Hello Testing Bangla Kobita

3rd Year | 6th Issue

রবিবার, ২৬শে কার্তিক, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ | Sunday, 13th Nov 2022

প্রতি মাসে দ্বিতীয় রবিবার

প্রচ্ছদ কাহিনী, ধারাবাহিক গদ্য, ছোটোগল্প, গুচ্ছ কবিতা, কবিতা, প্রবন্ধ, উপন্যাস, স্বাস্থ্য, ফ্যাশান ও আরও অনেক কিছু...

প্র চ্ছ দ  কা হি নী

সে লি ম   ম ণ্ড ল

selim2

মানুষ এ-কোন শিকল পরে থাকতে চায়!

ধর্ম, একটা বোধ। একটা বিশ্বাস। তাহলে এত ঠুকনো হয় কীভাবে? কোথায় কে কী বলল, তাতে যদি ধর্ম কালিমালিপ্ত হয়; তাহলে সেই কালি তৈরী করেছি আমরা নিজে। আমাদের নিজের কালো হাত নিজের মুখে পড়ে আয়নায় যখন দেখছি আঁতকে উঠছি! ধর্মগুরুরা আরও উসকে দিচ্ছে মানুষকে; দেখো মোহাম্মদের নামে এই বলেছে! এতে সাধারণ মানুষ বুনো ষাঁড়ের মতো ছুটছে। সাধারণ মানুষ জানে না কেন তারা ছুটছে? শুধুই কি তাদের ছোটা জরুরি বলে? তারা কোন মুক্তির পথ দেখতে চায়? একটা অস্থির অপ্রতিকূল পরিবেশে বাইরে বেরিয়ে একটি শিশু রোজ একটু একটু করে বৃদ্ধ হচ্ছে। একেকটা দিন তার কাছে যেন অভিশাপ! তার কথা কি ভাবছি? আগামীদিন সে কী করবে? কী খাবে? কোন পরিবেশে বেড়ে উঠবে?

riot

ভারতবর্ষকে হিন্দু রাষ্ট্র করার পরিকল্পনা দীর্ঘদিনের। পুরাণকথিত রামকে কেন্দ্র করে; যে দেশের সর্বোচ্চ আদালত বাবরি মসজিদ ভাঙার রায় দেয়, সেই দেশের সেই দলের এক নুপূর শর্মা এটা বললে এত ভাবিত হওয়ার কী আছে? ভারতকে ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র না বলে বলা যায়, ভারত ধর্মকেন্দ্রিক রাষ্ট্র। নানা ধর্মকে পুঁজি করে একেক দল একেকসময় আখের গুছিয়েছে। দেশভাগের ইতিহাস বদলেছে। এই হিন্দুস্থান তার পূর্বের এক দলিল। বহুমানুষ এখনো দেশভাগের যন্ত্রণা নিয়ে পূর্ব-প্রজন্মের স্মৃতি আওড়ায়। তাদের স্মৃতি শুধুই কি ভাঙা ঘর, শুকিয়ে যাওয়া কান্না আর লাল রক্ত? তাদের মধ্যে কি আপেক্ষ নেই? যন্ত্রণা নেই? ভাইয়ের-ভাই ভাগ হওয়ার? একটি নদী ভাগ হওয়ার? বিশাল আকাশ ভাগ হওয়ার?

কোভিড মহামারীর সময় মনে হচ্ছিল— এবার হয়ত মানুষ ফিরবে বিজ্ঞানের কাছে। মন্দির-মসজিদ-গির্জা তালবন্ধ করে মানুষ ছুটেছিল ডাক্তারের কাছে। যুক্তির কাছে। কোনো ধর্মীয় ভণ্ডামির কাছে গচ্ছিত রাখেনি তার নিয়ত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের কুকুরের লেজ সোজা হয়নি। আমরা নিজেরাই লেজ নেড়ে এগিয়ে গেছি ধর্মগুরু বা নেতাদের বিস্কুটের কাছে। আধখানা বিস্কুট মানুষকে এতটা অন্ধ করে দেয় মধ্যযুগেও মানুষ দেখেনি। এ কোন আধুনিক যুগ! অন্ধবিশ্বাস আরও প্রশস্ত হয়!

ভারতের বাইরে তাকিয়ে দেখলেও বোঝা যায়, এই অন্ধকারের সুতো বিশ্বব্যাপী। এই কিছুদিন আগে আফগানিস্তানে মিলিটারি শাসনের পরিবর্তে শুরু হল তালিবানি শাসন। ভাবা যায়, একবিংশ শতাব্দীতে এসে! অন্ধকার এত কালো হয়, কেউ কি ভেবেছে? ভাবে? সব যেন একটা পরিকল্পিত গ্রাফ। এর ঊর্ধ্বসীমা, নিম্নসীমা আমরা ঠিক করে রেখেছি!
বিশ্ব-রাজনীতিবিদ বা বুদ্ধিজীবীমহল যদি এই নিয়ে ভাবত তাহলে আমাদের এই দিন হয় দেখতে হত না। কিন্তু কেন ভাববে? ধর্ম, রাজনীতি, অর্থনীতি একই জ্যামিতিবক্সে স্কেল, চাঁদা, পেনসিল। ভালো গ্রাফের জন্য সবটা প্রয়োজন…

কর্মসংস্থান, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, জালিয়াতি, খুন, ধর্ষণ এসবের বিরুদ্ধে যদি মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বড়ো বড়ো মিছিলে নামত তাহলে পরবর্তী প্রজন্মকে টিকি বা দাড়ির দাসত্বে গলা ফাটাতে হত না। তারা দেখত আগামী প্রজন্ম ধর্মগ্রন্থকে পাঠ্যবই হিসেবে নিচ্ছে। আর যাবতীয় কুসংস্কার আর মিথ্যাচারের কাছে ছুঁড়ে দিচ্ছে জমানো থুতু। তাদের স্কুল হয়ে উঠত একেকটা উপাসনালয়। সেখানে সবাই আল্লা, সবাই ঈশ্বর।

মানুষ এ কোন শিকল পরে থাকতে চায়। একটা সময় পর হাতে-পায়ে দাগ বসে। ক্ষতের দাগ। নিজেই নিজের দাগে মলম দেয়। কিন্তু শিকল ছেঁড়ে না। এই শিকল তার প্রভুর দান!

মানুষ ভুলে যায়— মুক্ত হওয়ার আনন্দ। মানুষ ভুলে যায়— বিজ্ঞানের যুক্তি। ধর্মের সাজানো তাসে বাজি জিতবে বলে জুয়ার আসরে বসে। হেরে যায়। খুনোখুনি করে।

চকচকে শিকলের জং দূরের পাড়ায় ধুয়ে দেয় তাজা রক্ত!

আরও পড়ুন...

প্রতি মাসে দ্বিতীয় রবিবার