Categories
2023_jan kobita

গৌরশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়

ক বি তা

গৌ র শং ক র   ব ন্দ্যো পা ধ্যা য়

কবিতার জন্ম হবে

এমন একটা দিন কি আসবে

যে কোনো রুক্ষ দিনেও

একটা কবিতার জন্ম হবে

মাঝে মাঝে বাতাসের গায়ে গায়ে থাকতে চাই

কেমন এক হা হা ধ্বনি যেন শুনি

দরজা জানলা বন্ধ হচ্ছে

যেমন তেমন

 

কোনো কিছুর মধ্যেই আর

নিমেষ নেই

কেবলই ভাঙা আর ভাঙা

এই ভাঙার পরেই শুরু হবে

নতুন দিনের কবিতা

 

একটা সময় ছিল

একটা সময় ছিল

যখন রোজই আমাদের দেখা হতো

মাঝে মাঝে মনে হতো

হয়ত এমন একটা দিন আসবে

যখন আমাদের আর দেখা হওয়ার

ফুসরত থাকবে না

 

রাস্তার মোড়ে পার্কে

অথবা লেকের জলের ধারে এক মুহূর্ত

দ্রুত পায়ে হেঁটে যাওয়া

নিরালা বেঞ্চের কাছে

সে সব আর এখন হওয়ার নয়

এখন কেবল একটা সময়

কোনো কিছুর নাগাল পেতে চাওয়া

আরও পড়ুন...

Categories
2023_jan kobita

কোয়েনা বাগচী

ক বি তা

কো য়ে না   বা গ চী

ম্যাজিক

কোন সম্মোহন ডাকে আমায় প্রতিদিন

কে আমায় রোজ ফিরিয়ে ফিরিয়ে দেয়?

বিদায়বেলায় বাকি রেখে সব ঋণ

মনের কথা বলা মানেই শব্দব্যয়;

 

কে কোথায় রোজ তাকিয়ে থাকে দূর কিনারে

আজকেই সব চুকিয়ে দেবে মেঘের ভাড়া,

কাল থেকে আর আসবে না রোজ পিছু পিছু?

তোমার কিছু পারা মানেই আমার পারা;

 

রেড রোডে দাঁড়িয়ে থাকা একলা গাড়ি

জানে ঠিকই তার নেই কোনো পার্কিং জোন,

এভাবেই রোজ নিঃশব্দে গুমরে মরা

সবাই কী আর দিতে পারে একখানা মন?

 

রাত বাড়লেই হেডফোনে সুর জড়িয়ে আসে

কথার মায়ায়, অলীক ছায়ায় কষ্টরা সব

ভাবতে থাকে আজও আবার কাঁদবে বুঝি!

অংকে তখন গুলিয়ে ফেলি হর আর লব;

 

এভাবে আমি পাশ করতে পারবো নাকি?

জীবন মানেই রোজ দিন এক উইকলি টেস্ট,

একটা কিছু ভুল যদি হয় ফুড়ুৎ পাখি

তবুও আমি শপথ করি নেবো না রেস্ট;

 

রেস্ট যদি নিই একেবারে রেস্ট ইন পিস্

খুব ইচ্ছে শুধু একটু লম্বা ঘুমের,

ঘুমের মধ্যে কিশোরবেলা শিস দিয়ে যায় 

তবুও আমি আশাবাদী সে মরশুমের;

 

যে মরশুমে গোলাপ ফোটে লাল বাগিচায়

আলোয় আলো ভরে ওঠে শুকনো টবে,

দিন কেটে যায় বুড়ির চুলের সস্তা নেশায়

আমাদেরও ঠিক ভাগ্যরেখায় ম্যাজিক হবে।

আরও পড়ুন...

Categories
2023_jan kobita

বঙ্কিমকুমার বর্মন

ক বি তা

ব ঙ্কি ম কু মা র   ব র্ম ন

অ-কবিতা ও অন্যান্য

 

এইরূপে বিনীত পৌষমাস 

বিরহ লেখে হাঁটুজল নদী

 

জানি, খুব মানি তার কিছু কথা

সে বলতে নয়, আরও অধিক কিছু…

 

যে চোখে দেখি না তোমার আলো

কিভাবে রন্ধ্রে রন্ধ্রে সুবাতাস ছড়ালো

 

ভাবি সেইরূপ, নিশীথ পত্রালাপে।

 

 

আরও একটা বসন্ত দুপুর

পেরিয়ে যাবে তোমার হরিণ রঙের বয়স

 

ঘুমের সুতো ধরে টানতে টানতে

সেদিন হা হুতাশ ভোরে 

ডেকে উঠবে মাতৃজল 

যে নয়নে কেউ কোনোদিন

পরায়নি রাতের কাজল।

আরও পড়ুন...

Categories
2023_jan kobita

সুরভী চট্টোপাধ্যায়

ক বি তা

সু র ভী   চ ট্টো পা ধ্যা য়

শেষ প্রার্থনা সঙ্গীতে

দু’চোখের‌ তোড়া থেকে খসে পড়েছে 

সমস্ত গোলাপ 

সারি সারি কলমি লতা

কচি ডাবের পাতার মতো নকশা তুলে 

হয়ে উঠেছে আকাশমুখী…

 

ছিটছিট চড়াই আর গাঙচিলের পরিচিত স্তুপ

সাফা করে দিয়ে বিজয়ী হয়েছে 

দূরভাষের সর্বোচ্চ শৃঙ্গটি

ভীষণ কাছে এসেছি আমরা, তবে কোথাও কোনো সেতু নেই

আর দেওয়ালগুলো হয়ে উঠেছে 

বীর সৈনিকের মতো…

 

দরজা বন্ধ করে রেখেছে সমস্ত রাস্তা

বিদায়ের কণ্ঠ ছাড়ছে পাখির গানগুলো

আর সভ্যতা এসে মিশেছে শেষ প্রার্থনা সঙ্গীতে…

 

শৃগালের চোখে জ্বলে

আমি এক ভিনদেশী নাবিক
চোখ রাখি ওই ছড়ানো ছেটানো আকাশে
আর হৃদয়ের পরিত্যক্ত ভূমি থেকে সংগ্রহ করি
শূন্যতার মতো একটি প্রবাল দ্বীপ…

 

গন্ধক আর বাজের পর্দা জড়ানো একসাথে
গোড়ালির ভেতরে তুফানঘূর্ণি
কুয়াশার খেতে চাঁড়ালের ভিত্তি প্রস্তর
আর শৃগালের চোখে জ্বলে ওঠে
একটি প্রতিকুল স্বদেশভূমি….

আরও পড়ুন...

Categories
2023_jan kobita

পাপড়ি গুহ নিয়োগী

ক বি তা

পা প ড়ি   গু হ   নি য়ো গী

ডর 

বার্ন ওয়ার্ড জুয়া খেলে 

আগুন হাসে 

 

যদি চিৎকার করে বলি 

জ্বলন্ত অবস্থায় ভীষণ কষ্ট   

 

ফুটা থুথু গিলে জন্মের রহস্য খোঁজে 
নয় মাসের লজ্জা রক্তের সাথে জাবর কাটে 

 

নামের প্লাস্টিক সার্জারি করে রাষ্ট্র 

অস্তিত্ব ঢেঁকুর তোলে 

 

তবু বলতে পারিনি  

ছেলেবেলায় বুকে হাত দিয়েছিল কে

 

বরং দিনরাত শুনতে হয়েছে 

‘তুই পরিবারের নাম নষ্ট করবি’  

 

কেন বলতো ওরা 

‘জন্মের সময় মেরে ফেললে ভাল হতো’ 

 

গর্ভে থাকা বাচ্চাকে খেতে দেয়নি

বারবার দরজা দেখিয়ে দিয়েছে

 

আজও বুঝতে পারি না কেন বলত

‘মেয়া মানুষের আবার এত খিদা কেন’     

 

আলাদা করতে পারি না 

রাস্তার নেড়ি কুত্তা থেকে 

 

রোবটের পৃথিবীতে ক্রীতদাস শব্দটা আজও প্রাসঙ্গিক 

 

বলতে চেয়েছি বারবার 

গ্রাম ছাড়তে কারা বাধ্য করেছিল   

 

আজ ওরা রাষ্ট্রের গু খেতে খেতে  

চাইলে বাঘের দুধ সংগ্রহ করতে পারে

নগ্ন 

অথচ 

ফুলে ফুলে ভরে ওঠে ওদের ড্রয়িং রুম 

 

কুকুরের নামের তালিকা প্রকাশ পায় যেদিন

গাড়ি দুর্ঘটনা হয়নি 

 

চাকরি 

চারলাখ না দিতে পারা 

সত্যি কি অপরাধ…   

 

জন্ম ভিটায় মায়ের চোখের জল 

কী 

অদ্ভুত 

মানুষের জঙ্গলে বাঘের সংখ্যা 

 

চুপ…   

 

শুধু বারবার জানতে চেয়েছি  

দরজা 

জুতো

কলম

কাগজ

ওরা কিছু বলতে পারেনি 

ইদানিং আশ্চর্য শূন্যতা নরকের ক্যানভাসে

 

এদিকে দ্যাখো যুবকশীত নদীর ঠোঁটে ঝুলে 

চুমুর ডানায় চাঁদ

শুনছ? 

ইঁদুর মারা কল শুশ্রূষা বিলি করছে 

 

খিদে পায় আবার কান্নাও পায় 

সময় কি ক্ষত শুকিয়ে দেয়? 

 

ধুর, গল্প বলার সময় কথা বলবে না তো

আরও পড়ুন...

Categories
2023_jan kobita

মীরা মুখোপাধ্যায়

ক বি তা

মী রা   মু খো পা ধ্যা য়

কবিতা পাঠের গল্প

তাকে তো ডাকেনি কেউ, পড়েওনি এতোদিন  

                                          ধরে

সে কি লেখে ছাইভস্ম একা এই নদীর কিনারে

ভাঙা বাড়িটায় বসে…

তবু সে লিখেছে বৃষ্টি, অন্ধকার 

এই শীতে সুবর্ণরেখার

হাঁটু অব্দি শাড়ি তুলে বঙ্গভূমি থেকে চলে যাওয়া

আর মাঝে মাঝে থমকে দাঁড়িয়ে  

তাকে দেখা…

 

ও অন্তরীক্ষের আলো!

যে তোমাকে হৃদয়ে জ্বালালো

কবিতার ওম চায় সেও…

এখানে না হোক, কোনো দুর্লক্ষ্য লক্ষেও

আয়োজিত হয় মুসায়েরা, তার

 

একটি একক, নিমগ্ন কবিতা পাঠ

 

এগারো নম্বর ঘর

এসব বাড়ির রঙ সাদা হয়, ফ্যাটফেটে সাদা

লম্বা লম্বা ইউক্যালিপটাস সতর্ক পাহারা দেয়। 

বাবাকে এখানে রেখে চলে যাবো, অ্যাসাইলামের

এগারো নম্বর ঘরে। যে এঘরে আগে ছিল 

দেয়ালে দেয়ালে সে অনেক কথা লিখে গেছে, অনেক গানের পংক্তি, রবীন্দ্রনাথের…

তারও আগে যে থাকতো সে এঁকেছে

নোংরা নোংরা ছবি

এসব মোছেনি কেউ, কলি ফেরায়নি

আবছা হয়েছে শুধু  

 

বাবাকে লুকিয়ে আমি ঘষে ঘষে মুছি

রতিকর্মের ছবি, শিশ্ন, যোনি, ভয়ংকর স্তন।

উন্মাদ বাবাকে এগারো নম্বর ঘরে রেখে যেতে কষ্ট হয়

ইস্, যদি একটা সাদা দেয়ালের ঘরে 

রেখে যেতে পারতাম বাবাকে!

আরও পড়ুন...

Categories
2023_jan kobita

সন্দীপন দাস

গু চ্ছ ক বি তা

স ন্দী প ন   দা স

হেলফায়ার

“Abandon hope all ye who enter here”

 

সমুদ্রের ডেকে দাঁড়িয়ে তুমি ভাবছো তোমার কোনো সম্ভ্রম নেই

নেই কোনো আবেগমথিত গোপন… 

শুধু ক্লান্ত সুর থেকে ঝরে পড়ে সীগালেরা

তোমার আবেশী শরীর ছুঁয়ে মিলিয়ে যায় কোনো এক স্লিপিং আইল্যান্ডে… 

যেখানে অপেক্ষা করে থাকে মোঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব, এলাচের গন্ধমাখা গোধূলি, অসমাপ্ত পানপাত্র কিংবা পুড়ে যাওয়া কলোজিয়াম! 

তোমার মনকেমন হয়…. 

রোদেলা ডেকে দাঁড়িয়েই তুমি আনমনে আওড়ে ওঠো- ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য…!’

তবু তোমার কেমন শীত শীত করে, চশমার কাঁচে জমতে থাকে ধরা পড়ে যাবার বিন্দু বিন্দু ভয়… 

 

ওদিকে সন্ধে নামে! 

আরক্তিম ডেক সেজে ওঠে বাহারী আলোয়

শুরু হয়ে যায় মৃত সভ্যতার সব শবেদের পাশবিক আনন্দোৎসব…. 

তুমি তলিয়ে যেতে থাকো

ক্রমে তলিয়ে যেতে থাকো সমুদ্রের অতলে

তলিয়ে যেতে যেতে দ্যাখো সমুদ্রের ডেকে দাঁড়িয়ে এক ক্যাপ্টেন ভাবছেন, তাঁর কোনো আকাশ নেই, নেই কোনো বশীভূত মায়াবী আয়না… 

নেই কোনো বিষাদ বন্দরও! 

pujo_16_sketch2

দ্য ব্লু প্যালেস

অনেকদিন হলো কোনো গল্প শোনাতে গিয়ে কেঁদে ওঠোনি তুমি

আর আমারও মুক্তি ঘটেনি

দেখেছি আমার চারপাশের অন্ধকার ফুঁড়ে উঠে এসেছে এক প্রেমের কাহিনী

যেখানে শূন্যতা প্রেমিক, প্রেমিকা তুমি… 

অনেকবার ব্রেক-আপ হয়েছে তোমাদের, তারপর আবার মাটির টানে, 

চোখ উপড়ে নেওয়া চেনা কোনো তূণের টানে ফিরে এসেছো তুমি

তোমার এই বারবার ফিরে আসাটা মেনে নিতে পারেনি 

নদী, জঙ্গল, মনখারাপ করে দাঁড়িয়ে থাকা পিরামিডও… 

এমনকি মনকেমনের মেঘ দু’হাতে হাওয়ায় ওড়াতে ওড়াতে

সাহারা ক্রস করে গ্যাছেন ডিরেক্টর

সূর্য অস্ত গ্যাছে, আবার একরাশ অন্ধকার গ্রাস করেছে আমায়

আমি আর সহ্য করতে পারিনি… শহর ঘুমোলে চুপিচুপি উঠে গেছি

সারা গায়ে অন্ধকার নিয়ে

তুমি আলো হয়ে আসবে বলে… 

 

কতদিন কোনো ভাঙা ইমারতের গল্প শোনাতে গিয়ে

কেঁদে ওঠোনি তুমি

আর… 

pujo_16_sketch2

জ্যা

আমাদের কোনো আকাশ নেই

মা সেই থেকে কেবল অনাদির কাছে 

হাত পেতে বসে আছেন তো বসে আছেন

তবু হাতে মিলছে না আগামী দিনের রসদ

আমাদের কোনো আলো নেই

তবু আলো দ্যাখার আকুলতা আছে… 

যে আকুলতা বুকে চেপে প্রিয় গাছগুলিকে হাঁটাতে হাঁটাতে 

বাবা মাথা নিঁচু করে চলে যান গোয়ালঘরের দিকে… 

 

সন্ধে নামে… মা উঠে পড়েন

জীবন সেদ্ধ করতে করতে আনমনা হয়ে

তাকিয়ে থাকেন হারানো পথের মতোই… 

 

অদূরে মায়াবী তূণ লুকিয়ে অপেক্ষা করো তুমি… 

 

ডিরেক্টরের মনকেমন হয়… 

সমুদ্রপার জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে

একলা টুপি, মায়ের অপেক্ষাতুর চোখ, বাবার হেরে যাওয়া

কিংবা আবছা আলোর গন্ধ… 

 

আমাদের কোনো পাখিধরা খাঁচা নেই

কেবল একটা ঝিমধরা পাখি আছে

প্রতিদিন ভোর হওয়ার সাথে-সাথেই

যার দেহ থেকে খসে পড়ে এক-একটা নেশাতুর পালক…

pujo_16_sketch2

মোচন

তোমার অপেক্ষায় আলো ছুঁয়ে থাকি… 

 

রাত নামে… 

আলনায় বাবার লুকোনো ঝাঁপি থেকে লাফ দিয়ে বেরোয় একটা সাদা বেড়াল

মিউ মিউ করতে করতে জীবন শোঁকে আনাচ-কানাচ

রাতের ভাত চাপিয়ে ঝিমটি কাটেন মা

আমার কেমন যেন শীত শীত করে…

তাই দেখে বিড়ালটার খুব অভিমান হয়

ও লেজ উঁচু করে ভাতের হাঁড়ির সামনে

মা আধপোড়া কাঠ নিয়ে ছুটে যান… 

ভাত তখনও ফোটে… 

সাদা ধোঁয়া থেকে বার হয়ে আসে ক্ষুধার্ত বাঘিনী

আমার ঘেঁটি ধরে নিয়ে যায় আলোর সাম্রাজ্যে

আমার চোখে-মুখে ধাঁধা লেগে যায়

আমি রা কাড়তে পারি না… মুখ থুবড়ে পড়ি

তাই দেখে অট্টহাসিতে ফেটে পড়ো তুমি

ভাবো, এই বুঝি নির্বাণ পেয়ে গেলে… 

 

ভোর রাত হয়ে আসে

মুখে রক্ত নিয়ে আমি এখন খিদেপেটে শুধু মা’কে ছুঁয়ে থাকি… 

pujo_16_sketch2

আরও পড়ুন...

Categories
2023_jan kobita

অরিজিৎ চক্রবর্তী

গু চ্ছ ক বি তা

অ রি জি ৎ   চ ক্র ব র্তী

দেখা

একটা শূন্য নিয়ে বসে আছি। 

 

চারপাশে অশ্রু, অভিশাপ। 

 

ছেলেবেলায় অঙ্কে শূন্য পেয়ে পথিক হয়েছি।

 

তারপর সিঁড়ি ভাঙার ভাঙচুর দেখেছি কতো! 

প্রেম এসেছে প্রবল শব্দে…

 

মেট্রো সিনেমার ব্ল‍্যাকার বন্ধুটির কাছে শিখেছি পাশে থাকার অহংকার। ভুলগুলো ঠিক মনে হয়েছে। আফশোস, অভিশাপে হেসেছে। প্রেম শাড়ি পরে চলে গেছে। 

 

অভাবের গল্পে অভিযোগ নেই। 

 

রেল ইয়ার্ডের দুষ্কৃতীর চোখের মতো এক অচেনা রাস্তার মোড়ে হঠাৎ ভেবেছি এবার কবিতা লিখবো 

 

সুবিনয় প্রতিশোধ নিয়েছে… এভাবেই প্রতিশোধ                                                  নিয়েছে…

pujo_16_sketch2

অদেখা

মাথার ভিতর ঢুকে ঘুরপাক খাচ্ছো, চোখের ভিতর ঢুকে ঘুমিয়ে পড়ছো! তারপর আমাকে বলছো নগ্নতার পরীক্ষা দিতে। এও কি সম্ভব?

 

বিকেলের হাসপাতালের মতো তোমার হাসি আর অ্যান্টিসেপ্টিকের গন্ধ… এর বেশি একটা অক্ষর আমি লিখতে পারছি না।

 

অস্থিকলস ভরা কবিতার বই। নটরাজ কবি। 

তুমি ওর সোহাগ শর্বরী। 

 

আর আমি সেই শবের জীবন্ত যযাতি। 

 

বাইরে বেরিয়ে আসার জন্য রমণ! 

 

রাত বড়ো অভ‍্যাস তাড়িত। 

 

ভ্রমণকালীন বৃহন্নলা একটি আধুলি দিয়েছে।

 

তারপর বহু আধুলির ভিড়ে সেও অভিলাষহীন। 

 

নাদ নান্দনিক অযথা অস্থির

pujo_16_sketch2

ঘর

কল্পনা করতে গিয়ে 

তোমাকে অকল্পনীয় ভাবছি। 

 

আলুক্ষেতে পাউনি দিচ্ছে প্রতীক্ষা! 

 

বীজের দাম বেড়েছে।

 

বেড়েছে দূরত্ব তোমার। 

 

ভাবি মর্ষকাম! ভয় হয়!

 

মন্থর অভিমান যদিও

তোমাকেই মানায় এখনো। 

 

তাই দূর থেকে দেখি

 

রঙ্গিলা দালানের মাটি

pujo_16_sketch2

বাহির

মাঝ‌ে মাঝ‌ে ত‌োমার গাছ‌ের ভ‌িতরে হাত রাখ‌ি…

 

হলুদ পাতার ব‌িক‌েলে আমাদ‌ের সবুজ‌েরা জাগ‌ে।

 

আল‌োক দশার পর অন্ধকার দশায়

 

যদিও আমরা প্রত্য‌েকেই পরস্পরের…

pujo_16_sketch2

পথ

বেদনার ব্যালেন্সিং রকের সামনে দাঁড়িয়ে আমি কোনদিন দুঃখকে খুঁজে পাইনি। কেবল বিস্মিত তাকিয়ে থেকেছি। মেঘ জমেছে বৃষ্টির পূর্বাভাস নিয়ে। ভেবেছি অপরূপা প্রেমিকার অনিচ্ছুক বিচ্ছেদ আসলে এই ব্যালেন্সিং রক! তার ক্ষুধা অধ্যবসায়ের নির্বাণ। তার তৃষ্ণা ঝর্নার কলতান। আর আমি দৃষ্টিহীন যুবকের চিঠি লিখতে না পারার মতন অসহায়। তাকিয়ে থাকি। কিছু দেখতে পাই না। মেঘ ভেঙে বৃষ্টি পড়ে গায়ে।

pujo_16_sketch2

আরও পড়ুন...

Categories
2022_dec kobita

ইন্দ্রাণী পাল

গু চ্ছ ক বি তা

ই ন্দ্রা ণী   পা ল

অ্যাসাইলাম 

গমের ক্ষেতে হেঁটে যাওয়া; আর রোদ্দুর

 এই গল্পে কোথাও খুনোখুনি নেই

 উজ্জ্বল রঙে কাকগুলি উড়ে যায়

 অ্যাসাইলামের বারান্দা, আশেপাশের মাঠ

 

 দূর কুয়াশার মধ্যে

 মানুষেরা হারিয়ে গিয়ে ফিরে আসে আবার।

 আমরাও ভিন্ন হই অন্যরকম আঁচে

 নিশীথে ফুলমালা দোলে

 যামিনী না যেতে 

 মহীনের ঘোড়াগুলি মরে ভূত হয়ে গেছে

 

 হাওয়ায় খঞ্জনির শব্দ নৈঃশব্দ্য ভেঙে কাছে আসে

 চকিতে সুদূরে মিলায়

 তারাভরা আকাশের নীচে

 এক উন্মাদ অসুস্থ কল্পনা থেকে

 শিল্পের জন্ম দিয়ে যায়।

pujo_16_sketch2

প্রহরশেষের ঘন্টা

ধুলোজনিত স্মৃতির কাঁচ ঠেলে সাজিয়ে রাখি শোপিস

মার্জারিনের দিন ফিরে এসেছে

গোটা বিচারপর্ব জুড়ে নিরুত্তাপ থেকে যাই

যদিও উপস্থিত সুধীজনের কাছে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা

 

প্রথম কয়েক ঘন্টা কিছুই শোনা যাবে না। চাপা কাশি

বুকের ওঠানামা হাপরের মতো দেখাবে

থুতু ও নাভির ভিতর

একটি মাকড়সার জাল এগিয়ে যাচ্ছে

যখন আমাদের কণ্ঠনালি দশদিন কেউ চেপে রেখেছে

 

প্রহরশেষের ঘন্টা বেজে ওঠে 

এইমাত্র মর্ত্যে দেবদূতের আবির্ভাব ঘটেছে

আর উজ্জ্বল নক্ষত্র অনুসরণ করে তিনজন প্রাজ্ঞ

আস্তাবলের দিকে এগিয়ে চলেছে।

ধূপ, ধুনো, অগুরু, চন্দন— সুগন্ধী পুড়ছে

pujo_16_sketch2

সন্তাপ

প্রতিটি অপরাধের পর বিবেক মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে

আর আমরা অসহায় আত্মসমর্পণ করি

লাল উল চলে যাচ্ছে লাল ভেড়ার সামনে দিয়ে

রগ টিপে ধরে ধাতস্থ হতে চেষ্টা চালাচ্ছি

 

এসি চালু আছে; এবং গাড়ির তাপমাত্রা হুহু করে

কমছে; চাবি ঘুরিয়ে দেখে নিচ্ছি।

 

সৈনিকদের হইহল্লা; আর তাঁবু থেকে বেরিয়ে আসার জন্য

হরিণীর চিৎকার; সব মিলেমিশে যাচ্ছে

বড়দিনে গির্জার ঘন্টায়

 

পেরেকে ঝোলানো চে গেভারা

মোমবাতিটা নিভে গেছে,

আমরা নতমস্তকে দেশলাই খুঁজে চলি।

pujo_16_sketch2

নিরাময়

সেরে যাওয়া প্রতিটি ক্ষত যন্ত্রণার স্মৃতি উস্কে দিচ্ছে

ম্যাস্টিফ আপেল চিবোতে চিবোতে

তালাবন্ধ ঘরের দিকে চলে যাচ্ছে

যখন আয়নায় নিজের প্রতিবিম্ব চিনতে পারে না সাতদিন

 

বন্ধ দরজার কেবিন। যুবতী লাইটহাউজ

একটি জাহাজ পানামা খালের দিকে চলে যাচ্ছে

 

প্লেট লাফিয়ে নামছে; কাঁচের টুকরো এসে বিঁধছে

প্রতিটি আপেল অন্য আপেলের গলা টিপে ধরছে

 

সেরে যাওয়া ক্ষতে শুকনো চামড়া খসখস করছে

একবার ব্রাশ বুলিয়ে নেওয়া দরকার

শেষবারের মতো ওয়াশরুম খুঁজছি।

pujo_16_sketch2

আরও পড়ুন...

Categories
2022_dec kobita

বর্ণালী কোলে

গু চ্ছ ক বি তা

ব র্ণা লী   কো লে

কাব্য বিবর্জিত কবিতা

 

“আচ্ছা মা, তুমি বসে আছ কেন? খেয়ে নাও। রাত হচ্ছে।”

 

“কী করে খাব, বল। তুই কেমন করে আছিস।”

 

মেয়ে সন্ধে থেকে খাটে শুয়ে। মাথা গুঁজে, চোখ গুঁজে। কষ্টের ছোবল। চাবুকে চাবুকে

তোলপাড়

স্নায়ু।

অদূরে জননী

গর্ভযন্ত্রণা নতুন করে অনুভব করছেন চল্লিশ পার হওয়া মেয়েকে দেখতে দেখতে

pujo_16_sketch2

 

জীবনে আমি এত বোকামো করেছি, এখন ভাবলে আশ্চর্য হয়ে যাই। মানুষ তো অতীত পাল্টাতে

পারে না। ভাবি, মানুষের মোহমুক্ত চোখ পেতে কত যুগ সময় লাগে।

মাঝেমাঝে মনে হয় আমি বোধহয় মৃতই ছিলাম। পাশাপাশি বয়েছিল একটি চেতন সত্তা।

কষ্ট সহ্য করে মাথার মধ্যে কেমন ব্যথা। ইচ্ছে করে নিশ্চিন্তে একটু ঘুমোই।

pujo_16_sketch2

 

একটি খড়্গ। যা দিয়ে জীবন আমাকে কেটেছিল। অদৃশ্যে অনেক

দর্শক। মদ্যপান সহযোগে সেই দৃশ্য উপভোগ করেছিল। ধড়ের ও মুন্ডের নড়ে নড়ে ওঠা।

মৃত্যু আজকাল দর্শনীয়।

স্নায়ুর জোর বাড়ায়।

খড়্গ। যা এখনও শূন্য প্রান্তরে পড়ে। তার গায়ে আমার রক্ত।

এখনও তাজা।

pujo_16_sketch2

 

সবাই ঘাপটি মেরে বসে। কে যে কখন এ কে ফর্টি সেভেনের মতো ফুলের শুভেচ্ছা পাঠাবে। ফুল ভেবে

খুশি হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই অতর্কিতে দেখতে

পাবে বন্দুকের নল।তোমাকে,তোমাকেই হত্যা করবে একটি অট্টহাস্য।

তার হাসির শব্দ ছিল ঠিক হায়েনার মতো। বদমায়েশি বুদ্ধিতে তার মস্তিষ্ক পোকারা ভনভন। মাছির মতো

 হিসেব নিকেশ নষ্ট করে, হৃদয়

pujo_16_sketch2

 

অতিরিক্ত কষ্টের মধ্যে থাকলে শরীরের মধ্যে কামনার

কুন্ড তৈরি  হয়। ধিকিধিকি জ্বলে। বাকি পেশী সহ্য শিখন

করে ব্যথায় মূক।স্থির হয়ে থাকা শরীরের মধ্যে রাক্ষুসীর

নৃত্য। এত আগুন নিয়ে কী করবে? দহন-ই নিয়তি তার।

প্রেমিকেরা এখন সব অলঙ্ঘনীয় দূরত্বে।

বিজ্ঞাপনের হাতছানি সে দূরে সরিয়ে রাখে।

মনেমনে ভাবে দাহ-এর পর চামড়ার অন্তরালে লুকানো মনের,শরীরের

 রঙ পোড়া কয়লার মত হয়?

হয় না, হতে পারে না।

 

এই আর্তনাদ শুনে নেওয়ার পর হৃদয়ের

মধ্যে দেখে সে গোলাপকানন।

pujo_16_sketch2

 

আপনার কথা মাঝেমাঝে ভাবি। দেখার চেষ্টা করি আপনাকে। তেমন তো চিনি না। বুঝতে পারি না।

ভিতরে অপার স্তব্ধতা। অন্ধকার। ফুল ফুটুক। ছোট,ছোট ফুল।

আপনাকে লেখা সব মেসেজই কবিতা? জানি না। এরপর কী? এরপর। চুপ হয়ে আছি। পাখি ডাকছে।

পাখির ডাক শুনে মনে হচ্ছে আজ হয়তো রৌদ্রকরোজ্জ্বল সকাল। কদমবৃক্ষে অজস্র কদম। ওদের ভীরু

চোখ।

ডিঙি নৌকো

আপনি, কাশফুল..!?

আরও পড়ুন...