Categories
2021-aug

নারী শহরের সম্পদ | পর্ব ৭

বি শে ষ  র চ না । পর্ব ৭

নারীবাদের দ্বিতীয় তরঙ্গের সময় থেকে তার পরবর্তী পঞ্চাশ বছরের ফরাসী ও মার্কিনি বিশিষ্ট মহিলা কবিদের এক গুচ্ছ জানা অজানা কবিতা নিয়ে হাজির হয়েছেন বর্তমানে কর্মসূত্রে ফ্রান্স নিবাসী ম্যাডিকেল আল্ট্রাসাউণ্ডের তরুণ বিজ্ঞানী…

রূ প ক   ব র্ধ ন   রা য়

rupak

নারী শহরের সম্পদ

সিলভিয়া বারন সুপারভিয়েল (Silvia Baron Supervielle)

সিলভিয়ার জন্ম ১৯৩৪ সালে, আর্জেন্টিনায়। মাতৃভাষা আর্জেন্টিনিয়ান হওয়ার কারণে এই ভাষায় লেখার শুরু করেন। প্রথম দিকে কবিতা ও ছোটো গল্প লিখতেন। ১৯৬১ সালে প্রথম বার অল্প কিছু দিনের জন্য ফ্রান্সে আসেন, তার পরেই কয়েক দশক এখানেই কাটান। ফ্রান্স তখন ছাত্র আন্দোলন ও নারীবাদী আন্দোলনের দ্বিতীয় তরঙ্গে উত্তাল। এর কয়েক বছরের মধ্যেই ফরাসী ভাষায় লেখালেখি শুরু করেন সিলভিয়া। 

১৯৭০ সালে Maurice Nadeau র হাত ধরে Les Lettres nouvelles পত্রিকায় এক গুচ্ছ কবিতার মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ ঘটে। এর পর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ১৯৭৫ সালের পর থেকেই সমস্ত বিখ্যাত ফরাসী পত্রপত্রিকা ও প্রকাশনা সংস্থায় জায়গা হতে শুরু করে তাঁর। ১৯৮৩ সালে “গ্রানিত এডিশান” থেকে তাঁর ফরাসী ভাষার প্রথম  কাব্যগ্রন্থ La Distance de sable প্রকাশিত হয়।

ফরাসী ভাষায় লেখালেখি করা ছাড়াও বিভিন্ন আর্জেন্টিনীয় লেখক-কবি’র কাজকে ফরাসী ভাষায় অনুবাদ করেছেন সিলভিয়া। যেমন, Marguerite Yourcenar – এর নাটক ও কবিতার অনুবাদ সিলভিয়ার তরফে ফরাসী সাহিত্যে এক বিরাট অবদান।

তাঁর সার্বিক কাজের জন্য ২০১২ সালে Jean Arp Francophone Literature Prize দেওয়া হয় সিলভিয়াকে। এছাড়াও পেয়েছেন Special Roger Caillois Prize 2013 ও Prize for Outreach of French Language and Literature 2019 French Academy পুরস্কার।

প্রধান কাজ

গল্প, উপন্যাস

  • The Gold of Uncertainty , José Corti , 1990 .
  • The Book of Return , José Corti, 1993 .
  • New Cantatas , José Corti, 1995 .
  • The line and the shadow , Le Seuil, 1999 .
  • Letters to photographs , Gallimard, 2013 .
  • Notes on Theme , Galileo, 2014.
  • The sweetness of honey , Gallimard 2015.
  • Song of love and separation , Gallimard 2017.
  • Le Regard inconnu , Gallimard 2020. ইত্যাদি

কবিতা

  • The Windows , Hors commerce, 1977 .
  • Plaine Blanche , Carmen Martinez, 1980 .
  • Space of the sea , Thierry Bouchard, 1981 . 
  • Essays for a space , Editions Arfuyen, 2001 .
  • Travel pages , Éditions Arfuyen, 2004 .
  • Autour du vide , Éditions Arfuyen, 2008 .
  • On the river , Éditions Arfuyen, 2013 .
  • Al Margen / In the margin , complete poetry in bilingual Spanish-French edition, Adriana Hidalgo editora, Buenos Aires , 2013 .
  • Another far away , Prix Alain Bosquet 2018, Gallimard 2018.
  • On the sidelines . Points 2020 এদিতিওন্স’ ইত্যাদি

অনুবাদ

 স্প্যানিশ ভাষায়

  • Marguerite Yourcenar , Les charités d’Alcippe , Visor, 1983
  • Theater I and II , Lumen, 1986
  • The thirty-three names of God , Reverso ediciones

সিলভিয়া বারন সুপারভিয়েলের কবিতা

ঠিক সময়

আমার চাহনি

ওদের মুছে দেওয়ার আগেই

বারান্দাটা গাছটা

নদীটাকে ফিরে দেখার

টেবিলটাকে এক ঝলক দেখে নেওয়ার

এটাই সঠিক সময়

 

আমায় ফিরিয়ে দাও

সূর্য ও বৃষ্টির মাঝের পার্থক্য

আমায় ফিরিয়ে দাও

আমার বিপুল একাকিত্ব

যার মাঝে আমি ছুটে বেড়াতে পারি

আমায় আকাশটা ফিরিয়ে দাও

ঘন্টাগুলো বছরগুলো

একটা জানলা

 

কীভাবে আমার আর জানা নেই

নদীর সাথে পথ চলার উপায় আমার আর জানা নেই

জলপৃষ্ঠে ভেসে ওঠে বেগুনি কাদা

বালি আবৃত তটে ঘুরপাক খায় ফেনা

ছুটে যায় পাড়ে পাথর ছুঁয়ে বাঁধনহীন ফিরে আসে

তলদেশে বিস্মৃত সান্ধ্য শরীরী ধারাকে দিগন্তে আলিঙ্গন করে

অলস গ্রীষ্মের সাথে খয়েরি কাঁধে কাঁধ মেলানো ছুট

বেগ ও স্থিতি’র অবকাশে বহমান ডাগর সোনালী বাতাস

দেওয়াল ছুঁয়ে স্মৃতিশূন্য করে আমায়

কীভাবে এ শহরকে লিখতে হবে তা আমার আর জানা নেই

আকাশ থেকে এক পৃথিবীমুখি খড়্গ নেমে আসে

নগর পথের ধারে ঝুঁকে পড়ে অট্টালিকার মুখ

সন্ধ্যা আর হাতুড়ি ও পিপাসু জমি দিয়ে তৈরি রক্তে 

ভেজা আমার হাতে আমি তাকে দেখতে পাই

এ মাটির দিকে কীভাবে চাইতে হবে তা আমার আর জানা নেই

যেখানে আমার পরিত্যক্ত মৃত্যুর শিকড়

তার ধুলোমাখা সীমান্তের আশেপাশে ঘুরপাক খাওয়ার জন্য আমায়

ছেড়ে আসে যেখানে ফেরার রাস্তা নেই

আমাকে আমার জন্য অপেক্ষমান দেখতে চাওয়া আমাকে চাওয়া

কীভাবে ভুলি তার দূরত্ব এই সৈকত

যা আমার অন্তরে হাল চালাচ্ছে

সে আমার জন্মস্থলের স্বপ্ন হরণ করবে কীভাবে বিস্মৃত হই

 

ফুঃ

উনুনের ভিতর

এলোমেলো শব্দের উপর

কদাচিৎ

ফুঃ

 

আমি আমার প্রতিবিম্ব নেড়ে দিই

পৃষ্ঠার উপর ছড়িয়ে থাকা

অদৃশ্য জলের ভিতর

মৃদু প্রবেশের চাহিদায়

নিরুদ্দিষ্ট মুখটা সেখানে খুঁজে 

পাওয়ার স্বপ্নে

আকার না বুঝে

এক মাটির ছবি আঁকতে

আরো এক গভীর 

নগ্ন আরপেজিও-র সাথে

এক কন্ঠের সুর মেলানোর তাগিদ

 

শূন্যের মাঝে

শূন্য ও

পৃথিবী

স্বর ও শূন্যতা

শব্দ ও অসমাপ্ত প্রতিধ্বনির

আবর্তের 

মাঝে

* ক্রমশ  

লেখক পরিচিতি :  GE Heathcare-এ বিজ্ঞানী হিসেবে কর্মরত, ফ্রান্স-এর নীস শহরে থাকেন। টার্কি-র সাবাঞ্চি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করেছেন। এছাড়াও মার্কিন যুক্ত্রাস্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনা স্টেট ইউনিভারসিটি ও পি এইচ ডির পর বছর খানেক জার্মানির ফ্রনহফার সোসাইটিতে সায়েনটিস্ট হিসেবেও কাজ করেছেন। লেখালেখির স্বভাব বহুদিনের। মূলত লেখেন বিজ্ঞান, ইতিহাস, ট্রাভেলগ, সাহিত্য মনন নিয়েই। কলেজজীবনে বন্ধুরা মিলে “দেওয়াল” নামক কবিতা পত্রিকা চালিয়েছেন কয়েক বছর। এছাড়াও কবিতা, গদ্য প্রকাশ পেয়েছে একাধিক বাঙলা অনলাইন পত্র পত্রিকায়। লেখা লেখি ছাড়াও গান বাজনা, নোটাফিলি, নিউমিসম্যাটিক্সের মত একাধিক বিষয়ে রূপকের সমান আগ্রহ রয়েছে।

আরও পড়ুন...

Categories
2021-aug

কবিতা ভাবনা

ক বি তা  ভা ব না

এই সংখ্যায় ভেনেজুয়েলার কবি

ড রি স   ক ন্ট্রে রা স

dorys

আদিম উৎসুক আত্মার কাছে যা পবিত্র...

কবিতা আমার সব থেকে অন্তরঙ্গ অঙ্গ। আমার সত্তার গভীরতম এলাকা; যেখানে আলো-ছায়া আমার বোধের অস্তিত্ব সম্পূর্ণ ঠাহর করতে পারে না বটে, কিন্তু জানে আমি আছি। আমার গভীরতম জায়গা। কবিতা সেই শব্দ যা আমি বারংবার মত্ত আবেশে উচ্চারণ করি নিজের কাছে। তাদের রচিত হবার যাদু, তাদের সৌষ্ঠব, আর এক অজ্ঞাত নিয়ম যা তাদের শাসন করে। আমার ভিতরের সেই স্থায়ী সুর, যদিও তা বারে বারে বদলে যায়। খুব গভীর রাতে, ঘুমঘোরে যা আসে, আর সকালে বিস্রস্ত কাগজপত্রে তাকে দ্রুত সন্ধান করা। যদি তাকে একেবারেই ভুলে যাই – এই আশংকা ঘিরে ধরে। শেষ পর্বে পৌঁছে গিয়ে দেখি উন্মেষলগ্নের কথা আর মনে করতে পারছি না – এই ভয়! এ আমার সৃজনীশক্তি। আমার খুঁতো রূপ। আমার ভিতরের শিশু, জীবনকে কিছু উপহার দিচ্ছে। কবিতা সময়ে সময়ে অস্তিত্বের রেচন। যা আমায় সম্পূর্ণ নিষ্ক্রমণের আগের মুহূর্ত অব্দি তিষ্ঠোতে দেয় না। যা আমায় সান্ত্বনা দেয়, শান্ত করে। যা আমায় পুষ্ট করে, সমর্থ করে। এসো, নিজের দান রাখো, কবিতা বিনিময় করো। আদিম উৎসুক আত্মার কাছে যা পবিত্র, কাব্যিক আচরণ তাকে প্রকাশিত করে। পবিত্রতা আর কৃতজ্ঞতা। কবিতা জীবন। এটাই পথ। আমার পথ।

মূল রচনা থেকে ভাষান্তর: অরিত্র সান্যাল

মূল রচনা

Poetry is the most intimate part of me. That part that emerges from my deepest self, from those areas of shadow and light that are partly unaware of my conscience, but more authentically mine. Poetry is my deepest self. Poetry is the words I say to myself and their obsessive repetition. The magic of their composition and their shape and the unknown rules that govern them. It is my internal music, constant, albeit different every time. It is what emerges at night in drowsiness and that in the morning crystallizes in a scattered sheet, searched quickly. It is the fear of forgetting everything that arises so fast. It is the fear of reaching the end without remembering the beginning. It is my creator power. My imperfect beauty. My inner child giving a gift to life. Poetry is catharsis in times of need. What does not give me peace until it finds an exit. What consoles me and plaques me. What gives me strength and nourishes me. Welcome, donate, exchange poetry. In the poetic act, the sacred is revealed, between curious and primordial souls. Sacredness and gratitude. Poetry is life. It is the way. My way.

Dorys Contreras

ডরিস কন্ট্রেরাস জন্মসূত্রে কারাকাস, ভেনেজুয়েলার মানুষ। ১৭ বছর বয়স থেকে ইতালির তুরীনের বাসিন্দা। মনোবিজ্ঞানী। পিছিয়ে থাকা শ্রমিক সম্প্রদায়ের কর্ম স্থানান্তরের সঙ্গে পেশাগত ভাবে যুক্ত। বেঁচে আছেন লেখার জন্য, ফটোগ্রাফির জন্য।

আরও পড়ুন...

Categories
2021-aug

শংকর চক্রবর্তী

ধা রা বা হি ক  | পর্ব ১২

শং ক র   চ ক্র ব র্তী

sankar_chakrabarty_hm

বাংলা কবিতার আলো আঁধারি

ঝাড়বাতি

হারিয়ে যাওয়া এই কবির কথা হঠাৎই মনে পড়ল। শীর্ণ, ভাঙাচোরা শরীর। তামাটে রং। অফুরন্ত সিগারেটের তাপে পোড়া ঠোঁট। পরনে ধুতি এবং সাদা পাঞ্জাবি। এ হেন জৌলুসহীন মানুষটি, না; শুধু মানুষ নন, একজন সত্যদ্রষ্টা, আমূল বাস্তবতাকে অগ্রাহ্য করা সার্থক কবি, একদিন পায়ের ছেঁড়া চটি ছুড়ে ফেলার মতো নিঃশব্দে এ পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছিলেন। হ্যাঁ, নিখিলদা। পঞ্চাশের দশকের অন্যতম কবি নিখিলকুমার নন্দী’র কথাই বলছি। সাতান্ন বছর বয়েস একজন কবির পক্ষে এমন অবহেলায় চলে যাওয়ার উপযুক্ত সময় নিশ্চয় ছিল না। অথচ প্রায় এই বয়েসেই জীবনানন্দ দাশের সৃষ্টিময় জীবনও স্তব্ধ হয়েছিল। সুতরাং আরো বহু প্রিয় কবিদের কথা ভেবে ভয় হওয়াটাও নেহাত অমূলক নয়।

সারা জীবনে কিন্তু নিখিলদা’র একটিও কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ পায়নি। তাঁর অসংখ্য কবিতা বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে এতদিনে নিশ্চয়ই হারিয়ে গেছে। ১৯৯১ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি প্রয়াত হওয়া এই কবির লেখাগুলো গ্রন্থভুক্ত করার দায়িত্বও কেউ নেননি। অন্তত ‘পূর্বাশা’ পত্রিকার প্রধান কবির ক্ষেত্রে এই আশা অন্যায় কিছু নয়। ‘অনুক্ত’ পত্রিকারও অন্যতম সংগঠক ছিলেন তিনি। তিনি সেই বিরল শ্রেণির লেখক, যাঁর মেধাবী রচনাধারার সঙ্গেই নিজের জীবন অঙ্গাঙ্গীভূত। ফলে, পড়াশোনাও করতেন বিস্তর। শ্যামাপ্রসাদ কলেজের বাংলা বিভাগীয় প্রধান বা উপাধ্যক্ষ থাকাটা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ছিল না তাঁর কাছে। বরং বাংলা সাহিত্যের অন্যান্য ধারাবাহিক কাজগুলি স্রেফ অমরত্বের জন্য নয়, নিছক খেলার ছলে করে গেছেন যাবতীয় সাংসারিক দুর্দৈবের মধ্যেও। শেক্সপীয়ারের সনেটগুলির বাংলায় অনুবাদ নিয়ে একটি বই আছে তাঁর। সরোজ চৌধুরীর গ্রন্থাবলীর সম্পাদনা করেছেন যথেষ্ট দায়িত্ব সহকারে। এবং সর্বোপরি তাঁর ‘দেশ-কাল-সাহিত্য’ প্রবন্ধের বইটি বাংলা সাহিত্যের একটি উজ্জ্বল সংযোজন।

বাম রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী নিখিলদা কখনো নিজের কবিতায় সরাসরি কোনো প্রতিফলন রাখেননি। বরং সমাজ বা পারিপার্শ্বিকতার ওপর তাঁর আস্থাহীনতাই বারবার প্রকাশ পেয়েছে কবিতায়। রাগ-দুঃখ বা নির্বিকার শ্লেষ ও আশ্লেষে, এক বেদনার্ত মোচড়ে নিজের কবিতায় প্রাণ প্রতিষ্ঠা করতেন যেন। আবার মতাদর্শ বা নিজস্ব চেতনাকে কখনোই গৌণ হতে দেননি লেখায়। যার ফলে সর্বজনীন হতে বাধা ছিল না তাঁর কবিতার। কিন্তু নিজের মতো মুখচোরা ছিল তাঁর কবিতাও। ভিতরের অজস্র কবিতার বুদবুদ কদাচিৎ বেরিয়ে আসতো কলমে। হয়তো অন্তঃস্থলের কোনো ব্যথা নিয়েই বেঁচে ছিলেন এতদিন। যে ব্যথা ছন্দ বা বিন্যাসে কখনো বা স্পন্দিত করতো কবিতাকেও।

‘চেয়ে দেখছি চারদিকে খুব, খুবই খোলামেলা/ আকাশে ছুটেছে নাকি বাতাস বোলবোলা গমগমে/ রক্তের ফিনিক-লেপা সোনারূপা ডলারের খেলা অনুপম/ বহুবিধ বিদেশী মুদ্রায় অ্যালবামে/ ছবি ফোটে তামাটে তল্লাট/ ঢের হলো রাজাসাজা গণ-সমাজের সমাধি/ এবার ছুটন্ত ঘোড়া শোরগোল-দহরমে পরিশ্রান্ত ভোগে/ গোঙায় হেঁচকি তুলে, খাবি খায়, বুঝি নাভিশ্বাস! যা হয় তা হোক শুধু এই কালবেলার প্রহর/ আবেশে মধুর বড়ো, মুক্ত মনে, যুক্তির বিচ্ছেদে…’। এমন প্রখর দৃষ্টি ছিল বলেই তাঁর স্বল্প সৃষ্টিতে কোনো খাদ ছিল না।

কিন্তু দৃষ্টি ছিল না নিজের শরীরের প্রতি। খাওয়া ও বিশ্রামের প্রতিও তাঁর মনস্কতার খুবই অভাব ছিল। পরিশ্রম যেন ছিল তাঁর জন্মলব্ধ অধিকার। আবার সংসারের প্রতিও ছিল এক ধরনের উদাসীনতা। অথচ নিশ্চিতভাবে বেঁচে থাকার আনন্দ উপলব্ধি করতেন। তা না হলে, অমন সৃষ্টির বহমান সিদ্ধিতে নিজের বিষয় ও বিষয়ী এক অদ্ভুত অ্যাবস্ট্রাকশানে অটুট থাকবেই বা কেন! প্রস্ফুটিত ফুলটি নিশ্চয়ই সুদীর্ঘকাল আরো স্থির সম্পূর্ণতম হবার অপেক্ষাতেই ছিল। তবে কেন এসব পাপড়ি ক্ষণিকত্বের দিকে ভেসে যায়? সঠিক কোনো উত্তরই আমার জানা নেই। জানা নেই, তাঁর বুকের ভেতরের সেই সময়ের অস্থিরতার কারণও। এই যন্ত্রণা-কাতর কবিকে কেন যে আমাদের সমাজ ও আশ্চর্য রূপের সংসার কোনোভাবে সুস্থির থাকতে দেয়নি তাও জানা নেই! অথচ তাঁকে ভুলে যাওয়া নিশ্চিত আমাদেরই অপরাধ। এভাবে আমরা কতো কবিকেই যে হেলায় স্মৃতির ওপারে রেখে আসছি জানি না।

আরও পড়ুন...

Categories
2021-aug

প্রচ্ছদ কাহিনী | আগস্ট সংখ্যা

প্র চ্ছ দ  কা হি নী

অ মৃ তা   ভ ট্টা চা র্য

amrita2

‘তীব্র’ ‘কোমল’ খাতে: স্কিৎজোফ্রেনিয়া ও কবিতা

নরম অন্ধকারের সবুজ থাকে একটা। সে প্রতিবিম্বময়। কালচে সবুজ পাতা, ভাঙা পাথরের গায়ে থকথকে সবুজ শ্যাওলা পেরিয়ে এক একটা শুদ্ধস্বর এগিয়ে যায় কোমল মাত্রার দিকে। সুষুম্নাকাণ্ডের মূলে টনটন করে ওঠে ঋষভ। আমৃত্যু শুদ্ধ থাকার দায় নেই কারো। আলোর উন্মুক্ত ঘূর্ণিতে বনবন ঘুরতে থাকে পাপড়ি, নদী, চেনা-অচেনা মুখ। অন্ধকার ছত্রাক চেতনা। তবু প্রবাহে বাধা থাকে কই? অলীক আলস্যে ষড়জ গড়িয়ে নামে ঋষভে। চমকে ওঠে কান। কেমন যেন কম সুর লাগলো মনে হয়! তবু এই ঋষভ বেসুরো নয়। যেন অন্যমাত্রার কোন সুর। এ যেন অন্যসকাল। গুরু বলেন, “চেনা শুদ্ধ স্বরে কি সকাল হয়? নতুন আর অচেনা বলেই তো সে সকাল!” প্রতিটা সকালে তাই অচেনা ঋষভ আসে। কোমল ঋষভ। আহির ভৈরব ছুঁয়ে ঘোরাফেরা করে গান্ধারটাও প্রয়োজনের তুলনায় কেমন যেন কোমল হয়ে যায়! বেলা বাড়তে থাকে চেনা ভৈরবীর হাত ধরে। চেনা শুদ্ধ সব একে একে অন্যমাত্রার হয়ে আসে। সেইসব অন্যমাত্রারা বেসুরো নয় তবু। বারান্দায় একফালি রোদ এসে পড়ে। হাওয়ায় স্বর্ণচাঁপার আড়মোড়া ভাঙা গন্ধ। মানবমনের চিন্তা— মাত্রা-মাত্রাহীনতা, চেনা-অচেনা, শুদ্ধ-কোমল, সুর-বেসুর— এসব পরোয়া করেছে কবে? চিন্তা কোন মাত্রায় থাকলে ‘সুস্থ’, আর কতটা মাত্রাছাড়া হলে ‘অসুস্থ’— সে হিসেব বড় গোলমেলে। বিশেষত, কবিতার প্রসঙ্গে সুস্থ-অসুস্থের মাপজোক হলে হিসেবটা আরো গোলমেলে হয়! তাই বোধহয় উইলিয়াম শেক্সপিয়ার প্রেমিক, পাগল আর কবিকে এক বাক্যে একই মঞ্চে রেখেছিলেন!

ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে সি লম্ব্রোসো (C. Lombroso) ‘হেরেডিটারি টেইন্ট’-এর (hereditary taint) ধারণাকে অবলম্বন করে পাগলামি এবং সৃষ্টিশীলতার মধ্যে একটি সংযোগ দেখিয়েছিলেন। বিভিন্ন সময়ে মনোবিজ্ঞানীরা বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার মধ্যে দিয়ে স্কিৎজোফ্রেনিয়া এবং সৃষ্টিশীলতার মধ্যে এক অদ্ভুত সম্পর্ক দেখিয়েছেন। স্কিৎজোফ্রেনিয়া রোগীদের যেটা সবথেকে বড় লক্ষণ হয় সেটা হলো, তারা ‘সেলফ’ আর ‘নন-সেলফ’ এর মধ্যে পার্থক্যটা বুঝতে পারেনা। সেলফ আর নন-সেলফ এর মধ্যে পার্থক্যটা গুলিয়ে ফেলার অর্থ হলো আমাদের ‘ইগো বাউন্ডারি’ বা ‘আমি’র কাঠামোটা হারিয়ে ফেলা। অর্থাৎ, এই ‘আমি’র অস্তিত্ব প্রমাণ করার জন্য ‘আমি’র চারপাশে একটা শক্তপোক্ত পাঁচিল দেওয়া প্রয়োজন। এই পাঁচিলটাই ‘আমি’কে অন্য সবকিছু থেকে আলাদা করে রাখে। যদি না আমি এই পাঁচিলটা চিনতে পারি, ‘আমি’কে অন্য বাকি সব কিছুর থেকে আলাদা করতে না পারি, তাহলে আমি’র অস্তিত্ব আলাদা করে অনুভূত হবে না। পাঁচিলের বাইরে এই ‘আমি’ ভীষণ ছড়ানো— এত বেশি ছড়ানো যে সব কিছুর সঙ্গেই নিজেকে জড়িয়ে ফেলার প্রবণতা থাকে। এই ভীষণভাবে ছড়িয়ে যাওয়া ‘আমি’র টুকরোগুলোর ওপরে আর কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না তখন। মনোবিজ্ঞানী রুস্ত (Rust) বেশ কিছু সহকর্মীর সঙ্গে একটা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে সৃষ্টিশীলতার সঙ্গে স্কিৎজোফ্রেনিয়া রোগীর মস্তিস্কের প্রকৃতির সাদৃশ্য দেখিয়েছিলেন। মনোবিজ্ঞানী বাক (Buck) এবং ক্র্যামার (Kramer) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কিছু স্কিৎজোফ্রেনিয়ার রোগীর কবিতা লেখার প্রতিভার কথা বলেছিলেন। Split selves অর্থাৎ ছড়িয়ে পড়া ‘আমি’রা শুদ্ধ, কোমল বা তীব্রের পার্থক্য নিয়ে মাথা ঘামায় না। প্রতিটা স্তর, প্রতি মাত্রা, চেনা-অচেনা সব একাকার তখন। কবিতাও কি তাই?

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আলো ছড়িয়ে পড়ে। চোখের সামনে স্পষ্ট হয় সব শুদ্ধ পর্দা। সাদা-কালো, ওপর নিচ, সত্যি-মিথ্যে, শুদ্ধ-কোমল-তীব্র অনেকটা ছাড়াছাড়ি – আলাদা আলাদা সব। সেই সব পর্দার মধ্যে পার্থক্য বুঝতে বুঝতে ক্লান্ত ডেভিড ১৬ বছর বয়সে নেশাপান শুরু করে আকণ্ঠ। ডেভিড হলওয়ে। বাবা ছিল ডেভিডের কাছের বন্ধু। সেই বাবার মৃত্যুর পরে নিজের কথা কাউকে বলতে না পেরে, নিজের চিন্তা কাউকে বোঝাতে না পেরে সে প্রতিদিন আরো আরো একা হয়। অদ্ভুত ভাবে বুঝতে পারে প্রত্যেকটা মানুষ বেঁচে আছে তার নিজস্ব একটা বাস্তবকে আঁকড়ে। অথচ তার নিজের বাস্তব এক নয়, বহু— কখনও দ্বিখণ্ডিত। বাবার অশরীরী অস্তিত্ব সে সবসময় চারপাশ অনুভব করতো। সেই অনভুতি এতটাই আশ্চর্য রকম জীবন্ত ছিল ডেভিডের কাছে, যে সে মনে করত তার ঘরের সমস্ত ফার্নিচার— চেয়ার, টেবিল তার বাবা সবসময় সরিয়ে দিচ্ছে তার সুবিধার জন্য। বাবার স্মৃতিজনিত শোক থেকে বাঁচার জন্য ডেভিড নিজেকে সম্পূর্ণ নিমজ্জিত করে বাইবেলের মধ্যে। তাতে পিতৃশোক খানিকটা লাঘব হলেও, তখনই শুরু হয় তার নিজের সঙ্গে নিজের দ্বিতীয় যুদ্ধের মহড়া। নিজেকে সে মনে করে বাইবেলের সেই যুদার সিংহ যাকে স্বয়ং জিসাসের প্রতীক বলে মানা হয়। শুধু তাই নয়, নিজের জীবনকে তার মনে হয় কিং ডেভিডের পুনর্জন্ম। সারা পৃথিবী যখন তাকে নিয়ে হাসাহাসি শুরু করে, বেডফোর্ডশায়ার ইউনিভার্সিটির দিনগুলোতে তার বান্ধবী তার কাছে এসে তাকে নতুন করে লেখার কথা বলে। হাসপাতালের বিছানায় বসে ডেভিড তার সমস্ত চিকিৎসকদের জানায় তার অতিপ্রাকৃতিকশক্তির কথা। আশেপাশের সমস্ত মানুষকে সে তার কাল্পনিক অস্তিত্বের অংশ মনে করে।

তেত্রিশ বছর বয়সী ডেভিড তার চিকিৎসক এবং বান্ধবীর অনুপ্রেরণায় তার চিকিৎসার পাশাপাশি কবিতাকে নিজের নিরাময়ের অস্ত্র হিসেবে নেয়। মস্তিষ্কের মধ্যে অসংখ্য ঢেউয়ের মিলেমিশে যাওয়া, অসংখ্য চিন্তার তরঙ্গের একে অন্যের ওপর আছড়ে পড়ার প্রকাশ যখন অন্যের কাছে মনে হতে লাগলো পাগলামি, তখন ডেভিড তার বিখ্যাত কবিতা “সাবকনসাস” (Subconscious)-এ লিখলেন মুক্তি-বন্ধন তোলপাড় করে দেওয়া সেই বহুমাত্রিক যাপনের শব্দ:

অবচেতন মানুষের সম্ভাবনার এক উন্মত্ত রূপ।
তেজশক্তির সে বিপুল ঢেউ আর তরঙ্গ উচ্ছ্বাস
মুক্ত করো, আমাকে মুক্ত করো অতীতের লাঞ্ছনা থেকে।
ওই আয়নার ভেতর দিয়ে দেখো আমাকে, বারবার।

(“Subconscious”)

ডেভিড তাঁর ব্লগে লিখেছেন যে ওই আয়না আসলে লুইস ক্যারোলের অ্যালিসের সেই আয়না, যার ভেতর দিয়ে অ্যালিস তার নতুন পৃথিবীতে গিয়েছিল।

মজার কথা হল, ইউরোপিয়ান কমিশন তাদের এক বিশিষ্ট পরীক্ষা-নিরীক্ষায় এটা প্রমাণ করেছেন যে সৃষ্টিশীল মানুষ এবং স্কিৎজোফ্রেনিক মানুষেরা কখনো কখনো একই রকমের ব্রেইন ক্যানালস দ্বারা প্রভাবিত। সুইডেনের কারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট এক রিসার্চে দেখিয়েছে যে, ভীষণভাবে সৃষ্টিশীল মানুষের মস্তিষ্কের কিছু বিশেষ দিক স্কিৎজোফ্রেনিয়া রোগীর মস্তিষ্কের কিছু বৈশিষ্ট্যের খুব কাছাকাছি। দুটো ক্ষেত্রেই ডোপামিন সিস্টেম একটা খুব স্বাভাবিক ফ্যাক্টর। মস্তিষ্কে ডোপামিন 2 এর ঘনত্ব যে কোন ধরনের শিক্ষা বা বোধ জাগরণের ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রক একটি উপাদান। বিজ্ঞানীরা এ প্রসঙ্গে বলেন, যে মানুষ যত বেশি সৃষ্টিশীল হয় তার মস্তিষ্কের মধ্যে ডোপামিন ২ এর ঘনত্ব ততটাই কম হয় এবং এই তত্ত্ব একই ভাবে সিজোফ্রেনিয়ার রোগীদের ক্ষেত্রেও সত্যি। বিশ্বজুড়ে অনেক ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ডাক্তার দেখিয়েছেন, কবিতা কীভাবে একজন স্কিৎজোফ্রেনিক রোগীর কাছে নিরাময়ের অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে। মস্তিষ্কের ভেতরের অবিন্যস্ত পৃথিবীর অসংখ্য স্তর সামলাতে না পেরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডেভিডের মনে হয়েছিল যে জীবনের সমস্ত বন্দি-মুক্ত, দৃশ্য-অদৃশ্য, অন্ত-অনন্ত স্তর কবিতার ছত্রে ছত্রে উন্মুক্ত হয়ে আছে। মেরিল্যান্ড সাইকিয়াট্রিক রিসার্চ সেন্টার থেকে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেসের উদ্যোগে প্রকাশিত জার্নাল “দ্য স্কিৎজোফ্রেনিয়া বুলেটিন” শুধুমাত্র স্কিৎজোফ্রেনিয়ার রোগীদের অভিজ্ঞতার কথায় সমৃদ্ধ একটি জার্নাল। আনিকা ম্যাল্মকভিস্তর “পোয়েট্রি ইন ইয়ার্ন” (“Poetry in Yarn”) সিরিজের কবিতা তার সেই ভয়ঙ্কর দিনগুলোর কথা বলে যখন পরিবারের মধ্যে যৌন নির্যাতনের শিকার আনিকা তার যন্ত্রণার প্রকাশ ও নিরাময়ের অস্ত্র হিসেবে কবিতার ভাষা তুলে নেয়। হাসপাতালের কঠিন চিকিৎসার মধ্যে থাকতে থাকতে তার কলমের মুখে আসে অবদমনের সেই তীব্র ঘোষণা:

মাথা থেকে গড়িয়ে পড়ছে হিংস্র, আদিম চাওয়া
সুন্দর উপহার হয়ে, পায়ের পাতায়
গোছানো প্রেম, মাধুর্য, ফুটফুটে সন্তান, নরম বুকের দুধ,
এক সাদা পালকের মাথায় রূপকথার উড়ে আসা বন্ধুত্ব
হলুদ আলো যাকে খুঁজে যায়, সেই পারস্পরিক
সমস্ত মুদ্রা নিজের জায়গায় বসানো, সব গোছালো, ঠিকঠাক।
এ সবকিছু সামনে গুছিয়ে রেখে আমি সম্পূর্ণ অন্য একটা জীবন যাপন করে গেলাম!

(“Personal Particulars”)

ইংরেজ কবি বায়রন-এর এক প্রেমিকার মতে, কবি বায়রন ছিলেন পাগল এবং বিপজ্জনকভাবে অপরিচিত (“mad and dangerously unknown”)। আরেকটা মজার তথ্য হল, সাইকোলজিস্ট রেডফিল্ড জেমিসন তাঁর এক পরীক্ষার মাধ্যমে দেখেছিলেন যে ব্রিটেন এবং আয়ারল্যান্ডে 1600 থেকে 1800 শতাব্দীর মধ্যের ইতিহাসে সাধারণ মানুষের তুলনায় কবিদের মধ্যে প্রায় কুড়ি গুণ বেশি আত্মহত্যা-প্রবণতা এবং খন্ডিত ব্যক্তিত্বজনিত মানসিক বিকার (split selves) দেখা গেছে। শুধু এমিলি ডিকিনসনের “March madness is divinest sense”, সিল্ভিয়া প্লাথের “দ্য বেল জার”-এর সেই মেয়েটির স্নায়ু বিপর্যয় বা এডগার অ্যালান পো-এর সেই চিরন্তন প্রশ্ন “whether madness is or is not the loftiest intelligence?” নয় । বিখ্যাত কবি লুক রাইট বলেছেন, কবিতায় প্রত্যেকটা শব্দের বহুমাত্রিক সম্ভাবনা সিজোফ্রেনিয়ার রোগীদের মস্তিষ্কের বহুস্তরীয় এবং বিপরীতমুখী স্তরের খুব কাছাকাছি আসতে পারে। শুধু এক ডেভিড বা এক আনিকা নন, সারা পৃথিবী জুড়ে অসংখ্য বহুখণ্ডিত ব্যক্তিত্বের নিজেদের বাঁচিয়ে রাখার আশ্রয় হল কবিতা। কবিতাই সেই একমাত্র অনন্ত ব্রহ্মাণ্ডের আয়না যেখানে ‘শুদ্ধ’, ‘তীব্র’ আর ‘কোমল’ খাতের মাঝে পাঁচিলগুলো স্থির নয় কোথাও। এখানে প্রতি শব্দের বহুমাত্রিকতায় ‘তীব্র’ ‘কোমল’ খাতে এই অসহনীয় প্রবাহই হয়ত বেঁচে থাকার একমাত্র চিহ্ন!

আরও পড়ুন...

Categories
2021-aug

সিনেমা যখন কবিতা । পর্ব ৭

সিনেমা যখন কবিতা । পর্ব ৭

অ দি তি   ব সু রা য়

aditibasu_hm

রাতের চাঁদোয়ার আড়ালে...

ছবির নাম । ওয়ান্স এগেইন

পরিচালক । কানোয়াল শেঠি

দেশ । ভারত

অভিনয় । শেফালি শাহ, নীরজ কবির, বিদিতা বাগ প্রমুখ

বর্ষায় মুম্বাই ধুয়ে যাচ্ছে  – জলে জলে ফুঁসে উঠছে আরব সাগর। নারীটি রান্নাঘরের আঁচে – মশলার ঘ্রাণে – উনুনের উত্তাপে ক্লান্ত মুখ থেকে সরিয়ে দিচ্ছে এক পলক চুলের গোছা। তার খাদির শাড়িতে জীবনের রং। তার কাজল চোখে অভিজ্ঞতার ছায়া। দুনিয়ার চোখে সে এগিয়ে যাচ্ছে বিকেল পেরিয়ে। পুরুষটিও ক্লান্ত। কাজ – জীবন – ভালবাসা ইত্যাদির পথে সেও দেখেছে অনেক। নারীটির রান্না তার ঘরে যায় নিয়মিত। রান্নাঘর থেকে প্লেটের দুরত্ব কম নয়। কম নয় দেখা হওয়ার রাস্তা। তবু দেখা হয়। কথা হয়। আঁচল থেকে অন্ন ও মশলার গন্ধ মুছে গিয়ে অনেক রাতে, এসরাজের মতো বেজে ওঠে বিগত যৌবন দু’টি হ্রদয়। ভালবাসার বয়েস বাড়ে  – বয়েস বাড়ে নশ্বর শরীরের। সেই সঙ্গে প্রেমের ইঙ্গিত পেতেই পরিবারের সমবেত ছিছিক্কারে উঠোন ফাটতে থাকে নারীর ঘরে। এবার কী হবে? সন্তানের রোষের মুখে কী করে সেই মা? কী করে সে এড়িয়ে যাবে দীর্ঘদিন অপেক্ষার পরের অবধারিত ধারাজল ? এককালে, এ দেশে নিয়ম ছিল সরে যাওয়া।  বাবা-মা হতে হলে ছেড়ে দিতে হয় সমস্ত নিজস্ব উৎসব এবং উদযাপন। বয়েস বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জীবনবিমুখ হতে হবে – নিয়ম করেছিল সমাজ। ছেড়ে দিতে হবে সব – এমনকী নিজেকেও। কারণ, অভিভাবকদের সমাজ অনুমতি দেয় না আনন্দের। অনুমতি দেয় না, ভালো থাকার পাসওয়ার্ড এন্ট্রি করার। এই ছবি, ‘ওয়ান্স এগেইন’ খুব নীচু স্বরে তাকে অস্বীকার করে। অস্বীকার করে ভারতবর্ষের ত্যাগ-তিতীক্ষার অবিচল ধারাকে।  উচ্চকিত নিনাদের বাইরে দাঁড়িয়ে তীব্র দৃড়তার সঙ্গে মৃদু গলায় প্রত্যাখান করে এই আত্নপ্রবঞ্চনাকে।

এইখানেই ছবিটি ভিন্ন কণ্ঠে গল্প বলে।  আয়ুর আশীর্বাদকে হেলায় হারিয়ে যেতে দেন না পরিচালক কানওয়াল শেঠি। আচম্বিতে মিলে যাওয়া ফোন কলকে পারস্পরিক সাক্ষাত থেকে আরও নিকটে এনে দেয় যে দু’টি মানুষকে, তাঁরা সামাজিক ও পারিবারিক প্রেক্ষিতে একে-অপরের থেকে বহুদূরের অবস্থানকারী।  কেবল প্রেমই পারে মেলাতে। মিলিয়েও দেয়। সেতার বাজে – দূর দিগন্তে আলো জ্বলে নেভে – পথে বিক্রি হয় ফুল – পুরুষটি সে সব সংগ্রহে রাখে। উপহার দেয়। রাতের চাঁদোয়ার আড়ালে তারা দেখা করে। মাঝে মাঝেই।

শেফালি শাহ এবং নীরজ কবিরের জীবনের শ্রেষ্ঠ কাজ এই ‘ওয়ান্স এগেইন’ ছবিটি। নেটফ্লিক্সে দেখা যাবে। ২০১৯ সালে জার্মানিতে রিলিজ করেছিল এই ছবি।

সৌজন্য – বর্ষা চক্রবর্তী।

আরও পড়ুন...

Categories
2021-aug

উদাসীন তাঁতঘর | পর্ব ৩

উ দা সী ন  তাঁ ত ঘ র পর্ব ৩

প ঙ্ক জ   চ ক্র ব র্তী

pankaj

শঙ্খ ঘোষের মৃত্যু এবং দু-একটি আত্মপ্রতারণা

নিজেকে অপ্রাসঙ্গিক করে রাখাটা সবচেয়ে বেশি জরুরি এখন। শঙ্খ ঘোষের মৃত্যু হয়তো আমাদের এই শিক্ষা দিয়ে গেল। তাঁর মৃত্যুর পর যে বিষোদগারের নমুনা আমরা দেখলাম তা অপ্রত্যাশিত এবং অভাবনীয়। বিরুদ্ধাচরণ চলতে পারে কিন্তু এই কুৎসার কোনো সামাজিক পরিসর নেই। অথচ তাই হল। নয়ের দশকে শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর আমরা দেখেছি অতিশয়োক্তি কাকে বলে। সেদিন অরুণ মিত্র বা সুভাষ মুখোপাধ্যায়কে অপ্রাসঙ্গিক করে বলা হয়েছিল জীবনানন্দ পরবর্তী সবচেয়ে শক্তিশালী কবি চলে গেলেন। আমরা প্রতিবাদের সুযোগ পাইনি। এর প্রায় কুড়ি বছর পরে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের মৃত্যু। অথচ অতিশয়োক্তি নেই। ভিতরে ভিতরে ক্ষমতার সাম্রাজ্য তখন ভেঙে গিয়েছে। তাছাড়া সুনীল জীবৎকালে নিন্দিত এবং প্রশংসিত হয়েছেন। অপমান ছিল তাঁর নিত্যদিনের সঙ্গী। ফলে মৃত্যুর পর তেমন সুযোগ ছিল না।  ভাবতে অবাক লাগে দশ বছরের মধ্যে শঙ্খ ঘোষের মৃত্যুর পর পাঠক সমাজ এত দ্রুত বদলে গেল কীভাবে! অভিভাবকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ থাকতেই পারে কিন্তু তার নগ্ন প্রকাশের এই নির্লজ্জতা কোথা থেকে এলো? নাকি অনেকদিন ধরে ভিতরে ভিতরে তৈরি হয়েছিল অলৌকিক ক্ষোভ এবং চাপা সন্ত্রাস! ক্ষমতার লোভ এবং লাভা উদগীরণ!

সুনীলের যে ক্ষমতা ছিল তার পাশে ভিন্ন এক ক্ষমতার কারাগারে বন্দী ছিলেন শঙ্খ ঘোষ। নির্জন আর নিভৃত মানুষের সদর্থক ক্ষমতা। গত চল্লিশ বছরে যে মূল্যবোধ প্রায় লুপ্ত হয়ে গিয়েছে, তিনি আজীবন তা পালন করে গেছেন শরীর উপেক্ষা করেও। সমস্ত বিষয়ে সকলের জন্য খোলা ছিল তাঁর দরজা। ছিল যথাসাধ্য সমাধান। দু’হাত বাড়ানো উদার আশ্রয়। তরুণ কবির জন্য অযথা প্রশ্রয়। কখনও প্রতিষ্ঠানের দিকে হাত বাড়াননি, স্পষ্ট অবস্থান নিতে সংকোচ করেননি। ছিল বিরল এক মানবিক বোধ। নিজেকে নেপথ্যে রেখে কত গবেষণায় সাহায্য করেছেন । শর্ত ছিল অপ্রকাশ্যতা। যেন আমাদের সকলের শেষ পারাণির কড়ি। তাঁর নির্জনতাই নিমার্ণ করেছে ক্ষমতা। প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তিনি হয়ে ওঠেন আর এক প্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন যেন একটু একটু করে খসে গেছে তাঁর মানবসত্তা আর তিনি হয়ে উঠেছেন এক চিরন্তন বিগ্রহ।  দিকে দিকে পূজা আর সংশয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে পূজার মধ্যে নিহিত সন্দেহ। অবিনশ্বর এক ভক্তি নিয়ে চারপাশে ছিলেন অনেক মৌলবাদী সুবিধাভোগী। প্রশ্নের কোনো অধিকার ছিল না কয়েক দশক। অনেক পাঠক গত চার দশক শঙ্খজীবনের আলোয় স্নান করেছেন।

ফিরে যাওয়া যাক মফসসলের এক তরুণের স্মৃতিতে। তখন সে মোটা কেমিস্ট্রি বইয়ের ভেতর লুকিয়ে রাখে শঙ্খ ঘোষের ‘তুমি তো তেমন গৌরী নও’। প্রতিদিন মুগ্ধ হয়। আর দিবাস্বপ্নে কবির সঙ্গে আলাপ করে আসে। মনে মনে ভাবে কোনোদিন সে কি লিখতে পারবে ‘পাঁজরে দাঁড়ের শব্দ’র মতো আশ্চর্য কবিতাগুলি? তাঁকেই সে মনে মনে রবীন্দ্রনাথ ভাবে। শঙ্খ ঘোষের প্রতিটি বই রক্তের ভিতরে, মজ্জায় মজ্জায় মিশিয়ে নেয়। পঁচিশ বছর পর সেই পাঠক খানিকটা বিব্রত হয়ে পড়ে। তেমন করে টানছে না সব কবিতা। গত কুড়ি বছরের কবিতা নতুন করে পড়তে বসে সে ভাবে আরো অধিক সংকেত জরুরি ছিল। শব্দ আর নৈঃশব্দ্য আরও বেশি লিপ্ত হতে পারত। গোপন রাখা যেত কত পরিচর্যা। অথচ প্রতিদিনের জীবনে ব্যবহারের মতো বাণী এসে পৌঁছয় মাঝেমধ্যে। এর গুরুত্ব নিশ্চয়ই আছে। তবু মাঝে মাঝে এতদূর প্রকাশ্যতা ক্লান্তি আনে। না, তাঁকে কোনোদিন বলা হয়নি এইসব কথা। প্রশ্নহীন আনুগত্যর দেশে সকলেই কমবেশি সশস্ত্র। শুধু মনে মনে তৈরি হয় বিষাদ। কখনও একান্ত কোনো সভায় বিষোদগার। পাঠকের সংকট নিয়ে সেদিন প্রশ্ন তোলেনি কেউ।

শক্তি আর সুনীলের মিথ ছিল গোটা জীবন জুড়ে। ছিল প্রাতিষ্ঠানিক প্রচার। পাঠকের একটা বড়ো অংশ সেই মিথের পিছনে ছুটেছে। কেউ কেউ দীক্ষাও নিয়েছে। এসব থেকে অনেক দূরে ছিলেন শঙ্খ ঘোষ। তবুও তিনি ভিন্ন এক মিথের মানুষ। তাঁর নির্জনতা, প্রতিবাদ এবং সংবেদনশীলতা, আশ্চর্য পাণ্ডিত্য, রবীন্দ্রনাথ বিষয়ে অথরিটি তাঁর এক মহৎ মূর্তি নির্মাণ করেছে কয়েক দশকে। তিনি এসব না চাইলেও প্রত্যাখান করেননি অনেক ক্ষেত্রে। উদার দু’হাত মেলে শহর আর মফসসলকে আশ্রয় দিয়েছেন। প্রতিমুহূর্তের মিথ তাঁকে ঘিরে রেখেছে নিজস্ব বলয়ে। রবিবারের আড্ডাগুলি নানা অসামান্য গল্প দিয়ে আমাদের লোকাল কবিদের মুগ্ধ করে রাখত। গত তিন দশক জারি ছিল মুগ্ধতার সন্ত্রাস। যাঁরা তাঁর কাছে পৌঁছতে চেয়েছিলেন অথচ সুযোগ মেলেনি আলস্য আর লজ্জায়, তাঁদের অনেকেই মনে মনে নির্মাণ করেছেন শঙ্খ ঘোষের কিংবদন্তির ছায়া। মুগ্ধতার বদলে ঈর্ষা আর সন্দেহে অহেতুক তাঁরা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছেন। কোন পথ না পেয়ে ভক্তির বদলে অকারণ বিষোদগার করেছেন। এভাবেই শহরে আর মফসসলে তাঁকে নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়। মিথ্যে ছায়াযুদ্ধ। অথচ যতদিন তিনি জীবিত ছিলেন তাঁরা বাক্য খরচ করেননি। পাছে বিগ্রহের অপমান হয়। ক্ষমতার অলিন্দ থেকে হুমকি আসে। তাই মৃত্যুর পর শুরু হল অশ্লীল আক্রমণ। পুজো নেই, পুঁজি নেই শুধু মিথের অভিমান থেকে উঠে আসে নিরুপায় বিরুদ্ধাচরণ। অলীক ছায়াযুদ্ধ করতে দেখেছি অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপককেও।

এক হিসেবে শঙ্খ ঘোষের ছিল এক বড়ো পরাজয়। নিরুপম একাকীত্ব। তিনি নিজেই তাঁকে অতিক্রম করতে পারেননি সারাজীবন। পাঠকের তরফে কোনো প্রশ্ন তাঁর দিকে ধেয়ে আসেনি। দু-একটি বিচ্ছিন্ন এবং কখনও অবাঞ্ছিত অনুযোগ ছাড়া জীবৎকালে আর কোনো বাধার মুখে পড়তে হয়নি তাঁকে। তিনি ছিলেন আমাদের ভাষা এবং সংস্কৃতির অভিভাবক। নেপথ্যে ক্ষমতার বিগ্রহ। পুজোর ছলনায় কত মানুষ তাঁর সাহায্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সেইসব আনুগত্য কেবলই প্রশ্নহীন। তাঁর বিগ্রহই তাঁর জীবনে সবচেয়ে বড়ো বাধা। তাঁর সবচেয়ে বড়ো অপরাধ- প্রতিভাবান এবং সুযোগসন্ধানীকে একইরকম সময় এবং প্রশ্রয় দিয়েছেন তিনি। তিনি যা লেখেন তা মেনে নিতে আমরা সদাপ্রস্তুত।  আর তাই সুযোগ্য পাঠক কোথাও তাঁকে সতর্ক করেনি। ভয় ছিল। মৌলবাদের বিপজ্জনক ভয়। ট্র্যাক থেকে ছিটকে যাওয়ার ভয়।  আমরা তাঁর থেকে নিয়েছি কেবল। সাহস করে কিছু দিইনি তাঁকে। দেবার সাধ্য নেই ভেবে এড়িয়ে গেছি। একজন কবির চারপাশে বিগ্রহের আলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে তাঁর।

তবু আজও নতুন করে ভাবতে হয় নিজেকে অপ্রাসঙ্গিক রাখা কতখানি জরুরি। আজ বিস্মৃতিরও আছে নিজস্ব এক প্রাতিষ্ঠানিক বলয়। জনপ্রিয়তার বিপরীতে নির্জন বিস্মৃত লেখকেরও আছে উজ্জ্বল মহিমা। আজ চারপাশে বিস্মৃত লেখককে ঘিরে অতিশয়োক্তি আর উন্মাদনা স্পষ্ট। জনপ্রিয়তাকে সন্দেহ করে আমরা কেবলই ছুটে যাই প্রান্তিক লেখকের দিকে। সেখানে বিচার নেই, শুধু কিছু সস্তা আবেগ। আর তাই আমরা মাথায় তুলে রাখি ঋত্বিক ঘটক, জর্জদা, শম্ভুনাথ, নিত্য মালাকার, স্বদেশ সেনকে। তুলনা করে ছোট করে রাখি প্রতিষ্ঠিত শিল্পীকে। পুরস্কারের বাইরে বঞ্চনাও একধরনের জনপ্রিয় মিথময় প্রাতিষ্ঠানিকতা তৈরি করে একথা নিয়ে ভাববার সময় এসেছে আজ।  পাঠক সরাসরি দু’ভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছে – জনপ্রিয় লেখক বনাম উপেক্ষিত লেখক। আর তাই সহজেই শৈলেশ্বর ঘোষের পক্ষ নিয়ে শঙ্খ ঘোষকে কুৎসিত আক্রমণ করা যায়। এসব প্রশ্নে মানবতা আপাতত খুশি হয়ে ওঠে। কিছুদিন আগেও ‘রুচির সমগ্রতা’র দিকে আমরা সম্ভ্রমের চোখে তাকাতাম। আজ পক্ষ নিতে হয়। শিবিরের চিহ্ন বুকে নিয়ে হেঁটে বেড়াতে হয়। প্রসারিত রুচির দিকে উড়ে আসে বিদ্রুপ। মনে করা হয় এ আসলে একধরনের রুচির বিকার। উপেক্ষিত কবিকে মহৎ ভাবার এক ফাঁদ নির্মিত হয়েছে। উপেক্ষিত মাত্রই অসামান্য এই মুদ্রাদোষে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য আচ্ছন্ন। তরুণ কবির প্রিয় তালিকায় রমেন্দ্রকুমার কীভাবে এসে পড়েন তার জটিল অঙ্ক আমাদের জানা নেই। শুধু এক অলীক মুখোশ কবিতার চেয়ে কীর্তিকে এগিয়ে দেয় পাঠকের দিকে। বিখ্যাত কবি মাছের কাঁটার মতো গলায় বিঁধে আছেন। আছে তাঁর বিরুদ্ধে আস্ফালন। কেন তিনি উপেক্ষিত কবিকে নিয়ে কোনো আলোচনা করেননি তাই নিয়ে তাঁকে নীরবতার রাজনীতির ধিক্কার শুনতে হয়। যখন পাঠকই কবি অথবা কবিমাত্রেই পাঠক, তখন মৌলবাদ আরও স্বেচ্ছাচারী হয়ে ওঠে। টুকরো টুকরো ঘটনার মালায় তৈরি হয় অভিসন্ধি। পাঠকের আকাশ ছোটো হয়ে এসেছে। কিছু বলবার আগে ভেবে নিতে হয় মেরুদণ্ডের জোর কতখানি। বাজার কতখানি সইবে। সাম্রাজ্য হারাবার ভয় কতখানি। আজ পাঠকের ছদ্ম বিপ্লবও শেষপর্যন্ত নিরাপত্তাকামী। তাই এই দুইপ্রান্ত থেকে দূরে তৃতীয় কোনো পন্থা খুঁজে নিতে হবে আমাদের। যা স্পষ্ট এবং সত্যভাষী। যা  দুর্নিবার অন্ধকারের মধ্যেও একটা সহজ পথের ঠিকানা দেয়।

* ক্রমশ  

আরও পড়ুন...

Categories
2021-aug

অগ্নি রায়ের ডায়েরি | পর্ব ৩

অ গ্নি  রা য়ে র  ডা য়ে রি | পর্ব

অ গ্নি   রা য়

agniroy

জুলফ ঘনেরি শাম হ্যায় কেয়া

কোনও নতুন সিনেমা ‘রিলিজ’ করলে একসময় শহর জুড়ে সে যে কি দারুন দামামা বেজে উঠত, আজকের ‘ওভার দ্য টপ’ সভ্যতায় তা কল্পনাতীত। সব ছবির ক্ষেত্রে নয়। অনেক ক্ষেত্রেই ল্যাম্পপোস্টের থেকে জলে ঝড়ে ক্ষয়ে যাওয়াই ছিল পোস্টারের নিয়তি। আবার ওই পোস্টার থেকেই তো আগুন লেগে যেত কলকাতার গলি, উপগলি, ইস্কুল-কলেজ, মফস্বল, হাটে-বাজারে।

আশির ঠিক মধ্যভাগে দেশের এ-কূল ও-কুল দু’কূল ভাসিয়ে এল রমেশ সিপ্পির ‘সাগর’। ডিম্পল কাপাডিয়ার ‘সাগর’। কমল হাসান-ঋষি কাপুরের ‘সাগর’। দেশ বলতে তখন আমাদের কাছে নিজের পাড়া, স্কুল, কতিপয় বন্ধু আর দাদা-দিদিদের ফিসফাস। আমি তখন নবম শ্রেণী, থিয়েটারে গিয়ে হিন্দি ছবি দেখার দৌড় অনেক ঘ্যানঘ্যান করার পরেও মেরে কেটে পনেরো-বিশ। ‘চিত্রহার’ ভরসায় বয়ঃসন্ধি কাটছে। আর কখনও সপ্তাহান্তে দূরদর্শনে ভাগ্যক্রমে জিনত আমন, ধর্মেন্দ্র, রাজেশ খান্না। অমিতাভ বচ্চনের দর্শন পেয়েছি কেবল ‘শোলে’ দেখে।

ফলে কোনও বন্ধু, নতুন হিন্দি মারদাঙ্গা রোমান্স ভাগ্যক্রমে দেখে ফেললে, ব্লো বাই ব্লো সেই গল্প শোনা হত তার থেকে। যাকে বলে সিন বাই সিন। হৃদয় মুঠোয় নিয়ে। এভবেই ‘সাগর’ রিলিজ করার পর সমুদ্র থেকে উঠে বারবার আমাদের স্বপ্ন জুড়ে বসছেন ডিম্পল কাপাডিয়া তখন। শুধুমাত্র শ্রুতি-র মাধ্যমে, কারণ তখন শো এবং ইভেন্ট-এ ছবির টিজার-প্রোমোশনের ঘনঘটা নেই। আমির খানের সৌরভ গাঙ্গুলির বাড়ি চলে যাওয়া নেই। কপিল শর্মার শো-তে বামাল সমেত চলে আসা নেই। সেটা আশির মধ্যভাগে, যখন লোডশেডিংয়ে চাঁদের আলো। যখন বাড়িতে লুকিয়ে হিমসুধা আইসক্রিম (‘কোয়ালিটি’ কনশাস ছিলেন তখনকার অভিভাবকরা)। যখন ‘ছায়াগীত’ শুনতে শুনতে অঙ্কে ভুল। গাভাসকারের ওভাল-এর ইনিংস-এর জন্য রেডিও-র পাশে সমবেত রাত জাগা।  

সাগরে যখন কাজ করেছেন, ডিম্পলের কেরিয়ারের মধ্যগগন আর নেই, তবুও আগুনের কি আর বয়স থাকে! কী মাস ছিল মনে নেই, কিন্তু প্রতিটা সন্ধ্যায় ফুটবল ম্যাচ শেষে ফাগুনে হাওয়া দিত। আমরা উন্মনা হয়ে গাইতাম, ‘জনি যব বুলাতা তুঝসে শাদি করোগি মুঝসে…’ অথবা ‘তু জো নেহি তো মেরা কোয়ি নেহি…’। কোথা থেকে আসত সেই বসন্ত সমীরণ? পূর্ণ, বসুশ্রী, ইন্দিরা থেকে?

এবং হ্যাঁ, সুদূর উত্তর কলকাতার একটি সিনেমা হল, ‘গ্রেস’ থেকেও! যার নামই জানতাম না। বয়সে সামান্য বড় হওয়ার কারণে এবং উত্তর কলকাতার হাই স্কুলে যাতায়াত থাকার সূত্রে, শিবু জানতো এসব। আমার পাড়ার বন্ধু, তার ছিল ফুসফুসভরা সাহস, বড়দের কথা না শোনার জেদ, এবং পাপ-এর প্রতি পরম প্রেম! সেই আমাকে সাহায্য করেছিল জীবনের প্রথম নিষিদ্ধ ফলটি খেতে। পনেরো দিন ধরে গোপন ষড়যন্ত্র চলেছিল। ‘সাগর’ দেখতে তো বাড়ি থেকে সোনামুখ করে নিয়ে যাবে না কেউ। কিন্তু না-দেখলে তো ঘুম উড়ে যাচ্ছে, কে সি নাগ মিলছে না! উপায় কী। ঠিক হল, রেবেল হতে হবে, তবে গোপনে! সোজা বাংলায়, স্কুল কেটে দুই মূর্তিমান একদুপুরে শেয়ালদা। তারপর সোজা হ্যারিসন রোড ধরে হাঁটা (সে সব রাস্তাও চিনতাম না দক্ষিণের আমি)। হাঁটতে হাঁটতে গ্রেস (অনেক পরে যার পাশে ছিল আমার কলেজ)। শিবুই স্মার্টলি টিকিট কাটল, আমি অপরাধবোধে কান লাল করে শার্ট থেকে খুলে ফেললাম স্কুলের ব্যাজ। স্কুল ড্রেস আর পাল্টে ফেলা যায়নি! এরপর অপরাধবোধ ধুয়ে গিয়েছিল সমুদ্রের ফেনায়! ‘অ্যান্ড গড ক্রিয়েটেড উওম্যান’- ব্রিজিত বার্দো-কে তো অনেক পরে দেখেছি সমুদ্র থেকে উঠে আসতে। তেমনটা লাগেনি, ডিম্পল-দর্শন অনেক আগেই ঘটে গিয়েছে বলে।

সেদিনের গ্রেস সিনেমা হলের সেই ক্যাপটিভ অন্ধকারে ত্রিকোণ প্রেমের মহাকাব্য, কমল হাসানের জন্য বুক ফেটে যাওয়া, ঋষি কাপুরের গলায় একেবারে শেষদিকের কিশোর কুমার— এই সব কিছুই মা-কে মিথ্যে বলার (বা সত্য গোপন করার) গ্নানিকে কমপেনসেট করে দিয়েছিল মনে হয়। বরং স্কুল ড্রেস পরা দুই প্রায় বালক, একটি সিনেমা হল থেকে বেরিয়ে, মায়ের তৈরি করে দেওয়া টিফিন খাচ্ছে কলেজ স্ট্রিটে দাঁড়িয়ে— এই ফ্রেমটি থেকে গিয়েছে আমার কাছে আজ পর্যন্ত। অথচ, মা চলে গিয়েছেন, গ্রেস সিনেমা হলটিও সম্ভবত নেই আর, এই সেদিন চলে গেলেন ঋষি কাপুর, শিবুর সঙ্গেও যোগাযোগ ক্ষীণ।

দুটো কাজ আর করিনি কখনও। মরালিটির কারণে নয়। দ্বিতীয়বার সেই শিহরণ যদি ফিরে না আসে, সেই আশঙ্কায়। এক, স্কুল পালিয়ে আর কোনওদিন সিনেমা হলে যাইনি। দুই, ‘সাগর’ ছবিটি আর দ্বিতীয়বার দেখিনি। ইউটিউবে সিনেমাটি খুলে, আঙুল নিয়ে গিয়েছি। একটি চোদ্দ-পনেরো বছরের প্রায় বালক এসে আস্তে করে আঙুলটা সরিয়ে দিয়েছে…

* ক্রমশ  

আরও পড়ুন...

Categories
2021-aug

অ্যাডা লিমোঁর কবিতা

অ নু বা দ  ক বি তা

রা জে শ   গ ঙ্গো পা ধ্যা য়

rajesh

অ্যাডা লিমোঁর কবিতা

স্ত্রী

এই শব্দ আমার কাছে স্বাচ্ছন্দ্যবোধের অনুভূতি নিয়ে আসে না  

অথচ এর সঙ্গে জীবন জড়িয়ে আছে ঘোর সংশ্রবে

গতকাল নৈশাহারের সময় এক বন্ধুর আসন্ন ভ্রমণের ব্যাপারে মন্তব্য করতে গিয়ে

বাচ্চারা বলছিল –‘এ নির্ঘাৎ স্ত্রী-অনুমোদিত নয়।’

বলার সময় তাদের চোখে ঝিলিক দিয়েছিল দুষ্টুমি, তাদের ছোট্ট মাথাগুলো দুলছিল,

‘স্ত্রী’ শব্দটি শুনলে কেন যে ‘কাজ’ই মনে আসে! বিখ্যাত নারীবাদী যখন লেখেন,

“আমি একজন স্ত্রী চাই, যে আমার জামাকাপড় পরিষ্কার করে দেবে, ইস্ত্রি ও মেরামত করে দেবে,

প্রয়োজনে বদলেও দেবে।’ যেন স্ত্রী নয় কাজের লোক চাওয়া হল।

উপশম এনে দেয়, সম্মান করে, আদেশ পালন করে, গৃহকর্মনিপুণা,

উচ্চকিত, অশান্তির কারণ, মানিয়ে চলার ক্ষমতাসম্পন্ন ইত্যাদি নানা অভিধায় ভূষিতা সেই মানবী

এমন কি কেউ হতে পারে না যার কোনো এক সকালবেলায় চুপ করে বসে থাকতে ইচ্ছে করবে,  

চায়ের জল ফুটতে থাকবে, কেটলির মুখ দিয়ে বাষ্প বেরিয়ে আসবে ট্রেনের হুইশলের মতো শব্দে,

তার দু’চোখ থেকে নির্গত হবে নির্বাক অশ্রু, সে দু’আঙুলে মাটিতে গর্ত খুঁড়ে চলে উদ্দেশ্যবিহীন, খুঁড়েই চলে…

ভালোবাসতে চেয়েও সে প্রত্যাশাস্পর্শী হয়ে উঠতে পারেনি

বোঝাতেও পারেনি সে কতটা আত্মিক হতে চেয়েছিল।

 

সন্ত্রাসের পরবর্তী শেষ গ্রীষ্মের স্মৃতি

পাতার সামনে পোশাক বদলাতে অস্বস্তি হয়

জানলা দিয়ে দেখা যায় কচি পাতাগুলি ঝুঁকে আছে

যেন কোন অনাকাঙ্ক্ষিত পুরুষ দৃষ্টির সামনে উন্মোচিত আমি

(তাদের আশীষ যেন ফিসফিসিয়ে ওঠে)

যদি বিপ্রতীপ ভাবনায় অধীর হয়ে উঠি?

অন্তঃস্থ উন্মত্ততার কাছে হার স্বীকার করে নিই?

প্রতিবেশী বাগান থেকে ঘাস কাটার যান্ত্রিক ধ্বনি ভেসে আসে

লাল মেইলবক্স পতাকা ওড়াচ্ছে হাওয়ায়, কয়েকটা বাড়ি পেরিয়ে সারমেয় ডাক

এবং এভাবেই অতি স্বাভাবিক একটা দিন ছবি হয়ে ফুটে ওঠে। ভেতর দেওয়ালের কাঠের তক্তায়

গুবরে পোকার বাসা, শুকিয়ে আসা গাছের একটা ডাল ভেঙে গিয়েও ভেঙে পড়ছে না,

নদী ও সমুদ্রের পাথরের সহাবস্থান, অনুক্ত বার্তা ভৌতিকভাবে আটকে আছে স্বরযন্ত্রের ভেতর,

সারা শহর কাঁপিয়ে সাইরেনের ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হতে হতে বলে যায় –

এখানে জরুরি অবস্থা নেই এবং আরো বলে যায়,

এই উচ্চকিত নৈঃশব্দ ঘনিয়ে উঠেছে বাসভূমি ঘিরে।

 

নারীশক্তির জয়ের আখ্যান  

সবচেয়ে ভালোলাগে অশ্বিনীদেরই,  

তাদের কীর্তিকে প্রতিষ্ঠা করার সহজিয়া ধরণ,

যেমন ঘণ্টায় চল্লিশ মাইল বেগে ছুটে চলা-

যেন একটু ঘুমিয়ে নেওয়া বা কচি ঘাস চিবোনোর মতোই অক্লেশে।

জিতে গিয়ে তাদের নারীসুলভ আত্মবিশ্বাসও বেশ ভালো লাগে,

কান খাড়া করে আয়েশের ভঙ্গিটি যেন কোন মেয়ে নয়, গর্বিত প্রজাতি!

সত্যি কথাটা হল নারীশক্তির এই স্ফূরণ ভালো না বেসে পারিনা।

যেন এই বিশালাকৃতি বিপজ্জনক প্রাণীটি আমারই অংশজাত,  

আমার ত্বকের নীচে কোথায় যেন অবস্থিত,

সেই আট পাউন্ড ওজনের হৃদয়-

দৈত্যাকৃতি ক্ষমতা ও ঘন রক্তে ভারী হয়ে আছে।

বিশ্বাস হচ্ছেনা? তাহলে আমার পোশাকের নীচে দ্যাখো,

পরিশোধনের অসীম প্রতিভাধর পেশীযন্ত্রটি

যে মনে করে, না, যে অবগত-

প্রথম হওয়ার পথে যে কোনো বাধা সে চূর্ণ করে দেবেই।

অনুবাদক সম্পর্কে : ১৯৭১ সালে কোলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক। বর্তমানে দঃ ২৪ পরগণার বাটানগরের বাসিন্দা। রাজ্য সরকারী চাকরীতে কর্মরত। সাহিত্যের সঙ্গে যোগাযোগ দীর্ঘদিনের। এযাবৎ কবিতা প্রকাশিত হয়েছে ‘দেশ’, ‘বাংলালাইভ.কম’, ‘পরবাস’(আমেরিকা থেকে প্রকাশিত), ‘ভাষাবন্ধন’, ‘ভাষানগর’, ‘দেশপ্রসঙ্গ’ (বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত), ‘শব্দতরী’ (বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত), ‘যুগ’, ‘কবিতাকে কল্পনায়’, ‘ঋত্বিক’, ‘টেকটাচটক’, ‘দক্ষিণের জানালা’, ‘পরশু’, ‘সন্দর্ভ’, ‘স্বর’ এবং আরো অজস্র পত্রপত্রিকায়। ছোটগল্প প্রকাশিত হয়েছে ‘আনন্দবাজার পত্রিকা রবিবাসরীয়’, ‘নিউজ আওয়ার’, ‘সানডে টাইমস’, ‘মাধুকরী’ ইত্যাদি পত্রপত্রিকায়। ভালোবাসেন পড়াশোনা করতে, গান শুনতে, যেকোনভাবে মানুষের উপকারে আসতে।

অ্যাডা লিমোঁ (Ada Limón)

ক্যালিফোর্ণিয়ার সোনোমায় ১৯৭৬ সালের ২৮শে মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব থেকে তিনি শিল্প সংস্কৃতির প্রতি অনুরক্ত ছিলেন। ২০০১ সালে তিনি নিউইয়র্ক বিশ্ব বিদ্যালয়ের সৃজনশীল লেখার কর্মসূচীতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন। তাঁর প্রথম কবিতা সংকলন Lucky Wreck (Autumn House Press, 2006) 2005 Autumn House Poetry Prize জিতে নেয়। এছাড়াও তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থগুলি হল The Carrying (Milkweed Editions, 2018); Bright Dead Things (Milkweed Editions, 2015), Sharks in the Rivers (Milkweed Editions, 2010); and This Big Fake World (Pearl Editions, 2006), winner of the 2005 Pearl Poetry Prize ইত্যাদি। Bright Dead Things কাব্যগ্রন্থটি National Book Award-এর জন্য মনোনয়ন পায় এবং This Big Fake World কাব্যগ্রন্থটি 2005 Pearl Poetry Prize জিতে নেয়। শুধু পুরস্কার দিয়েই একজন কবির কাজের মূল্যায়ন হতে পারেনা। সাহিত্যে সমকালীনতার মোচড় যেভাবে তাঁর কবিতাকে প্রাসঙ্গিক ও চর্চিত করে তুলেছে, এর থেকে স্পষ্ট যে তিনি এক আশ্চর্য কাব্যভাষার অধিকারী এবং বিষয়বস্তুর স্বকীয়তাও অনস্বীকার্য। তাঁর কাজ সম্পর্কে Richard Blanco-এর বিখ্যাত উক্তিটি হল – “Both soft and tender, enormous and resounding, her poetic gestures entrance and transfix.”

আরও পড়ুন...

Categories
2021-aug

মৃধা আলাউদ্দিন

বাং লা দে শে র  ক বি তা

মৃ ধা   আ লা উ দ্দি ন

দুটি কবিতা


নায়াগ্রার উত্তাল জলরাশি থেকে উঠে আসবে
আমাদের বারান্দায় রোদ…
সুউচ্চ মিনার থেকে আমরা শুনবো আজান
এবং আলো আসবে আমাদের জড়াজীর্ণ প্রাসাদে
যেন পুড়ে যায় বেহায়া বাতাস
জবড়জং জরি ও জীবাশ্ম।

 


হে নদী! অশ্বারোহী আপেল
গাছের রৌদ্র ছেড়ে দেবো
এবং অভিন্ন ভ্রুণ, খুলে যাবে খাল
খালের খোল,
খৈয়াম-
যেন সামনে শীত, শীতে মানুষ রৌদ্র হয়
ঝরনা হয় পৃথিবীর অর্ধেক।

আরও পড়ুন...

Categories
2021-aug

ইন্দু মুখোপাধ্যায়

ক বি তা

ই ন্দু   মু খো পা ধ্যা য়

পালক

ডুবু ডুবু সিঁড়ির উপর পা ফেলতেই
একটু পিছলে যাই
চেনা বন্ধুর নরম করতলের কথা মনে পড়ে
দুপুরগুলো পেরিয়ে গেলেই কেমন শীত শীত
আমি সেরে নেই
স্নান
মুহূর্ত এড়িয়ে
কয়েকটি চড়ুই চোখের নাগাল পেরিয়ে যায়

 

নরম রোদ মেনে নিতে শেখায়
ফুল ফোটে,
আবার কেমন ঝরে যায়।

 

শ্রাবণ

অভিমানের দিগন্তে এখন জল ঢালা হচ্ছে

জল এসে ভাসছে পেয়ালার আলোয়—

ঘরের পাশেই ছোটনদী আমাদের

তার জলে অনেক অনেক নৌকো

বাঁকানো ঘোরানো দাগ
আর
ছায়াচিহ্নের ঢেউ


মেঘ করে এলো

এলোমেলো বাতাসে
একটা দুটো হৃদয় ভিজে যাচ্ছে….

আরও পড়ুন...