Categories
editorial

Editorial-January

পর্ব ২
পর্ব ৫
গত সংখ্যার পর

সম্পাদকীয়

রবিবার, ২৪শে পৌষ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | Sunday, 9th January 2022

নতুন বছরের প্রথম সংখ্যা প্রকাশ পেলো। অগ্রজ চার জন কবির গুচ্ছ
কবিতা দিয়ে এই সংখ্যা শুরু করলাম আমরা, যা এই জানুয়ারি সংখ্যার
বিশেষ আকর্ষণ। তবে অতিমারি যেভাবে আবার থাবা ফেলেছে আমাদের
প্রত্যেকের যাপনে, আবার আশঙ্কার দ্বিধায় ভুগছি আমরা। গত বছর
বইমেলা না হবার খারাপ লাগা এই বছরের মধ্যে দিয়ে কেটে যাবার যে আশা
দেখা দিয়েছিল, তা আবার তলিয়ে যেতে শুরু করছে ক্রমশ। প্রকাশক,
বিক্রেতা-সহ অনেকেরই ক্ষতির তালিকা দীর্ঘতর হতে শুরু করেছে।
আমাদের নিজেদের গা-ছাড়া মনোভাব নিজেদেরই ক্ষতি ডেকে আনছে
বারেবারে।
তবু, প্রকাশিত হচ্ছে অনেক কবিতার বই, বিভিন্ন উপন্যাস-গল্পগ্রন্থ,
সুচারু পত্রিকাসমূহ। এই আলো নিয়েই আমাদের বেঁচে থাকা। গত কয়েক
বছর ধরে তলিয়ে যেতে যেতে বারবার আমরা আঁকড়ে ধরেছি মন ভালো
রাখার যে কোনো ওষধি। আমাদের এই ওয়েব ম্যাগাজিনও সেই পথেই
শামিল।

কবি মল্লিকা সেনগুপ্ত লিখেছিলেন-
‘ঝরনা যখন লাফ দিয়েছে কুয়াশাগহ্বরে
সবুজ পাহাড় ডাক পাঠাল সোহাগচাঁদের ঘরে
নোকালিকাই জলধারার রুপোলি উচ্ছ্বাসে
রোদ এসেছে বিষাদঢাকা মানুষগুলির পাশে’…
আমরাও আজ এই রোদটুকুর অপেক্ষায়। সকলে সুস্থ থাকুন আর ‘হ্যালো
টেস্টিং বাংলা কবিতা’র এই সংখ্যাটির পাঠশেষে আমাদের জানান
আপনাদের সুচিন্তিত মতামত।

Categories
2022_jan

সৈকত ঘোষ

স্ম র ণ ।  পি না কী  ঠা কু র

সৈ ক ত   ঘো ষ

saikat2

সাইকেল, বিস্ময় চোখ ও অসমাপ্ত পাণ্ডুলিপি

কিছু লেখা লিখতে বসলে এমন হয়। স্ক্রিন থেকে নেমে আসে একটা মায়াবী সাইকেল। তার চাকায় আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে মুহূর্তগুলো। থেমে যাওয়া সময় থেকে ধোঁয়া উঠছে চায়ের। এখুনি একটা প্রায় ফাঁকা রেলস্টেশনে সন্ধে নামবে। সাইকেল গ্যারেজগুলোতে টিমটিম করে জ্বলে উঠবে জোনাকি। এখান থেকে সবকিছু কি আর একবার শুরু হতে পারতো? একটা রিওয়াইন্ড বাটন…

-“আপনি সৈকত বলছেন? এবারের কৃত্তিবাসে আপনার কয়েকটি কবিতা প্রকাশিত হয়েছে…”

পরের কথাগুলো ঝাপসা হয়ে গেছে, আসলে ওই ঝাপসা কথাগুলোর ওপারে একটা উজ্জ্বল দেখা হওয়া অপেক্ষা করে ছিল। সদ্য একুশ পেরিয়েছি। জীবনের অঙ্কে একঝাঁক শূন্যের পাণিপার্থী তখন। একদিকে কবিতার বিস্ময় চোখ অন্যদিকে মস্তিষ্কের সার্কিটে হাই-রাইজ স্বপ্ন। সেদিন সন্ধে নামবে নামবে, বলাগড় গ্রাম, মোরাম বিছানো রাস্তা, বেশ কিছু দূরে চা দোকানের সামনে শীতের আগুন জ্বালিয়েছে কেউ। সেদিন মানে অবশ্য বছর দশ আগের এক ইথার সন্ধে। একটা আমি তখন ওই গ্রামেরই একটা স্কুলে পড়াই, আর একটা আমি ইঞ্জিনিয়ারিং ফাইনাল ইয়ার। দিনভর ডক্টর জেকিল মিস্টার হাইড, কখনও হেড কখনও টেল। আর এর মাঝেই একটু আধটু লেখার চেষ্টা। অকাজের মধ্যে দুটো রোগা পাতলা বই বেরিয়েছে। যদিও নিজে মুখে সে কথা বলতে একটা কিন্তু কিন্তু সংকোচ। বলাগড়ের ওই রাস্তাটার সঙ্গে আমার ছিল বছর আটেকের সখ্যতা। মাঝে মাঝে অবশ্য নতুন রাস্তার খোঁজে বেশ কয়েকবার ছেদ পড়েছে বন্ধুত্বে। কিন্তু সে সব কমা দাড়ি সেমিকোলনের উর্দ্ধে একটা মনসুন সাইকেলে পেরিয়ে গেছি কয়েক লক্ষ আলোকবর্ষ। সে সময় একটা ঘোরের মধ্যে থাকতাম। শুধু মনে হয়েছিল মুঠোফোনের ওপারে একটা জলজ্যান্ত কবিতা। সে কন্ঠস্বর এখনও জীবন্ত আমার কাছে। 

-“গড়িয়াহাটের যোগাযোগ চেনেন? 

চলে আসুন শনি মঙ্গলবার দেখে, দুপুরের দিকে। লেখক কপিটাও নিয়ে যাবেন সঙ্গে কিছুক্ষণ আড্ডা…”

আমি কিছু না ভেবেই জবাব দিলাম,

-“হ্যাঁ, চিনি ” তারপর দীর্ঘ পজ

ফোনের ওপারে চুম্বনের ক্ষত, ফোনের ওপারে রূপ লাগি আঁখি ঝুরে…

আসলে আমি কথা খুঁজে পাচ্ছিলাম না। সাইকেল থেকে নেমে সামনের পুকুরপাড়ে বসে ছিলাম বেশ কিছুক্ষণ। শীতকাল, সন্ধে নামার আগে পুকুরের ওপর একটা হু হু একটা নেই নেই একটা শূন্যস্থান চাদর পেতে দিয়েছিল মনকেমনের…আসলে সে দিনটাও ছিল ডিসেম্বর 

-“আপনার কবিতাগুলো বেশ ভালো লেগেছে, নতুন লেখা নিয়ে আসবেন। শুনবো। “

এরপর আপনি থেকে তুমি হতে খুব বেশিদিন সময় লাগেনি। সপ্তাহখানেকের মধ্যেই গড়িয়াহাটে কৃত্তিবাস দপ্তরে প্রথম দেখা পিনাকীদার সঙ্গে। তারপর কবিতা আড্ডায় দুপুর গড়িয়ে সন্ধে। সেই সন্ধেটা গড়িয়াহাট থেকে কবে যেন বাঁশবেড়িয়ায় শিফট হয়ে গেল। সালটা ২০১৩, “ঘুমন্ত পৃথিবীর রেপ্লিকা”র পাণ্ডুলিপি তৈরি করছি, দিনের পর দিন স্কুল থেকে ফেরার পথে বাঁশবেড়িয়া নেমে গেছি, তারপর স্টেশন থেকে বেরিয়ে সেই চা দোকান। কত সন্ধে এভাবেই কেটে গেছে। একটার পর একটা কবিতা শুনিয়ে গেছি বসন্ত মাস্তানকে। আসলে পিনাকীদার কাছে একটা বিস্ময় চোখ ছিল, আর ছিল আকাশের মতো বড়ো একটা মন। ওঁর আন্তরিকতা আর সারল্য মাখা সেই হাসি আজও জোনাকি হয়ে ঘুরে বেড়ায় আমার মনকেমনের সন্ধেগুলোতে। 

পিনাকীদা চলে যাবার পর আর বাঁশবেড়িয়া যাইনি। সেই চা দোকান, সেইসব কবিতা সন্ধে আর একটা ম্যাজিক সাইকেল আজও তার অসমাপ্ত পাণ্ডুলিপি লিখে চলেছে। 

আরও পড়ুন...

Categories
2022_jan

সুদীপ চক্রবর্তী

স্ম র ণ ।  পি না কী  ঠা কু র

সু দী প   চ ক্র ব র্তী

sudipchakrabarty2

রক্তে ভেজা প্রুফ

বাংলা কবিতার আবহমান ধারায় পিনাকী ঠাকুর একটি অনন‍্য নাম।তাঁর সমস্ত প্রাণ শক্তি দিয়ে সারাটা জীবন দিয়ে তিনি শুধু কবিতার কথাই ভেবেছেন।আঠাশটি কাব‍্যগ্রন্থ উপহার দিয়েছেন আমাদের। একদিন,অশরীরী,আমরা রইলাম,অঙ্কে যত শূন্য পেলে,হ‍্যাঁ রে,শাশ্বত,রূপ লাগি আঁখি ঝুরে,বিপজ্জনক,সাত মিনিট ঝড়,জীবন বেঁধেছি হাত বোমায়,কালো রঙের আগুন,বসন্ত মস্তান,মৌসম,শরীর কাচের টুকরো,চুম্বনের ক্ষত,নিষিদ্ধ এক গানের মতো থেকে সর্বশেষ কাব‍্যগ্রন্থ ন‍্যুড স্টাডি পর্যন্ত বাংলা কবিতার ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছেন কবি।এত সংক্ষিপ্ত পরিসরে ওঁকে নিয়ে আলোচনা অসম্ভব।আমি কেবলমাত্র একটি কাব‍্যগ্রন্থ নিয়ে আমার অনুভূতি জানাব এই লেখায়।

সময়টা জানুয়ারি ২০০৭,কলকাতা বইমেলায় আনন্দ পাবলিশার্স থেকে একটি কাব‍্যগ্রন্থ প্রকাশিত হল,এরকম নয় যে এর আগে এই কবির আর কোনও কবিতার বই প্রকাশিত হয়নি।এই সেই ২০০৭ সাল যখন পারিবারিক ও মানসিক এক বিপর্যয়ের মধ‍্যে দিয়ে যাচ্ছি আমি।কিছুদিন আগে বাবা মারা গেছেন,একবার ড্রপ দিয়ে কোনও মতে পাশ করেছি এম এ,যা রেজাল্ট বাজারে করে খাওয়া অসম্ভব।ব‍্যান্ড ভেঙে গেছে প্রেম ও তাই।

একবার পাড়ার পুকুরে স্নান করতে গিয়ে ডুবে যাচ্ছিলাম,সেদিনের সেই অনুভূতি চারপাশে প্রবল অন্ধকার নিয়ে ক্রমশ আরও নীচের দিকে এইবার দম বন্ধ হয়ে যাবে!তখন দরকার একটা বন্ধুর হাত আর সজোরে একটা টান।এখন আরও বছর দশেক পৃথিবীতে কাটাবার পর বুঝছি প্রেম-পয়সা না থাকার থেকেও আরও মর্মান্তিক হল দর্শন না থাকা যুক্তি না থাকা।আসলে দরকার একটা হাত,বাইরের কারও নয়,তোমার নিজের মধ‍্যেই সে আছে যে তোমাকে দীর্ঘ ক্লান্তিকর যাত্রার মধ‍্যে মধ‍্যে হঠাৎই যুক্তির সুর শোনাবে।এটা সেই ২০০৭সাল।এবছরই ১৪ মার্চ নন্দীগ্রামে গুলি চলবে।তার আগেই জানুয়ারি মাসে প্রকাশিত হচ্ছে ‘বিপজ্জনক’।এই ২০০৭ সালেই দে’জ পাবলিশিং থেকে প্রকাশিত হয় পিনাকী ঠাকুরের শ্রেষ্ঠ কবিতা,যে বইটির ভূমিকা লিখতে গিয়ে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় লেখেন-“পিনাকী ঠাকুরের প্রধান বৈশিষ্ট্য,অতি সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ।বেকার জীবন,রেল স্টেশন,সিনেমা হলের সামনে সাইকেল রিক্সা,মফঃস্বলী ট্রেনের যাত্রী-এইসব কিছুই এসে পড়তে পারে তার কবিতায়।কখনও এসে যায় চকিত সংলাপ।কৌতুকের সঙ্গে কাব‍্যময়তার কঠিন সংমিশ্রণ একালে একমাত্র পিনাকী ঠাকুরের পক্ষেই সম্ভব।আপাতসহজ ও লঘু চালের পঙক্তিগুলির মধ‍্যে মিশে থাকে গভীর জীবনবোধ।

পিনাকীর কাব‍্যগ্রন্থগুলি পরপর যেন উত্তরণের ছবি এনে দেয়।সময়কে বিধৃত করে ছোট ছোট পংক্তিতে।একালের এক যুবা হৃদয়ের অনেক হাহাকার ও আশা-আকাঙ্ক্ষা এক নতুন কাব‍্যভাষা পেয়েছে তাঁর রচনায়।তাঁর বেশকিছু কবিতা একবার পাঠ করলেই স্মৃতিতে গেঁথে যায় পাঠকের।”-পিনাকী ঠাকুরের কবিতাগুলির পাশে যতবার সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের এই কাব‍্য বিশ্লেষণকে রাখি,স্বতঃপ্রণোদিতভাবে মুখ থেকে উচ্চারণ হয়-বাঃ।আমি শুধু বলতে পারি,অন্ধকারে নিমজ্জিত সেই ২০০৭সালে একটা বলবার মতো ভাষা খুঁজে পেলাম ‘বিপজ্জনক’-এর মধ‍্যে।বহু অপমান ও যন্ত্রণার যখন কোনও প্রতি উত্তর দেওয়া যায় না তখন গলার কাছে যেভাবে দলা পাকিয়ে ওঠে কষ্ঠ সেই এক-একটা কষ্টকে ভাষায় রূপ দিলেন পিনাকী ঠাকুর।এই বইয়ের একচল্লিশটি কবিতার সঙ্গে আমি অনায়াসে সেদিন যোগ করতে পেরেছিলাম আজ দশ বছর পার করেও দেখছি একইভাবে স্পর্শ করতে পারছি,প্রবেশ করতে পারছি লেখাগুলির মধ‍্যে।

বাংলার প্রথম ‘বিপজ্জনক’ কবি মধুসূদন দত্ত-কে পিনাকী ঠাকুর ওঁর ‘বিপজ্জনক’ কাব‍্যগ্রন্থটি উৎসর্গ করেছেন।মধুসূদন দত্ত সম্পর্কে পিনাকী ঠাকুর উৎসর্গপত্রে এই শব্দবন্ধগুলি ব‍্যবহার করেছেন।যা আমাকে প্রথমত ভাবিয়েছে–বাংলার প্রথম বিপজ্জনক কবি মধুসূদন!কিন্তু কেন?মাত্র উনপঞ্চাশ বছর বেঁচেছিলেন মধুসূদন(১৮২৪-১৮৭৩)।পুরোটা জীবন জুড়ে যার কেবল অস্থির পদচারণা,সেই মধুসূদন কে কেন ‘বিপজ্জনক’ বলছেন পিনাকী ঠাকুর ভাবতে শুরু করলাম।সুকুমার সেন ওঁর ‘বাঙ্গালা সাহিত‍্যের ইতিহাস ‘গ্রন্থে বলেছেন-‘আত্মচেতনতা মাইকেল মধুসূদন দত্তের প্রতিভার গুণ ও দোষ দুইই।’আর অ‍্যালেন গিনসবার্গ লিখছেন’আই স দ‍্যা বেস্ট মাইন্ড অফ মাই জেনারেশন ডেস্ট্রয়েট বাই ম‍্যাডনেস’।তাহলে সুকুমার সেন যাকে ‘আত্মচেতনতা’ বলেছেন, গিনসবার্গ  তাকেই ‘ম‍্যাডনেস’ বলছেন। নাম যাই হোক আমরা জানি মধুসূদন সেই বিপণ্ণ অসুখে আক্রান্ত ছিলেন,তাই সমুদ্র পার হয়ে ওদেশের সাহিত্যে নিজের স্থান প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন,নিজের সময়ের থেকে এগিয়ে ছিলেন,সবকিছু ভাঙচুর করতে চেয়েছিলেন তাই কি পিনাকী ঠাকুর মধু কবিকে ‘বিপজ্জনক’বলেছেন নাকি,যতীন্দ্রমোহন ঠাকুরের সঙ্গে বাজি ধরে একের পর এক অমিত্রাক্ষরের বন‍্যা,বাংলা কবিতার এক নতুন যুগ তাই কি ‘বিপজ্জনক’মধুসূদন!সুকুমার সেন লিখছেন-‘চৌদ্দ-অক্ষরের বিরাম-যতি এবং অন্ত‍্য মিল উপেক্ষা করিয়া মধুসূদন পয়ারকে ছত্র হইতে ছত্রন্তরে গড়াইয়া যাইবার স্বাধীনতা দিয়া গদ‍্যের কিছু ক্ষমতা পদ‍্যে আনিয়া দিলেন।’ছন্দ ও ভাষা ব‍্যবহারে শুধু নয় বিষয়ের দিক থেকেও এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিলেন মধুসূদন।বিশেষত গৌরদাস বসাকের সঙ্গে যে পত্র বিনিময় হত কিংবা রাবণকে গ্র‍্যান্ড ফেলো বলা বা রাম ও তার বানর বাহিনীকে আমি ঘৃণা করি এধরনের বক্তব্য থাকলে এই ২০২০-তেও কেস খাবার প্রভূত সম্ভাবনা।মধুসূদন ‘বিপজ্জনক’তো বটেই।

উৎসর্গপত্র থেকে মধুসূদনকে মাথায় নিয়ে পাতা ওলটালেই দেখতে পাই ‘বিপজ্জনক’ভাগ হয়েছে দুটি পর্বে।প্রথমটির নাম ‘ইস্তেহার’ দ্বিতীয়টি ‘নিষ্ঠুরতম ইস্পাত’।সেই অসহনীয় ২০০৭ সালের জানুয়ারি মাসের ঠিক দুই মাস বাদেই গুলি চলবে নন্দীগ্রামে,কবি কী ক্রান্তিকাল দ্রষ্টা,কবিতা কী ভবিষ্যৎকে দেখতে পায়?নাহলে ভালবাসার এই গোপন ইস্তেহার কীভাবে উঠে এল কবিতায়? ইস্তেহার এর প্রথম কবিতা ‘বসন্তের উত্তর’শীতের প্রার্থনার পরে কী উত্তর দিচ্ছে বসন্ত–প্রথম ফাল্গুন কোথাও নেই আজ/গ্রীষ্ম দাউদাউ শীতের পর!আমরা বুঝতে পারছি একটা ঋতু উধাও হয়ে গেছে।বেকারত্ব,প্রেমহীনতা আর চাকুরিরত মেশোমশাইদের অ‍্যাটাচির ধাক্কায় জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে।কবেকার দেওয়ালে চক দিয়ে ‘রন্টু প্লাস তৃণা’লেখাতে লেগেছে ধূসর রঙ।আর এই দশ বছর পর এসেও জীবন দিয়ে বুঝতে পারছি-‘গুটিবসন্তের মড়ক নেই,আছে না-খেয়ে মরবার মৃত‍্যভয় যে দেশ ছেয়ে আছে কর্মহীনতায়,কোটি-কোটি বেকার ছেলে,যে দেশে নূন‍্যতম খাদ‍্যের অধিকারটুকুও নেই সে দেশে বসে লতানো লিরিক লিখবে কবিতা,তাহলে সেটা আমার লেখা হয়ে উঠবে কী করে?যতবারই পিনাকী ঠাকুর পড়ি নিজের কথা শুনতে পাই।বলতে পারি-‘গরীবের তুমি হোমিওপ্যাথি ‘।

আরও পড়ুন...

Categories
2022_jan

উদাসীন তাঁতঘর | পর্ব ৫

উ দা সী ন  তাঁ ত ঘ র পর্ব ৫

প ঙ্ক জ   চ ক্র ব র্তী

pankaj

ছোটো প্রকাশনীর অলীক বাজার

আজ থেকে পঁচিশ বছর আগেও ‘ বয়সে নবীন অভিজ্ঞতায় প্রবীণ’,’বর্ণাঢ্য এবং বেগবান’, ‘না লিখেই লেখক’, ‘এক কলমে দুবার লেখেন না’ এইসব বিজ্ঞাপনে প্রলুব্ধ হয়ে আমরা কত বই কিনেছি! খুঁটিয়ে দেখা হয়নি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নীরবতার রাজনীতি। আমরা বিশ্বাস করেছি।লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছি। প্রতারণার বয়স তখন কম ছিল। বড়ো প্রকাশনী আর বড়ো লেখকের দাপটেই ভরে ছিল চরাচর। স্বপ্ন দেখার সামান্য পরিসরে ছিল প্রমা,প্রতিক্ষণ আরও দু-একটি প্রকাশনী। এই নিয়তির পাশে ছোটো পত্রিকার ব্যক্তিগত উদ্যোগের কিছু বই। বিক্রি নয় হিসেবি আত্মসমর্পণের উপহার ছাড়া তার কোনো গতি ছিল না। দৈনিক পত্রিকার দায়হীন রিভিউকে কতরকম আলো ফেলে বিশ্বাস করতে ভালো লাগত। সেই আলো অক্ষরবিহীন ঐশ্বর্যহীন অক্ষমের নিরর্থক সান্ত্বনা।

ছোটো পত্রিকা মাত্রই ছোটো প্রকাশনী হয়ে ওঠার মুদ্রাদোষ গত দশ বছরের। শেষপর্যন্ত পত্রিকার অস্তিত্ব বিলুপ্তপ্রায়। কখনও কখনও বিবেক জাগ্রত হলে অথবা ধর্মবুদ্ধির টানে মাঝে মাঝে সাধারণ স়ংখ্যা হয়ে সে দেখা দেয়। তাঁরা জানে সহজ লাভের আশা থাকলে পত্রিকা করলে তার খেসারত দিতে হবে। তুলনায় ঠিকঠাক বিজ্ঞাপনে, ফেসবুকের পাঠপ্রতিক্রিয়ায় ছোটো পত্রিকার বই বিক্রির সুযোগ অনেক বেশি। সত্যি কথা বলতে কী ইদানিং ছোটো পত্রিকার বই বিক্রির সম্ভাবনাময় এবং আশাপ্রদ বাজার তৈরি হয়েছে।বই মাফিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের একটি বিশ্বাসযোগ্য জমি তৈরি হয়েছে। আমরা আমাদের কথা সহজে পাঠকের কাছে পৌঁছে দিতে পারছি। মান্য পত্রিকার রুচিহীন বিপথগামী দুর্বল কবিতার পথ থেকে অনেক পাঠক সরে এসেছেন ছোটো প্রকাশনীর প্রকৃত কবিতার কাছে। এই লড়াইয়ে মাথা ঠাণ্ডা রাখতে হবে। হয়তো আত্মপ্রতিষ্ঠার থেকে আত্মনিয়ন্ত্রণের দিকে জোর দিতে হবে বেশি। সমূহ ফাঁদ এড়িয়ে নিজের দায়িত্ব বুঝে নিতে হবে অনেক বেশি।

দায়িত্ব। হ্যাঁ দায়িত্ব। ছোটো প্রকাশনীর পুঁজি কম, দায়িত্ব অনেক। কোনো জনপ্রিয় লেখকের বাঁ হাতের লেখা ছেপে বানিজ্য করা তার কাজ হতে পারে না। বিস্মৃত গুরুত্বপূর্ণ লেখকের পুনরুদ্ধার জরুরি। নীরবতার রাজনীতির শিকার লেখকের রচনার পুনর্মুদ্রণ জরুরি। সম্ভাবনাময় সাম্প্রতিক লেখকের রচনা প্রকাশে সতর্ক খোঁজ জারি রাখতে হবে। শুধুমাত্র মনে রাখা দরকার লগ্নিকৃত অর্থ যেন লাভ সহ ফেরত আসে। ব্যবসা উদ্দেশ্য নয় কিন্তু পুঁজি যেন বেহাত না হয়। প্রকাশনী না বাঁচলে এই লড়াই সফল হবে না। শুধু বিনিয়োগ করার আগে মনে রাখতে হবে আপনি কীভাবে কতদিনে টাকা ফেরত চাইছেন? হটকেকের প্রতি সন্দেহ এবং গোপন উচ্চাশা একই সাথে না রাখাই ভালো।

সম্প্রতি চতুর প্রকাশকের মতো অনেক ছোটো প্রকাশনী লেখকের অর্থের বিনিময়ে বই প্রকাশ করছেন। তাতে আপত্তির হয়তো কিছু নেই। কিন্তু তা যদি নেহাত ব্যবসা হয়, বইয়ের যদি ন্যূনতম মেধা না থাকে তা রীতিমতো বিপজ্জনক। অধিকাংশ ক্ষেত্রে অবশ্য এইসব বই ডিসপ্লে হয় না। এমনকী ক্যাটালগের অন্তর্ভুক্তও হয় না। তবু এই মনোধর্ম রুচিহীন। তা একধরনের প্রতারণা। অবশ্য দিকে দিকে স্বভাবকবি আই এ এস অফিসার, আধিকারিকদের অতি স্পর্শকাতর দুর্বল হৃদয়ের কাছে আত্মসমর্পণ অনেকখানি আর্থিক নিরাপত্তা দেয় – যেকোনো ছোটো পত্রিকার সম্পাদক এবং ছোটো প্রকাশনীর প্রকাশকমাত্রই জানেন। তবু মনে রাখতে হবে ছোটো প্রকাশনীর এই অলীক বাজার মূলত ফেসবুক নির্মিত এবং এই সুখের সংসার চিরস্থায়ী হবে না। আমাদের আরও অনেক বিকল্প লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। বিস্মৃত লেখকের ফানুস-আসনটিকে পাঠক একদিন প্রশ্ন করতে শিখবেন। তখন অপ্রস্তুত অস্ফুট শব্দটি যেন যেকোনো স্বীকারোক্তির জন্য প্রস্তুত থাকে।

যে বিজ্ঞাপনের কথা দিয়ে শুরু হয়েছিল সেখানে ফেরা যাক। বড়ো প্রকাশনীর বিজ্ঞাপন এবং ছোটো প্রকাশনীর বিজ্ঞাপন এবং বানিজ্যিক কৌশলে তফাত আছে। বানিজ্যিক স্বার্থে বড়ো প্রকাশনী বিজ্ঞাপন দেয়। ছোটো প্রকাশনীকে মাথায় রাখতে হয় সাহিত্য ও সংস্কৃতির ইতিহাস। আর এখানেই তৈরি হয় এক ধরনের বিরোধ।নীচু অভিমান। মনে রাখতে হবে ছোটো পত্রিকার বিজ্ঞাপন মূলত ফেসবুক নির্মিত। পাশাপাশি বিভিন্ন গ্রুপের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং স্বতঃস্ফূর্ত পাঠপ্রতিক্রিয়া। বিজ্ঞাপন নয় বিজ্ঞাপনের মুখোশটিকে প্রশ্ন করা উচিত ছোটো প্রকাশনীর। খেয়াল করলেই দেখা যাবে বেশিরভাগ ছোটো প্রকাশনীর প্রকাশক মূলত সম্পাদক,কবি বা লেখক। ফলে তাঁদের রুচির সঙ্গে বিজ্ঞাপনের বিরোধ আছে। সেখানে ব্যবসার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট প্রকাশক নীরব এবং তাঁর পাঠরুচির বাইরে সমস্ত ক্ষেত্রে আক্রমণকারী। প্রশ্ন উঠবে তিনি পাঠক হিসেবে যে লেখাকে প্রত্যাখ্যান করেন সেই লেখার সপক্ষে নিজের প্রকাশনীর জন্য বিজ্ঞাপন দেন কোন রুচিতে? যদি এতে কোনো বিরোধ না থাকে তাহলে সমস্যা নেই। না হলে প্রকাশক হিসেবে পাঠরুচির প্রতি তিনি যেন নমনীয় থাকেন। নিজেকে চিন্তক প্রমাণ করার সমস্ত দরজাগুলি বন্ধ করে রাস্তায় নামতে হবে।

সম্প্রতি একটি লিটিল ম্যাগাজিন মেলা ফেরত একজন প্রকাশক ঘোষণা করেছেন তিনি আর সহজে কবিতার বই করবেন না। কবিতার বই বিক্রি হয় না। কথাটা সত্যি। আরও সত্যি কবিতার বই এবং ভৌতিক অমনিবাসের পার্থক্য চিনতে শেখা। রুচি এবং বানিজ্যের ভারসাম্য না থাকলে ছোটো পত্রিকা এবং প্রকাশনীর হাতে বিকল্প কোনো রাস্তা থাকার কথা নয়।আমি মনে করি যেকোনো প্রকাশকের লগ্নি অর্থ লাভ সহ ফেরত আসা উচিত। তাঁর কারণ এটা তাঁর জীবিকা, তাঁরও সংসার আছে এবং পরবর্তী অন্যান্য বই প্রকাশের জন্য লভ্যাংশ জরুরি। এবং তা নির্ভর করছে প্রকাশকের মনোধর্মের উপর। তিনি কী চাইছেন? যদি বই প্রকাশের তিন মাসের মধ্যে তিনি টাকা ফেরত চান তাহলে কবিতা, ভালো গল্প, সিরিয়াস উপন্যাসের পেছনে না দৌঁড়োনোই ভালো। সেক্ষেত্রে ভৌতিক,হরর,রান্নার বই,ক্যুইজসমগ্র,শত মনীষী শত জীবনী,এই জাতীয় বই করাই উচিত। অথবা দরকার নীহাররঞ্জন গুপ্ত, শক্তিপদ রাজগুরু,নারায়ন সান্যাল, বুদ্ধদেব গুহ, শংকর, সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ লেখকদের মতো লেখকের যাঁদের লেখার স্থায়ী পাঠক আছেন। এবং তাঁদের প্রতি অশ্রদ্ধা দেখানো অপরাধ। কবিতা, ভালো গল্পের বই, এবং ভালো উপন্যাস থেকে টাকা তুলতে হলে প্রকাশককে অন্তত পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে হবে। কবি- লেখক মাত্রই আত্মমুগ্ধ, তাই কোন বইয়ে অর্থ লগ্নি করবেন এ বিষয়ে প্রকাশককেই সতর্ক সমীক্ষা করতে হবে। আর একটি কথা, ইদানিং ছোটো পত্রিকা এবং প্রকাশনীর সামান্য বিশ্বাসযোগ্য বাজার তৈরি হয়েছে। তা দেখে আপ্লুত হলে চলবে না। এই বাজারটি বেশ ঘোলাটে। এখানে কে কবি,কে শ্রোতা,কে পাঠক,কে মেধাবী ভ্রমণকারী তা বুঝতেই আরও দশ বছর লাগবে। তবু বলব এই অলীক বাজারটিকে সমস্ত সম্ভাবনা দিয়ে ঘিরে ফেলতে হবে এখনই।

* ক্রমশ  

আরও পড়ুন...

Categories
2022_jan

সায়ন ভট্টাচার্য

প ছ ন্দে র  ব ই

সা য় ন   ভ ট্টা চা র্য

sayan2

লেন্সে লেখা থাক কবিতার কথা

সব ছবি লেন্সে ওঠে না

সৌভিক বন্দোপাধ্যায়

কাগজের ঠোঙা

দাম : ৬০ টাকা

নিজের দুঃখের কথাগুলো লিখতে গেলে নিজেকে আরও বেশি দুর্বল মনে হয় । আমি সব সময় আনন্দে থাকি। সব সময়। দুঃখ সব সময়ই ছিল আছে আর থাকবেও। তার জন্য কোনো কোভিড-১৯ দরকার হয় না। সব ছবি লেন্সে না উঠলেও কবিতায় ঠিক একজন ধরে ফেলেন। তার কলম আসলে হ্যমলিনের বাঁশি । সে হাওয়ায় উড়তে থাকা ভিক্টোরিয়া পরির খোলা চুলের সুগন্ধি ভাষায় কবিতা লিখতে পারে। সৌভিক বন্দোপাধ্যায় লিখতে পারেন – ” সম্পর্ক শেষ হয়ে গেলে বুঝবেন, সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল, কিন্তু ভালোবাসা হয়নি” ( সম্পর্ক)

আমরা এমন একটা দেশে থাকি যেখানে জীবনের সঙ্গে দুঃখ একটি নিত্য দিনের নিয়তি। জিমিস কিচেনের টম্যটো সসের স্বাদ মাখা তোমার আমার ঠোঁটের ইতিহাস আসলে তো একটা ‘ভ্রম-উৎসব’। সৌভিকের কবিতা পড়লে বড্ড নিজের জীবনের কথা এসে যায় ।

বইটা পড়ুন – ‘সব ছবি লেন্সে ওঠে না’, ‘কাগজের ঠোঙা’ প্রকাশ করেছে। যাদবপুর থেকে কলেজ স্ট্রিট – যেখানেই যাবেন , অল্প কটা টাকা খরচা করলেই কবিতার বইটা পাবেন। পচা মোমোকে ওযা়ও ওযা়ও করেও তো ফালতু টাকা উড়ে যায় – আসুন না প্রতি সপ্তাহে একটা নতুন কবিতার বইয়ের জন্য টাকাটা ব্যবহার করি।

দুঃখের তো একটা বস্তুবাদী দিক আছে। সেখানে শুধু মাত্র নিজের জন্য নয় বরং অপরের জন্য সেই বোধ অনেক বেশি কাজ করে। তরুণ কবিকে লুকিয়ে বড় চিঠি লেখে সৌভিক । ইলামবাজারের রাস্তায় ঘুরতে ঘুরতে দেখি ‘২০০৭-এর ফাল্গুনমুখ’।


যাই হোক, তবুও যন্ত্রণা এমন একটি অ্যকোযা়রিজিযা় যার মাধ্যমে খুব সহজেই চিনে ফেলা যায় মুখ ও মুখোশের ধাতব পার্থক্য । ছায়া সরে দেখতে পাই ‘ বহ্নিশিখা ভার্গবের কোভিডকালীন রুটিন’।

 

বিশ্বাস এমন একটা ইমিউনিটি পাওয়ার যা দিয়ে আমরা অনেকটা পথ হাঁটবার স্বপ্ন দেখি। সেই স্বপ্নের পতন ঘটলে কি হয় ? সেই পতনের নামই মনে হয় দুঃখ! তাই কি ! কে জানে ! আবার একটু ইমিউনিটি পুশ করতে হবে…

 

সংসার করতে গেলে কি সব কিছু ফেলে দিয়ে- নতুন করতে সবকিছু বাঁধাছাদা করতে হয় ? সব কিছুই ‘মাইনাস ২৩ পার্সেন্ট জিডিপি ভারতবাসী আমার ভাই’ ।প্রাক-সংসার হাসি কান্না ভালোবাসা সব পুরনো হয়ে যায় তখন ।

 

দশ বছরের বন্ধুরা দল ভেঙে চলে গেল। দেখা করল না শেষ বার ! সি অফ করতাম। ওহ না, আমরাও তো প্রাক-সংসার যুগের বন্ধু!

 

অবশ্য সব কিছুরই একটা শেষ থাকে। সেই দিনটার জন্য আমরা প্রস্তুত থাকি না। এই অপ্রস্তুত থাকাটাই কি দুঃখ? কে জানে…..

 

নতুনের এর খোঁজ নিশ্চয়ই থাকবে জীবনের প্রতি মুহূর্তে ,তাই বলে কি পুরোনো দিন-মন- মুহূর্ত-মানুষ সবই ফিকে হয়ে যায়! কিছুই অবশিষ্ট আর পড়ে থাকে না না ?

 

অবশ্য ‘পূর্বজন্মের কথা খুব বেশি মনে পড়া ভালো নয়’।

আরও পড়ুন...

Categories
2022_jan

কোথায় কি

কো থা য়  কি

বইপৃথিবী

তরুণ কবি সায়ন ভট্টাচার্য সম্পূর্ণ নিজের উদ্যোগে গড়ে তুলেছে আস্ত একটা লাইব্রেরী। আমরা তাঁর মুখ থেকেই শুনব তাঁর স্বপ্নের কথা…

‘বইপৃথিবী’ – আমার নিজস্ব লাইব্রেরী। তবে এখন থেকে সেই লাইব্রেরীতে আমি একা পড়াশুনা করবো না – সমস্ত ছাত্র-ছাত্রী ও বইপ্রেমীদের জন্য লাইব্রেরীর দ্বার আমি মুক্ত করে দিচ্ছি । তারা বিনামূল্যে Reading এর জন্য ব্যবহার করতে পারবে এই লাইব্রেরী।

সাহিত্য , সমাজ বিজ্ঞান সমাজবিদ্যা, শিল্পকলা ও নাট্য সাহিত্যের পাঠ করার মতো যথেষ্ট বইপত্র আছে। বইপত্র আমি আরও ভবিষ্যতে জোগান দেবো ছাত্র ছাত্রীদের জন্য।

সংস্কৃতির পরিচয় ও সময়ের ভাবনা চিন্তা বইয়ের সাহায্যেই জানা যায় । বইকে ভালোবাসার কারণগুলো হয়তো আমাদের তরুণ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা হয় না। শিক্ষা একটা বেগবান গতিধারা – কোনও মহামারি কিংবা লকডাউন তাকে প্রতিরোধ করতে পারবে না।

এই মাস থেকেই শুরু হয়ে যাচ্ছে দুটি পাঠচক্র – নাট্যপাঠচক্র, সংস্কৃতিবিদ্যা পাঠচক্র।

আরও পড়ুন...

Categories
2022_jan

কোথায় কি

কো থা য়  কি

কবি বল্লরী সেনের আখ্যানধর্মী গ্রন্থ 'সহজাগানিয়া'-র আনুষ্ঠানিক প্রকাশ

গত ২০২১এর ১২ ডিসেম্বর ‘খসড়া খাতা’ থেকে প্রকাশিত হল কবি বল্লরী সেনের আখ্যানধর্মী গ্রন্থ ‘সহজাগানিয়া’। এই গ্রন্থটিতে রয়েছে ‘ফুলো মুর্মু’ ও ‘সহজাগানিয়া’ নামে দুটি আখ্যান এবং শেষে ‘দুটি আখ্যানের পরিশিষ্ট’। তবে প্রচলিত ভাবে আখ্যান যা আমরা বুঝি, এ দুটি আখ্যান কিন্তু তেমন নয়। এই গ্রন্থের প্রতি পাতায় যেন কবির অনুভবের ঘোর লেগে আছে। যা পাঠকের মনের এক অন্য আবেশ ছড়িয়ে দেবে।


এই গ্রন্থ প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক শম্পা চৌধুরী, বিজ্ঞানী ও লেখক সিদ্ধার্থ মজুমদার, শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক রোচনা মজুমদার ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (বাংলাদেশ)-এর অধ্যাপক ও লেখক মানস চৌধুরী ও আরো গুণীজনেরা। রবিবারের আলতো শীতের সকালে এই গ্রন্থপ্রকাশ উপলক্ষে ঘরোয়া সমাবেশটি ছিল আন্তরিকতার উষ্ণতায় আবিষ্ট…

প্রাবন্ধিক সুশোভন অধিকারী ‘সহজাগানিয়া’ নিয়ে লিখেছেন—
‘জীবনকে দেখার চোখ, চেনবার ভঙ্গি একজন থেকে অন্যজনে বদলে যায়। সেইটেই স্বাভাবিক, সবার অনুভবের বোধ তো একই বাঁধা পথ ধরে হাঁটে না। সে যেমন বিচিত্রমুখী তেমনি বিচিত্রগামী। আবার কলম যদি ধরেন কোনো সংবেদী লেখক, তখন পালটে যায় পুরো পরিপ্রেক্ষিত, চিন্তার সমগ্র আধার। ঠিক যেমনটা হয়েছে এই লেখায়, এই বইতে। অনুভবের কোন্‌ অতল থেকে লেখিকা তুলে আনেন এমন স্পর্শময় শব্দমালা, তুলির কোন্‌ সুক্ষ্ম টানে আঁকা হয় উপলব্ধির এমন আশ্চর্য চালচিত্র— সে বুঝি এ বইয়ের চৌকাঠে একবার পা রাখলেই বোঝা যায়। কিন্তু এই লেখার সিরিজকে কি নামে ডাকবো— এ কি কুয়াশার মেঘ ছিঁড়ে একফালি সোনালী রোদ্দুর? পিছন ফিরে দেখা স্মৃতির টুকরো? কাউকে বলতে বলতে না-পারা মনের গহন অনুভব? না একান্তে নিজের মনে বয়ে চলা সেই আপনকথা? অথবা একে নির্জন হৃদয়ের সলিলকি বলা যায় কি-না, সে ভাবনা রইলো পাঠকের ওপর। পড়তে গিয়ে মনে হয়, যত বিতর্কই হোক— স্বীকার করতে হবে মেয়েদের আখরমালায় এমন কিছু ভেসে ওঠে, পুরুষের কলম যার সহজে নাগাল পায় না।’

আরও পড়ুন...

Categories
2022_jan

অনিন্দ্যসুন্দর পাল

স্ম র ণ ।  পি না কী  ঠা কু র

অ নি ন্দ্য সু ন্দ র   পা ল

anindya2

"পিনাকী ঠাকুর শিশুমন ও শিশুসাহিত্যকে ছড়ার মধ্যে দিয়ে সভেদ ও অভেদতার বিষয়টি প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছিলেন সুন্দরভাবে"

শিশুমন সহজ সরল নির্মল মসৃণ। কোথাও কোনো চড়াই-উতরাই নেই। যেভাবেই ছোঁয়া যায় সেভাবেই তারা সাড়া দেয়। এমন নমনীয় মনের ভিতর প্রবেশ করা খুব কি সহজ? যা নমনীয় যা তরল যা নির্মল তাকে স্পর্শ করা অতটাও সহজ নয়। কিন্তু শিশুমন একপ্রকার সারল্যের আধার, যেখানে আছে স্বাদ ও সাধের মিশ্রণ, ছেলেবেলার উদাসীনতা, প্রাঞ্জল দৌড়, দিকবিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে কিছু একটা খুঁজে পাওয়ার ঔৎসুক্য। আর শিশু সাহিত্য সে এক অন্য পৃথিবী, সেখানে আলো আছে, জল আছে, রোদের মত উজ্জ্বল হাসি আছে, সর্বোপরি একটা গোটা ছেলেবেলার স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণ লুকিয়ে আছে। তবে এইখানে একটি বিষয় লক্ষণীয়, শিশুমন ও শিশুসাহিত্য দুটোই একটি মুদ্রার এপিঠ আর ওপিঠ। ছড়ানোছিটানো এমন একটি সরল মনের বিকাশ যে সাহিত্যের অপরিমেয় ভাষা তা বলাই বাহুল্য।

কবি পিনাকী ঠাকুর সেই শিশুমনকে ছোঁয়ার দূরহ কাজটি অতি অনায়াসে করেছেন তাঁর একটিই মাত্র ছড়ার বই ‘অঙ্কে যত ১০০ পেলে’-তে। তিনি তাঁর প্রতিটি রচনাতেই বলতে চেয়েছেন ছন্দে ছন্দে বালক-বালিকা বেলার স্রোতকে, নমনীয় উচ্চারণের মধ্যে গিয়ে খুঁজতে চেয়েছেন তাদের যাবতীয় সব প্রশ্ন ও সমাধান? হ্যাঁ, এটা একদিক থেকে ঠিক, তবে পুরোটা না, পুরোটা অর্থে, শুধু এটুকু না। তাঁর ছুঁতে চাওয়া অনেক বড়, তিনি এক ধাপে উপর থেকে নেমে এসেছেন নীচে। নামতে নামতে এসে পৌঁছেছেন শিশু মনের তলানিতে। তিনি বোঝার চেষ্টা করেছেন শিশু ও শিশুমনের সব দিকগুলো, অর্থাৎ আলো অন্ধকার জিজ্ঞাসা অনুসন্ধিৎসা ও অভিব্যক্তির পুঙ্খানুপুঙ্খ সব আকার ও চেতনা। কিন্তু শুধু খুঁজছেন ও খুঁজেছেন বললেই তো আমাদের দায় মুক্ত হয়ে যায় না, আমাদের  দায় মুক্তি সেখানে যেখানে গিয়ে আমরা বুঝে উঠতে পারি কবি তাঁরও প্রাপ্তবয়স্ক মনটাকে শিশুক্রোড়ে কতটা লালন করতে পেরেছেন। শুধু তাই নয়, তিনি কতটা জন্ম দিতে পেরেছেন বটের মতো একটি চারার, যার পরিধি মনের অনেক গভীরে গ্রথিত হয়েছে ‘শিশুসুলভ’ আকারে।

তবুও প্রশ্ন এখনও থাকে, ‘শিশুসুলভ-চারা’! সেটা আবার কী? ঠিক, একদমই ঠিক, শিশুসুলভ চারা আমার মতে তাঁর ভাবনাকে ছোঁয়ার জন্য অন্যতম একটা বড় উপমা বা হাতিয়ার যাই বলা হোক না কেন। এটা মাথায় রাখতে হবে শিশুমনকে একটা গাছের মতো জন্ম দিতে গিয়ে তিনি সার হিসাবে ব্যবহার করেছিলেন স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণের সংমিশ্রণকে আর জমি হিসাবে সাহিত্য। আর, সেই জমির পর জমি হেঁটে যাওয়ার জন্য যে আল প্রয়োজন ছিল, তাকে তিনি ‘ছড়া’ হিসাবে রূপ দিয়েছিলেন। উল্লেখ্য, শিশুমন সহজ সরল ভঙ্গিতে সাহিত্য জুড়ে অবাধ গতিতে চরে বেড়াতে চাইলে তাকে তো আল হিসাবে একমাত্র ছড়াকে অবলম্বন করতে হবে বৈকি! ছড়ার মতো স্নিগ্ধ মধুর মসৃণ তরল আর কিছুই হয় না যে। তাই তো তিনি বারবার একবার ছুটে গেছেন রেলপথে, একবার শান্তিনিকেতনে, খাবারের রসে, আবার কখনও চাঁদের বাইরে অন্য কোনো গ্রহে কিংবা উপগ্রহে। তাই তাঁর ছড়া পড়লেই বোঝা যায় তাঁর লেখার প্রতি ধাপে ধাপে কীভাবে ফুটে উঠেছে ছেলেবেলার আবদার, রবিবারের  ছুটি, স্কুলের শেষে বাঁধন মুক্তির ছুটির হুইসেল, কেক কাটার আনন্দ, আরও কত কী!

আমাদের আধুনিক সমাজে শিশু মন যেভাবে ডুবে থাকে ইলেকট্রনিক গ্যাজেট ও পাশ্চাত্যের অনুকরণে, সেখান থেকে দাঁড়িয়ে তিনি শিশুমনের এই সংকীর্ণ-মনতার বিকাশের পথ এঁকে দিয়েছেন ছড়ায় ছড়ায়।  তাই কি তিনি মিষ্টি করে বলেছিলেন- “তোদের যত চড়ুইভাতি, বাজনাবাদ্যি, নাচ/ আমি যেন একলা একটি কুর্চি ফুলের গাছ”?  আবার কোথাও বলেছেন “মোবাইলে রিং শুনেছিস মোৎজার্ট, শ্যোঁপা, রবীন্দ্র/ ভোরবেলার দোয়েল যত কী যেন গায়? ও, ‘বৃন্দ’!” আবার “কোথাও সমুদ্র? না পাহাড় ভাল? কিংবা নলবন?/ উঁহু, সমন্বিতা যাবে শান্তিনিকেতন।”  আসলে তিনি যেমন প্রশ্ন করেছেন খুঁজেছেন, আবার উত্তরও সমান তালে লিখে দিয়েছেন। তিনি উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন একটা শিশুমনে প্রশান্তি ও বিকাশ গড়ে ওঠে প্রাকৃতিক নির্মলতার মধ্যে দিয়ে। তিনি তাই বারবার বুঝিয়েছেন শিশুমনের প্রসার সম্ভব রবিঠাকুর, আবোল তাবোল, জুল ভের্ন, একটা গোটা লাইব্রেরি ইত্যাদি বিষয়গুলোর মধ্যে দিয়ে।

 

একজন শিশুর ভাষা চড়াই, শালিক, গাছের পাতা এরাই যে ভালো বোঝে তা বোঝা যায় কবির লেখা পড়লেই। আসলে, শিশু একটা রূপ, সেই রূপের অন্তরালে যেমন আছে প্রশ্ন, কৌতূহল, দিকশূন্য দৌড়, ঠিক তেমনি আছে কিছু একটা জিনিসের কোলে শুয়ে সমগ্র জগৎকে চোখের সামনে দেখা পাওয়ার তীব্র ইচ্ছে। তাদের মনে যেমন থাকবে ছুটি, যেমন থাকবে ভবিষ্যৎ, ঠিক তেমন থাকবে উন্মাদনা ও তেমনই থাকবে সমগ্র জগৎকে নিমেষে মুষ্টিবদ্ধ করার প্রয়াস। তাই তো কবি ছুটি এঁকেছেন সমুদ্রে নয় শান্তিনিকেতনে, ইস্কুল এঁকেছেন মেঘে নয় আগস্ট মাসে, জন্মদিনের উপহার এঁকেছেন বস্তুতে নয় চাঁদের পাহাড়ে, বই এঁকেছেন ম্যাপে নয় ব্যোমকেশে… আরও কত কী! কবি পিনাকী ঠাকুরকেই দেখলাম চিনলাম জানলাম, যিনি অবাধ গতিতে কি সুন্দরভাবে শিশুমনের ভিতরে একটা গর্ত খুঁজতে পেরেছেন, আঁকতে পেরেছেন একটা পৃথিবী।

 

ফ্রয়েডের মতে, মানুষ একটা soul হলেও তাদের একটা বিভাজন আছে, soul আর মানুষ আইডেন্টিফিকেশন করলে অভেদ এবং অ্যানালিসিস করলে সভেদ, ঠিক সেরকমই কবি পিনাকী ঠাকুর শিশুমন ও শিশুসাহিত্যকে  ছড়ার মধ্যে দিয়ে সভেদ ও অভেদতার বিষয়টি প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছিলেন সুন্দরভাবে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, তাঁর ‘বইপাগলি’, ‘ড্রাগন সিরিজ, চাঁদের পাহাড়’, ‘সিটি লাইটস’, ‘বন্ধু’, ‘ভিবজিওর’, ও ‘অঙ্কে যত ১০০ পেলে’ ইত্যাদি ছড়াগুলো যেন এক একটি শিশুমনের অবয়ব শুধু নয়, যেন শিশু-সাহিত্যের একটি অনির্বাণ নির্মাণ। 

 

তাই, এই প্রবন্ধের একেবারে শেষে এটুকু স্বীকার করতেই হবে তাঁর (পিনাকী ঠাকুরের) ছড়ার বই ‘অঙ্কে যত ১০০ পেলে’ বইটি বাংলা শিশুসাহিত্যের অন্যতম একটা নিদর্শন বা পথ। যে পথ ধরে শুধু শিশুরা নয়; উঠে আসে শিশুমন তথা বিকাশের একটা সম্পূর্ণ দর্শন ও নিদর্শনের ইতিবৃত্ত।

আরও পড়ুন...

Categories
2022_jan

সব্যসাচী সরকার

গু চ্ছ ক বি তা

স ব্য সা চী   স র কা র

থার্ড ওয়েভ

যে কোনও ঢেউকে বরাবর ভয় পেয়েছে জোকার। ডাইনি আবার উল্টো। সাঁতার না জানলেও নুলিয়ার হাত ধরে এগিয়ে যেত। ঢেউ কি ওকে চুমু খেত? নাকি ও-ই ঢেউয়ের শরীরে এঁকে দিত গোপন চুম্বনচিহ্ন? থার্ড ওয়েভ যখন ক্ষ্যাপা মোষের মতো ধেয়ে আসছে, মাঝে মাঝেই মাঝরাতে ঘুম ভেঙে ছাদে চলে যাচ্ছে জোকার। চাদর মুড়ি দিয়ে।

 

তারপরে চোখের সামনে একটা লাল কাপড় নাড়াচ্ছে। শান্ত মাতাদোরের মতো। বলছে, আয় দেখি, কতখানি দম…

pujo_16_sketch2

অবৈধ

তার জন্মদিনে কেক কাটার সময় ডাইনি ঠিক কার দিকে তাকিয়েছিল, তা নিয়ে দুশো তেইশটা প্রশ্ন আছে জোকারের। কিন্তু সে চেপে রেখেছে। কারণ হাতে বেলফুলের মালা জড়িয়ে সে যখন ধুতি-পাঞ্জাবি পরে ইতিউতি ঘুরে আসে, ডাইনির কাছে সে অন্তত ৩০ শতাংশ ছাড় আশা করে। পাপ-পুণ্যের এই মাদারি কা খেলে শীতের সন্ধের কিছুই এসে যায় না। কুয়াশার ফাঁক গলে সে ঠিক লেপের মধ্যে ঢোকে, অবৈধ খেলা করে গোপন আঙুল…

pujo_16_sketch2

গলি

কে কোথায় পৌঁছবে, সরু গলি-মুখে সে সেব লেখা থাকে না। কে কোথায় টর্চ ফেলে ব্যথা উস্কে দিচ্ছে, সেই সব কানামাছি খেলার মতোই আশ্চর্যজনক। তবু জোকার নেমেছিল মঞ্চে। ডাইনিকে টুস্কি দেওয়ার ইচ্ছে তো ছিলই, সঙ্গে চেয়েছিল অক্সিজেন। যখন-তখন যাকে-তাকে নিয়ে ফষ্টিনষ্টি করার। বাজার জমছিল, তালিও বাজছিল। হাতে স্যানিটাইজার স্প্রে করতে করতে খেয়ালই করেনি, বেডরুমে প্রায়শই ঢুকে পড়ছে যৌনতার ধ্বংসাবশেষ… 

pujo_16_sketch2

উইন্ডো শপিং

উইন্ডো শপিং করার ফাঁকেই মেয়েটির দিকে চোখ রাখে ক্ষুধার্ত জোকার। একাই তো। প্রেমিক কি কাছাকাছি আছে? বারবার ইতিউতি তাকানোটা কীসের ইশারা? সন্দেহ গিঁট পাকিয়ে ঢুকতে থাকে জোকারের মাথায়। সে আমল দেয় না। উসখুস করে। অন্তত পাঁচ লক্ষ বছর পরে তার বিষাদগ্রস্ত স্যাঁতস্যাঁতে ফুসফুসে ভাইরাস ঢুকছে। পরকীয়ার তীব্র গন্ধে সে আবার বেঁচে থাকার কথা ভাবছে…  

pic333

আরও পড়ুন...

Categories
2022_jan

বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়

গু চ্ছ ক বি তা

বি না য় ক   ব ন্দ্যো পা ধ্যা য়

তুমিও কি কবিতা চাও

জলে ডুবুক হাজারবার

তিরস্কারই পুরস্কার
যা আলো তাই অন্ধকার
প্রতিমা কি মৃত্তিকা হয়,
জলে ডুবুক হাজারবার?

হাত বাড়িয়ে দাও যদি বিষ
অমৃত সেও চমৎকার

এইটুকুই তো সারাৎসার

ছন্দে তোমায় রাখবে ধরে
শিল্পে তোমায় তুলবে গড়ে,
তুমিই বলো চিন্তা করে,
আমি ছাড়া সাধ্য কার?

pujo_16_sketch2

গ্যারান্টি

রাত্রি দূরে ঠেলে
দুপুরবেলা এলে
আমার মতো আছে যতো
খারাপ খারাপ ছেলে
তাদের মাথার ভিতর আবার
উনুন দিও জ্বেলে…

কুড়িয়ে এনেছিলাম ঝিনুক
মুক্তো যদি মেলে
এখন শূন্য খোলসটাকে
কোথায় দেব ফেলে?

স্মৃতির ভিতর ঝলক
দিচ্ছে চোখের পলক

এই মাঘে শীত ফুরোবে না
তোমায় কাছে পেলে…

pujo_16_sketch2

আমসত্ত্ব

ছাদের ছোট্ট ঘরে
রাখা ছিল থরে থরে
আমসত্ত্বের ভিতরেও আম
বুঝেছি অনেক পরে

গয়নাবড়ির গয়না
ভালবেসেছিল ময়না
পোয়াতি পিসিমা জানত, আচার
রোদ না উঠলে হয় না

আমি বৃষ্টিতে ভিজে
নিজেকে খুঁজেছি নিজে
জানলার পাশে তোমাকে দেখেও
থেমে গেছি দহলিজে

থেমে থাকা মানে চলা
রথ থেকে রথতলা
চুরি করে আমসত্ত্ব খেতাম
তোমাকে হয়নি বলা…

pujo_16_sketch2

সে তোমারই ডানা

ভিখিরি গেয়েই যাক, দেবে তো চার আনা
কিন্তু ভিখিরিকে তুমি দেখিয়েছ ডানা

বেলা-অবেলায় তাই সেও উড়তে পারে
সন্ধ্যাকাশ যে সময় ছাদের কিনারে
ঝুঁকে আসে আর মেঘ ছোঁয় তোমাকেই
দেশ যে তিমিরে ছিল সেই তিমিরেই
রয়ে গেলে পরও এক আলো ফুটে ওঠে
পথচারীদের ঠোঁট পরিদের ঠোঁটে
অতর্কিতে নেমে আসে একবারই, ব্যস
গল্পের ভিতর থেকে তবু উপন্যাস
পত্রিকার পাতা হয়ে যায় ছাপাখানা

সে আমার বই নয়, সে তোমারই ডানা

pic333

ধাতুও যদি সোনা

প্রার্থনা তো ভিতর থেকে শোনা
শাড়ির গায়ে রাধাকৃষ্ণ বোনা
সমুদ্দুরে মিশে গেলে পরে
নদীর পানি যেভাবে হয় নোনা…

হাত লেগেছে, তিন ছক্কা পুটে
জিভ লেগেছে ময়দার বিস্কুটে
ইচ্ছে করে আবারও যাই ছুটে
করলে তুমি, এমন জাদুটোনা

বইছে শ্মশান নদীর আশেপাশে
জলের মতো ছাই মিশেছে ঘাসে
মৃত লোকের জীবন্ত নিশ্বাসে
ফুরিয়ে যাওয়া মুহূর্তকে গোনা

সোনার জলে ধাতুও যদি সোনা
তোমার আমার একই তো প্রার্থনা…

pujo_16_sketch2

অন্ধকারের স্বাদ

মনের কথা মনের ভিতর রেখে দেওয়াই ভালো
সোঁদরবনের ভিতরে বাঘ যখনই হড়কালো
সেকেন্ডেরও ভগ্নাংশে ঘিরে ফেলল কাদা
অন্য কোথাও কীভাবে যাই, হয়নি বাঁধাছাঁদা


যা হয়েছে হবার কথা ছিল না তা জানি
আমার জলে, কীসের ছলে জাগল কালাপানি
জানতেও পারিনি পাঠক, না জানবার পাপে
পেঙ্গুইনকে ঘুম পাড়ালাম কম্বলের উত্তাপে

ফল যা হল, রায় বেরল, কম্বলটাই দোষী
মা দুর্গাকে আনতে গিয়ে আনছে শরৎশশী
পূর্ণিমা তার পূর্ণিমা নয়, আলোয় পাতা ফাঁদ
বাঘকে দিত মাংস,  আমায় অন্ধকারের স্বাদ

pujo_16_sketch2

উপন্যাসের শেষে

মাছি পড়ল ভাতে
কোদাল দিলাম তাতে
হাজার চুমু খেয়েছিলাম
হয়তো বা সাক্ষাতে

হাজার একের আগে
বলতে খারাপ লাগে
আরব্য রজনীর ভিতর
একটা সূর্য জাগে

চেনো তুমি তাকে,
ঘুরেছ সাতপাকে?
স্বর্গদ্বারে জল না আগুন
কোনটা বেশি থাকে?

পোড়ায় যদি এসে
ফেলব ভালবেসে
তুমিও কি কবিতা চাও
উপন্যাসের শেষে?  

pujo_16_sketch2

আরও পড়ুন...