Categories
2020_pujo bangladesher_kobita Uncategorized

মাসুদার রহমান

বাং লা দে শে র  ক বি তা

মা সু দা র   র হ মা ন

মেঘ ও মেশিন সিরিজ

গ্রামের উপরে মেঘ ঝুঁকে এসে কাপড় খুলছে

রেলিং থেকে যেভাবে শিশুটি হিসু করে দিয়েছিল নিচে

উঠিয়ে নিচ্ছ দ্রুত বাইরে থেকে মেলে দেওয়া জামাকাপড়গুলো

শুকোতে দেওয়া কাঠ

 

টবের কামিনী শিশুকে উঠোনে নামিয়ে দিলাম মায়ের বুকের কাছে 

নিবিড় 

সে এখন মাতৃদুগ্ধ পান করছে 

 

 

ক্যালেন্ডার ভিজে যাচ্ছে। জলমগ্ন রবিবারের মাথায় 

ছিঁচকাঁদুনে মেঘ

টিস্যুবাক্স থেকে সামান্য একটি টিস্যু কেউ ওদের হাতে দেবে

এমন স্বজনও নেই!

 

বেগুনগাছের ডালে ছোট্ট বাসায় বসে টুনটুনি- টোনা তার 

জলহাওয়া মাথায় করে দুপুরে গঞ্জে গেছে; এখনো ফেরেনি

 

হু হু করে বাড়ছে নদীর কালো জল

 

 

সড়ক পেরুচ্ছে বৃষ্টি- ততক্ষণ গৃহস্থের বারান্দায় উঠে বসে পড়া

 

দু’একটি শালিক ভিজতে নামছে তার গার্লফ্রেণ্ড নিয়ে, বয়ফ্রেণ্ড নিয়ে

তাদের দিকেই তাক করা স্মার্টফোন- ঝলসে উঠছে ক্যামেরা

 

টাইমলাইনে প্রকাশিত হবে বৃষ্টির প্ররোচনা- বিস্তারিত স্ক্যাণ্ডেল

 

 

ঝিলপাড়ে দাঁড়িয়ে সে শাড়ি খুলছে- ভাসুর শ্বশুর সম্বন্ধীয় 

দু’একজন 

লজ্জায় ভিজতে ভিজতে সটকে পালালো

 

একটি জানালা, কিন্তু এ চরাচর জুড়ে বিপুল 

বর্ষা

কখনো সখনো বাসি কাপড়গুলো বারান্দায় টাঙাতে আসো 

 

বৃষ্টি-বৌদি তোমাকে বাসনা করি 

ছাতা হাতে মাইল মাইল হেঁটে যাই তোমার ভেতরে

আরও পড়ুন...

Categories
2020_june bangladesher_kobita

আফরোজা লীনা

ক বি তা

আ ফ রো জা   লী না

জেগে ওঠো অনিমেষ

জেগে ওঠো অনিমেষ
ঘুমিয়ে থেকো না আর,
জেগে ওঠো সমুদ্রবক্ষে ভাসানচরের ন্যায়
ঘর বাঁধুক সেথায় উদ্বাস্তু মানুষের ঝাঁক
জেগে ওঠো হয়ে তিস্তার পলিময় উর্বর ভূমি
বাতাসে দোল লাগুক সেখানে সোনালী ধানের শীষে, জেগে ওঠো হয়ে কবিতার নুরুলদিন
ডাক ছাড়ো ভুবন কাঁপিয়ে—
কোনঠে বাহে জাগো সবায়…
জেগে ওঠো ভোরের বাবুইয়ের ন্যায়
জেগে ওঠো নব উদ্যমে আবার
শেকড়শুদ্ধু উপড়ে ফেলো লাল সবুজের অন্নময় কোষ জুড়ে গজিয়ে ওঠা একেকটি বিষাক্ত পরগাছা,
চিরতরে বিনষ্ট করে দাও তাদের দাঁতাল বংশবৃদ্ধি
যারা জোঁকের মতো চুষে খাচ্ছে তোমার লোহিতকণিকা,
স্বস্তিতে চোখ বুজে যারা চিবিয়ে চিবিয়ে স্বাদ নিচ্ছে তোমার অস্থিমজ্জার,
লাল সবুজের স্বাধীন মানচিত্রে যারা গড়ে তুলেছে নিরাপদ ব্যাধিমন্দির,
জননীর গণ্ডদেশে আজ যারা নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছে ক্ষমতার ভোঁতা তরবারি,
জেগে ওঠো তাদের প্রতিপক্ষ হয়ে
জেগে ওঠো অতন্দ্রিত প্রহরীর ন্যায়
জেগে ওঠো,
জেগে ওঠো হয়ে অহিমতেজা,
জেগে ওঠো অনিমেষ
লাল সবুজের গঁদলা শরীর জুড়ে আজ ঘুণপোকাদের রাজত্ব…!

 

মাঝি

অমন কইরা আসমানের দিকে চাইয়া কী দেখো মাঝি?
কী এতো ভাবো রাইত দিন
খাওনা দাওনা খালি এই চরে আইসা বইসা থাকো অষ্টপ্রহর
কীসের এত ভাবনা তোমার কওতো দেখি!

আগে আমার একটু নাগাল পাবার জন্যে বারবার বাড়ির সামনে আইসা অযথা গলা খাঁকারি দিতা
আর অখন জলজ্যান্ত মানুষটা আমি তোমার পিছপিছ ঘুরি তুমি য্যান দেইখাও দেখোনা!

আমারে খুইলা কওতো কী হইছে তোমার!
ক্যান রাইত নাই দিন নাই পইড়া থাকো এই বিরাণ চরে!
আমি কি তোমার পর মাঝি?
একবার আমার পানে চাওত দেখি আগের মতন
ডাকো তো আমারে বুড়ি কইয়া একটাবার!

দেখো, আলতা পরছি আইজ পায়ে, লাল আর হলুদ ফিতা দিয়া কলা বেণি করছি, গোডাউন এর হাট থাইকা যে চওড়া পাড় এর তাঁতের শাড়িখান আনছিলা সেইখান পড়ছি কুচি কইরা,
চাইয়া দেখো মাঝি তোমার বুড়িরে আইজ পরীর লাহান লাগতেছে!

তুমি কি তোমার অতীত নিয়া ভাবো মাঝি?
এইখানে, ঠিক এই জায়গাটায় একসময় তোমাগো ঘর আছিল। গোয়াল ভরা গোরু, গোলাভরা ধান, তামাকের ক্ষ্যাত !
কত বড় বড় মহাজন আইত দূরদূরান্ত থাইকা তোমাগো তামাক কিনতে
আমার সব মনে আছে, আমি তখন পাঁচ কি ছয় বছরের হব!
তোমাগো তামাক চুরি কইরা কত্ত যে মিঠাই খাইছি!

আমি জানি, তুমি সেই সব কথা মনে কইরা উদাস হইয়া চাইয়া থাকো আসমানের দিকে
ভাইবোনা মাঝি, আবার ফিইরা আসবো সেই দিন, সেই সময়। তিস্তার বুক বাইয়া আবার জোয়ার আইবো,
পলিমাটিতে ঢাকা পড়বো এই বালুচর, আমরা ফসল ফলাবো মনের মতন।

আমাগো নতুন প্রজন্ম রঙবেরঙ এর বাদাম তোলা নায়ে ভাটিয়ালি গান গাইয়া দাঁড় বাইবো!
আমরা আমাগোর সোনালী অতীত এর গল্প শোনামু, আরো শোনামু— তোমার আমার পিরিতের আখ্যান।
কেমুন কইরা সুনন্দ মাঝি বশ করেছিল ব্যাপারী বাড়ীর আজগর আলীর অতি আদরের নাতিন বুড়িরে!
লও মাঝি
ওঠো,
শক্ত কইরা ধর আমার হাতখান
যেমন কইরা ধরছিলা পরথম রাইতে!

আরও পড়ুন...

Categories
2020_june bangladesher_kobita

নিগার শামীমা

ক বি তা

নি গা র   শা মী মা

অবরুদ্ধ আমি

যখন নিজেকে বন্ধ বলে ঘোষণা করি

তখন আর কোনো পথ খোলা রাখিনি

এসো, এখানে অবিরাম মুক্ত আকাশ

একফালি চাঁদ এনো সঙ্গে, ও আধোচাঁদ 

আমি বুক ভরে নেবো মুক্ত বাতাস

এখানে আর হৃদয়ের বোতাম খোলে না

চিনির পিঁপড়াগুলো বড় মিষ্টি

কৌটা ভরা নিষিক্ত কামনা;

উজাড় করে দিয়ে নিজেকে বন্ধ করেছি

পরিত্যক্ত বাড়ি, পাহাড়ের ভাঁজে মন্দির বানিয়েছি

মনছবি আঁকা মহলের মতো 

মহলটা যেন আমারই মতো!

এসো এবার তীর্থে যাই

বন্ধ চোখে আর কোনো পথ নাই।

 

অপরাহ্নে শ্বেতনদী

এই জীবনের পরও যদি আবার সাধ হয়

পরপারে মেঘের গর্জন শোনো তবে  

প্রত্যাখাত জীবন নিয়ে ধেয়ে এসো বিবাগী—

সন্ধ্যার আড়ালে তীব্র মায়াহরিণী চোখ

যদি পথ ভুলে অপরাহ্নে নেমে আসে শ্বেত নদী

তবে নিজেকে সামলে নিও ফের

আমিও তোমার মতো মুছে যাবো

রয়ে যাবে চিহ্ন যেটুকু খেলা শেষের

ঘুঙুরের ঘুম ভেঙে গেলে জেনে নিও

পথ আর কতটুকু বাকি,যেন তুমিও

রয়ে যাওয়া অনেক ফুরাবার পরও

রিনিঝিনি শব্দে না হয় আসুক নেমে

সমস্ত জোনাকির আলোকিত এ-নৃত্যে—

এইসব পালাবদলের দিন শেষে জেনে নিও

এই আমি বন্দি ছিলাম ঘূর্ণায়মান ছন্দে

আরও পড়ুন...

Categories
2020_june bangladesher_kobita

পলিয়ার ওয়াহিদ

ক বি তা

প লি য়া র   ও য়া হি দ

ইউনূস নবীর মতো আমিও ঢুকে পড়ি পাবদা মাছের পেটে

এই যে আমি লবণের পাহাড়ে বসে জপছি সমুদ্র
কেন আমি খাদ্য হইনি তিমির?
এই সব প্রশ্ন যখন কেউ আমার দিকে ছুঁড়ে দেয়
আমি তখন শুনতে বসি দাউদ নবীর গান
আহ! আমি যদি মাছের থেকে পেতাম কিছু সুর?

সেদিন ইউনূস নবীর মতো আমিও ঢুকে পড়ি পাবদা মাছের পেটে
বিক্রি হয়ে যাই রামলাল বাজারে এক যুবতীর নীল শাড়ির পাড়ে
কেন আমিও বাঁচতে চেয়েছি অন্যের চেহারা নিয়ে?
কাটাকুটি শেষে সে ভাজি করে আমার তাড়নার রিপু
আর পুরনো জানালায় জলপান কচুর লীলায় টলটল করছিল প্রেম

আমাকেও করে দিলো বিলি, হাতে হাতে
মানুষের মুখে উঠে আমিও হলাম যেন দুলদুল ঘোড়া
তারপর আমরা যখনই পেরিয়ে গেছি যাদবপুর রেললাইন
সন্ধের গনগনে আধারে যেন তা হয়ে ওঠে পুলসিরাত
আমারাও কী একই পালকের দুই পাখি তবে?

হায় খোদা, আমাকে মাফ করো দাজ্জালের মউত
এই যে মাছের অতীত আর মানবীর বর্তমান
তার মাঝে আমাকে কেন দান করো ভূত ভবিষ্যৎ?
আমাদের পাখির স্বভাব নিয়ে হেসেছে তাবৎ হিন্দুস্থান
আমার বন্ধুকে তুমি সঙ্গী করো ইমাম মাহদীর
আর তাকে ক্ষমা করে দান করো মহিমা তোমার।

 

রানাঘাটের সূর্য থেকে খালিহাতে ফিরে আসা হাওয়াদের দরদ

বাতাসে যেই কাঁপে সবুজ স্মৃতির পাতা
আমি ভাবি, সেই বুঝি ছেড়েছে দীর্ঘশ্বাস
প্রশ্বাসেরা ছোট ছোট জানালার মতো উঁকি দেয়
হুট করে দরজা খুলে কেউ ডাকে, বিশ্বাস শোনো?

প্রভু আমরা আসলে চিরকালীন জুটি
ভালোবাসা ছাড়া আমাদের চাওয়া-পাওয়া নেই
দুজনকে আমরা বিশ্বাসের দানায় গেঁথেছি
ভুলেও কারো ক্ষতি হোক তা কামনা করতে ভয় পাই
আমাদের সততা সূর্যের গায়ের মতো তেজি ও উজ্জ্বল

তবু শখের ঘোড়ায় তার কিছু ক্ষতি ঘটে গেছে
সেইসব সাধন-ভজনের দিনে লজ্জা পুষে রাখি
লাজুক হাসির সীমানা পেরিয়ে আর যদি যাই
কীভাবে হলুদ পায়ের ধুলো গ্রহণ করব আমি?

আমরা পরস্পরের সখা ছিলাম
অনেক দিন অবন্ধু হয়ে আছি
তার প্রোফাইল শুনতে পাই না
আমাকে পর করেছে তার ছবি ও লেখা

আমি দূরে- বহুদূরে
কোনো সম্পর্ক ছাড়াও
তার সম্পর্কে সবকিছু
মন কেন দখল করে রাখে?

আরও পড়ুন...

Categories
2020_june bangladesher_kobita

পিয়াস মজিদ

ক বি তা

পি য়া স   ম জি দ

অগ্নিযাপিত

ধুয়ে-মুছে নিকানো শরীরে

বহন করে চলা প্রয়াত পরাণ। কান্নায় তফাত কী-

কাক ও কোকিলে?

বৈশাখ আনে যদি শ্রাবণবাহার

তুমি তার জলফুল ফেলে দিয়ে

গুচ্ছ গুচ্ছ কাদার কুসুম;

নাচহীন নভে

ঝিরিঝিরি মৃত্যুর ঝুমুর।

আমার জন্যে ভুক্তাবশেষ

আত্মার অন্ধকার ইন্তেজার ;

তনুতীব্র তারার তাবাসসুম।

ধ্বংসদীপ্র

জতুগৃহে যখন পাখা মেলে আমাদের কফিন,

মালঞ্চমিনার মধুর খুব

মনসা-মায়ায়।

হৃদয়হরিণ হরণ করেও দেখি

তোমার গান আজ কতটা

সবুজ সারগাম!

জনম জনম

জপযজ্ঞ, ঊষার আয়াত শেষে

পাওয়া যেতে পারে

অন্ধকার জমিজিরেত,

প্রার্থিত পলি।

পৃথিবী পেরিয়ে আসে

এমন কত

নিষ্ঠুর এপ্রিল

শুভ শুক্র আর ধূসর বুধবার,

তবু পেরোবার পরিধি

কোন বিষবীজে,

সোনার সাতপাকে বাঁধা?

আরও পড়ুন...

Categories
bangladesher_kobita kobita_may

মাসুদার রহমান

ক বি তা

মা সু দা র  র হ মা ন

মহামারির পরে 

সে ঘর ছেড়ে যাবার পর আবারও বিবাহের প্রস্তাব আসে।

এক মহামারির পর এক দুর্ভিক্ষ

 

দ্বিতীয় পক্ষকে বলি, ঘরে খবার কী আছে!

 

সীমানা ছড়ানো প্রান্তরে ছাউনিহীন এক পাকশালা। ঠা ঠা দুপুর।

জলভর্তি হাঁড়ি চাপানো রয়েছে উনুনে।

উকিঁ দিয়ে দেখি, হাড়িতে আস্ত এক সূর্য!

ঝলসিয়ে তাকেই এবার খাব

 

গেরিলা

বৃষ্টির পর ভেজে মাটির উপর পা ফেলবার চিহ্ন রেখে

একটি খরগোস জঙ্গলের গভীরে চলে গেল

 

তার যাওয়ার পথে দিকে মুগ্ধ তাকিয়ে আছি

 

রাত এলো

 

অগনন তারা ফুটেছে আকাশে। ওই যে মিল্কওয়ে গ্ল্যাক্সি, সেখানেও এক গেরিলা

আকাশের এ-প্রান্ত থেকে ও-প্রান্ত পর্যন্ত পা ফেলে হেঁটে গেছে

 

দূর দিগন্তের জঙ্গলের ওদের গোপন আস্তানা

 

প্রিয় নিম গাছ

নিমগাছটির ছায়া বিকেলে বারান্দা পর্যন্ত চলে আসে

 

চা-মুড়ি খেতে খেতে দেখি—

 

আদুরে বিড়াল ছানার মতো নিমগাছটি ছায়া হয়ে উঠে বসেছে

আমার কোলের উপর

আরও পড়ুন...

Categories
bangladesher_kobita kobita_may

হাসান রোবায়েত

ক বি তা

হা সা ন  রো বা য়ে ত

মরে গেলে

মরে গেলে—

কোথাও একটা সাইকেল 

থেমে যাবে

হঠাৎ বেলের আওয়াজ

দুপুরের আড়া-জঙ্গল পার হয়ে

ঘুমিয়ে পড়বে

আত্মা ফুলের মায়ায়

খাটিয়ায় শুয়ে শুয়ে মনে হবে

আমিকে ভুলিও না, সোনা 

যেতে হয় বলেই 

মানুষ সাঁকো বানায় নির্জন বিষণ্নতার উপর—

 

মরে গেলে—

সন্ধ্যার নাভিতে লাটিম ঘোরাতে ঘোরাতে 

বাড়ি ফিরবে কেউ

তার স্যান্ডেলে গোরের কাদামাটি 

নিমের সহজ ফুল—

যে ছিল বিস্রস্ত অপেক্ষায় 

দরজায় ঝুলিয়ে বিষাদ 

চলে যাবে ধানপূবালির হাওয়ায় 

অন্যমনষ্ক রোদে  

মনেও রাখিও না, সোনা 

সমস্ত গমখেত ঘুমিয়ে যাবে কুয়াশায় 

মানুষ ভুলে গেলে 

মরণও, ছোট এক পাখির উড়ে যাওয়ার মতন

 

মরে গেলে—

মুছিয়ো না 

আলতার রঙ

ঘরের গোপনে যে বিড়াল

ক্ষুধায় শুয়ে আছে 

পেয়ারা গাছের ছায়ায়

তাকে দিয়ো 

মাখা ভাতের কাড়া

গোরের নিরলে এসে 

ছুঁয়ে দেখো সন্ধ্যার হাওয়া 

দূরে, কোথাও জোসনা ঝরছে মমতায়—

আরও পড়ুন...

Categories
bangladesher_kobita kobita_may

মাহমুদ নোমান

ক বি তা

মা হ মু দ  নো মা ন

চৈত্রের গোসলের আগে

তেঁতুল গাছতলায় পৌরাণিক ছায়া

তোমার সলাজ ঠোঁটের ভেতরে

জল খসিয়ে দেয়—

ধসিয়ে দেয় এলার্জিজনিত রাগ;

মনের একটু আরাম হয়

হাসিখুশি হয়ে গলা জড়াজড়ি করে

দুপুরবেলার ওয়ক্ত—

পুকুরের ঘাটে মুচকি হাসির ঢেউয়ে

ঝিরঝিরে জল,

পায়ের গোড়ালিতে চুমো দেয়

এক এক করে খোলে—

অলসতার পোশাক পরিচ্ছদ

 

ছায়াবাজি

দাদীর গলার সোনার চানতাঁরার কথা মনে পড়লেই,

মাজারের গিলাফ ছিঁড়ে বেরিয়ে আসে

রক্তলাল চোখের কালো মোষ !

তেড়ে আসে আমার দিকে

আসতেই থাকে,

আসতেই থাকে ফুঁসে

বাঁকা শিঙ নাড়িয়ে…

আমি বৃষ্টি ধোয়া আকাশের নীচে

ধানবীজের কাদার জমিনে

মইয়ের রশি ধরে

ফিক্ করে হাসি,

ভাপের ঘামে ভেজা

ছায়াবাজির চেহারায়।

আরও পড়ুন...