Hello Testing Bangla Kobita

3rd Year | 6th Issue

রবিবার, ২৬শে কার্তিক, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ | Sunday, 13th Nov 2022

প্রতি মাসে দ্বিতীয় রবিবার

প্রচ্ছদ কাহিনী, ধারাবাহিক গদ্য, ছোটোগল্প, গুচ্ছ কবিতা, কবিতা, প্রবন্ধ, উপন্যাস, স্বাস্থ্য, ফ্যাশান ও আরও অনেক কিছু...

বাং লা দে শে র  ক বি তা

সা ই ফু ল্লা হ   মা হ মু দ   দু লা ল

অর্জিতার সাথে লং ড্রাইভ 

হাইওয়ে ধরে আমরা যাচ্ছি বিদেশি বিকেলের দিকে, রংধনুর দিকে। যেতে যেতে ওয়েস্ট একজিট নিয়ে ইয়াং স্ট্রিট ধরে নেমে যাই শহরের দিকে। ড্রাইভ থ্রো থেকে চা আর আইচ ক্যাপ নিয়ে ট্রাফিক জ্যাম আর দুটি ইন্টার সেকশন ক্রস করে আবার ইস্ট একজিটে উঠে যাই, ফিরে আসি ফোর-ও-ওয়ানে।  আইস্?

 

দীর্ঘপথে ইংরেজি রবীন্দ্রসঙ্গীত বাজল। তাতে আমি এবং অর্জিতা দুজনেই গানে গানে ভেসে গেলাম। নদীর পাড়ে একটি পার্ক। পার্কের একটি আপেলগাছের নিচে ব্যাঞ্চি। আমরা যাত্রাবিরতি করে হালকা স্ন্যাক্স খেলাম, পাখিদের সাথে। প্রাকৃতিক সূত্রে পাখিরা আমাদের আত্মীয়।

 

আবার আমরা রওনা দেই ভিন্ন পথে। আমাদের সাথে হিন্দি রবীন্দ্রসঙ্গীত। হঠাৎ গান থামিয়ে অর্জিতা বলল— বাবা, আমরা পথ ভুলে ভুল পথে যাচ্ছি। এখন আর গুগল-ম্যাপ কাজ করছে না। চলো, আমরা বরং কুড়িগ্রাম ঘুরে আসি। দাদাকেও দেখে আসি। দাদা তো আমাদের এক জাদুঘর!

 

ঐ দেখা যায় তালগাছ (গাছে তাল নেই), তারপর একটু এগুলেই ডান দিকে একটা মসজিদ (মসজিদে আজান হয় না), মসজিদের দক্ষিণ দিকে ধানখেতের পাশ দিয়ে একটা কাঁচাপথ মিশেছে চৌরাস্তায়। সেখানে একটা পুকুর (পুকুরে মাছ নেই), পুকুরের উত্তর পাড়ে একটা আমগাছ। গাছের নিচে ভাঙ্গা টিনের ঝাপড়ার চায়ের দোকান। সামনে বাঁশের ব্যাঞ্চি। কিছু কিছু লোক হাট থেকে হাঁটতে হাঁটতে সন্ধ্যার দিকে যাচ্ছিল।

 

আমার ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। অর্জিতা ড্রাইভ করছে। কাঁচারাস্তার পাশে গাড়ি থামিয়ে আমরা বাপ-বেটি বেঞ্চিতে পা দুলিয়ে দুধচা খাচ্ছি। স্টারবাকসের চেয়েও ঘনসরের চায়ের স্বর্গীয় স্বাদে পা দোলাচ্ছি। সেই সময় দোকানদারের রেডিওতে বাংলা রবীন্দ্রসঙ্গীত বাজতেছিল। আমাদের কাছে বাংলা টাকা ছিল না। ক্রেডিড কার্টেও বিল দেওয়া হলো না!

 

তখন একটি পুলিশের গাড়ি এলো। আমাদের মতো আগন্তুক দেখে তাদের সন্দেহ হচ্ছিল। কিছু উল্টাপাল্টা প্রশ্নের প্রস্তুতি নিচ্ছিল আবার ভয়ও পাচ্ছিল। পরে দোকানির কাছে রেডিও’র লাইসেন্স চাইল। তার লাইসেন্স নাই অথবা লাইসেন্স নবায়ন না থাকার কারণে পুলিশ জরিমানা করল।

 

তখন সন্ধ্যা ঘনিয়ে এসেছে। রেডিও থেকে ঘোষণা করা হচ্ছে—আজ থেকে লকডাউন। আজ থেকে অন্য রকম এক কার্ফ্যু। আমরা সেই লকডাউনের জালে আটকা পড়ে রইলাম!

 

টরন্টো, ১৪, জুলাই, ২০২০

আরও পড়ুন...

প্রতি মাসে দ্বিতীয় রবিবার