Hello Testing Bangla Kobita

সম্পাদকীয়

২৪শে শ্রাবণ ১৪২৭ | 9th August, 2020

প্রকাশ পেলো হ্যালো টেস্টিং বাংলা কবিতার চতুর্থ সংখ্যা। এই চার মাসে সম্ভব হয়নি পৃথিবীর শুশ্রূষা। গৃহবন্দি থাকতে থাকতে আমরাও যেন ধৈর্য হারিয়ে ফেলছি। কখনো ব্যক্তিগত না পাওয়া উগরে দিচ্ছি প্রকাশ্যে, কিংবা দল ভারী করছি সন্তর্পণে পরিস্থিতি বুঝে। জীবিকাহীনতা, কাজকর্মের অনিশ্চয়তা ছায়া ফেলছে প্রত্যেকের জীবনে। তাই সংবাদপত্র খুললে আত্মহত্যা, কিংবা অন্য যে কোনো খারাপ খবর চোখে পড়ছে প্রতিনিয়ত। মুক্তি কবে? উত্তর নেই। ‘পৃথিবীর গভীর গভীরতর অসুখ এখন’…।

মন শান্ত রাখা, পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি এখন। আমাদের উচিত স্বামী বিবেকানন্দ, বিদ্যাসাগর, রামমোহন রায় প্রমুখের রচনাগুলি নতুন করে পড়া, বোঝা, আত্মস্থ করা, যা আমরা অনেকেই এতোদিন করিনি। মানসিক শক্তি বজায় রাখতে পারলে তবেই লড়াই করতে পারব সব কিছুর সঙ্গে। ক্ষমতার দম্ভ সাময়িক, কিন্তু প্রজ্ঞা চিরন্তন। ‘স্বামী বিবেকানন্দের বাণী ও রচনা’ গ্রন্থাবলীর তৃতীয় খণ্ডে বিবেকানন্দ লিখেছেন, ‘বিশেষ সুবিধা ভোগ করিবার ধারণা মনুষ্যজীবনের কলঙ্কস্বরূপ। …আর যতই ব্যক্তিগত সুবিধা ভাঙিয়া যায়, ততই সে সমাজে জ্ঞানের দীপ্তি ও প্রগতি আসিতে থাকে। … ব্যক্তিগত সুবিধা একেবারেই নয়।…’  কথাগুলি কি চরম সত্যি! অথচ আমাদের দুর্ভাগ্য, আমরা এগুলো মেনে চলতে অক্ষম।

আরেকটু পড়া যাক সপ্তম খণ্ড থেকে- ‘সাবধান! আমাদের মধ্যে যাহাতে কিছুমাত্র অসত্য প্রবেশ না করে। সত্যকে ধরিয়া থাকো, আমরা নিশ্চয় কৃতকার্য হইব।…’  এই সত্যতা কই আমাদের মধ্যে! কিছু না কিছু পাবার আশা, খ্যাতির মোহে আমরা মনীষীদের এই বক্তব্যগুলিকে হেলায় দূরে সরিয়ে রেখেছি। কিন্তু আর নয়। বিশ্বব্যাপী মারণব্যাধি ও সমাজের যা কিছু কলুষিত, সমস্ত কিছুর থেকে বেরিয়ে আসতে সহায় হোক এইসব অমূল্য রচনা।

এই সংখ্যাটি সকলে পড়ুন। সুস্থ মতামত, নিরপেক্ষ আলোচনা হোক। সবাই ভালো থাকুন।