Categories
2020_pujo kobita

পঙ্কজ চক্রবর্তী

ক বি তা

প ঙ্ক জ   চ ক্র ব র্তী

ডাক

চলেছি জটিল অরণ্যে
তুমি সেবাদাসী ভূমিকা নেবে না?

 

কত অতল জল
কাঁচা মাটির উপর জ্বলে ওঠে ধূপ
একটি যুগের দিকে ঝাঁপ দেয় অন্ধকার মুখ

 

প্রসূতি সদন
হলুদ খাতায় লিখে রাখে সন্তানের মুখ, ভালোবাসা, নাভির কুণ্ডলী

 

জঙ্গলের পায়ে পায়ে, বিবাহযোগ্য, বলেছিলে সন্তর্পণে 
এ এক অসুখ

 

স্মৃতি

এবার জঙ্গল পেরোলে দেখা যাবে বাড়ি
সমস্ত দুপুর জুড়ে ফোড়নের ধোঁয়া
দুলছে ছেঁড়া নীল শাড়ি

 

কিছুদিনের জন্য খুলে দাও মধ্যাহ্নভোজনের পথ
বিছানায় মন্থর ঘুম

 

এসেছে সন্ধ্যার কুপি
তার অদৃশ্য চলে যাওয়া আছে

 

শুধু ছায়াটুকু উঠোনে অসম্ভব নৃত্যপরায়ণা

আরও পড়ুন...

Categories
2020_pujo kobita

তৃষ্ণা বসাক

ক বি তা

তৃ ষ্ণা   ব সা ক

রথযাত্রা

মেঘ ভোর থেকে এত গাঢ় গলায় কথা বলছে দেখে,

আমার সবুজ রথের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে, রাসমাঠ,

সবুজ রথ, লাল নীল ছোট ছোট পতাকা আর বেলকুঁড়ির মালা,

জনতরঙ্গের মধ্যে সেই মালা ছুঁড়ে দেওয়া হচ্ছে,

আর সেই মালার জন্যে লাফিয়ে উঠছে গোটা আশির দশক,

ভেঙে যাবে, তবু হাতে উঠে আসছে কাচের চুড়ি,

চারদিকে কাঁঠালের গন্ধ, আর্দ্র বাতাসের আঙুল ধরে হেঁটে আসা গ্রাম…

 

এখন সেই পা-গুলো ছড়িয়ে পড়েছে গোটা ভারতবর্ষে,

বসন্ত গেল, গ্রীষ্ম গেল, আষাঢ়ের প্রথম দিবসে আকাশ

কোনমতে একটা হাতখোঁপা, তাও ভেঙে পড়ছে,

থেবড়ে যাওয়া কাজল, একটা হাতপাখা, কোথায় রাখা,

পাওয়া যাচ্ছে না, বাইরের জুতো উঠোনে পড়ে,

বৃষ্টি আহা, বৃষ্টি এল,

তবু ওদের হাঁটা ফুরোল না…

 

আজ সকাল থেকে সেই পায়ের শব্দ মেঘে মেঘে বেজে উঠছে,

আর সেই শব্দগুলো রথের মেলার গমগমে ভিড়ের মতো ছড়িয়ে যাচ্ছে রাসমাঠ,

আমি আমার ছোট্ট রথটা নিয়ে একা একা হেঁটে যাচ্ছি,

ছোট ছোট গলি থেকে মাঝারি রাস্তা,

কখনো মেঠো পথ বা রক্তাক্ত রেললাইন ধরে

আমি আসলে তোমার কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা করছি ভারতবর্ষ!

আরও পড়ুন...

Categories
2020_pujo kobita

যোগেন চৌধুরী

ক বি তা

যো গে ন   চৌ ধু রী

এলোমেলো ঝরনার মতো

বুকে বাজে হলুদ ফুলের জ্যোৎস্না

শৈশবের মেঘ অস্থির আকাশ

ঘুমের মধ্যে সহসা উতলা যুঁইফুল-

যেমন ট্রেনের কপাটে ধক ধক ধক!

 

শব্দ সারাক্ষণ নিঃশব্দকে তাড়া করে ফেরে

জলে যেমন শব্দ হয় কল্লোলিত ঝরনার মতো

যেমন মাছের চোখের মতো নিষ্পলক-

                                 আমাদের ভালোবাসা।

কেরানি হৃদয়ে যেমন কোনও গান নেই!

 

এখন সব কিছু বড় অগোছালো-

উঁচু চল্লিশতলা বাড়ির মতো দুর্বিষহ বাসনা

ঘাড় নিচু করে সেই ছয় দশক থেকে চলছি

কেউ যেন ফিরেও তাকায় না- কেন?

 

এতো অসুন্দর চারদিকে- এতো কারচুপি

এতো লোভ! ওই চেয়ারটার দিকে-

                           ভাঙা পায়া!

টেলিভিশনে মুখে রং-মাখা নটনটীদের

ভিড়ের মধ্যে উপচে পড়া প্রলোভন!

কে সুন্দরী? কে নয়!

সবাই কি অবশেষে তৃণভোজী পশুদের মতো!

আরও পড়ুন...

Categories
2020_pujo kobita

অনুপম রায়

ক বি তা

অ নু প ম   রা য়

আরশোলা

ঝরঝর করে যে জলের শব্দ
আসলে রান্নাঘরের কল
পাথুরে জলপ্রপাতের ইমিটেশন,
মনে করিয়ে দেয় গত জন্মের
মেঘ, আগুন, ঘাসের শিশির সব-ই ছিল
একটা জাপানি অ্যানিমেশনের স্বপ্নময় শীতের কম্বল।

  

টিস্যু পেপার যখন ভিজে ভিজে প্রায় মিলিয়ে যায়,
দীর্ঘদিনের বেড সোর দেখা দেয় আধমরা আরশোলার শরীরে,
আমি তাকিয়ে থাকি তার অক্লান্ত পরিশ্রমে,
শোভাযাত্রা চায় আসন্ন মৃত্যুর হাতছানিতে। 

 

কবেকার ফেলে রাখা কাজ জমতে থাকে
এঁটো বাসনের মতো,
ধীর পায়ে এগিয়ে আসে
তোমার আমার বাসন মাজার দিন। 

 

প্রজাপতি

প্রতিটি প্রথম চুম্বনে থাকে অনিশ্চয়তা,
সে তো প্রতিটি পদক্ষেপেই থাকে
তা বলে কি আমরা পা ফেলি না?
ফেলি না আমরা পা?

 

হয়ত ফিরিয়ে দেবে
হয়ত সবাইকে বলে দেবে।
প্রজাপতির কান থাকে
আর থাকে তিন কোনা ডানা,
ভালো না বাসলে সে ডানার অ্যাঙ্গেলগুলোর যোগফল
কিছুতেই ১৮০ হবে না।

 

তাই প্রথম চুম্বন দৃঢ় হোক
যাতে আগামীতে আর থাকবে না সংশয়
সেখানেই ধরা দেবে তরঙ্গ, পার্টিকল হয়ে
ব্যস সেখানেই প্রজাপতির জয়,
যে কোনো নিশ্চয়তাই নিয়ে আসে চিরস্থায়ী একঘেয়েমি।

আরও পড়ুন...

Categories
2020_pujo kobita

সুবোধ সরকার

ক বি তা

সু বো ধ   স র কা র

পাগল

আমার যদি সর্বনাশ হয় সেদিন

হবে তোমার ঠোঁটে

যদিও জানি আমার মতো এখনো রোজ

সূর্য একা ওঠে।

 

আমার যদি পতন হয় এক গগন

হবে তোমার চোখে

তোমার নীল আঁচলে হবে শাস্তিদান

দাঁড়িয়ে যাবে লোকে।

 

বলবে আমি পচন, আমি চন্দ্রদোষ

করেছি হাত কালো

রাত্রি হয়ে তোমার ঘরে আসব আমি

সেটা অনেক ভালো।

 

আমার যদি মৃত্যু হয় হবে তোমার

গভীর নীল নাভিতে

পাগল হব তোমার সারা শরীরে আমি

পাগল করা দাবীতে।

আরও পড়ুন...

Categories
2020_pujo kobita

জয় গোস্বামী

ক বি তা

জ য়   গো স্বা মী

পাখি

কোন পাখি ললাটে লিখিত?

কোন বৃক্ষ প্রতিষ্ঠিত

ভাগ্যের আকাশে?

 

নিচে পড়ে তার ফল, কী অপূর্ব স্বাদ!

আমার যা কিছু কথা আজ

সমাদরে নিলেন সকলে

কথা ছাড়া আমি

কী দাম পেতাম

কথার ভেতর দেশে রাখা কথাখানি

বলিনি এখনও।

কোন পাখি

ললাটে লিখিত? তার ডাক

আসে এই মর্ত্যধামে।

আমার ছেলের মতো সব দায়িত্বের কাজ

করেছ তুমিই

দু-ডানা গোপন করে তুমি মানুষের ছদ্মবেশে

আমাকে সাহায্য করতে এলে

 

পরের মেয়ের মতো মুখশ্রী তোমার

আমি চিনে ফেলে

ভুল করলাম

তুমি, পাখি, তৎক্ষণাৎ ডানা দু’টি মেলে

ললাটে স্বক্ষেত্রে ফিরে গেলে

আরও পড়ুন...

Categories
2020_pujo kobita

কল্লোল দত্ত

ক বি তা

ক ল্লো ল   দ ত্ত

অন্ধকারে জোনাকিবিলাস

অন্ধকার স্নানঘরে জোনাকিবিলাসিতায় মগ্ন টুটুপিসি। ঝমঝম বৃষ্টি ঝরছে টিনের চালে
গুনা দিয়ে পেরেকের সঙ্গে আটকানো স্নানদরজা
দোতলার বারান্দা থেকে ঝুঁকে পড়ে নীলরশ্মিদল

বহুকাল হল হাফপ্যান্টের ভ্যাবাচ্যাকা দিন উড়ে গেছে
উড়ে গেছে টুটুপিসির জোনাকিবিলাসিতা
টুটুপিসি নিজেও উড়ে গেছে বাইপাসের ধারে নিরিবিলি
অন্ধকার ঐ স্নানঘর এখন প্রোমোটারের লক্ষ্মীসদন

সবই কি উড়ে যায়, হারিয়ে যায় ঝোড়ো হাওয়ায়?
কার্নিশের নিচে তো একটু শুকনো জায়গা, বৃষ্টিদিনে
সেইখানে দাঁড়িয়ে শূন্য বাতাসের দিকে মৃদুহাসি

না। টুটুপিসি বলে কেউ ছিল না, ছিল না
জোনাকিবিলাসিতাও। কল্পবিজ্ঞানের বিজ্ঞানটুকু
গেঁথে যায় মগজের কোষে কোষে
তবু ঝড়বাদলে আজও ঝুঁকে পড়ে নীলরশ্মিদল
ঝমঝম

আরও পড়ুন...

Categories
2020_pujo kobita

চিত্রা লাহিড়ী

ক বি তা

চি ত্রা   লা হি ড়ী

যুদ্ধ

বুকের বাঁদিকে তখন অবিরাম যুদ্ধ
সূর্যটা হেলে ছিল উত্তরের ভুলে
কৃষকের ধানক্ষেতে কান্নাও রুদ্ধ
দিনের গেরস্থালি রেখে ছিলে তুলে

 

ফাল্গুন

শিরশির রাত দাউদাউ আগুন
রবীন্দ্ররচনায় তুমি ফাল্গুন
লালরঙ শাড়ি পলাশের বন
বিচরণভূমে আলপথ মন

আরও পড়ুন...

Categories
2020_pujo kobita

গৌতম মণ্ডল

ক বি তা

গৌ ত ম   ম ণ্ড ল

কথা

লিখেছি বৃষ্টির কথা

লিখব রৌদ্রের কথাও

কথার ভিতর 

নীরবে যে আকাশ পেখম মেলে

তাকেও আনতে হবে লেখার মধ্যে

আনব; আনব ডিজেল ও কফ

সাপুড়ের বাঁশি ও নৃমুণ্ডমালা

আনতে হবে সুদূর

 

ইউরেনাস নেপচুন প্লুটো 

 

নির্জন 

ডানায় ধরে আছ জল 

 

আর শেকড় ছড়িয়ে দিচ্ছ 

মাটির গভীরে, অন্ধকারে

 

অন্ধকার রাত্রির তারা

যতবার ওই তারার কাছে যাই

ততবার দেখি তোমাকে

দেখি, কাছে ও দূরে

আলোর বেগে চক্র ঘুরছে

 

পুড়ে পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে নির্জন

আরও পড়ুন...

Categories
2020_pujo kobita

সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়

ক বি তা

স ঙ্গী তা   ব ন্দ্যো পা ধ্যা য়

কমলবাবুকে

কমলবাবু 

আপনি জানেন, আমি কেমন গদ্য লিখতে চেয়েছিলাম? 

না কমলবাবু, আপনার মত না।

আমি চেয়েছিলাম গদ্য হবে এমন, 

প্রথম বাক্যটা ক্যাঁচ কোঁচ শব্দ করে খুলবে যেন একটা আটকে যাওয়া দরজা 

তারপর খাড়াই সিঁড়ি 

পাঠক সেই সিঁড়ি বেয়ে 

নেমে যাবে 

নেমে যাবে

হুড়মুড় করে নেমে যাবে 

থামতে পারবে না

থামতে ভুলে যাবে

তারপর শেষ সিঁড়ি অব্দি ঊর্দ্ধশ্বাসে নেমে গিয়ে দেখবে

 

পাতালঘর

 

এই পাতালঘর থেকে কাউকে উঠে আসতে দেব না কমলবাবু

 

হতে পারে না

প্রতিটা জনপদে একটা করে রেড লাইট এরিয়া থাকবে

আর তারপরও সেই সব শহরগুলোকে, গ্রামগুলোকে সভ্যতা বলতে হবে এটা হতে পারে না

প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মেয়েমানুষ সমাজের মধ্যে শরীর বিক্রি করবে দায়ে পড়ে আর সেই সমাজকে সভ্য পৃথিবীর অংশ বলতে হবে এটা হতে পারে না

 

আমরা কী করে এখানে থাকি?

এখানে, কাছেই, পাশেই কোথাও মানুষের শরীরের ব্যবসা চলে জেনেও আমরা কী করে এখানে বসবাস করি?

শিক্ষার কথা বলি

বিবেকের কাছে যাই

ন্যায়ের বিচার চাই 

 

কী করে পাশাপাশি একই জনপদে সভ্যতা উন্নয়ন চায় 

আর মেয়েগুলো নিজেকে বিক্রি করে

 

মনের তবু দূরত্ব হয়

রক্ত মাংসের শরীর অত্যাচার থেকে দূরে যেতে পারে না যখন

তখন কী ভাবে আদিম আদিম রেডলাইট এরিয়া 

সভ্যতার মধ্যে আছে

কাছাকাছি, পাশাপাশি 

আর আমরাও সেখানেই থাকি?

আরও পড়ুন...