Hello Testing Bangla Kobita

3rd Year | 6th Issue

রবিবার, ২৬শে কার্তিক, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ | Sunday, 13th Nov 2022

প্রতি মাসে দ্বিতীয় রবিবার

প্রচ্ছদ কাহিনী, ধারাবাহিক গদ্য, ছোটোগল্প, গুচ্ছ কবিতা, কবিতা, প্রবন্ধ, উপন্যাস, স্বাস্থ্য, ফ্যাশান ও আরও অনেক কিছু...

ধা রা বা হি ক । পর্ব ৯

রা ণা   রা য় চৌ ধু রী

আবার রাণার কথা

rana2

বোবাকে তুমি শত্রু দাও

এই যে আমার সামনে একটা খোলা জানালা রাতদিন নৌকার মতো ভেসে আছে, দুলছে এ এক শরীর পুজোর খেলা। তুমি তো জানো ঐ জানলা দিয়ে হাওয়ায় শরীর পুজোর উপাচার আসে।

জানালাটা সরিয়ে নিলে একটি শ্মশানের চিত্র দেখা যায়। সেখানে চিতা জ্বলছে, যেন শুধু মানুষ নয়, সব কিছু, যা কিছু খারাপ – যা কিছু অন্যায্য সব পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে…

সব কিছু পুড়ে গেলে তো হবে না, কিছুই না থাকলে বালিকা কি দেখে ছবি আঁকবে? কি দেখে আঁকবে পাহাড় নদী সূর্য! সেজন্য আগুন নিজেকে সংবরণ করল।

এই যে আমার সামনে তুমি একটা জানলা ঝুলিয়ে রাখলে , এই জানলা দিয়েই যে পথ দেখা যায়, সে পথ দিয়েই আমাদের চিত্রকর যায় ছবির সন্ধানে শ্মশানের ওপারে, আশা ও শুভেচ্ছাকে ছাড়িয়ে, দৃশ্য কে ছাড়িয়ে অনেক দূরে শ্মশানে শরীর পুজোর খেলা পুড়ছে, স্রোত পুড়ছে, একজন কবির মস্তিষ্ক পুড়ছে— আমাদের চিত্রকর সেই লেলিহান আগুন দিয়ে ছবি আঁকছেন— মায়া আঁকছেন পৃথিবীর বুকে…

ছোকো ছোকোমাল ছকু এই সব শব্দ ছিল আমাদের তরুণ বয়সে। আমি এইসবের, এইসব নিহিত পাতাল ছায়ার মানে বুঝতাম না, বন্ধুদের কাছে জিগ্যেস করে জানতে পারি ছকবাজদের ছকু বলে। সেই অর্থে আমার পিতাজীও ছকু ছিলেন, কারণ তিনিও সারাদিন ছক আঁকতেন, বাঁচার ছক। যিনি সবচেয়ে ভালো ছক কষতেন তিনিই জীবনের শ্রেষ্ঠ ছক্কাটা গ্যালারির বাইরে পাঠাতে পারতেন। আমার পিতা ঠুক ঠুক সিঙ্গল রানের জীবন কাটাতেন। আমার বাবা ছোট ছকু ছিলেন। এখন এইসময়ের কবিতার জগতের ছকুদের দেখলে আমার মন ভালো হয়ে যায়। কারণ এত কাব্যময় ছকু আমি জীবনে দেখিনি। বেনারসের ছকুরাও এত কাব্যময় নয়।

ছক কষা কোনো খারাপ ব্যাপার নয় তো! ছক কষে সবাই যে জিতবেন এমনটা তো নয়! ছক কষে জীবনে এগোতে গিয়ে অনেকে বিপদেও পড়েন।

আমি ছিপ ফেলেছি পুকুরে। মাছ খাওয়ার ছক আর কি! পুকুরের গভীরে একটি বড় মাছ আছে, তার খুব খিদে, তাকে আমি চিনি বহুদিন ধরে।

সেও সেদিন ছক কষে আমার পাতা খাবারের দিকে এগোতে লাগলো। সত্যিই তো আমরা যা কিছু পেয়েছি এই জীবনে তার সব কিছুর পিছনে অঙ্ক আছে – বা অঙ্কের ছক আছে।

মাছ খিদের খাবার খেতে গিয়ে আমার পাতা ফাঁদে বা অঙ্কে ফেঁসে গেছে।

সে ছটফট করছে আমার পাতা ছক থেকে বেরোতে। তার খুব কষ্ট হচ্ছে। তার কষ্ট আমি বুঝতে পারছি, কিন্তু আমাকেও তো বাঁচতে হবে!

এইভাবে আমরা কেউ বাঁচি আর কেউ মরে। এইভাবে হঠাৎ শ্রাবণের ধারা আসে আমাদের জীবনে…

বোবাকে তুমি শত্রু দাও। বোবার শত্রুর প্রয়োজন গো! না হলে সে জাগবে না, না হলে সে চুপ করে এই সমতল সংসারে রয়ে যাবে চুপে আড়ালে গানহীন মানহীন ক্রোধহীন মলয়বাতাসহীন।

ওগো বোবাকে জাগাও, বোবাকে উৎসবের উপহার স্বরূপ তুমি খুব লাজুক একটা শত্রু দাও, না-হলে ও কী করে বুঝবে ফুলের টব কত ভারী কত অহংকারী!

ওগো বোবাকে‌ দুর্গমের পথ বলে দাও, ওগো ওকে একটা খাপ খোলা শত্রু দাও…

ক্রমশ

আরও পড়ুন...

প্রতি মাসে দ্বিতীয় রবিবার