যাব, যতদূর মিনারের চুড়ো  

যদি হয় পুনরায়… দেখাশোনা, শরীর, পতাকা   

 

স্নানাগারে

কী কুক্ষণে তাকে ভেবেছিলাম হামাম, সেই ভুলে

ঢোকা মাত্র খুলে ফেলি পোশাক, স্নানের লালসাকে

কোমরে জড়িয়ে আরও কয়েক পা এগিয়ে দাঁড়াই

জল খুঁজি ইতিউতি, খুঁজি জলে ভ্রষ্টাচার, সুখ

 

আর সাবানের সত্তা ক্ষয়ে যায় সর্বান্তকরণে

কী কুক্ষণে তাকে মেখেছিলাম পা-হাতে, মুখে, চুলে

অথচ চৌবাচ্চা ভরে সে রাখতে পারেনি ততদিনে

আমাকে বলেছে, “ভিজতে চায় যারা এমনই ভিজুক”

 

আমিও সংকোচে, ভয়ে তার পৃষ্ঠে ছুঁয়েছি আঙুলে

আর সেও হ্যাঁচকা মেরে টেনে নেয় নিজের গভীরে

সংজ্ঞা পুরো খসে যায়, ঢুকে পড়ি আঁধারের মূলে

জল বেরনোর নল করেনি তো এখনও সারাই

 

ফলত খটখটে-প্রায়, স্নানের অযোগ্য, তাকে ছুঁলে

তেষ্টা চেপে ধরে গলা, ঝরে পড়ে রুক্ষতার ছাই     

 

পুকুরে

যতটা পুকুর চিনি তার থেকে হাঁসেরা গভীর  

তাদের পায়ের ছাপ কাদাকেও শিল্প বানিয়েছে

যতটা হাঁসের কারু আরও কিছু পালকের দায়

কখনও সুষমা দেয়, আবার কখনও নষ্ট করে

 

অথচ মাংসের জন্য জনগণ বেরিয়ে এসেছে   

অথচ ডিমের জন্য পুকুরের পাড়ে এত ভিড়

সেখানে বাল্যের মতো সরল দুখানি চোখ, দেখি

সহসা আমাকে ডাকে ইশারায় ঘাটের পাথরে

 

যদি মাথা ঠুকে যায়, মনোবাঞ্ছা পিছলে যদি যায়

ভেবে মুখ ঘুরিয়ে নি, মিশে যাই লোকের আড়ালে

সুযোগে অপর কেউ ডাক দেয়, “চই, চই, চই”

মুহূর্তে সানাই বাজে, উলুধ্বনি ওঠে আড়ম্বরে

 

যতটা পুকুর চিনি তার বেশি বিরহ কবির

হাত থেকে পড়ে ভাঙে কুসুমে হরিদ্রা সমুদায়  

 

ভোরে

এখনও চাঁদের টুকরো দেখা যায় দূরের আকাশে

তাকে কেউ নিয়ে এলো ডোবার কিনারে, এনে জলে

ফেলে পরিষ্কার করে, মাজে অল্প মাটি দিয়ে স্নেহে

আমিও দূরের থেকে উত্যক্ত করেছি ঢিল ছুড়ে 

 

আমিও দূরের থেকে ঢিল ছুড়ে ভাবি যদি ভাঙে

এতটা কাচের, এত বাসনের মতো পড়ে ঘাসে    

ঝনাৎঝন শুনে যাই কিছুটা এগিয়ে, গিয়ে দেখি

ফোটনের গুঁড়োগুঁড়ো ছড়িয়েছে জলতল জুড়ে 

 

কুড়োতে যাব যে রোদ কাছে এসে লাফায় উচ্ছ্বাসে  

বিকট চিৎকার করে, ভয় পেয়ে সভয়ে দাঁড়াই

পরিচারিকার আর দেখাটেখা নেই আশেপাশে

সে তবে সর্বস্ব নিয়ে ফিরে গেছে নিজের অঞ্চলে!

 

ঘাসের ডগায় যা যা চকচকে চাঁদের কিছু না সে?

তার কিছু কণা পেলে বদলে যেত অবস্থা তাহলে

আরও পড়ুন...

Categories
2021_pujo

তিতাস বন্দ্যোপাধ্যায়

শারদ অর্ঘ্য ১৪২৮ ।  গুচ্ছ কবিতা 

তি তা স   ব ন্দ্যো পা ধ্যা য়

কেশ নামক বর্ষা থেকে

উদভ্রান্ত

সরিয়ে নাও হিমেল পাতা।

তার আগে,

কেবল একবার-

স্বাদ-গন্ধহীন

মধুমতী ছোঁয়া চোখে

স্কুল-ছুট্ কিশোরীদের পাগল করা দৃশ্যের

লোফালুফি দেখে নিতে চাই।

 

 

শিহরণ

 

আচমকা সরে এলে

ভয় করে বেশ!

এত শীর্ণ হয়েছে শরীর,

যে কোনো শব্দেই কেঁপে ওঠে।

 

ভয় করে,

পুনরায় এসে যদি

এই পা গেঁথে দাও-

পলিতে বা জলে।

 

 

জ্বর

 

এই সেই চমৎকার জ্বর

যার ভিতর এলিয়ে পড়ে তোমার মুখ

সর্বাঙ্গে ভেবেছিল

দীর্ঘ শবের কথা।

শ্মশানের ছাই যেমন ওড়ে-

মাঠ, নদী, অরণ্যের ঘুম- পথ ছেড়ে

আকাশের লোভাতুর শিশুর গালে আচ্ছন্ন হয়!

তেমনই জ্বর,

ক্লান্ত হয়,

ঘুমোয় হাওয়ায়।

 

 

আলিঙ্গন

 

ধূলিস্যাৎ হতে হতে,

স্খলনের মুহূর্তটুকু মনে ছিল।

মনে ছিল,

বাকি সব পরিযায়ী পাখি

কুয়াশার মুকুট থেকে

শ্রেষ্ঠ পালক সংগ্রহে ব্যস্ত তখনও!

 

 

রাজ্যপাট

 

পেরিস্কোপ ঘুরিয়ে দ্যাখে

যুবতী আঙুল-

কিশোরীদের স্তনে গাঁথা ছুরি ও বোতল।

বোতলের মুখ থেকে ধোঁয়ার দৈত্য,

অট্টহাসির শেষে চাইছে নিস্তার।

 

শয্যায় বৃষ্টি আসে।

 

নিয়মিত রাজ্যপাট সামলে

ফিরে যান পক্ষীরাজ।

রাজা, কেশগুলি ভিজে থাকে।

ভিজে ভিজে বৃষ্টি হয় কেশ।

আরও পড়ুন...

Categories
2021_pujo

পল্লবী মুখোপাধ‍্যায় ঘোষ

শারদ অর্ঘ্য ১৪২৮ ।  কবিতা

প ল্ল বী   মু খো পা ধ‍্যা য়   ঘো ষ

সরজমিনে দৃষ্টি

নির্বান্ধব মেঘলা ছাদে
গোলাপী অ‍্যডেনিয়ামের গাছে আটপৌরে ঘুড়ি

পাশে দু টুকরো হওয়া ড্রেসিং টেবিলের  আয়না
অ‍্যাসিড রেইনে ভিজছে ঠোঁটের প্রতিবিম্ব ।

ঘষা মেঘে একটু এসেন্ট ঢেলে জুঁই ফুলের গন্ধ
হাতের তালুতে মেখে
বালিতে আটকে যাওয়া জাহাজে বসে
জলের তল খুঁজে বেড়াচ্ছে ।

ট্রয়ের যুদ্ধের কিছুটা কালো রঙ যেন সবুজ শ‍্যাওলার উপর।

 

অপত‍্য কোষ

অপত‍্য কোষে মাছরাঙা
আর পাসওয়ার্ডে শরীরী শব্দ
ডিরজিও সিমিট্রি ধরে রাতের হাঁটা পথে।

সিমলা যাওয়ার টিকিট বাতিল হওয়ায় 
মনখারাপ
আবহওয়া দপ্তরের আধিপত্য  জল ফড়িংয়ের 
প্রতি সেকেন্ডে সময় বদলাচ্ছে ।

অঝোরে বৃষ্টিতে
ক্লিওপেট্রার রাতের পোশাক ভিজে গেছে ।
কাজুবাদামের জুস ঠোঁট  গড়িয়ে  সেই অপত‍্য কোষের গায়ে লেগে।
আঠালো জেলির মতো  ।

অবয়ব  ঝাপসা সুগন্ধ ।

আরও পড়ুন...

Categories
2021_pujo

সুদেষ্ণা ঘোষ

শারদ অর্ঘ্য ১৪২৮ ।  কবিতা

সু দে ষ্ণা   ঘো ষ

ইয়ার্কির গল্প

আমি তলোয়ার ছুঁড়লাম আকাশে

তারপর আরামে ঘুমোতে চললাম একজীবন।

কুয়াশা থাকলে সে ছটফটে পায়ে আসত

কুয়াশা ঘুচলে সে প্রাণপণে ম্যাজিশিয়ানকে ডাকত।

আমি তো জানি, নিরুদ্দেশের বিজ্ঞাপন কেন সহ্য করতে পারত না অরণি।

 

মাঝেমধ্যে হাত দেব ভাবি।

ভাবলেই হাত পুড়ে যায়।

অরণির গল্পে এত কষ্ট।

ফিফথ সিমফনির উত্তাল ঝড়ের মাঝে মাথা নিচু করে একা দাঁড়িয়ে অরণি। 

চোখ বুজলেই এসব কেন আছড়ে পড়ে?

 

আমি তলোয়ার ছুঁড়েছিলাম আকাশে।

তারপর ভয়ে ঘুমোতে পারিনি।

ফাঁকা মাঠের পুড়ে যাওয়া ফোনবুথে রিং বাজত রাতভর।

রাগ আর বরফ জমিয়ে বহু বছর ধরে একটা ফ্যাকাশে গোলাপি বাড়ি বানিয়েছিল অরণি।

কেউ বলবে না ও জীবনে কিছু করেনি।

 

অপমানের গল্প

আমি তোমায় একটা পরিষ্কার গল্পই বলতে চেয়েছিলাম।

কিন্তু তার আগেই কাচের রং বদলে যেতে লাগল

আর অপারেশন টেবিলের আলো জ্বলে উঠল।

ভায়োলেন্সের জন্য এক পা এক পা পিছিয়ে যেতে লাগল বৃষ্টির পূর্বাভাস।

রোমশ সন্ধের দিকে পালিয়ে গেল আমাদের সব কুঁকড়ে যাওয়া গান।

তুমি বলে উঠলে, ডিসেপটিভ।

তুমি চোখ বন্ধ করে বিশ্বাসের হাত ছুঁতে গেলে।

আমরা পুড়ে যাচ্ছিলাম অপেক্ষায়।

একটা বাচ্চা ছেলে অঘোরে ঘুমিয়ে পড়ল।

অপেক্ষাতেই।

 

লাইটহাউসের আলো সারারাত ধীরে-ধীরে ঘুরতে লাগল।

একটা হারমোনিকার সুর রাস্তা পেরোত আনমনে।

কয়েদখানায় কোনও আয়না থাকে না।

কয়েদখানায় কেন আয়না থাকবে অরণি?

গোলাপি চাঁদ মাথা নিচু করে থাকে গাড়ির কাচে।

কে ডেকে ওঠে, ‘সমাপন সমাপন’

কে ডেকে ওঠার আগে অন্ধকার হয়ে যায়।

একটা শব্দ হয়তো ‘অপমান’ ছোট্ট পাখি হয়ে তারে দোল খায়।

একটা পাখি ‘সহ্য করো’ শিস দেয়।

মলিন টেডিবিয়ার সারারাত সস্তা ইয়ার্কি করে ভালবাসার নাম করে।

 

কোনওদিন এসব তোমায় বলেছি?

আমি তোমায় সাদা ধবধবে গল্প বলতে চেয়েছি।

বলতে চেয়েছি ছোটবেলার কাগুজে নকশার অন্যদিকে একটা সুড়ঙ্গ পালিয়েছিল

দিশেহারা রেললাইনরা যেমন তুমুল নদীর দিকে।

একটা পাজল থেকে আর একটা পাজলের স্তুপের নীচে হারিয়ে যাচ্ছিলাম আমরা।

বাতিল রাজকন্যার মতো হেসে উঠত আমাদের লাল আকাশ।

পাথুরে পরির চোখের মতো অবাক আমরা।

পুরনো বাড়ির গাছের মতো আক্রোশ আমরা।

কিন্তু একটা বাচ্চা ছেলে ঘুমিয়ে পড়েছিল অকাতরে।

ওকে উপহারের লোভ দেখিও না।

আরও পড়ুন...