Hello Testing Bangla Kobita

প্রতি মাসে দ্বিতীয় রবিবার

Advertisement

3rd Year | 3rd Issue

রবিবার, ২৫শে আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ | Sunday, 10th July 2022

গ ল্প

বে বী   সা উ

baby

মারি

এবং পাখিটিকে জিঘাংসাপ্রবণ মনে হচ্ছিল তার। যদিও এখনো পর্যন্ত চোখ এবং ক্যামেরার লেন্স ঘুরিয়ে ঘুরিয়েও কিছুই দেখা, ধরা যায়নি। তাও পাখিটি ডেকে উঠলে আশ্চর্য এক ভয় এবং ভ্রমণ কাজ করে মাথার মধ্যে। মনে হয় যেন আশ্চর্য এক মৃত্যুভয় ছড়িয়ে পড়ছে চারদিকে, আবার একটা মহামারি। এবং এখুনি হয়তো ফোন বেজে উঠবে আর সঙ্গে সঙ্গে একটা আর্ত কণ্ঠস্বর ব্যাকুল ও আকুল এবং সর্বস্বান্ত স্বরে অর্ধেক কথা মুখে, আর অর্ধেকের অর্ধেক নেটওয়ার্ক কোম্পানির দায়বদ্ধতা থেকে এবং অর্ধেক, তার মন স্মৃতিপীড়িত কোনো ঘটনার মধ্যে তলিয়ে যেতে যেতে শুনতেই পাবে না।

///

পাখিটির ডাক ভেসে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে জুয়ান তার চোখকে সঙ্কুচিত করলো, বাইরে ঘন গাছটির দিকে তাকাল এবং কিছু দেখতে না পেয়ে শুধু শব্দকে অনুসরণ করে ব্যালকনিতে এসে দাঁড়াল। নীচে শ্যাওলা পড়া পাঁচিলের ওপর একটা আশ্চর্য ধরনের বেড়াল, যার গায়ে অনেকটা বুনো বেড়ালের মতো ডোরাকাটা দাগ এবং চোখ শীতল, নির্লিপ্ত। ঘুরে জুয়ানের দিকে তাকাল। জুয়ান একটা শীতল হাওয়ার গন্ধ পেল এবং সে অনুভব করলো একটা অধিক ব্যস্ততম শহরের, যেখানে ভাবনার আধিক্য থাকে না এবং নিজেকে ভিড় ও ব্যস্ততার মধ্যে হারিয়ে ফেলা সহজ হয়। কিন্তু এই মৃত্যুমিছিলের দিনে সেসব অসম্ভব ভেবে সে বেড়ালটির দিক থেকে চোখ সরিয়ে পাখিটি খোঁজার দিকে মন দিল।

///

জুয়ান নিশ্চিত ছিল, পাখিটির ডাকই মৃত্যু সংবাদ শোনার কারণ।  সে বহু চেষ্টা করেছে পাখিটির নাম জানতে। বন্ধুদের পাখির ডাক রেকর্ড করে শুনিয়েছে। বাড়ির লোকজনের সাহায্য চেয়েছে, এমনকি গুগলে কন্টিনিউ প্রায় ছ’মাস ধরে বিভিন্ন পাখিদের ডাক এবং তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করেছে। কিন্তু এই পাখি এবং ডাকটিকে খুঁজে পেতে সে অসফল হয়েছে।

///

একটা অ্যাম্বুলেন্সকে চলে যেতে দেখলো জুয়ান। আর পাখিটির ডাক ম্রিয়মাণ মনে হলো তার। সে হঠাৎই অনুভব করলো একটা অ্যাম্বুলেন্স যেতে যতটা সময়ের প্রয়োজন, তার চেয়েও খানিকটা সময় বেশি নিচ্ছে এবং চারপাশের লোকজনের কান্নার একটা সুর গুনগুন করে উঠছে।  সেও বেড়ালটির মতো নির্লিপ্ত এবং অমনোযোগী হওয়ার চেষ্টা করলো এবং রুমে এসে হোয়াটসঅ্যাপ অন করলো। দেখলো কার কার সবুজ আলো জ্বলছে এবং কারা কতক্ষণ আগে অনলাইন ছিল। কিছু কিছু নাম্বার সে দেখলো প্রায় ছ’মাস, পাঁচ মাস, দু’তিন কিংবা লাস্ট সাতদিন আগে অন ছিল। তারপর…

সে এতকিছু না ভেবে হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাসে গেল এবং অ্যাম্বুলেন্স আসার কারণ ও বিলম্বের কারণ খুঁজে পেতে সক্ষম হলো। এবং তার হঠাৎই খুব জল তেষ্টা পেল। সে রান্নাঘরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলো কিন্তু কিছুতেই সফল হলো না। সে অনুভব করলো পা দু’টি অত্যধিক ভারী এবং অবশ…

///

এমন অবস্থা তার আগেও বহুবার হয়েছে। তাই জুয়ান অবস্থাটিকে ইগনোর করার চেষ্টা করলো এবং কোনো হোপফুল ঘটনার কথা ভাবতে চেষ্টা করলো। সে কল্পনা করলো ওমান সিনেমাটির কথা। এবং নটি হিলের সঙ্গে মেলাতে চেষ্টা করলো। কিন্তু তার মাথা কোনো সিনেমাটিক জগতে যাওয়ার মতো অবস্থায় ছিল না, গেলও না। সে বারবার পাখির ডাকটির কাছে ফিরে আসছিল।  প্রথম যখন সে ডাক শোনে, সে চমকে ওঠার চেয়ে একটা কৌতূহল অনুভব করছিল। এবং যথারীতি ক্যামেরা নিয়ে ব্যালকনিতে ছুটে গেছিল। পরের বার যখন পাখিটি ডেকে উঠেছিল, তখন তার সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেছিল মহামারী, লকডাউন এবং তাদের বাড়ির প্রথম মৃত্যুর ঘটনাটিও। তৃতীয় বারের ডাক, তাকে আরও আশ্চর্য করেছিল এবং সেখানেও কাকতালীয়ভাবে হলেও আরেকটি মৃত্যু যুক্ত হয়েছিল। চতুর্থ বারে ডাকের সঙ্গে সঙ্গে কোনো মৃত্যু আসেনি। ফলে সে কিছুটা নিশ্চিত হয়ে নিজেকে ভুল প্রমাণিত করতে পেরে মনে মনে খুশিই হয়েছিল। সত্যি কি খুশি হয়েছিল! নাকি অপেক্ষা করছিল আরেকটি ঘটনার! না হলে পঞ্চম বার পাখিটি যখন ডেকে উঠেছিল এবং তার দিন দু’য়েক পরে যখন মৃত্যুর হার প্রচণ্ড বেড়ে গিয়ে সারা পাড়াটি থমথম করছিল, জুয়ান কি খুব আশ্চর্য হয়েছিল! বিষাদ কি তাকে বিভ্রান্ত করেছিল! নাকি ডাকের সঙ্গে এই মিলে যাওয়াটা তাকে আরও কৌতূহলী করে তুলেছিল!

///

সে ক্লান্ত অনুভব করলো। এবং সে বুঝতে পারছিল একটা অবশ মস্তিষ্ক তাকে ক্রমশ বিধ্বস্ত করে তুলছে। সে সামনের দিকে তাকালো, দেখলো, সবাই শশব্যস্ত! মা স্থির হয়ে বসে। চোখে জল। ভাই ছুটোছুটি। পাড়ার সবাই তাদের ঘরে! সে অবাক এবং আশ্চর্য হলো। সে অনুভব করলো পাখির ডাকটির শক্তি। এতো এতো মানুষকে একসঙ্গে হতে সে বিগত একবছরে কখনো দেখেনি। তার ভয় এবং ভালোলাগা দুটোই হচ্ছিল। সে আরও একবার জলের প্রয়োজন অনুভব করলো।  এবং মা’কে জল চাইল। মা তার দিকে তাকালো না। চুপচাপ বসে। জুয়ান অগত্যা আরও চিৎকার করে উঠলো এবং ভাইকে কিছু বলতে চাইলো। ভাই তার দিকে একবার এগিয়ে এলো এবং জল না দিয়ে চলেও গেল… জুয়ানের প্রচণ্ড রাগ এবং অভিমান দু’টোই হলো। সে নিজে ওঠার চেষ্টা করলো এবং অসফল হয়ে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকলো…

আরও পড়ুন...

প্রতি মাসে দ্বিতীয় রবিবার